Bangla Sahityapath chapter 47: Eighteen Years of Age
আঠারো বছর বয়স
- Bangla Sahityapath
- Textbook pages 296-299
- 1 source
- 8,022 characters of context
Textbook (verbatim transcription): Eighteen Years of Age
Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.
Contents6ShowHide
Printed page 296
আঠারো বছর বয়স
সুকান্ত ভট্টাচার্য
কবি-পরিচিতি
সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ সালের ১৫ই আগস্ট কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়ায়। ছোটবেলা থেকেই সুকান্ত ছিলেন অত্যন্ত রাজনীতি-সচেতন। তিনি ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য ছিলেন। তিনি 'দৈনিক স্বাধীনতা'র কিশোরসভা অংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত এর সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। কবিতায় তিনি বৈষম্যহীন সমাজের স্বপ্ন লালন করতেন। তিনি বাংলা কবিতার মার্কসবাদী ধারায় নতুন নতুন প্রতীক নির্মাণে মৌলিক সাফল্যের পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত কাব্য 'ছাড়পত্র' ১৯৪৭ সালে প্রকাশিত হয়। 'ঘুম নেই' ও 'পূর্বাভাস' তাঁর অন্য দুই কাব্যগ্রন্থ। অন্যান্য রচনার মধ্যে 'মিঠেকড়া', 'অভিযান', 'হরতাল' বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি ফ্যাসিবিরোধী লেখক শিল্পীসংঘের পক্ষে 'আকাল' নামে একটি কাব্যগ্রন্থ সম্পাদনা করেন।
১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দের ১৩ই মে মাত্র একুশ বছর বয়সে প্রতিভাবান এ কবির অকালমৃত্যু হয়।
আঠারো বছর বয়স কী দুঃসহ
স্পর্ধায় নেয় মাথা তোলবার ঝুঁকি,
আঠারো বছর বয়সেই অহরহ
বিরাট দুঃসাহসেরা দেয় যে উঁকি।
আঠারো বছর বয়সের নেই ভয়
পদাঘাতে চায় ভাঙতে পাথর বাধা,
এ বয়সে কেউ মাথা নোয়াবার নয়—
আঠারো বছর বয়স জানে না কাঁদা।
এ বয়স জানে রক্তদানের পুণ্য
বাষ্পের বেগে স্টিমারের মতো চলে,
প্রাণ দেওয়া-নেওয়া ঝুলিটা থাকে না শূন্য
সঁপে আত্মাকে শপথের কোলাহলে।
আঠারো বছর বয়স ভয়ংকর
তাজা তাজা প্রাণে অসহ্য যন্ত্রণা,
এ বয়সে প্রাণ তীব্র আর প্রখর
এ বয়সে কানে আসে কত মন্ত্রণা।
আঠারো বছর বয়স যে দুর্বার
পথে প্রান্তরে ছোটায় বহু তুফান,
দুর্যোগে হাল ঠিকমতো রাখা ভার
ক্ষত-বিক্ষত হয় সহস্র প্রাণ।
Printed page 297
আঠারো বছর বয়সে আঘাত আসে
অবিশ্রান্ত; একে একে হয় জড়ো,
এ বয়স কালো লক্ষ দীর্ঘশ্বাসে
এ বয়স কাঁপে বেদনায় থরোথরো।
তবু আঠারোর শুনেছি জয়ধ্বনি,
এ বয়স বাঁচে দুর্যোগে আর ঝড়ে,
বিপদের মুখে এ বয়স অগ্রণী
এ বয়স তবু নতুন কিছু তো করে।
এ বয়স জেনো ভীরু, কাপুরুষ নয়
পথ চলতে এ বয়স যায় না থেমে,
এ বয়সে তাই নেই কোনো সংশয়—
এ দেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে ॥
শব্দার্থ ও টীকা
আঠারো বছর বয়স কী দুঃসহ – এ বয়স মানবজীবনের এক উত্তরণকালীন পর্যায়। কৈশোর থেকে যৌবনে পদার্পণ করে মানুষ এ বয়সে। অন্যদের ওপর নির্ভরশীলতা পরিহার করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিতে হয় তাকে। এসময় থেকে তাকে এক কঠিন ও দুঃসহ অবস্থায় পড়তে হয়।
স্পর্ধায় নেয় মাথা তোলবার ঝুঁকি – অন্যের ওপর নির্ভরশীলতা পরিহার করে মাথা উঁচু করে স্বাধীনভাবে চলার ঝুঁকি এ বয়সেই মানুষ নিয়ে থাকে।
বিরাট দুঃসাহসেরা দেয় যে উঁকি – নানা দুঃসাহসী স্বপ্ন, কল্পনা ও উদ্যোগ এ বয়সের তরুণদের মনকে ঘিরে ধরে।
