Bangla Sahityapath chapter 54: Shame of Returning
প্রত্যাবর্তনের লজ্জা
- Bangla Sahityapath
- Textbook pages 328-331
- 1 source
- 7,517 characters of context
Textbook (verbatim transcription): Shame of Returning
Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.
Contents7ShowHide
Printed page 328
প্রত্যাবর্তনের লজ্জা
আল মাহমুদ
কবি-পরিচিতি
আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মৌড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। আল মাহমুদ দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। স্বাধীনতার পর কিছুকাল তিনি 'দৈনিক গণকণ্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। এরপর আল মাহমুদ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগদান করে পরিচালকের পদ থেকে অবসরে যান।
আধুনিক জীবনের জটিল ভাব-অনুভবকে গ্রামীণ অনুষঙ্গ ব্যবহার করে প্রকাশ করা আল মাহমুদের প্রধান কবি-কৃতিত্ব। প্রচলিত কাব্য-ভাষার মধ্যে লোকজ শব্দের লাগসই ব্যবহার তাঁর কবিতার ভাষাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। বাংলাদেশের প্রাণ-প্রকৃতি ও জনজীবন তাঁর কবিতার একটা বড় জায়গা জুড়ে রয়েছে। ১৯৬৩ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'লোক লোকান্তর'। দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'কালের কলস'-এ পূর্বোক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। এ ধারায় তাঁর সবচেয়ে সফল কাব্য 'সোনালি কাবিন'। তাঁর অন্যান্য কাব্যের মধ্যে 'মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো', 'আরব্য রজনীর রাজহাঁস', 'অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না', 'মিথ্যাবাদী রাখাল', 'দোয়েল ও দয়িতা' উল্লেখযোগ্য। তাঁর কালজয়ী শিশুতোষ কাব্যগ্রন্থ 'পাখির কাছে ফুলের কাছে'। কথাসাহিত্যেও আল মাহমুদ বিশেষ কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। 'পানকৌড়ির রক্ত', 'সৌরভের কাছে পরাজিত', 'গন্ধবণিক' ইত্যাদি তাঁর গল্পগ্রন্থ। উপন্যাস: 'উপমহাদেশ', 'ডাহুকী', 'নিশিন্দা নারী', 'কাবিলের বোন' ইত্যাদি। সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি স্বাধীনতা পদক (মরণোত্তর), একুশে পদক ও বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।
আল মাহমুদ ২০১৯ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।
শেষ ট্রেন ধরবো বলে এক রকম ছুটতে ছুটতে স্টেশনে পৌঁছে দেখি
নীলবর্ণ আলোর সংকেত। হতাশার মতোন হঠাৎ
দারুণ হুইসেল দিয়ে গাড়ি ছেড়ে দিয়েছে।
যাদের সাথে শহরে যাবার কথা ছিল তাদের উৎকণ্ঠিত মুখ
জানালায় উবুড় হয়ে আমাকে দেখছে। হাত নেড়ে সান্ত্বনা দিচ্ছে।
আসার সময় আব্বা তাড়া দিয়েছিলেন, গোছাতে গোছাতেই
তোর সময় বয়ে যাবে, তুই আবার গাড়ি পাবি।
আম্মা বলছিলেন, আজ রাত না হয় বই নিয়েই বসে থাক
কত রাত তো অমনি থাকিস।
আমার ঘুম পেলো। এক নিঃস্বপ্ন নিদ্রায় আমি
নিহত হয়ে থাকলাম।
অথচ জাহানারা কোনদিন ট্রেন ফেল করে না। ফরহাদ
আধ ঘণ্টা আগেই স্টেশনে পৌঁছে যায়। লাইলী
মালপত্র তুলে দিয়ে আগেই চাকরকে টিকিট কিনতে পাঠায়। নাহার
কোথাও যাওয়ার কথা থাকলে আনন্দে ভাত পর্যন্ত খেতে পারে না।
আর আমি এদের ভাই
