Bangla Sahityapath chapter 43: How Beautiful Were the Days
আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম
- Bangla Sahityapath
- Textbook pages 282-284
- 1 source
- 5,789 characters of context
Textbook (verbatim transcription): How Beautiful Were the Days
Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.
Printed page 282
আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম
শাহ আবদুল করিম
কবি-পরিচিতি
শাহ আবদুল করিম ১৯১৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ধল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ইব্রাহিম আলী, মা নাইওরজান বিবি। বাউল করিম বাংলা লোকগানের অগ্রগণ্য সাধকদের একজন। জীবনের প্রতি, ভাবাদর্শের প্রতি, অনাবিল ভালোবাসার প্রতি আমাদের বিশ্বাস ফিরিয়ে আনে তাঁর গান। ভাটি বাংলার এই লোককবির ভাবমানস জুড়ে রয়েছে মরমি সাধনার বহুমাত্রিক বিস্তার। তবে কেবল অধ্যাত্মচেতনা নয়, মাটি ও মানুষের ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততায়ও উজ্জ্বল তাঁর শিল্পলোক। জনপ্রিয় ও তত্ত্ববহুল গানের পাশাপাশি তিনি রচনা করেছেন অজস্র গণসংগীত, যা দুঃখজয়ের গান হিসেবে প্রশংসিত হয়েছে।
১৯৪৮ সালে তাঁর প্রথম গ্রন্থ ‘আফতাব সংগীত’ প্রকাশিত হয়। ‘গণসংগীত’, ‘কালনীর ঢেউ’, ‘ধলমেলা’, ‘ভাটির চিঠি’, ‘কালনীর কূলে’ ইত্যাদি তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ। তিনি একুশে পদকসহ (২০০১) বহু পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেছেন। শাহ আবদুল করিম ২০০৯ সালের ১২ই সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।
আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম
গ্রামের নওজোয়ান হিন্দু-মুসলমান
মিলিয়া বাউলা গান ঘাটুগান গাইতাম ॥
বর্ষা যখন হইত গাজির গাইন আইত
রঙ্গে-ঢঙ্গে গাইত আনন্দ পাইতাম
বাউলা গান ঘাটুগান আনন্দের তুফান
গাইয়া সারিগান নাও দৌড়াইতাম ॥
হিন্দু বাড়িন্ত যাত্রাগান হইত
নিমন্ত্রণ দিত আমরা যাইতাম
কে হবে মেম্বার কে হবে গ্রামসরকার
আমরা কি তার খবর লইতাম ॥
বিবাদ ঘটিলে পঞ্চাইতের বলে
গরিব কাঙালে বিচার পাইতাম
মানুষ ছিল সরল ছিল ধর্মবল
এখন সবাই পাগল–বড়লোক হইতাম ॥
করি ভাবনা সেদিন আর পাব না
ছিল বাসনা সুখী হইতাম
দিন হতে দিন আসে যে কঠিন
করিম দীনহীন কোন পথে যাইতাম ॥
Printed page 283
শব্দার্থ ও টীকা
বাউলা গান – বাউল সাধক সম্প্রদায়ের গান। বাংলা লোকগীতির একটি প্রধান ধারা।
ঘাটুগান – ময়মনসিংহ ও সিলেট জেলার ভাটি অঞ্চলে প্রচলিত একপ্রকার লোকগীতি। সাধারণত বর্ষাকালে বড় বড় নৌকায় এই গানের আসর বসে। নদীর ঘাটে ঘাটে ঘুরে এই গান পরিবেশিত হয়। এই গানের কেন্দ্রীয় চরিত্র যে কিশোরটি মেয়ে সেজে নেচে নেচে গান গায়, তাকেও ঘাটু বলা হয়ে থাকে। ঘাটুগান মূলত প্রণয়-গীতি।
গাজির গাইন – গাজির গান। গাজি পিরের মাহাত্ম্য বর্ণনামূলক লোকগীতি। গাজি বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে বাঘের অধিষ্ঠাতারূপে পরিগণিত। গাজির গান গেয়ে বাঘের আক্রমণ থেকে পরিত্রাণ কামনা করা হয়।
সারিগান – একপ্রকার কর্মগীতি। সারিবদ্ধ বা একত্রে কাজ করার সময় গাওয়া হয় বলে একে সারিগান বলে। সাধারণত নৌকা বেয়ে যাওয়ার সময় মাঝিরা সম্মিলিতভাবে এই গান গায়। কোথাও কোথাও ছাদপেটা, গাড়ঠেলা প্রভৃতি কায়িকশ্রমের কাজেও সারিগান গাওয়া হয়।
নাও দৌড়াইতাম – নৌকা প্রতিযোগিতায় অংশ নিতাম। নদীমাতৃক গ্রাম-বাংলায় বর্ষাকালে এই ‘নৌকা বাইচ’ অনুষ্ঠিত হয়।
বাড়িন্ত – বাড়িগুলোতে।