আঠারো বছর বয়স জানে না কাঁদা – যৌবনে পদার্পণ করে এ বয়সে মানুষ আত্মপ্রত্যয়ী হয়। জীবনের মুখোমুখি দাঁড়ায় স্বাধীনভাবে। শৈশব-কৈশোরের পরনির্ভরতার দিনগুলোতে যে কান্না ছিল এ বয়সের স্বভাব-বৈশিষ্ট্য তাকে সচেতনভাবে মুছে ফেলতে উদ্যোগী হয়।
এ বয়স জানে রক্তদানের পুণ্য – দেশ, জাতি ও মানবতার জন্য যুগে যুগে এ বয়সের মানুষই এগিয়ে গেছে সবচেয়ে বেশি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দাঁড়িয়েছে সমস্ত বিপদ মোকাবেলায়। প্রাণ দিয়েছে অজানাকে জানবার জন্য, দেশ ও জনগণের মুক্তি ও কল্যাণের সংগ্রামে। তাই এ বয়স সুন্দর, শুভ ও কল্যাণের জন্য রক্তমূল্য দিতে জানে।
সঁপে আত্মাকে শপথের কোলাহলে – তারুণ্য স্বপ্ন দেখে নতুন জীবনের, নব নব অগ্রগতি সাধনের। তাই সেইসব স্বপ্ন বাস্তবায়নে, নিত্য-নতুন করণীয় সম্পাদনের জন্য নব নব শপথে বলীয়ান হয়ে তরুণ-প্রাণ এগিয়ে যায় দৃঢ় পদক্ষেপে।
তাজা তাজা প্রাণে অসহ্য যন্ত্রণা – চারপাশের অন্যায়, অত্যাচার, শোষণ, পীড়ন, সামাজিক বৈষম্য ও ভেদাভেদ ইত্যাদি দেখে প্রাণবন্ত তরুণেরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।
Printed page 298
এ বয়সে প্রাণ তীব্র আর প্রখর – অনুভূতির তীব্রতা ও সুগভীর সংবেদনশীলতা এ বয়সেই মানুষের জীবনে বিশেষ তীব্র হয়ে দেখা দেয় এবং মনোজগতে তার প্রতিক্রিয়াও হয় গভীর।
এ বয়সে কানে আসে কত মন্ত্রণা – ভালো-মন্দ, ইতিবাচক-নেতিবাচক নানা তত্ত্ব, মতবাদ, ভাবধারনার সঙ্গে পরিচিত হতে শুরু করে এই বয়সের তরুণেরা।
দুর্যোগে হাল ঠিক মতো রাখা ভার – জীবনের এই সন্ধিক্ষণে শারীরিক, মানসিক, সামাজিক, রাজনৈতিক নানা জটিলতাকে অতিক্রম করতে হয়। এই সময় সচেতন ও সচেষ্টভাবে নিজেকে পরিচালনা করতে না পারলে পদস্থলন হতে পারে। জীবনে বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।
এ বয়স কালো লক্ষ দীর্ঘশ্বাসে – সচেতন ও সচেষ্ট হয়ে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে জীবন পরিচালনা করতে না পারার অজস্র ব্যর্থতার দীর্ঘশ্বাসে এ বয়স নেতিবাচক কালো অধ্যায় হয়ে উঠতে পারে।
পথ চলতে এ বয়স যায় না থেমে – এ বয়স দেহ ও মনের স্থবিরতা, নিশ্চলতা, জরাজীর্ণতাকে অতিক্রম করে দুর্বার গতিতে। প্রগতি ও অগ্রগতির পথে নিরন্তর ধাবমানতাই এ বয়সের বৈশিষ্ট্য।
এ দেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে – আঠারো বছর বয়স বহু ইতিবাচক বৈশিষ্ট্যে চিহ্নিত। জড় নিশ্চল প্রথাবদ্ধ জীবনকে পেছনে ফেলে নতুন জীবন রচনার স্বপ্ন, কল্যাণ ও সেবাব্রত, উদ্দীপনা, সাহসিকতা, চলার দুর্বার গতি– এসবই আঠারো বছর বয়সের বৈশিষ্ট্য। কবি প্রার্থনা করেন, এসব বৈশিষ্ট্য যেন জাতীয় জীবনে চালিকাশক্তি হয়ে দাঁড়ায়।
পাঠ-পরিচিতি
সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'আঠারো বছর বয়স' কবিতাটি ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত তাঁর 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে। এ কবিতায় কবি নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে বয়ঃসন্ধিকালের বৈশিষ্ট্যকে তুলে ধরেছেন। কৈশোর থেকে যৌবনে পদার্পণের এ বয়সটি উত্তেজনার, প্রবল আবেগ ও উচ্ছ্বাসে জীবনের ঝুঁকি নেবার উপযোগী। এ বয়স অদম্য দুঃসাহসে সকল বাধা-বিপদকে পেরিয়ে যাওয়ার এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার জন্য প্রস্তুত। এদের ধর্মই হলো আত্মত্যাগের মহান মন্ত্রে উজ্জীবিত হওয়া, আঘাত-সংঘাতের মধ্যে রক্তশপথ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়া। পাশাপাশি সমাজজীবনের নানা বিকার, অসুস্থতা ও সর্বনাশের অভিঘাতে হয়ে উঠতে পারে এরা ভয়ংকর।
