Bangla Sahityapath chapter 46: Light Is What We Want
আলো চাই
- Bangla Sahityapath
- Textbook pages 292-295
- 1 source
- 6,760 characters of context
Textbook (verbatim transcription): Light Is What We Want
Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.
Contents6ShowHide
Printed page 292
আলো চাই
সিকান্দার আবু জাফর
কবি-পরিচিতি
সিকান্দার আবু জাফর ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৯শে মার্চ সাতক্ষীরা জেলার তালা থানার অন্তর্গত তেঁতুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পূর্ণ নাম সৈয়দ আল্ হাশেমী আবু জাফর মুহম্মদ বখ্ত সিকান্দার। তাঁর পিতার নাম সৈয়দ মঈনুদ্দীন হাশেমী। আবু জাফর ১৯৩৬ সালে প্রবেশিকা ও পরে কলকাতার রিপন কলেজ থেকে আইএ পাস করেন। ১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দে তিনি কলকাতার মিলিটারি একাউন্টস বিভাগে যোগদান করে পেশাগত জীবন শুরু করেন। পরে সিভিল সাপ্লাই অফিসে চাকরি করেন। মূলত তিনি পেশায় ছিলেন সাংবাদিক। কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত ‘দৈনিক নবযুগ’ পত্রিকায় সাংবাদিকতার মাধ্যমে তাঁর সাংবাদিক জীবন শুরু হয়। তিনি ‘ইত্তেফাক’, ‘সংবাদ’, মিল্লাত’ প্রভৃতি পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন। ১৯৫৬ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় মাসিক সাহিত্য-পত্রিকা ‘সমকাল’। সে সময়ের তরুণ লেখকদের উৎসাহদান, জাতীয়তাবোধ ও বাঙালি চেতনায় অনুপ্রাণিত করার ক্ষেত্রে এই পত্রিকাটি অসামান্য ভূমিকা রেখেছে। ১৯৭১সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি স্বাধীনতা, দেশপ্রেম ও বিপ্লবের চেতনাসম্পন্ন অনেক গান রচনা করেন। তাঁর রচিত ‘আমাদের সংগ্রাম চলবেই’ গানটি মুক্তিযুদ্ধের সময় এদেশের মুক্তিকামী জনতাকে অনুপ্রাণিত করে।
সিকান্দার আবু জাফর সাহিত্যের প্রায় সব শাখায় বিচরণ করেছেন। তবে তাঁর মূল পরিচয় তিনি কবি। তাঁর উল্লেখযোগ্য সৃষ্টিগুলো হলো– কাব্যগ্রন্থ : ‘প্রসন্ন প্রহর’, ‘বৈরী বৃষ্টিতে’, ‘তিমিরান্তিক’, ‘কবিতা’, ‘বৃশ্চিক লগ্ন’, ‘বাংলা ছাড়ো’; নাটক : ‘শকুন্ত উপাখ্যান’, ‘সিরাজউদ্দৌলা’, ‘মহাকবি আলাওল’; উপন্যাস : ‘মাটি আর অশ্রু’, ‘পূরবী’, ‘নতুন সকাল’; কিশোর পাঠ্য : ‘জয়ের পথে’। তিনি ১৯৬৬ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন এবং ১৯৮৪ সালে একুশে পদকে (মরণোত্তর) ভূষিত হন।
১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দের ৫ই আগস্ট সিকান্দার আবু জাফর মৃত্যুবরণ করেন।
শাখে শাখে চৈত্রের পল্লবে
দেখেছি বিমুগ্ধ চোখে সবুজের বর্ণ সমারোহ;
সে-বর্ণের কিছু আছে রহস্য জটিল
কিছু আছে অন্তরের কথা।
পত্রঝরা শাখা-বৃন্ত-প্রাণে
