Skip to content

Bangla Sahityapath chapter 49: Bones

হাড়

  • Bangla Sahityapath
  • Textbook pages 304-307
  • 1 source
  • 7,505 characters of context

Textbook (verbatim transcription): Bones

Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.

Contents6

Printed page 304

হাড়

আলাউদ্দিন আল আজাদ

কবি-পরিচিতি

আলাউদ্দিন আল আজাদ ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দের ৬ই মে নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার রামনগরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম গাজী আবদুস সোবহান ও মায়ের নাম আমেনা খাতুন। ১৯৫৩ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক সম্মান ও ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৭০সালে তিনি লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। সরকারি কলেজে অধ্যাপনার মধ্যদিয়ে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন এবং পরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নজরুল অধ্যাপক পদে যোগদান করেন। এছাড়া মস্কোর বাংলাদেশ দূতাবাসে সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা সচিব পদে দায়িত্ব পালন করেন।

আলাউদ্দিন আল আজাদ গল্প, উপন্যাস, কবিতা, নাটক ও প্রবন্ধ লিখে যশস্বী হয়েছেন। তবে কথাসাহিত্যিক হিসেবেই তিনি অসামান্য কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের বিচিত্র দ্বন্দ্ব-সংঘাত ও মনোজাগতিক বিকার-বিকৃতি তাঁর কথাসাহিত্যে নিগূঢ় জীবন-জিজ্ঞাসা নিয়ে উপস্থিত হয়েছে। শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রামকে তিনি ঐকান্তিক বিশ্বাসের সঙ্গে আঁকতে চেষ্টা করেছেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো: ‘মানচিত্র’, ‘ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ’, ‘সূর্যজ্বালার সোপান’, ‘লেলিহান পাণ্ডুলিপি’, ‘নিখোঁজ সনেটগুচ্ছ’, ‘আমি যখন আসবো’, ‘সাজঘর’ ইত্যাদি। সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ইউনেস্কো পুরস্কার, একুশে পদক ইত্যাদিতে ভূষিত হয়েছেন।

২০০৯ খ্রিষ্টাব্দের ৩রা জুলাই আলাউদ্দিন আল আজাদ মৃত্যুবরণ করেন।

লাল পলাশের ভস্মস্তূপে কিসের জ্বালা
স্তব্ধ অধীর বজ্রগর্ভ মেঘের মতো?
শিবির-সীমায় মনের ছায়ায় ইতস্তত
ছড়ায় সে তার কূট-মন্ত্রণা ঘৃণায় ঢালা
দুই শতকের সেই একদিন মনে কি পড়ে?
মিরজাফরের গুলির শিখায়, সমুদ্ধত
নিভলো তোমার দিনের সূর্য দিগন্তরে
দূর গোধূলির সেই একদিন মনে কি পড়ে
মনে কি পড়ে?
নিভলো তোমার ঘরের প্রদীপ পথের বাতি
নিভলো সহসা মহাশূন্যের লক্ষ তারা
কালো রাত্রির যাত্রিক হলে, লক্ষ্যহারা
সড়কে সড়কে ঝড়-ঝঞ্ঝাই তোমার সাথি।
সমুখে কোথাও এমন সে দেশ আছে কি ভাই
যেখানে আলোর সম্ভারে হাসে বসুন্ধরা?

Printed page 305

স্বদেশ আমার চক্র-রাতের মুঠোয় ভরা
গ্রাম জনপদ কাঁপে বর্গীর অশ্বখুরে
সোনার শস্য পোড়ে ছারখার; দৃষ্টি পুড়ে
হলো সঙ্গীন, তাই নেই আর অশ্রুঝরা
টোটায় ঝরে
অযুত প্রাণের অগ্নিশিখার সূর্য-কুঁড়ি
ফৌজের হাঁকে কাঁপে থরথর দস্যুপুরী
নিমেষে ছড়ায় তারই আওয়াজ দিগন্তরে
মনে কি পড়ে?
রক্ত ঝরে
অগ্নির মতো বাঁশের কেল্লা বেদির পরে
রক্ত ঝরাই ফাঁসির মঞ্চে দ্বীপান্তরে
ঝরেছে সকল রক্ত। এখন কখানা হাড়ে
ঝকঝক করে তীব্র তীক্ষ্ণ বর্শা-ফলা
নতুন দস্যু আসে যদি, দেশ দেবোনা তারে
ইস্পাত-হাড়ে গড়েছি বজ্র বহ্নি-জ্বালা ॥

