Skip to content

Bangla Sahityapath chapter 40: Suchetana

সুচেতনা

  • Bangla Sahityapath
  • Textbook pages 270-273
  • 1 source
  • 6,183 characters of context

Textbook (verbatim transcription): Suchetana

Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.

Contents6

Printed page 270

সুচেতনা

জীবনানন্দ দাশ

কবি-পরিচিতি

আধুনিক বাংলা কবিতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি জীবনানন্দ দাশ। তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ই ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন বরিশাল ব্রজমোহন স্কুলের প্রধান শিক্ষক। মা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন কবি। তিনি ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। কিছুদিন সাংবাদিকতা, ব্যাবসা ও ইনস্যুরেন্স কোম্পানির চাকরি করলেও অধ্যাপনা করেই তাঁর কর্মজীবনের অধিকাংশ সময় অতিবাহিত হয়।

জীবনানন্দ দাশকে বলা হয় রবীন্দ্র-পরবর্তী যুগের শ্রেষ্ঠ আধুনিক কবি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের পর বাংলা কবিতায় তিনি সবচেয়ে বেশি মৌলিকত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। তিনি তাঁর কবিতায় আধুনিক মানুষের মনোজগতের সূক্ষ্ম-গভীর-জটিল অনুভূতিকে অভিনব এক কাব্যভাষা, চিত্রকল্প ও উপমার মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন। পরবর্তী যুগের বাংলা ভাষার কবিদের ওপর তাঁর প্রভাব সবচেয়ে বেশি। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ঝরা পালক’ প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে। অন্যান্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে ‘ধূসর পাণ্ডুলিপি’, ‘বনলতা সেন’, ‘মহাপৃথিবী’, ‘রূপসী বাংলা’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক হিসেবেও বাংলা সাহিত্যে জীবনানন্দ দাশের বিশেষ স্থান রয়েছে। ‘কবিতার কথা’ তাঁর প্রবন্ধগ্রন্থ। ‘মাল্যবান’ তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস। বাংলার প্রকৃতি বিচিত্র রূপে ও সূক্ষ্মতায় নতুন মহিমায় আবিষ্কৃত হয়েছে জীবনানন্দের কবিতায়। বিশেষত ‘রূপসী বাংলা’ কাব্যগ্রন্থে কবি বাংলাদেশের নিসর্গের যে ছবি এঁকেছেন তা তুলনারহিত।

জীবনানন্দ দাশ ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ২২শে অক্টোবর কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

সুচেতনা, তুমি এক দূরতর দ্বীপ
বিকেলের নক্ষত্রের কাছে;
সেইখানে দারুচিনি-বনানীর ফাঁকে
নির্জনতা আছে।
এই পৃথিবীর রণ রক্ত সফলতা
সত্য; তবু শেষ সত্য নয়।

আজকে অনেক রূঢ় রৌদ্রে ঘুরে প্রাণ
পৃথিবীর মানুষকে মানুষের মতো
ভালোবাসা দিতে গিয়ে তবু,
দেখেছি আমারি হাতে হয়ত নিহত
ভাই বোন বন্ধু পরিজন প'ড়ে আছে;
পৃথিবীর গভীর গভীরতর অসুখ এখন;
মানুষ তবুও ঋণী পৃথিবীরই কাছে।

সুচেতনা, এই পথে আলো জ্বেলে– এ-পথেই পৃথিবীর ক্রমমুক্তি হবে;
সে অনেক শতাব্দীর মনীষীর কাজ;

Printed page 271

এ-বাতাস কী পরম সূর্যকরোজ্জ্বল;
প্রায় ততদূর ভালো মানব-সমাজ
আমাদের মতো ক্লান্ত ক্লান্তিহীন নাবিকের হাতে
গ'ড়ে দেবো, আজ নয়, ঢের দূর অন্তিম প্রভাতে।

মাটি-পৃথিবীর টানে মানবজন্মের ঘরে কখন এসেছি,
না এলেই ভালো হতো অনুভব ক'রে;
এসে যে গভীরতর লাভ হলো সে-সব বুঝেছি
শিশির শরীর ছুঁয়ে সমুজ্জ্বল ভোরে;
দেখেছি যা হ'লো হবে মানুষের যা হবার নয়–
শাশ্বত রাত্রির বুকে সকলি অনন্ত সূর্যোদয়।

[সংক্ষেপিত]

