Skip to content

Amar Bangla Boi chapter 12: A Day on the Sandbank

বালুচরে একদিন

  • Amar Bangla Boi
  • Textbook pages 37-41
  • 1 source
  • 5,136 characters of context

Textbook (verbatim transcription): A Day on the Sandbank

Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.

Contents3

Printed page 37

পাঠ ১২

বালুচরে একদিন

ঢাকা থেকে অনেক দূরে ছোট্ট একটা গ্রাম। নাম তার অচিনপুর। সেই গ্রামে তিথিদের বাড়ি। গ্রীষ্মের ছুটিতে ওরা গ্রামে বেড়াতে আসে। এবারও ওরা বেড়াতে এসেছে।

গ্রামে এলে তিথি মন ভরে প্রকৃতি দেখে। সবুজ সুন্দর এই গ্রামে আছে কত গাছ! কত পাখি উড়ে যায় আকাশের পথে! সুপারি গাছের সারির মধ্য দিয়ে উঁকি দেয় সকালের সূর্য।

গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে নদী। নাদের চাচা বলেছেন, নদীর চরে পাখিদের মেলা বসে। তিনি একজন জেলে। মাছ ধরতে চলে যান একেবারে মাঝনদীতে। ওখানেই তিনি দেখেছেন শত শত পাখি।

নৌকার মাঝি গণেশ কাকা বলেছেন, পাখিরা মাছ ধরে। সাদা বকগুলো চুপ করে বসে থাকে। মাছ দেখলেই খপ করে ধরে। তিথি এসব গল্প শোনে। মনে মনে ভাবে, আহা, যদি আমিও যেতে পারতাম! গণেশ কাকা বলেছেন, একদিন আমাকে নিয়ে যাবেন।

এক সকালে গণেশ কাকা সত্যিই নৌকা নিয়ে হাজির। বাবা বললেন, চলো, ঘুরে আসি।

নদীর তীর ধরে নৌকা চলছে। দূর থেকে দেখা যাচ্ছে মসজিদের মিনার। দেখা যাচ্ছে গ্রামের বাজার, বটতলা, মাঠ, মন্দির।

একটু পেরুতেই চোখে পড়ল কুমারপাড়া। নৌকায় উঠলেন বাবার বন্ধু মধু পাল। তিনি মাটি দিয়ে শখের হাঁড়ি বানান। রঙিন হাঁড়িগুলো দেখতে খুব সুন্দর। মধু কাকা তিথিকে দুটি রঙিন হাঁড়ি দিলেন। বললেন, বাসায় সাজিয়ে রেখো।

Printed page 38

আরেকটু এগোতেই তীর থেকে ডাক দিলেন হামিদ চাচা। তিনি গ্রামের স্কুলের শিক্ষক। গণেশ কাকা নৌকা থামালেন। বাবা হামিদ চাচাকে বললেন, চলো, বেড়িয়ে আসি। হামিদ চাচা নৌকায় উঠতে উঠতে বললেন, চলো যাই। ঝড়-বাদলের দিন, তাড়াতাড়ি ফিরতে হবে।

নৌকা আবার চলতে শুরু করল। তিথি দেখল, টলটল করছে নদীর জল। ভয়ে ভয়ে সে নদীর জলে হাত দিলো। কী শীতল!

অল্প সময়ের মধ্যেই ওরা পৌঁছে গেল নদীর চরে। সুন্দর এক দ্বীপের মতো বালুচর। চরের চারদিকে কাঁটাঝোপ, ঘাস আর কাশবন। খুঁটে খুঁটে পোকা খাচ্ছে শালিক। ঘাড় বাঁকা করে এক পায়ে দাঁড়িয়ে আছে সাদা বক। নলখাগড়ার ঝোপে চুপচাপ বসে আছে মাছরাঙা। হঠাৎ পুবদিক থেকে উড়ে এলো এক ঝাঁক পাখি। গণেশ কাকা বললেন, ওই দেখো গাঙচিল। তিথি চিৎকার করে উঠল, বাবা, কী সুন্দর!