কী অব্যক্ত অনুনয় ছিল,
রুক্ষ শাখা ঊর্ধ্বশূন্যে কি কথা শোনালো,
উচ্ছ্বসিত বেদনার প্রাণস্পন্দ নিয়ে
কোথা থেকে এলো এই সবুজের শিশু,
তার কিছু ইতিহাস অদৃশ্য অক্ষরে আছে লেখা।
সে-দুর্জ্ঞেয় নীরব কাহিনি
রাত্রিদিন বারবার করে
Printed page 293
শুনতে চেয়েছি আমি উন্মুখ শ্রবণে।
শোনার অতীত যত কথা
দেখার অতীত যত অপ্রতিম রূপ
তাই দিয়ে রূপে-রসে সৃষ্টির নিভৃত মর্মবাণী
লিপিবদ্ধ আছে সঙ্গোপনে।
সে-রূপের কিছু আলো পেয়েছি হৃদয়ে
কিছু কথা শুনেছি কখনো
মর্মের শ্রবণে
বুঝিনি অনেক কিছু তার।
যেটুকু বুঝেছি তাও কথা নেই শোনাবার মতো।
তবু সেই সুনিশ্চিত বাণী
অস্পষ্ট স্বপ্নের মতো অনুভূতি ঘিরে
স্পর্শ তার রেখে যায়, প্রলোভন রেখে যায় আরও,
আমি তাকে পাইনি আমার
চেতনার সহজ সন্ধানে।
তবু তাকে দেখবার বুঝবার অশেষ বিস্ময়ে
রুদ্ধদ্বার হৃদয়ের কাছে
অনুনয় করি বারংবার :
আলো চাই— আরও আলো, অন্তরের, তীব্রতম আলো।
শব্দার্থ ও টীকা
শাখে শাখে ... কিছু আছে অন্তরের কথা – চৈত্রের পত্রপল্লব বহু বর্ণিল। এই বর্ণিলতার মধ্যে অফুরন্ত রহস্য লুকিয়ে থাকে। যিনি সৃষ্টিশীল মানুষ, প্রকৃতিকে দেখার চোখ আছে যার, তিনি সেই রহস্যের মধ্যে মানব-মনের কথা শুনতে পান।
পত্র ঝরা শাখা-বৃন্ত-প্রাণে ... অদৃশ্য অক্ষরে আছে লেখা – ঝরে যাওয়ার মধ্যে দুঃখ থাকে। মানুষ যেমন সংসারের বন্ধন থেকে, পৃথিবীর বন্ধন থেকে চলে যেতে চায় না কিংবা তার প্রিয়জনকে চলে যেতে দিতে চায় না, কবিও তেমনি কল্পনায় একটি পাতাঝরা রূপের মধ্যেও তুলে ধরেন বেদনার হাহাকার, অব্যক্ত অনুনয়। কিন্তু বেদনাই শেষ কথা নয় সৃষ্টি আছে, প্রাণ আছে, আছে প্রাণের কোলাহল। ‘সবুজ শিশু’ তারই প্রতীক। আর এই সৃষ্টির মধ্যে গোপন এক ইতিহাসের মতো লেখা থাকে জীবনের জয়গান।
Printed page 294
শোনার অতীত যত কথা ... লিপিবদ্ধ আছে সংগোপনে – প্রকৃতি চিরকালই রহস্যময়। কত না-জানা কথা, কত না-শোনা গান আর কত না- দেখা রূপ যে প্রকৃতির মধ্যে লুকিয়ে থাকে তার ইয়ত্তা নেই।
সে রূপের কিছু আলো ... অনেক কিছু তার – প্রকৃতির বিপুল রহস্য আর অপরিমেয় সৌন্দর্যের আস্বাদ সব সৃষ্টিশীল মানুষেরই কাঙ্ক্ষিত। কবিও সেই রূপের, সেই সৌন্দর্যের, সেই রহস্যের কিছু আলো লাভ করেছেন। সেই রহস্যময় জগতের কিছু কথা তাল-লয়-ছন্দে অনুভব করেছেন। কিন্তু সেই রহস্যের খুব সামান্যই তিনি তাঁর সৃষ্টির মধ্যে ধারণ করতে পেরেছেন— আর এই তাঁর আক্ষেপ।
তবু তাকে দেখবার ... তীব্রতম আলো – কবি তাঁর সৃষ্টির মধ্যে জীবন ও প্রকৃতির যত রহস্য ও সৌন্দর্য উন্মোচন করুন না কেন, তিনি কখনই পরিপূর্ণ তৃপ্তি লাভ করেন না। তিনি প্রকৃতিকে আরও গভীরভাবে অবলোকন করতে চান, উন্মোচন করতে চান এর গোপন রহস্য ও আনন্দকে।
পাঠ-পরিচিতি
