Skip to content

Bangla Sahityapath chapter 52: When Nuruldins Story Comes to Mind

নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়

  • Bangla Sahityapath
  • Textbook pages 320-323
  • 1 source
  • 7,440 characters of context

Textbook (verbatim transcription): When Nuruldins Story Comes to Mind

Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.

Contents5

Printed page 320

নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়

সৈয়দ শামসুল হক

কবি-পরিচিতি

সৈয়দ শামসুল হক ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দের ২৭শে ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম সৈয়দ সিদ্দিক হুসাইন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র ছিলেন। সৈয়দ হক প্রথমে সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। তিনি বিবিসি বাংলা বিভাগের প্রযোজক ছিলেন। পরে তিনি পুরোপুরি সাহিত্যসাধনায় আত্মনিয়োগ করেন। একাধারে গল্প, উপন্যাস, কবিতা, নাটক, কাব্যনাট্য ও শিশু সাহিত্যের লেখক হওয়ায় তিনি সব্যসাচী লেখক হিসেবে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। চিত্রনাট্য রচয়িতা ও গীতিকার হিসেবেও তিনি খ্যাত। মানুষের জটিল জীবনপ্রবাহ এবং মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ তাঁর সাহিত্যকর্মের মূল প্রবণতা। সাহিত্যের গঠনশৈলীর ক্ষেত্রে তিনি সর্বদাই নিরীক্ষাপ্রিয়। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হলো: ‘বৈশাখে রচিত পঙ্ক্তিমালা’, ‘প্রতিধ্বনিগণ’, ‘পরাণের গহীন ভিতর’, ‘রজ্জুপথে চলেছি’। ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’, ‘গণনায়ক’, ‘নূরলদীনের সারাজীবন’, ‘এখানে এখন’, ‘ঈর্ষা’ প্রভৃতি তাঁর কাব্যনাটক। সৈয়দ শামসুল হক বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, নাসিরউদ্দিন স্বর্ণপদক, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং একুশে পদকসহ বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। তিনি ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দের ২৭শে সেপ্টেম্বর ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

নিলক্ষা আকাশ নীল, হাজার হাজার তারা ঐ নীলে অগণিত আর
নিচে গ্রাম, গঞ্জ, হাট, জনপদ, লোকালয় আছে উনসত্তর হাজার।
ধবল দুধের মতো জ্যোৎস্না তার ঢালিতেছে চাঁদ-পূর্ণিমার।
নষ্ট ক্ষেত, নষ্ট মাঠ, নদী নষ্ট, বীজ নষ্ট, বড় নষ্ট যখন সংসার
তখন হঠাৎ কেন দেখা দেয় নিলক্ষার নীলে তীব্র শিস
দিয়ে এত বড় চাঁদ?
অতি অকস্মাৎ
স্তব্ধতার দেহ ছিঁড়ে কোন ধ্বনি? কোন শব্দ? কিসের প্রপাত?
গোল হয়ে আসুন সকলে,
ঘন হয়ে আসুন সকলে,
আমার মিনতি আজ স্থির হয়ে বসুন সকলে।
অতীত হঠাৎ হাতে হানা দেয় মানুষের বন্ধ দরোজায়।
এই তীব্র স্বচ্ছ পূর্ণিমায়
নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়।
কালঘুম যখন বাংলায়
তার দীর্ঘ দেহ নিয়ে আবার নূরলদীন দেখা দেয় মরা আঙিনায়।
নূরলদীনের বাড়ি রংপুরে যে ছিল,
রংপুরে নূরলদীন একদিন ডাক দিয়েছিল
১১৮৯ সনে।
আবার বাংলার বুঝি পড়ে যায় মনে,