চরের পশ্চিম দিক থেকে কে যেন এগিয়ে আসছে। আরে আরে! এতো দেখি নাদের চাচা! তাঁর ঝুড়ি ভরতি মাছ। পাবদা, পুঁটি আর একটা মাঝারি আকারের বোয়াল। তাজা মাছগুলো এখনো নড়ছে। তিথি অবাক হয়ে মাছ দেখল। নাদের চাচা সবাইকে দুপুরে খাওয়ার দাওয়াত দিলেন।

গণেশ কাকা বললেন, ফিরতে হবে। হামিদ চাচা আকাশের দিকে তাকালেন। তিথি দেখল উত্তর-পূর্ব আকাশে মেঘ জমেছে। নদীর বুকে ঠান্ডা বাতাস বইছে। সবাই নৌকায় উঠে পড়ল।

গণেশ কাকা দ্রুত বৈঠা চালালেন। নাদের চাচা তুলে নিলেন আরেকটি বৈঠা। দুজনে নৌকা বেয়ে ছুটে চললেন গ্রামের দিকে। তীরে পৌঁছাতে না পৌঁছাতেই শুরু হলো ঝড়। তিথি ভাবতে লাগল, পাখিগুলো এখন কী করছে!

Printed page 39

শব্দ শিখি

উঁকি দেওয়া – আড়াল থেকে দেখা
মিনার – দালানের উঁচু চূড়া
বাদল – বৃষ্টি
চর – নদীতে তৈরি হওয়া বালুময় ভূমি
নলখাগড়া – নলের মতো লম্বা ঘাস

অনুশীলনী

১। শব্দগুলো পাঠ থেকে খুঁজে বের করি ও শব্দের অর্থ বলি।

উঁকি দেওয়া মিনার বাদল চর নলখাগড়া

২। শব্দ দিয়ে বাক্য লিখি।

মিনারঝাঁকচরটলটল

(ক) নদীর জল........................... করছে।

(খ) মসজিদের ........................... থেকে ভেসে আসে আজানের ধ্বনি।

(গ) পানি কমে যাওয়ায় নদীতে ........................... পড়েছে।

(ঘ) গাছের ডালে এক ........................... পাখি বসে আছে।

৩। ডান পাশ থেকে শব্দ নিয়ে খালি জায়গা পূরণ করি।

(ক) সুপারি গাছের সারির মধ্য দিয়ে উঁকি দেয় ____________। নদীর পানি
(খ) নদীর চরে ____________ মেলা বসে। সাদা বক
(গ) টলটল করছে ____________। সকালের সূর্য
(ঘ) ঘাড় বাঁকা করে এক পায়ে দাঁড়িয়ে আছে ____________। পাখিদের

Printed page 40

৪। বিপরীত শব্দ জেনে নিই।

শব্দবিপরীত শব্দ
গ্রামশহর
সাদাকালো
শীতলউষ্ণ
শব্দবিপরীত শব্দ
পরিষ্কারনোংরা
দূরনিকট
অল্পবেশি

৫। সঠিক উত্তরটি বলি ও লিখি।

তিথির গ্রামের নাম –

ক) মধুপুর
খ) অচিনপুর
গ) শফিপুর
ঘ) নাজিরপুর

নদীর চরে পাখিদের মেলা বসার কথা বললেন –

ক) গণেশ কাকা
খ) হামিদ চাচা
গ) নাদের চাচা
ঘ) মধু কাকা

মাটি দিয়ে শখের হাঁড়ি বানান –

ক) নাদের চাচা
খ) হামিদ চাচা
গ) মধু কাকা
ঘ) গণেশ কাকা

নলখাগড়ার ঝোপে চুপচাপ বসে আছে –

ক) মাছরাঙা
খ) গাঙচিল
গ) শালিক
ঘ) সাদা বক

যে ঘটনাটি আগের –

ক) পাখিরা আকাশে উড়ছে।
খ) তোমাকে গল্প শোনাব।
গ) কে যেন এগিয়ে আসছে।
ঘ) তিনি দাওয়াত দিয়েছিলেন।

Printed page 41

৬ । বুঝে নিই ।

কুমারপাড়া – কুমারেরা যেখানে একসাথে বাস করে।

শখের হাঁড়ি – ছবি আঁকা রঙিন হাঁড়ি।

দ্বীপ – চারিদিকে পানি দিয়ে ঘেরা ভূখণ্ড।

৭ । মুখে মুখে উত্তর বলি ও লিখি ।

(ক) গ্রামের প্রকৃতি তিথির কেমন লাগে?

(খ) নৌকায় করে তিথিরা কোথায় গেল?

(গ) নাদের চাচার ঝুড়িতে কী কী মাছ ছিল?

(ঘ) তিথি কেন পাখিদের জন্য ভাবছিল?

(ঙ) ঝড়ের সময় পাখিরা কী করে?

৮ । বিরামচিহ্ন বসাই ।

(ক) তিথি গ্রামে বেড়াতে এসেছে

(খ) কী ঠান্ডা হাওয়া

(গ) তিথি কোথায় থাকে

(ঘ) গণেশ কাকা বললেন ফিরতে হবে

Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.

Trusted resources

Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.