Bangla Sahityapath chapter 41: Pratidan
প্রতিদান
- Bangla Sahityapath
- Textbook pages 274-276
- 1 source
- 5,283 characters of context
Textbook (verbatim transcription): Pratidan
Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.
Printed page 274
জসীমউদ্দীন
কবি-পরিচিতি
জসীমউদ্দীন ফরিদপুরের তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে ১৯০৩ খ্রিষ্টাব্দের ১লা জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম আনসারউদ্দীন মোল্লা। মাতা আমিনা খাতুন। পৈতৃক নিবাস ফরিদপুরের গোবিন্দপুর গ্রামে। তিনি কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে কিছুকাল অধ্যাপনা করেন। পরে সরকারের প্রচার ও জনসংযোগ বিভাগে উচ্চপদে আসীন হন।
জসীমউদ্দীন 'পল্লিকবি' হিসেবে সমধিক পরিচিত। পল্লিজীবন তাঁর কবিতার প্রধান উপজীব্য। গ্রাম-বাংলার জীবন তাঁর কবিতায় গ্রামীণ মানুষের ভাবনার প্রায় অনুরূপ উপমা, রূপক ও ভাষায় উপস্থাপিত হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশের গ্রামীণ সংস্কৃতির যে গভীর রূপ ফুটে উঠেছে, তা সমগ্র বাংলা কবিতায় আর দেখা যায় না। 'নক্সী কাঁথার মাঠ', 'সোজন বাদিয়ার ঘাট' তাঁর বিখ্যাত কাহিনিকাব্য। 'নক্সী কাঁথার মাঠ' বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। 'রাখালী', 'বালুচর', 'ধান খেত', 'মাটির কান্না' তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ। 'রঙিলা নায়ের মাঝি' তাঁর গানের বই। জসীমউদ্দীন সরস গদ্যে কয়েকটি ভ্রমণকাহিনি লিখেছেন। এর মধ্যে 'চলে মুসাফির', 'হলদে পরীর দেশে', 'যে দেশে মানুষ বড়' প্রভৃতির নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। 'বেদের মেয়ে' ও 'মধুমালা' এক সময় খুব জনপ্রিয় নাটক হিসেবে বেতারে প্রচারিত হতো। 'ঠাকুরবাড়ির আঙিনায়' ও 'যাঁদের দেখেছি' স্মৃতিচারণমূলক গদ্যগ্রন্থ। সাহিত্যকৃতির স্বীকৃতিস্বরূপ কলকাতার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডিলিট উপাধি প্রদান করে। তিনি একুশে পদকও লাভ করেছিলেন।
জসীমউদ্দীন ১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ই মার্চ ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।
আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা আমি বাঁধি তার ঘর,
আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর।
যে মোরে করিল পথের বিবাগী–
পথে পথে আমি ফিরি তার লাগি,
দীঘল রজনী তার তরে জাগি' ঘুম যে হরেছে মোর;
আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা আমি বাঁধি তার ঘর।
আমার এ কূল ভাঙিয়াছে যেবা আমি তার কূল বাঁধি,
যে গেছে বুকেতে আঘাত হানিয়া তার লাগি আমি কাঁদি।
যে মোরে দিয়েছে বিষে-ভরা বাণ,
আমি দেই তারে বুকভরা গান;
কাঁটা পেয়ে তারে ফুল করি দান সারাটি জনম-ভর,–
আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর।
মোর বুকে যেবা কবর বেঁধেছে আমি তার বুক ভরি'
রঙিন ফুলের সোহাগ-জড়ান ফুল মালঞ্চ ধরি।
যে মুখে সে কহে নিঠুরিয়া বাণী,
আমি লয়ে করে তারি মুখখানি,
কত ঠাঁই হতে কত কী যে আনি' সাজাই নিরন্তর–
আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর।
Printed page 275
শব্দার্থ ও টীকা
যেবা – যে। যিনি।
বিবাগী – নিস্পৃহ। উদাসীন।
দীঘল রজনী – দীর্ঘ রাত।