যাত্রাগান – দেশীয় একপ্রকার নাট্যাভিনয়। যাত্রাপালা হিসেবে সমধিক পরিচিত। সূচনাকালে যাত্রাপালায় সংগীতের প্রাধান্য থাকলেও পরবর্তী সময়ে ধীরে ধীরে এতে সংলাপের প্রাধান্য সূচিত হয়।
পঞ্চাইত – গ্রামের প্রধান ব্যক্তিদের নিয়ে বিচারসভা।
বড়লোক হইতাম – বড়লোক হতে চাই।
দীনহীন – ধর্মপথের দিশাহীন। সহায় সম্বলহীন।
পাঠ-পরিচিতি
শাহ আবদুল করিমের ‘আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম’ রচনাটি ২০১০ সালে প্রকাশিত শুভেন্দু ইমাম সম্পাদিত ‘শাহ আবদুল করিম : পাঠ ও পাঠকৃতি’ শীর্ষক সংকলন থেকে সংগৃহীত।
আবহমান গ্রাম-বাংলার চিরচেনা ঐতিহ্য, পুরনো দিনের স্মৃতি কবিতাটিতে চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। আগে গ্রামের মানুষের মধ্যে অকৃত্রিম সৌহার্দের বন্ধন ছিল, হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি ছিল সর্বদা অটুট। বছরের বিভিন্ন সময়ে সবাই মিলে উপভোগ করত বাউল গান, ঘাটুগান, গাজির গান, সারি গান, যাত্রাগান, নৌকা-বাইচ ইত্যাদি। অর্থাৎ বাংলার নিজস্ব ঐতিহ্যমণ্ডিত সংস্কৃতির মধ্যে আবাহন করেই সকলের চিত্ত আনন্দে উদ্বেলিত হতো। কখনো বিবাদ-বিসম্বাদ ঘটলে সাধারণ মানুষ গ্রামের প্রধানদের কাছেই বিচার পেত। সহজ, সরল, ধর্মবলে বলীয়ান এ মানুষগুলো এখনকার মতো দ্রুত বড়লোক হওয়ার স্বপ্ন দেখত না। বর্তমানের কঠিন বাস্তবতায় মানবিক অশান্তির শিকার কবি স্মৃতিকাতর হয়ে উঠেছেন। তিনি ঐতিহ্যের রসে সিক্ত হয়ে সুখী হওয়ার পুরনো পথই খুঁজে বেড়াচ্ছেন।
Printed page 284
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
১. বাঘের আক্রমণ থেকে পরিত্রাণ পেতে গাওয়া হয়
ক. বাউলা গান
খ. গাজির গান
গ. ঘাটু গান
ঘ. জারি গান
২. ‘আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম’ চরণটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
ক. আগের দিন সুখের ছিল
খ. পূর্বে মানুষ সমৃদ্ধ ছিল
গ. আগে মানুষ নির্লোভ ছিল
ঘ. অতীতে মানুষ সহানুভূতিশীল ছিল
উদ্দীপকটি পড়ে ৩ ও ৪ সংখ্যক প্রশ্নের উত্তর দাও।
“মনে পড়ে যায় কতো স্মৃতি মায়া-ভরা”– গানটি শুনলেই বৃদ্ধ হামিদ সাহেব তাঁর ছেলেবেলায় ফিরে যান। তাঁর মনে পড়ে কত কথা– সেসময় মানুষে মানুষে কত মিল ছিল, ধনী-গরিবে এত দূরত্ব ছিল না, উৎসবে-পার্বণে কতোইনা আনন্দ হতো! তাঁর মনে হয়, আবারও যদি সেই দিনগুলো ফিরে আসত!
৩. উদ্দীপকের সাথে ‘আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম’ কবিতার কবির অনুভূতির সাদৃশ্যপূর্ণ দিকগুলো হলো–
i. অতীতচারিতা
ii. স্বপ্নচারিতা
iii. বাস্তবতা
নিচের কোনটি ঠিক?
ক. i ও ii
খ. ii ও iii
গ. i ও iii
ঘ. i, ii ও iii
৪. উপর্যুক্ত সাদৃশ্যের যাথার্থ্য পরিলক্ষিত হয় নিচের কোন চরণে?
ক. এখন সবাই পাগল–বড়লোক হইতাম
খ. গাইয়া সারিগান নাও দৌড়াইতাম
গ. দিন হতে দিন আসে যে কঠিন
ঘ. করিম দীনহীন কোন পথে যাইতাম
সৃজনশীল প্রশ্ন
একতারা বাজাইও না দোতারা বাজাইও না
একতারা বাজাইও না ঢাকঢোল বাজাইও না
গিটার আর বংগো বাজাও রে
একতারা বাজাইলে মনে পইড়া যায়
আমার একতারা বাজাইলে মনে পইড়া যায়
একদিন বাঙালি ছিলাম রে।
ক. বর্ষায় কোন গান গাওয়া হতো?
খ. “দিন হতে দিন আসে যে কঠিন”– উক্তিটি দিয়ে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকের সাথে “আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম” গীতি কবিতার কী মিল আছে?– ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকটি ‘আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম’ কবিতার আংশিক রূপায়ণ মাত্র– বিচার করো।
Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.
Trusted resources
Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.