Skip to content

Bangla Sahityapath chapter 45: Padma

পদ্মা

  • Bangla Sahityapath
  • Textbook pages 289-291
  • 1 source
  • 5,642 characters of context

Textbook (verbatim transcription): Padma

Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.

Contents6

Printed page 289

পদ্মা

ফররুখ আহমদ

কবি-পরিচিতি

ফররুখ আহমদের জন্ম ১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দের ১০ই জুন মাগুরা জেলার মাঝআইল গ্রামে। তিনি কলকাতা রিপন কলেজ থেকে আইএ পাশ করেন। এরপর কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজে দর্শন ও ইংরেজিতে অনার্স নিয়ে পড়া শুরু করেছিলেন। কিন্তু পরীক্ষা না দিয়েই কর্মজীবনে প্রবেশ করেন। চাকরি জীবনের দীর্ঘ সময় তিনি ঢাকা বেতারে স্টাফ রাইটার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

ফররুখ আহমদ প্রথম জীবনে বামপন্থী চিন্তা দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন। পরে ইসলামি ভাবধারায় স্নাত হন। সর্বাবস্থায় মানবতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি ছিল তাঁর প্রধান অবলম্বন। মুসলিম ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বাংলার সঙ্গে আরবি-ফারসির মিশেলে এক বিশেষ ভাষারীতির মাধ্যমে স্বতন্ত্র কাব্যজগৎ তৈরিতে তিনি অনন্য কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। সাধারণত ফররুখ আহমদ 'মুসলিম রেনেসাঁর কবি' হিসেবে সমাদৃত। তাঁকে 'আদর্শবাদী কবি'ও বলা হয়ে থাকে। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'সাত সাগরের মাঝি' প্রকাশিত হয় ১৯৪৪ সালে। অন্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে – কাব্যগ্রন্থ: 'সিরাজাম মুনীরা'; কাব্যনাট্য: 'নৌফেল ও হাতেম'; সনেট সংকলন: 'মুহূর্তের কবিতা'; কাহিনিকাব্য: 'হাতেম তায়ী'; শিশুসাহিত্য: 'পাখির বাসা', 'হরফের ছড়া', 'ছড়ার আসর' বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সাহিত্যকীর্তির স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার ও ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেছেন। তিনি মরণোত্তর একুশে পদকেও ভূষিত হয়েছেন।

১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৯শে অক্টোবর ফররুখ আহমদ ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

অনেক ঘূর্ণিতে ঘুরে, পেয়ে ঢের সমুদ্রের স্বাদ,
জীবনের পথে পথে অভিজ্ঞতা কুড়ায়ে প্রচুর
কেঁপেছে তোমাকে দেখে জলদস্যু– দুরন্ত হার্মাদ,

তোমার তরঙ্গভঙ্গে বর্ণ তার হয়েছে পাণ্ডুর!
সংগ্রামী মানুষ তবু দুই তীরে চালায়ে লাঙল
কঠিন শ্রমের ফল– শস্য দানা পেয়েছে প্রচুর;

উর্বর তোমার চরে ফলায়েছে পর্যাপ্ত ফসল!
জীবন-মৃত্যুর দ্বন্দ্বে নিঃসংশয়, নির্ভীক জওয়ান
সবুজের সমারোহে জীবনের পেয়েছে সম্বল।

বর্ষায় তোমার স্রোতে গেছে ভেসে সাজানো বাগান,
অসংখ্য জীবন, আর জীবনের অজস্র সম্ভার,
হে নদী! জেগেছে তবু পরিপূর্ণ আহ্বান,

মৃত জড়তার বুকে খুলেছে মুক্তির স্বর্ণদ্বার
তোমার সুতীব্র গতি; তোমার প্রদীপ্ত স্রোতধারা ॥

Printed page 290

শব্দার্থ ও টীকা

ঘূর্ণি – জল বা বায়ুর প্রচণ্ড আবর্তন।

সমুদ্রের স্বাদ – সমুদ্র-ভ্রমণের অভিজ্ঞতা বোঝানো হয়েছে।

জলদস্যু – যে দস্যু নদী বা সমুদ্রপথে ডাকাতি করে।

হার্মাদ – পর্তুগিজ জলদস্যু। স্প্যানিশ শব্দ (Armada)।

তরঙ্গভঙ্গে – ঢেউয়ের আবর্তনে।

পাণ্ডুর – ফ্যাকাশে। সাদাটে হলুদ বর্ণবিশিষ্ট।

উর্বর – উৎপাদন শক্তিবিশিষ্ট।

ফলায়েছে – উৎপাদন করেছে।

নিঃসংশয় – সন্দেহহীন।

জওয়ান – শক্তিশালী ও বলবান ব্যক্তি। ফারসি শব্দ।

সমারোহে – আড়ম্বর। জাঁকজমক।

সম্বল – পাথেয়। অবলম্বন।

মৃত জড়তার... মুক্তির – পদ্মার তীব্র গতি মানুষের জীবনপ্রবাহের গতিহীন স্তব্ধতার বুকে এনে দেয় মুক্তির স্পন্দন।