শব্দার্থ ও টীকা

ভস্মস্তূপ – ছাইয়ের গাদা।
বজ্রগর্ভ মেঘের মতো – বজ্র ধারণ করে আছে এমন মেঘের অনুরূপ।
মিরজাফর – মির জাফর আলি খাঁ ছিলেন নবাব আলীবর্দি খাঁ ও নবাব সিরাজউদ্দৌলার সেনাপতি । ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সঙ্গে গোপন চুক্তি করে ১৭৫৭ সালে পলাশির যুদ্ধে তিনি সিরাজউদ্দৌলার পতন ঘটান। তাঁর এই বিশ্বাসঘাতকতায় বাংলার স্বাধীনতা সূর্য অস্তমিত হয়।
মিরজাফরের গুলির শিখায়
... মনে কি পড়ে। – মিরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতায় ১৭৫৭ সালে বিপুল ঐশ্বর্যে সমৃদ্ধ বাংলার স্বাধীন সূর্য অস্তমিত হয়। বাংলাদেশ দুইশ বছরের পরাধীনতা বরণ করে। সে দিনের সেই মর্মান্তিক ঘটনার কথা এদেশের দেশপ্রেমিক কোনো নাগরিকেরই ভুলে যাওয়ার কথা নয়।
যাত্রিক – যাত্রা সম্বন্ধীয়। যাত্রাযোগ্য। যাত্রাকারী।
নিভলো তোমার ঘরের প্রদীপ
... ঝড় ঝঞ্ঝাই তোমার সাথি – অপরিসীম শক্তি, সাহস ও শৌর্যবীর্য থাকা সত্ত্বেও মিরজাফর প্রমুখ ষড়যন্ত্রকারীদের বিশ্বাসঘাতকতার ফলে পলাশির যুদ্ধে বাংলায় স্বাধীনতা

Printed page 306

সূর্য অস্তমিত হয়। সুদীর্ঘ অন্ধকারের মধ্যে পতিত হয় দেশমাতৃকা। অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু হয়ে পড়ে পুরো দেশ, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সংকট তৈরি করা হয় সর্বত্র। এই পরাধীনতা থেকে মুক্তির জন্য লড়াই হয়েছে কিন্তু ব্রিটিশদের ষড়যন্ত্র, শোষণ, বঞ্চনা ও নিপীড়নে তাঁদের সংগ্রাম বারবার ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে।

বর্গী – ১৭৪১ থেকে ১৭৫১ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ দশ বছর মহারাষ্ট্রীয় সৈন্যরা বাংলার পশ্চিমাঞ্চলে লুণ্ঠন, হত্যা ও জ্বালাও-পোড়াও করে চলছিল। এদের বর্গী বলা হয়। এরা অস্ত্র বহন করত এবং দ্রুতগতির ঘোড়ায় চড়ে আক্রমণ চালাত। বর্গীর অত্যাচারে মানুষ সন্ত্রস্ত ও ভীত-বিহ্বল হয়ে উঠেছিল।

টোটা – বন্দুকের কার্তুজ।

বাঁশের কেল্লা – ইংরেজ শাসকদের বিরুদ্ধে লড়াই পরিচালনার জন্য ১৮৩১ সালের ২৩শে অক্টোবর তিতুমির একটি বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন। অস্ত্রশস্ত্র রক্ষণাবেক্ষণ ও তাঁর অনুসারীদের সামরিক প্রশিক্ষণের জন্য তিনি এই কেল্লা তৈরি করেন।

নতুন দস্যু আসে যদি
... বজ্র বহ্নি-জ্বালা – বাংলার মানুষ এখন প্রতিরোধের শক্তিতে বলীয়ান। দীর্ঘ সংগ্রাম বিপ্লব-বিদ্রোহ ও যুদ্ধের অভিজ্ঞতায় এখন বাংলার জনগণ সমৃদ্ধ। তার ইস্পাতদৃঢ় হাড়ে বজ্রের সংক্ষোভ। কোনো দস্যু আর এদেশ দখল করতে পারবে না। কোনো বিদেশি শত্রুর কাছে পরাভব মানবে না এদেশের কোটি কোটি মানুষ।

