পাঠ ২৫
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম আমরা সবাই জানি। তিনি অনেক বড়ো কবি ছিলেন। কিন্তু স্কুলে পড়তে তাঁর একটুও ভালো লাগত না। রাতে পড়তে বসলেও ঘুম পেত। তখন তাঁর শিক্ষক তাঁকে বকা দিতেন।
রবীন্দ্রনাথের ছোটবেলা খুব মজার ছিল। তিনি কুস্তি শিখতেন। তাঁর ওস্তাদের নাম ছিল কানা পালোয়ান। তিনি তার সাথে রোজ সকালে কুস্তি লড়াই করতেন। তারপর সারা গায়ে ধুলো-কাদা মেখে বাড়ি ফিরতেন। এটা দেখে তাঁর মা খুব ভয় পেতেন। তিনি ভাবতেন, তাঁর ছেলের গায়ের রং কালো হয়ে যাবে। তাই তিনি ছুটির দিনে তাঁর গা ঘষে ঘষে পরিষ্কার করে দিতেন।
Printed page 87
ব্যায়াম করতেন বলে তাঁর স্বাস্থ্য খুব ভালো ছিল। রোগ-বালাই প্রায় হতো না বললেই চলে। তিনি চাইতেন যেন তাঁর জ্বর হয়। কারণ জ্বর হলে পড়তে হবে না। সে জন্য তিনি বৃষ্টিতে ভিজতেন, রোদে খেলতেন। শীতের সন্ধ্যায় ছাদে উঠে খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে থাকতেন। কিন্তু স্বাস্থ্য ভালো থাকায় তাঁর অসুখ খুব কম হতো।
সন্ধ্যাবেলায় তাঁর মা বাড়ির মেয়েদের সাথে বসে গল্প করতেন। মা রবীন্দ্রনাথকে ডাকতেন। রবীন্দ্রনাথ তাঁদের পুঁথি পড়ে শোনাতেন, রামায়ণের কাহিনি শোনাতেন, বিজ্ঞানের গল্প শোনাতেন। সবাই খুব খুশি হতো। ভাবত, এতটুকু ছেলে কত কিছু জানে!
বিজ্ঞান পড়তে রবীন্দ্রনাথের খুব ভালো লাগত। তাঁর বিজ্ঞান শিক্ষকের নাম ছিল সতীনাথ দত্ত। তিনি যেদিন পড়াতে আসতেন না, সেদিন তাঁর খুব খারাপ লাগত।
দুধের মধ্যে পানি থাকে, আর দুধ জ্বাল দিলে পানি বাষ্প হয়ে উড়ে যায়। তাই দুধ ঘন হয়ে যায়। এটা জেনে রবীন্দ্রনাথ খুব অবাক হয়েছিলেন।
ঘুরতে রবীন্দ্রনাথের খুব ভালো লাগত। তিনি বড়ো হয়ে সারা দুনিয়া ঘুরেছেন। তিনি অনেক কবিতা লিখেছেন, অনেক গান লিখেছেন, অনেক গল্প লিখেছেন। কবিতার জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। রবীন্দ্রনাথের লেখা গান আমাদের জাতীয় সংগীত।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ সালের ৭ই মে (২৫শে বৈশাখ) তারিখে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪১ সালের ৭ই আগস্ট (২২শে শ্রাবণ) তারিখে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
শব্দ শিখি
কুস্তি – এক ধরনের খেলা
পুঁথি – এক ধরনের বই
রামায়ণ – রামচন্দ্রের জীবনীনির্ভর মহাকাব্য
অবাক – আশ্চর্য হওয়া
Printed page 88