প্রদীপ্ত – উজ্জ্বল। ভাস্বর।

স্রোতধারা – স্রোতের ধারা।

পাঠ-পরিচিতি

ফর্‌রুখ আহমদের 'পদ্মা' কবিতাটি 'কাফেলা' (১৯৮০) নামক কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে। 'কাফেলা' কাব্য সাতটি সনেটের সমন্বয়ে রচিত। সংকলনভুক্ত কবিতাটি পাঁচ সংখ্যক সনেট।

নদীমাতৃক বাংলাদেশে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য নদ-নদী। এসবের মধ্যে পদ্মা সর্ববৃহৎ। 'পদ্মা' কবিতায় এ নদীর দুই রূপ প্রকাশিত হয়েছে। একদিকে এর ভয়ংকর, প্রমত্ত রূপ– যা দেখে বহু সমুদ্র ঘোরার অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ, দুরন্ত জলদস্যুদের মনেও ভয়ের সঞ্চার হয়। অন্যদিকে, পদ্মার পলিতে প্লাবিত এর দুই পাড়ের উর্বর ভূমি মানুষকে দিয়েছে পর্যাপ্ত ফসল, জীবনদায়িনী সবুজের সমারোহ। আবার, এই পদ্মাই বর্ষাকালে জলস্রোতে স্ফীত হয়ে ভাসিয়ে নেয় মানুষের সাজানো বাগান, ঘর, এমনকি জীবন পর্যন্ত। সেই ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে আবারও প্রাণের স্পন্দন জেগে ওঠে পদ্মাকে ঘিরেই। অর্থাৎ একই পদ্মা কখনও ধ্বংসাত্মক রূপে, কখনও কল্যাণময়ী হয়ে এদেশের জনজীবনের সঙ্গে একাত্ম হয়ে আছে।

'পদ্মা' চতুর্দশপদী (sonnet) কবিতা। তিন পঙ্‌ক্তিযুক্ত চারটি স্তবক এবং শেষে দুই পঙ্‌ক্তিযুক্ত একটি স্তবকে কবিতাটি বিন্যস্ত। প্রতি পঙ্‌ক্তিতে রয়েছে ১৮ মাত্রা। কবিতাটির মিলবিন্যাস কখক খগখ গঘগ ঘঙঘ ঙঙ।

Printed page 291

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন

১. পদ্মাকে দেখে কেঁপে উঠেছে–

ক. নির্ভীক জোয়ান

খ. দুরন্ত হার্মাদ

গ. সংগ্রামী মানুষ

ঘ. প্রদীপ্ত স্রোতধারা

২. "জীবনের পথে পথে অভিজ্ঞতা কুড়ায়ে প্রচুর"–কাদের কথা বলা হয়েছে?

ক. জলদস্যু

খ. পদ্মা তীরের মানুষ

গ. সংগ্রামী চাষী

ঘ. নির্ভীক জোয়ান

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে ৩ ও ৪ নং প্রশ্নের উত্তর দাও।

ভাঙনপ্রবণ তীরে যাদের আবাস তারা কেউ
সুখে নেই বরং দুঃখেই কাটে তাদের দিনকাল।

৩. উদ্দীপক ও 'পদ্মা' কবিতাটির মধ্যে মিল রয়েছে–

i. নদীতীরবর্তী মানুষের দুর্ভোগ

ii. নদীর জীবনপ্রবাহ

iii. কৃষিতে নদীর প্রভাব

নিচের কোনটি সঠিক?

ক. i

খ. ii

গ. i ও ii

ঘ. ii ও iii

৪. "বরং দুঃখেই কাটে তাদের দিনকাল"–চরণটির ভাবের সাথে 'পদ্মা' কবিতার নিচের কোন চরণের ভাবের সাদৃশ্য রয়েছে?

ক. তোমার তরঙ্গভঙ্গে বর্ণ তার হয়েছে পাণ্ডুর

খ. সবুজের সমারোহে জীবনের পেয়েছে সম্বল

গ. বর্ষায় তোমার স্রোতে গেছে ভেসে সাজানো বাগান

ঘ. মৃত জড়তার বুকে খুলেছে মুক্তির স্বর্ণদ্বার

সৃজনশীল প্রশ্ন

প্রমত্তা পদ্মার সর্বগ্রাসী রূপ নিয়ে বিখ্যাত শিল্পী আবদুল আলীমের 'সর্বনাশা পদ্মা নদী' নামে বহুল প্রচলিত একটি গান রয়েছে। নদীতীরবর্তী মানুষের হাহাকার ভরা দীর্ঘশ্বাস গানটিতে ফুটে উঠেছে। গানের একটি অংশে বলা হয়েছে–

"পদ্মারে তোর তুফান দেইখা
পরান কাঁপে ডরে
ফেইলা আমায় মারিস না তোর
সর্বনাশা ঝড়ে।"

ক. 'জীবন-মৃত্যুর দ্বন্দ্বে নিঃসংশয়'–কারা?

খ. "মৃত জড়তার বুকে খুলেছে মুক্তির স্বর্ণদ্বার"–বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

গ. উদ্দীপকটির সাথে 'পদ্মা' কবিতার কোন দিকটির সামঞ্জস্য লক্ষ করা যায়? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. "উদ্দীপকটি 'পদ্মা' কবিতার আংশিক রূপায়ণ মাত্র।"–উক্তিটির যৌক্তিকতা মূল্যায়ন করো।

Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.

Trusted resources

Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.