পাঠ-পরিচিতি

আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত ‘হাড়’ শীর্ষক কবিতাটি তাঁর ‘মানচিত্র’ (১৯৬১) কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে। দেশপ্রেমমূলক এই কবিতাটির মধ্যে এদেশের সুদীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস ও তাৎপর্য উন্মোচিত হয়েছে। ১৭৫৭ সালে পলাশির যুদ্ধে সিরাজউদ্দৌলার পতনের পর থেকে যে শোষণ, নির্যাতন ও নিপীড়নের পটভূমিতে বিপুল বিদ্রোহের সৃষ্টি হয়েছিল কবিতাটিতে সেই সংগ্রামের পরিচয় ফুটে উঠেছে।

সুখ-সমৃদ্ধিতে ঐশ্বর্যময় এবং প্রাণৈশ্বর্যে ভরপুর এই সুন্দর দেশটি বর্গীর আক্রমণ থেকে শুরু করে অসংখ্যবার শত্রুর আক্রমণের শিকার হয়েছে। বিপর্যস্ত হয়েছে এদেশের সহজ সুন্দর জনজীবন, অর্থনৈতিক বুনিয়াদ এবং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য। দেশের শান্তিকামী মানুষ একেক সময় ফুঁসে উঠেছে এবং সংগ্রামে সংগ্রামে, যুদ্ধে যুদ্ধে পরাস্ত করেছে দখলদার বাহিনীকে। বিস্ময়কর শক্তি সাহস এবং শৌর্যবীর্য ও সমৃদ্ধিতে এখন এদেশের মানুষ আত্মবিশ্বাসী। কোনো বিদেশি শক্তি এদেশকে আক্রমণ করার সাহস আর পাবে না। এখন এ দেশের মানুষ ইস্পাতদৃঢ়, হাড়ে তার বজ্রের শক্তি। এদেশ আর পরাধীন করতে পারবে না কেউ। দখলদারদের তছনছ করে দেওয়ার মতো ‘বজ্র বহ্নি-জ্বালা’ জন্ম নিয়েছে এ দেশের বুকের মধ্যে।

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন

১. ‘হাড়’ কবিতায় ‘বাঁশের কেল্লা’কে কিসের সাথে তুলনা করা হয়েছে?
ক. অগ্নির খ. বর্শার
গ. ইস্পাতের ঘ. বজ্রের

Printed page 307

২. “নিভলো তোমার দিনের সূর্য দিগন্তরে”–বলতে বোঝানো হয়েছে—
i. পলাশির প্রান্তরে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্ত যাওয়া
ii. ইংরেজদের শাসন-শোষণ-নিপীড়নে বিপর্যস্ত হওয়া
iii. অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রস্তুত হওয়া
নিচের কোনটি ঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii
গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii

নিচের কবিতাংশটি পড়ে ৩ ও ৪ সংখ্যক প্রশ্নের উত্তর দাও।
লেনিন ভেঙেছে রুশে জনস্রোতে অন্যায়ের বাঁধ
অন্যায়ের মুখোমুখি লেনিন প্রথম প্রতিবাদ

৩. কবিতাংশের লেনিনের সাথে ‘হাড়’ কবিতায় কার সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়?
ক. বর্গীর খ. মিরজাফরের
গ. তিতুমিরের ঘ. স্বয়ং কবির

৪. যে চেতনাগত দিক থেকে তারা সাদৃশ্যপূর্ণ তা হলো—
i. স্বাদেশিকতা
ii. বিশ্বাসঘাতকতা
iii. প্রতিবাদমুখরতা
নিচের কোনটি ঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii
গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii

সৃজনশীল প্রশ্ন

ডিম পাড়ে হাঁসে, খায় বাগডাশে
বুঝছুনি ভাই বুঝছুনি, আসল কথা বুঝছুনি
এক গেরামের গরিব চাষি কালা মিয়া নাম
সবার পেটে ভাত জুটাইতে ক্ষেতে ঝরায় ঘাম
ও তার ছাওয়াল কান্দে ক্ষুধার জ্বালায়
মহাজনরা হাসে।
ডিম পাড়ে হাঁসে, খায় বাগডাশে।

ক. বর্গীর অশ্বখুরে কী কাঁপে?
খ. ‘কালো রাত্রির যাত্রিক হলে’ বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
গ. কবিতাংশের বাগডাশ ও মহাজন ‘হাড়’ কবিতায় কাদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ – ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “চাষি কালা মিয়ার দারিদ্র্যাবস্থা থেকে উত্তরণের প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায় ‘হাড়’ কবিতায়।”
–মন্তব্যটির যাথার্থ্য যাচাই করো।

Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.

Trusted resources

Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.