নদীর দেশ
বাংলাদেশ নদীর দেশ। শত শত নদী আছে এই দেশে। জালের মতো জড়িয়ে আছে সেগুলো। নদীগুলোর কত সুন্দর সুন্দর নাম!
মুখে আগুন নেই, কিন্তু নদীর নাম আগুনমুখা। আবার আরেকটার নাম দুধকুমার, যেন দুধের নদী। ধানের নামে মিলিয়ে নাম – ধানতারা, ধানসিঁড়ি। এগুলো ছোটো নদী। বড়ো বড়ো নদীও আছে – পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র।
সব নদী এক রকম নয়। কিছু নদী এঁকেবেঁকে চলে, কিছু চলে সোজাভাবে। কিছু নদী শান্ত, কিছু নদীর স্রোত বেশি।
ব্রহ্মপুত্র বাংলাদেশের একটি বড়ো নদী। ব্রহ্মপুত্রের জন্ম হিমালয় পর্বতে। সেখান থেকে শুরু হয়ে অনেক পথ ঘুরে বাংলাদেশে ঢুকেছে।
হিমালয় থেকে জন্ম নিয়েছে এমন আরেক নদী পদ্মা। পদ্মা নদীর ইলিশ খুব বিখ্যাত। এই নদীতে ঘড়িয়াল দেখা যায়। ঘড়িয়াল দেখতে কুমিরের মতো, কিন্তু খুব নিরীহ। মানুষকে আক্রমণ করে না।
যমুনাও বড়ো নদী। এই নদীতে বাঘাইড় নামের বড়ো মাছ পাওয়া যায়।
বাংলাদেশের আরেক প্রধান নদী মেঘনা। মেঘনায় একসময়ে অনেক ডলফিন দেখা যেত। এই মেঘনা বঙ্গোপসাগরে গিয়ে মিশেছে।
একটা মজার নদী আছে। নাম তার আত্রাই। বাংলাদেশ থেকে ভারতে গিয়ে আবার বাংলাদেশে ফিরে এসেছে। যেন শখ হয়েছে প্রতিবেশী দেশকে দেখে আসার। বাংলাদেশ ও মায়ানমারকে ভাগ করেছে এক নদী। তার নাম নাফ। ভারতের লুসাই পাহাড়ে জন্ম নিয়ে
Printed page 46
বাংলাদেশে ঢুকেছে কর্ণফুলী। এই নদীটি বেশ খরস্রোতা।
বাংলাদেশের আরেকটি নদী হালদা। এই নদী মা-মাছের কাছে খুব প্রিয়। ডিম ছাড়ার জন্য মা-মাছ হালদা নদীতে আসে।
কিছু নদী বনের ভেতর দিয়ে গেছে। হরিণটানা, বলেশ্বর, নীলকমল এ রকম নদী। এসব নদী সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে বয়ে চলেছে। এসব নদীতে আছে কুমির, কাঁকড়া আর নানা প্রজাতির মাছ।
সাপের মতো পেঁচানো একটা নদী আছে। নাম তার সোমেশ্বরী। এই নদী বালুকণা বয়ে আনে। পিয়াইন আরেক নদী। পাহাড়ি ঢলের সময় সে ছোটো-বড়ো পাথর বয়ে আনে। ভেবে দেখো, ছোটো ছোটো নদীরও কী শক্তি!
দুঃখের কথা কি জানো? এত সুন্দর সুন্দর নদী! কিন্তু এদের পানি দূষিত হয়ে পড়ছে। আমরাই নদীতে পলিথিন আর ময়লা-আবর্জনা ফেলছি। নদীকে নোংরা করছি।
ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর পানি ময়লায় কালো হয়ে গেছে। ওখানে মাছ নেই, ব্যবহারের উপযোগী পরিষ্কার পানি নেই।
আবার, মানুষ নদী ভরাট করে ফেলছে। উজানে বাঁধ দিচ্ছে। ফলে নদী মরে যাচ্ছে। কিন্তু নদী বাঁচলে নদীর মাছ আর অন্য জীব বাঁচবে। নদী বাঁচলে আমরা বাঁচব, বাংলাদেশ বাঁচবে।