‘আলো চাই’ শীর্ষক কবিতাটি কবির ‘প্রথম প্রহর’ (১৯৬৫) শীর্ষক কাব্যগ্রন্থ থেকে চয়ন করা হয়েছে। প্রকৃতির মধ্যে যে বিপুল রহস্য ও সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে এই কবিতায় কবি তার স্বরূপ তুলে ধরেছেন। প্রকৃতির অন্তর্লোকে যেন সঙ্গোপনে লুকিয়ে আছে সৃষ্টির নিভৃত মর্মবাণী। এই মর্মবিচ্ছুরিত আলোর স্পর্শে কবি-হৃদয় সর্বদা উদ্দীপ্ত ও অনুপ্রাণিত। কবি মনে করেন, আনন্দ-বেদনায়, নীরবতা ও শব্দময়তায়, ছন্দ-তাল-লয়ে প্রকৃতি চিরকালই ঐশ্বর্যময়। প্রকৃতির সেই বিপুল ঐশ্বর্যের আস্বাদনে সাড়া দেওয়া একজন কবি নিজের অর্জন নিয়ে কখনোই তৃপ্তিলাভ করেন না। সেই অতৃপ্তির বেদনা নিয়ে কবি সৃষ্টিশীল সত্তার কাছে শক্তি ও আলোর প্রার্থনা করেন।
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
১. ‘আলো চাই’ কবিতায় কোন মাসে সবুজের সমারোহ দেখা যায় বলে উল্লেখ করা হয়েছে?
ক. চৈত্র
খ. বৈশাখ
গ. মাঘ
ঘ. ফাল্গুন
২. ‘পত্রঝরা শাখা-বৃন্ত’ কিসের ইঙ্গিত বহন করে?
ক. সৃষ্টির
খ. বেদনার
গ. মৃত্যুর
ঘ. নবজাগরণের
Printed page 295
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে ৩ ও ৪ সংখ্যক প্রশ্নের উত্তর দাও।
তোমরা তুলিবে বলে সকাল বিকাল
নব নব সংগীতের কুসুম ফুটাই।
হাসি মুখে নিও ফুল, তার পরে হায়
ফেলে দিও ফুল, যদি সে ফুল শুকায়।
৩. উদ্দীপকে ফুটে ওঠা দিকটি ‘আলো চাই’ কবিতার যে দিকটির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ তা হলো–
ক. প্রকৃতির সৌন্দর্য
খ. প্রকৃতির রহস্য
গ. বাংলার ঐশ্বর্য
ঘ. বাংলার সৃষ্টিশীলতা
৪. উদ্দীপকের মাঝে ‘আলো চাই’ কবিতায় কবির চাওয়ার কোন দিকটি অনুপস্থিত?
ক. সৌন্দর্যবোধ
খ. আত্মতৃপ্তি
গ. অতৃপ্তি
ঘ. প্রত্যাশা
সৃজনশীল প্রশ্ন
স্তবক-১ : পুষ্পে পুষ্পে ভরা শাখী; কুঞ্জে কুঞ্জে গাহে পাখি,
গুঞ্জরিয়া আসে অলি পুঞ্জে পুঞ্জে ধেয়ে–
তারা ফুলের ওপর ঘুমিয়ে পড়ে ফুলের মধু খেয়ে।
স্তবক-২ : জাগাও মুমূর্ষু ধরা প্রাণ।
ফুলের ফসল আনো, খাদ্য আনো ক্ষুধার্তের লাগি
আত্মার আনন্দ আনো, আনো যারা রহিয়াছে জাগি
তিমির প্রহর ভরি অতন্দ্র নয়ন, তার তরে
ছড়াও প্রভাত আলো তোমাদের মুঠি ভরে ভরে।
ক. ‘আলো চাই’ কবিতায় কবি বিমুগ্ধ নয়নে কী দেখেছেন?
খ. “পত্রঝরা শাখা-বৃন্ত-প্রাণে/কী অব্যক্ত অনুনয় ছিল”– উক্ত বক্তব্যের ইঙ্গিতপূর্ণ দিকটি ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের প্রথম স্তবকে ‘আলো চাই’ কবিতার যে দিকটি ফুটে উঠেছে তা তুলে ধর।
ঘ. “স্তবকদ্বয়ের সমন্বিত ভাবই ‘আলো চাই’ কবিতার পূর্ণ প্রতিফলন”– মন্তব্যটির যাথার্থ্য যাচাই করো।
Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.
Trusted resources
Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.