সাত মাইল হেঁটে শেষ রাতের গাড়ি হারিয়ে
এক অখ্যাত স্টেশনে কুয়াশায় কাঁপছি।
Printed page 329
কুয়াশার শাদা পর্দা দোলাতে দোলাতে আবার আমি ঘরে ফিরবো।
শিশিরে আমার পাজামা ভিজে যাবে। চোখের পাতায়
শীতের বিন্দু জমতে জমতে নির্লজ্জের মতোন হঠাৎ
লাল সূর্য উঠে আসবে। পরাজিতের মতো আমার মুখের উপর রোদ
নামলে, সামনে দেখবো পরিচিত নদী। ছড়ানো ছিটানো
ঘরবাড়ি, গ্রাম। জলার দিকে বকের ঝাঁক উড়ে যাচ্ছে। তারপর
দারুণ ভয়ের মতো ভেসে উঠবে আমাদের আটচালা।
কলার ছোট বাগান।
দীর্ঘ পাতাগুলো না না করে কাঁপছে। বৈঠকখানা থেকে আব্বা
একবার আমাকে দেখে নিয়ে মুখ নিচু করে পড়তে থাকবেন,
ফাবি আইয়ে আলা ই-রাব্বিকুমা তুকাজ্জিবান...।
বাসি বাসন হাতে আম্মা আমাকে দেখে হেসে ফেলবেন।
ভালোই হলো তোর ফিরে আসা। তুই না থাকলে
ঘরবাড়ি একেবারে কেমন শূন্য হয়ে যায়। হাত মুখ
ধুয়ে আয়। নাস্তা পাঠাই।
আর আমি মাকে জড়িয়ে ধরে আমার প্রত্যাবর্তনের লজ্জাকে
তুলে ফেলবো ঘষে ঘষে।
শব্দার্থ ও টীকা
| শব্দ | অর্থ |
|---|---|
| নীলবর্ণ আলোর সংকেত | ট্রেন ছেড়ে দেবার সংকেত। |
| হতাশার মতোন... ছেড়ে দিয়েছে | গাড়ি ধরতে না পারায় হতাশাগ্রস্ত মনের অভিব্যক্তি। |
| উৎকণ্ঠিত | উদ্বিগ্ন, ব্যাকুল। |
| উবুড় | উপুড়। |
| নিঃস্বপ্ন নিদ্রায়...থাকলাম | স্বপ্নহীন নিদ্রায় আচ্ছন্ন থাকা। |
| শীতের বিন্দু | শীতের শিশির। |
| দারুণ ভয়ের...আটচালা | ট্রেন ধরতে না পারার ব্যর্থতা ও ফিরে আসার লজ্জায় এমন অনুভূতির জন্ম। |
| ফাবি আইয়ে...তুকাজ্জিবান | কুরআনের আয়াত। অতএব তোমরা উভয়ে তথা জিন ও ইনসান পালনকর্তার কোন কোন অনুগ্রহকে অস্বীকার করবে? |
| বাসি বাসন | পূর্বরাতে বা পূর্বদিনে ব্যবহৃত অপরিষ্কার থালা। |
| আমি মাকে...তুলে ফেলব | শহরে যেতে না পেরে ফিরে আসার ব্যর্থতা ও লজ্জা মায়ের আশ্রয়ে মুছে ফেলা। |
Printed page 330
পাঠ-পরিচিতি
'প্রত্যাবর্তনের লজ্জা' কবিতাটি আল মাহমুদের 'সোনালি কাবিন' কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে। সংলাপ এবং গল্প বলার ঢংয়ে কবিতাটি রচিত।
শহরে যাবার শেষ ট্রেনটি ধরার জন্য রেলস্টেশনে পৌঁছাতে পৌঁছাতেই ট্রেন ছেড়ে দিল। কবি দেখতে পেলেন, যাদের সঙ্গে একত্রে শহরে যাবার কথা ছিল তারা ট্রেনের জানালা দিয়ে তাকে সান্ত্বনা জানাচ্ছেন। ট্রেন ধরতে না পারার হতাশায় কবির মনে পড়ল বাবা-মায়ের কথাগুলো। নিজের ভাইবোনদের সতর্ক ও সচেতন প্রস্তুতির স্মৃতিও কবির মনে জাগ্রত হলো। এক রকম পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে কবি সেই ভোররাতে বাড়ির পথে ফিরতে শুরু করলেন। রাতের অন্ধকার সরিয়ে সূর্যের আলো চোখে পড়তেই তিনি দেখতে পেলেন পরিচিত নদী, গ্রাম, নিজেদের আটচালা ঘর। কবির এই ফিরে আসা তার মাকে আনন্দিত করে তুললো। কবিও মাকে জড়িয়ে ধরে তার প্রত্যাবর্তনের লজ্জা মন থেকে মুছে ফেললেন। শহর বা নাগরিক জীবনের চেয়ে মাতৃতুল্য গ্রামীণ সহজ জীবনই কবির জন্য পরম স্বস্তির। তিনি শহরমুখী জীবনযাত্রায় খাপ খাওয়াতে না পারার ব্যর্থতাকে মুছে ফেলছেন মায়ের আশ্রয়ে। এই মা একই সঙ্গে প্রকৃতিরও প্রতিমূর্তি।
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
১। 'প্রত্যাবর্তনের লজ্জা' কবিতায় কবি কীভাবে ঘরে ফিরবেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে?