ঘুম যে হরেছে – নির্ঘুম রাত কাটানোর কথা বলা হয়েছে।
বিষে-ভরা বাণ – কটু কথা। হিংসাত্মক ভাষা।
সোহাগ – আদর। ভালোবাসা।
মালঞ্চ – ফুলের বাগান।
নিঠুরিয়া – নিষ্ঠুর। নির্দয়।
ঠাঁই – স্থান। আশ্রয়।
নিরন্তর – নিয়ত। অবিরাম।
পাঠ-পরিচিতি
'প্রতিদান' কবিতাটি কবি জসীমউদ্দীনের 'বালুচর' কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত। এ কবিতায় কবি ক্ষুদ্র স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে পরার্থপরতার মধ্যেই যে ব্যক্তি জীবনের প্রকৃত সুখ ও জীবনের সার্থকতা নিহিত সেই বিষয়ে আলোকপাত করেছেন। সমাজ-সংসারে বিদ্যমান বিভেদ-হিংসা-হানাহানি দ্বারা আক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও কবির কন্ঠে প্রতিশোধ-প্রতিহিংসার বিপরীতে ব্যক্ত হয়েছে প্রীতিময় এক পরিবেশ সৃষ্টির আকাঙ্ক্ষা। কেননা ভালোবাসাপূর্ণ মানুষই নির্মাণ করতে পারে সুন্দর ও নিরাপদ পৃথিবী। কবি অনিষ্টকারীকে কেবল ক্ষমা করেই নয়, বরং প্রতিদান হিসেবে অনিষ্টকারীর উপকার করার মাধ্যমে পৃথিবীকে সুন্দর ও বাসযোগ্য করতে চেয়েছেন।
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
১। 'প্রতিদান' কবিতায় কবি কাঁটা পেয়ে কী দান করেছেন?
ক. ফুল
খ. ঘৃণা
গ. বাণ
ঘ. ঘর
২। "আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা আমি বাঁধি তার ঘর।"–এ পঙ্ক্তিতে কী বোঝানো হয়েছে?
ক. পরোপকার
খ. আত্মগ্লানি
গ. সর্বংসহা মনোভাব
ঘ. কৃতজ্ঞতাবোধ
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে ৩ ও ৪ নং প্রশ্নের উত্তর দাও।
ইমাম হাসান (রাঃ) তাঁকে বিষপ্রয়োগে হত্যাকারী জাএদাকে ক্ষমা করে দিলেন এবং বললেন, পরকালে তাকে বেহেশত প্রদানের জন্য আল্লাহর কাছে সুপারিশ করবেন।
Printed page 276
৩। উদ্দীপকের হাসান (রা.) এর কথার সাথে 'প্রতিদান' কবিতার কোন পঙ্ক্তির মিল আছে?
ক. কত ঠাঁই হতে কত কী যে আমি সাজাই নিরন্তর
খ. দীঘল রজনী তার তরে জাগি ঘুম যে হরেছে মোর
গ. রঙিন ফুলের সোহাগ জড়ান ফুল মালঞ্চ ধরি
ঘ. যে গেছে বুকেতে আঘাত হানিয়া তার লাগি আমি কাঁদি
৪। উপর্যুক্ত মিলের কারণ–
i. ক্ষমাশীলতা
ii. আত্মপ্রশংসা
iii. পারস্পরিক সৌহার্দ্য
নিচের কোনটি ঠিক?
ক. i ও ii
খ. i ও iii
গ. ii ও iii
ঘ. i, ii ও iii
সৃজনশীল প্রশ্ন
কথিত আছে, এক বুড়ি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর চলার পথে কাঁটা বিছিয়ে রাখতো এবং পথ চলতে নবি (স.)-এর পায়ে কাঁটা ফুটলে আনন্দিত হতো। একদিন পথে কাঁটা না দেখে মুহাম্মদ (স.) চিন্তায় পড়ে গেলেন এবং বুড়ির বাড়িতে গিয়ে দেখলেন বুড়ি অসুস্থ। নবি (স.)-কে দেখে বুড়ি ভয় পেয়ে গেল। মহানবি (স.) বুড়িকে ক্ষমা করে দিলেন এবং সেবাযত্ন দিয়ে তাকে সুস্থ করে তুললেন।
ক. কবি কাকে 'বুকভরা গান' দেন?
খ. কবিকে যে পর করেছে তাঁকে আপন করার জন্য কেঁদে বেড়ান কেন?
গ. উদ্দীপকের ভাবের সাথে 'প্রতিদান' কবিতার মূলভাবের সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি ব্যাখ্যা করো।
ঘ. "উদ্দীপক ও 'প্রতিদান' কবিতার ভাবার্থ ধারণ করলে একটি সুন্দর সমাজ গড়া সম্ভব।"–বক্তব্যটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।
Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.
Trusted resources
Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.