Printed page 321

যখন শকুন নেমে আসে এই সোনার বাংলায়;
নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়
যখন আমার দেশ ছেয়ে যায় দালালেরই আলখাল্লায়;
নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়
যখন আমার স্বপ্ন লুট হয়ে যায়;
নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়
যখন আমার কণ্ঠ বাজেয়াপ্ত করে নিয়ে যায়;
নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়
যখন আমারই দেশে এ আমার দেহ থেকে রক্ত ঝরে যায়
ইতিহাসে, প্রতিটি পৃষ্ঠায়।
আসুন, আসুন তবে, আজ এই প্রশস্ত প্রান্তরে;
যখন স্মৃতির দুধ জ্যোৎস্নার সাথে ঝরে পড়ে,
তখন কে থাকে ঘুমে? কে থাকে ভেতরে?
কে একা নিঃসঙ্গ বসে অশ্রুপাত করে?
সমস্ত নদীর অশ্রু অবশেষে ব্রহ্মপুত্রে মেশে।
নূরলদীনেরও কথা যেন সারা দেশে
পাহাড়ি ঢলের মতো নেমে এসে সমস্ত ভাসায়,
অভাগা মানুষ যেন জেগে ওঠে আবার এ আশায়
যে, আবার নূরলদীন একদিন আসিবে বাংলায়,
আবার নূরলদীন একদিন কাল পূর্ণিমায়
দিবে ডাক, “জাগো, বাহে, কোনঠে সবায়?”

শব্দার্থ ও টীকা

নিলক্ষা – দৃষ্টিসীমা অতিক্রমী।
ধবল দুধের মতো জ্যোৎস্না – সাদা দুধের মতো জ্যোৎস্না। জ্যোৎস্নার রঙকে দুধের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
স্তব্ধতার দেহ – এখানে নীরব নিস্তব্ধ পরিবেশ বোঝানো হয়েছে।
প্রপাত – নির্ঝরের পতনের স্থান। জলপ্রপাত।
হানা দেয় – আক্রমণ করে। আবির্ভূত হয় অর্থে ব্যবহৃত।
কালঘুম – মৃত্যু; চিরনিদ্রা।
মরা আঙিনায় – মৃত্যু নিথর অঙ্গনে।
বাহে – বাপুহে। দিনাজপুর, রংপুর এলাকার সম্বোধনবিশেষ।
কোনঠে – কোথায়।

Printed page 322

পাঠ-পরিচিতি

‘নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়’ কবিতাটি সৈয়দ শামসুল হকের বিখ্যাত কাব্যনাটক ‘নূরলদীনের সারাজীবন’ শীর্ষক কাব্যনাটক থেকে সংকলিত হয়েছে। এটি এই নাটকের প্রস্তাবনা অংশ।

নাটকটির প্রস্তাবনা অংশে সূত্রধর আবেগঘন কাব্যিক বর্ণনার মাধ্যমে দর্শকদের সঙ্গে নাট্যকাহিনির সংযোগ স্থাপন করেছেন। নূরলদীন এক ঐতিহাসিক চরিত্র। রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলে সামন্তবাদ-সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সাহসী কৃষকনেতা নূরলদীনের সংগ্রামের কথা ইতিহাসে লিপিবদ্ধ রয়েছে। সৈয়দ শামসুল হক ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে নূরলদীনের সাহস আর ক্ষোভকে অসামান্য নৈপুণ্যে মিশিয়ে দিয়েছেন বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের সঙ্গে।

১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ কালরাত থেকে শুরু করে দীর্ঘ নয় মাস যখন এই বাংলা মৃত্যুপুরীতে রূপ নেয়, যখন শকুনরূপী দালালের আলখাল্লায় ছেয়ে যায় দেশ; যখন বাঙালি হারায় তার স্বপ্ন ও বাক্-স্বাধীনতা, যখন স্বজনের রক্তে ভেসে যায় ইতিহাসের প্রতিটি পৃষ্ঠা—তখন মনে পড়ে ইতিহাসের প্রতিবাদী নায়ক নূরলদীনকে—এই চেতনাই কবিতাটিতে সৈয়দ শামসুল হক তুলে ধরতে চেয়েছেন। ১১৮৯ বঙ্গাব্দে [১৭৮২ খ্রিষ্টাব্দ] নূরলদীনের ডাকে মানুষ যেভাবে জেগে উঠেছিল, এখনও ঠিক সেইভাবে জেগে উঠবে বাংলার জন-মানুষ—এটাই কবির বিশ্বাস। এভাবে কবির শিল্পভাবনায় নূরলদীন ক্রমান্বয়ে এক চিরায়ত প্রতিবাদের প্রতীকে পরিণত হয়। ইতিহাসের পাতা থেকে বেরিয়ে এসে নূরলদীন মিশে যায় বাংলার শ্রমজীবী সাধারণ মানুষের ভিড়ে—অংশগ্রহণ করে সমকালীন সকল আন্দোলন সংগ্রামে। তাই কবির মনে হয়—অভাগা মানুষ জেগে উঠে পাহাড়ি ঢলের মতো ভাসিয়ে দেবে সকল অন্যায় যখন নূরলদীন দেবে ডাক—“জাগো, বাহে, কোনঠে সবাই।”