কিন্তু এ বয়সের আছে সমস্ত দুর্যোগ আর দুর্বিপাক মোকাবিলা করার অদম্য প্রাণশক্তি। ফলে তারুণ্য ও যৌবনশক্তি দুর্বার বেগে এগিয়ে যায় প্রগতির পথে। যৌবনের উদ্দীপনা, সাহসিকতা, দুর্বার গতি, নতুন জীবন রচনার স্বপ্ন এবং কল্যাণব্রত– এসব বৈশিষ্ট্যের জন্য কবি প্রত্যাশা করেছেন নানা সমস্যাপীড়িত দেশে তারুণ্য ও যৌবনশক্তি যেন জাতীয় জীবনের চালিকাশক্তি হয়ে দাঁড়ায়।
'আঠারো বছর বয়স' কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
Printed page 299
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
১. সুকান্ত ভট্টাচার্য কত বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন?
ক. ১৯
খ. ২০
গ. ২১
ঘ. ২২
২. "এ দেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে।"—কোন বৈশিষ্ট্যের কারণে কবি আঠারোর প্রত্যাশা করেছেন?
ক. ইতিবাচক
খ. দুঃসাহস
গ. বয়স
ঘ. তারুণ্য
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে ৩ ও ৪ সংখ্যক প্রশ্নের উত্তর দাও।
ব্রিটিশ শাসকদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ ভারতবাসী। ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। মাস্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বে ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণে এগিয়ে আসেন তাঁর অনেক অনুসারী। এঁদেরই একজন প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার। শেষ পর্যন্ত তিনি মৃত্যুকে বরণ করে নিয়েছেন কিন্তু আত্মসমর্পণ করেননি।
৩. প্রীতিলতার মাঝে 'আঠার বছর বয়স' কবিতার যে দিক ফুটে উঠেছে—
i. তারুণ্য
ii. আত্মত্যাগ
iii. সর্বনাশের অভিঘাত
নিচের কোনটি ঠিক?
ক. i ও ii
খ. i ও iii
গ. ii ও iii
ঘ. i. ii ও iii
৪. উক্ত দিক নিচের কোন চরণযুগলে প্রকাশ পেয়েছে?
ক. এ বয়স জানে রক্তদানের পুণ্য
বাষ্পের বেগে স্টিমারের মতো চলে
খ. আঠারো বছর বয়সের নেই ভয়
পদাঘাতে চায় ভাঙতে পাথর বাধা
গ. প্রাণ দেওয়া-নেওয়া ঝুলিটা থাকে না শূন্য
সঁপে আত্মাকে শপথের কোলাহলে
ঘ. এ বয়স বাঁচে দুর্যোগে আর ঝড়ে,
বিপদের মুখে এ বয়স অগ্রণী
সৃজনশীল প্রশ্ন
রুবেল ও রাসেল সহপাঠী এবং লেখাপড়ায় বেশ ভালো ছিল। কিন্তু স্কুল জীবন পার হতে না হতেই রুবেল মিশে যায় দুষ্ট প্রকৃতির কিছু ছেলের সাথে। লেখাপড়ার পাঠ তার চুকে যায় ওখানেই। তার নাম শুনলে এখন মানুষ আঁতকে ওঠে। অপর দিকে রাসেল বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে। ছাত্রদের যেকোনো ন্যায্য দাবির আন্দোলনে সে ঝাঁপিয়ে পড়ে; সহপাঠীদের সংগঠিত করে। মিছিলে নেতৃত্ব দেয়। রাসেল প্রতিজ্ঞা করে– জীবন দিয়ে হলেও এদেশের সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে আমৃত্যু লড়াই করে যাবে।
ক. কোন বয়সে 'দুঃসাহসেরা' উঁকি দেয়?
খ. 'বাষ্পের বেগে স্টিমারের মতো চলে' – একথা দিয়ে সুকান্ত ভট্টাচার্য কী বোঝাতে চেয়েছেন?
গ. উদ্দীপকের রুবেলের মাঝে 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার কোন দিকটি ফুটে উঠেছে?
ঘ. "উক্ত দিকটি কি 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার মূলভাব।"– উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ করো।
Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.
Trusted resources
Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.