ক. কুয়াশার শাদা পর্দা দোলাতে দোলাতে
খ. চোখের পাতায় শিশির বিন্দু জমতে জমতে
গ. সাত মাইল পথ হেঁটে হেঁটে
ঘ. শিশিরে পাজামা ভিজিয়ে ভিজিয়ে
২। 'প্রত্যাবর্তনের লজ্জা' বলতে লেখক কী বোঝাতে চেয়েছেন?
ক. শেকড়ে ফেরার অভিব্যক্তি
খ. উন্মূলিত হবার অনুশোচনা
গ. প্রকৃতির কাছে থাকার আনন্দ
ঘ. নাগরিক জীবনের হতাশা-নৈরাশ্য
উদ্দীপকটি পড়ে ৩ ও ৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও।
ফিরে চল্, ফিরে চল্, ফিরে চল্ মাটির টানে—
যে মাটি আঁচল পেতে চেয়ে আছে মুখের পানে।
যার বুক ফেটে এই প্রাণ উঠেছে, হাসিতে যার ফুল ফুটেছে রে
ডাক দিল যে গানে গানে।
৩। কবিতাংশে 'প্রত্যাবর্তনের লজ্জা' কবিতার যে ভাবের প্রতিফলন ঘটেছে তা হলো—
i. অবারিত প্রকৃতির অসীম সৌন্দর্য
ii. অস্তিত্বের শেকড়ের টান অনুভব
iii. প্রকৃতির সাথে জীবনের ঘনিষ্ঠতা
Printed page 331
নিচের কোনটি ঠিক?
ক. i
খ. i ও ii
গ. i ও iii
ঘ. ii ও iii
৪। কবি আল মাহমুদ উক্ত ভাবের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন কোন চরণে?
ক. হতাশার মতোন হঠাৎ দারুণ হুইসেল দিয়ে গাড়ি ছেড়ে দিয়েছে
খ. এক নিঃস্বপ্ন নিদ্রায় আমি নিহত হয়ে থাকলাম
গ. তারপর দারুণ ভয়ের মতো ভেসে উঠবে আমাদের আটচালা
ঘ. কুয়াশার শাদা পর্দা দোলাতে দোলাতে আবার আমি ঘরে ফিরবো
সৃজনশীল প্রশ্ন
উদ্দীপক-১
যে তোমায় ছাড়ে ছাড়ুক, আমি তোমায় ছাড়ব না মা !
মা গো, আমি তোমার চরণ করব শরণ, আর কারো ধার ধারব না মা।
কে বলে তোর দরিদ্র ঘর, হৃদয় তোর রতনরাশি—
আমি জানি গো তোর মূল্য জানি, পরের আদর কাড়ব না মা।
উদ্দীপক-২
মানের আশে দেশ বিদেশে যে মরে সে মরুক ঘুরে
তোমার ছেঁড়া কাঁথা আছে পাতা, ভুলতে সে যে পারব না মা
ধনে মানে লোকের টানে ভুলিয়ে নিতে চায় যে আমায়—
ওমা ভয় যে জাগে শিয়র-বাগে, কারো কাছেই হারব না মা।
ক. প্রত্যাবর্তিত কবিকে দেখে তার বাবা কী পড়বেন?
খ. "আর আমি মাকে জড়িয়ে ধরে আমার প্রত্যাবর্তনের লজ্জাকে ঘষে ঘষে তুলে ফেলবো।" বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপক-২ এর "ধনে মানে লোকের টানে ভুলিয়ে নিতে চায় যে আমায়" চরণটিতে 'প্রত্যাবর্তনের লজ্জা' কবিতার যে বিশেষ দিকের ইঙ্গিত রয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপক-১ ও উদ্দীপক-২ মিলে 'প্রত্যাবর্তনের লজ্জা' কবিতার ভাববস্তু প্রকাশে সক্ষম কি না? তোমার যুক্তিগ্রাহ্য মতামত দাও।
Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.
Trusted resources
Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.