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন

১. নূরলদীনের ডাকে কত খ্রিষ্টাব্দে বাংলার মানুষ জেগে উঠেছিলেন?
ক. ১৭৮২
খ. ১৭৮৭
গ. ১৮৫৭
ঘ. ১৯৭১

২. ‘নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়’ কবিতায় ফুটে উঠেছে—
i. নূরলদীনের প্রতিবাদী চেতনায় উদ্ভাসন
ii. বিপর্যস্ত অবস্থা থেকে উত্তরণের আহ্বান
iii. বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিফলন

নিচের কোনটি ঠিক?
ক. i ও ii
খ. i ও iii
গ. ii ও iii
ঘ. i, ii ও iii

নিচের কবিতাংশটি পড়ে ৩ ও ৪ সংখ্যক প্রশ্নের উত্তর দাও।

বাংলার আপদে আজ লক্ষ কোটি বীর সেনা
ঘরে ও বাইরে হাঁকে রণধ্বনি, একটি শপথে
আজ হয়ে যায় শৌর্য ও বীরগাথার মহান
সৈনিক, যেন সূর্যসেন, যেন স্পার্টাকাস স্বয়ং সবাই।

Printed page 323

৩. উদ্দীপকে সবার সূর্যসেন ও স্পার্টাকাস হওয়ার ব্যাপারটি ‘নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়’ কবিতার যে
দিকগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত তা হলো—
i. অধিকার আদায়ে নবজাগরণ
ii. পূর্বসূরির আহ্বান
iii. সকলের সমন্বিত প্রয়াস

নিচের কোনটি ঠিক?
ক. i ও ii
খ. i ও iii
গ. ii ও iii
ঘ. i, ii ও iii

৪. সম্পর্কিত দিকের প্রেক্ষাপট নির্মাণে কোন চরণটি ব্যবহৃত হয়েছে?
ক. ধবল দুধের মতো জ্যোৎস্না তার ঢালিতেছে চাঁদ-পূর্ণিমার।
খ. অতীত হঠাৎ হাতে হানা দেয় মানুষের বন্ধ দরোজায়।
গ. নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়।
ঘ. জাগো, বাহে, কোনঠে সবায়?

সৃজনশীল প্রশ্ন

পাটচাষীদের উৎপাদিত পাটের ন্যায্যমূল্য না দিয়ে বছরের পর বছর মহাজনেরা এলাকার কৃষকদের শোষণ করে। একদিকে পাটের ন্যায্যমূল্য না দেওয়া, অন্যদিকে তাদের ভালো ভালো জমিতে পাটচাষে বাধ্য করে সর্বস্বান্ত করার প্রতিবাদে মহাজনদের বিরুদ্ধে কয়েকজন তরুণ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের একত্রিত করে প্রতিবাদ-সংগ্রাম শুরু করে। তারা সংখ্যায় অল্প হলেও এমন সংকটকালে তাদের মনে পড়ে যায় বাংলার বীর তিতুমীরের বীরত্বের ইতিহাস। একদিন তিতুমীরও কয়েকজন তরুণ নিয়ে অসীম সাহসের সঙ্গে বাংলার জমিদার ও ব্রিটিশ নীলকরদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। এতকাল পরেও যেকোনো আন্দোলন ও সংগ্রামে সাধারণ মানুষের কাছে সাহস ও প্রেরণার প্রতীক হয়ে আছেন তিতুমীর।

ক. নূরলদীন কত সালে আন্দোলনের ডাক দিয়েছিল?
খ. “জাগো বাহে, কোনঠে সবায়?”– উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের তিতুমীরের সঙ্গে ‘ নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়’ কবিতায় কার সাদৃশ্য পাওয়া যায় এবং কেন?
ঘ. “এক অভিন্ন কারণে তিতুমীরেরা যুগে যুগে সাধারণ মানুষের কাছে শক্তি, সাহস ও প্রেরণার প্রতীক হয়ে ওঠেন।”– উদ্দীপক ও ‘নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়’ কবিতার আলোকে ব্যাখ্যা করো।

Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.

Trusted resources

Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.