শব্দার্থ ও টীকা

সুচেতনা ... নির্জনতা আছেসুচেতনা নামে এক শুভ চেতনার কথাই এখানে বোঝানো হয়েছে। কবির কল্পনায় দ্বীপের মতো বিচ্ছিন্ন এই চেতনার সবুজে বিরাজ করছে নির্জনতা। অর্থাৎ এই শুভ চেতনা সর্বত্র নয়।
এই পৃথিবীর ... সত্য নয়সভ্যতার বিকাশের পাশাপাশি বহু যুদ্ধ-রক্তপাত-প্রাণহানি সংঘটিত হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে। তবে এই ধ্বংসাত্মক দিকটিই পৃথিবীর শেষ সত্য নয়।
আজকে অনেক ... পরিজন পড়ে আছেপ্রেম, সত্য ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠা করতে গিয়েও পৃথিবীতে অগণিত প্রাণহানি, রক্তপাতের ঘটনা ঘটে। অর্থাৎ অনেক রক্তাক্ত পথ পাড়ি দিয়েই পৌঁছাতে হয় ভালোবাসার ভুবনে।
এই পথে আলো ... ক্রমমুক্তি হবেপৃথিবীব্যাপ্ত গভীর অসুখ বা বিপর্যয় থেকে মুক্তির পথই শুভ চেতনা। ইতিবাচক এ চেতনার আলো প্রজ্বলনের মাধ্যমেই সকল বিপর্যয় থেকে পৃথিবী ও মানুষের মুক্তি ঘটবে।
মাটি-পৃথিবীর টানে ... সে-সব বুঝেছিব্যক্তিক ও সামষ্টিক সংকট প্রত্যক্ষ করে পৃথিবীতে মানবরূপে জন্ম না নেওয়াকে আপাতভাবে কাঙ্ক্ষিত মনে হলেও এই পৃথিবী ও শুভ চেতনা থেকে প্রাপ্তিই শেষাবধি আমাদের গভীরভাবে প্রাণিত করে।
শাশ্বত রাত্রির ... অনন্ত সূর্যোদয়পৃথিবীব্যাপ্ত অন্ধকার বা অশুভের অন্তরালেই আছে সূর্যোদয়, মুক্তির দিশা। সুচেতনার বিকাশেই এই আলোকজ্বাল পৃথিবীর দেখা মিলবে, এটিই কবির বিশ্বাস।

Printed page 272

পাঠ-পরিচিতি

‘সুচেতনা’ কবিতাটি জীবনানন্দ দাশের ‘বনলতা সেন’ (১৯৪২) কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে। এটি জীবনানন্দ দাশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবিতা। এ কবিতায় সুচেতনা সম্বোধনে কবি তাঁর প্রার্থিত, আরাধ্য এক চেতনানিহিত বিশ্বাসকে শিল্পিত করেছেন। কবির বিশ্বাসমতে, সুচেতনা দূরতম দ্বীপসদৃশ একটি ধারণা, যা পৃথিবীর নির্জনতায়, যুদ্ধে, রক্তে নিঃশেষিত নয়। চেতনাগত এই সত্তা বর্তমান পৃথিবীর গভীরতর ব্যাধিকে অতিক্রম করে একটি সাম্য ও সুন্দর পৃথিবী রচনা করবে। জীবন-মুক্তির এই চেতনাগত সত্যই পৃথিবীর ক্রমমুক্তির আলোকে প্রজ্বলিত রাখবে, মানবসমাজের অগ্রযাত্রাকে নিশ্চিত করবে। রাতের শেষে অনন্ত সূর্যোদয়কে নিশ্চিত করবে।

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন

১. কবি জীবনানন্দ দাশের বিশ্বাসমতে সুচেতনা হলো–
ক. বিকেলের নক্ষত্র
খ. শাশ্বত রাত্রি
গ. দূরতর দ্বীপ
ঘ. দারুচিনি বন

২. ‘মানুষ তবু ঋণী পৃথিবীরই কাছে’ উক্তিটিতে প্রকাশ পেয়েছে–
ক. ইহলৌকিকতা
খ. ভাবালুতা
গ. সাম্যবাদী চেতনা
ঘ.পরাবাস্তববাদী চেতনা

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে ৩ ও ৪ নং প্রশ্নের উত্তর দাও।

তবে পাল খোলো, তবে নোঙর তোলো;
এবার অনেক পথ শেষে সন্ধানী
হেরার তোরণ মিলবে সম্মুখে জানি।

৩. উদ্দীপক ও কবিতার মধ্যে প্রতিফলিত হয়েছে–
ক. অতীতের মোহমুগ্ধতা
খ. দেশপ্রেমের চেতনা
গ. সংকট উত্তরণের প্রত্যাশা
ঘ. সমকাল নিয়ে হতাশা

৪. ‘হেরার তোরণ মিলবে সম্মুখে জানি’– উক্তির সাথে ‘সুচেতনা’ কবিতার কোন চরণের সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়?
ক. এই পৃথিবীর রণ রক্ত সফলতা সত্য
খ. মানুষ তবু ঋণী পৃথিবীরই কাছে
গ. সে অনেক শতাব্দীর মনীষীর কাজ
ঘ. শাশ্বত রাত্রির বুকে সকলি অনন্ত সূর্যোদয়

Printed page 273

সৃজনশীল প্রশ্ন

অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে এ-পৃথিবীতে আজ,
যারা অন্ধ সবচেয়ে বেশি আজ চোখে দ্যাখে তারা;
যাদের হৃদয়ে কোনো প্রেম নেই প্রীতি নেই করুণার আলোড়ন নেই
পৃথিবী অচল আজ তাদের সুপরামর্শ ছাড়া।
যাদের গভীর আস্থা আছে আজো মানুষের প্রতি
এখনো যাদের কাছে স্বাভাবিক বলে মনে হয়
মহৎ সত্য বা রীতি, কিংবা শিল্প অথবা সাধনা
শকুন ও শেয়ালের খাদ্য আজ তাদের হৃদয়।

ক. ‘সুচেতনা’ কবিতাটি জীবনানন্দ দাশের কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে চয়ন করা হয়েছে?

খ. “পৃথিবীর গভীর গভীরতর অসুখ এখন।”–উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।

গ. উদ্দীপকটিতে ‘সুচেতনা’ কবিতার কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. “উদ্দীপকটিতে ‘সুচেতনা’ কবিতার সমগ্র দিক উন্মোচিত হয়নি।”— উক্তিটি যৌক্তিকতা বিচার করো।

Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.

Trusted resources

Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.