Skip to content

Bangladesh and Global Studies chapter 3: Our History

আমাদের ইতিহাস

  • Bangladesh and Global Studies
  • Textbook pages 21-34
  • 1 source
  • 13,103 characters of context

Textbook (verbatim transcription): Our History

Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.

Contents4

Printed page 21

অধ্যায় : ৩

আমাদের ইতিহাস

১ ভাষা আন্দোলন

Figure: ছবি-১ ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত ১৯৪৭

বর্ণনা: বিক্ষোভ মিছিল; অনেক মানুষ হাতে প্লাকার্ড নিয়ে স্লোগান দিচ্ছে, প্লাকার্ডে বাংলা লেখা রয়েছে।

Figure: ছবি-২ ভাষা আন্দোলন ১৯৫২

বর্ণনা: বিক্ষোভ মিছিল; একজন ব্যক্তিকে কোলে তুলে নিয়ে মানুষ এগিয়ে যাচ্ছে, অনেকের হাতে প্লাকার্ড ও উত্তোলিত মুষ্টি।

Figure: ছবি-৩ শহিদ মিনার (১৯৫২)

বর্ণনা: ধূসর রঙের একটি শহিদ মিনার; এর গোড়ায় পাদদেশে ফুল রাখা আছে এবং সামনের দিকে একটি ফলক লাগানো।

Figure: ছবি-৪ শহিদ মিনার (১৯৬৩)

বর্ণনা: লাল বৃত্তের পটভূমিতে কয়েকটি উঁচু স্তম্ভাকার কাঠামো; সামনের মেঝেতে ফুলের স্তূপ।

Printed page 22

ক) পূর্বের পৃষ্ঠার ছবিগুলো পর্যবেক্ষণ করি ও নিচের ছকে লিখি–

ছবিগুলো কীসের?১.
২.
৩.
৪.
ঘটনাগুলো কখন ঘটেছিল?১.
২.
৩.
কেন ঘটেছিল?

১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। পাকিস্তান দুটি অংশে বিভক্ত ছিল। একটি পূর্ব পাকিস্তান এবং অপরটি পশ্চিম পাকিস্তান। পাকিস্তানের জনসংখ্যার বেশিরভাগ লোকই ছিল বাঙালি। বাঙালিদের মাতৃভাষা বাংলা। বাঙালিরা পূর্ব পাকিস্তানে বাস করত। কিন্তু পাকিস্তানের শাসকেরা পশ্চিম পাকিস্তানের উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯৪৮ সালে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি করে। এ সময় বাংলা ভাষার দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে অনেকেই গ্রেফতার হন। কিছুদিন পরে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকায় আসেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সভায় উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দেন। ছাত্রসমাজ সরাসরি তার প্রতিবাদ করে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার রাজপথে তারা মিছিল বের করে। দাবি একটাই–‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’। পুলিশ মিছিলে গুলি চালায়। শহিদ হন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ আরও অনেকে। ভাষার দাবিতে শহিদ হন বলে আমরা তাঁদেরকে ভাষাশহিদ বলি। ১৯৫৬ সালে বাংলা ও উর্দু উভয় ভাষাই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। ১৯৫২ সালে ভাষাশহিদদের স্মরণে প্রথম শহিদ মিনার নির্মিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৬৩ সালে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার নির্মিত হয়।

Printed page 23

খ) বিষয়বস্তু পড়ি ও কখন কী ঘটেছিল তা ধারাবাহিকভাবে লিখি–

ভাষাশহিদ আবদুস সালাম ১৯২৫ সালে ফেনী জেলার লক্ষ্মণপুর গ্রামে (বর্তমানে সালাম নগর) জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মুনশি আবদুল ফাজেল ও মা দৌলতের নেছা। ভাষাশহিদ আবুল বরকত ১৯২৭ সালে ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার বাবলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম সামসুজ্জোহা এবং মা হাসিনা বিবি। ভাষাশহিদ রফিক উদ্দিন আহমদ ১৯২৬ সালে মানিকগঞ্জ জেলার পারিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম আবদুল লতিফ ও মা রাফিজা খাতুন। ভাষাশহিদ আবদুল জব্বার ১৯১৯ সালে ময়মনসিংহ জেলার পাঁচুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম হাছেন আলী এবং মা সাফাতুন নেছা।

Printed page 24

গ) ভাষাশহিদদের সম্পর্কে তথ্য খুঁজে বের করি ও নিচের চিত্রে লিখি–

Figure

লেবেল: সালাম, রফিক, বরকত, জব্বার, জন্মস্থান :, জন্ম সাল :, মা :, বাবা : বর্ণনা: চারজন পুরুষের প্রতিকৃতি চারটি ঘরে সাজানো। উপরের বাম ঘরে সালাম, উপরের ডান ঘরে রফিক, নিচের বাম ঘরে বরকত ও নিচের ডান ঘরে জব্বার; প্রতিটি প্রতিকৃতির নিচে নাম লেখা এবং নামের নিচে জন্মস্থান, জন্ম সাল, মা ও বাবার জন্য ফাঁকা ঘর রয়েছে।

সালাম

জন্মস্থান : জন্ম সাল : মা : বাবা :

রফিক

জন্মস্থান : জন্ম সাল : মা : বাবা :

বরকত

জন্মস্থান : জন্ম সাল : মা : বাবা :

জব্বার

জন্মস্থান : জন্ম সাল : মা : বাবা :

Printed page 25

২ শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

Figure: ছবি-১ প্রভাতফেরি ও পুস্তকবক অর্পণ

লেবেল: প্রভাতফেরি (প্ল্যাকার্ডে) বর্ণনা: একটি প্রভাতফেরি; ডানদিকে বইয়ের স্তূপের সামনে এক ব্যক্তি পুষ্পস্তবক অর্পণ করছেন। পেছনে ভবন ও একটি বড় লাল-সাদা স্মারক দেখা যাচ্ছে।

Figure: ছবি-২ শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন

বর্ণনা: একটি মঞ্চে টেবিলের পেছনে কয়েকজন ব্যক্তি বসে আছেন; পেছনের পর্দায় একটি ব্যানার দেখা যাচ্ছে এবং সামনে শিক্ষার্থীরা বসে আছে।

ক) উপরের ছবিগুলো পর্যবেক্ষণ করি ও নিচের ছকে লিখি-

ছবিগুলো কীসের?
অনুষ্ঠানগুলো কখন হয়?
কোথায় ফুল দিচ্ছে?
কেন ফুল দিচ্ছে?

শহিদ দিবস উপলক্ষ্যে আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী রচনা করেন একুশের গান, 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি'। ভাষাশহিদদের স্মরণে ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার তৈরি করা হয়। দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও ছোটো-বড়ো শহিদ মিনার রয়েছে।

১৯৯৯ সাল থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এটি আমাদের গর্বের বিষয়। আমরা রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযথ মর্যাদায় এ দিবসটি পালন করি।

Printed page 26

শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে আমরা খালি পায়ে হেঁটে প্রভাতফেরিতে যাই। প্রভাতফেরিতে 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি' গানটি গাই। শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাই। এ দিবসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চিত্রাঙ্কন, রচনা প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ইত্যাদি অনুষ্ঠিত হয়। এ দিন জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। আমরা ভাষাশহিদদের অবদান চিরদিন মনে রাখব।

খ) ২১ ফেব্রুয়ারি সম্পর্কিত তথ্য নিচের চিত্রের খালি ঘরে লিখি-

Figure

লেবেল: কেন্দ্রে: ২১ ফেব্রুয়ারি; কেন্দ্রের ওপরে: শহিদ দিবস; অন্য ছয়টি খালি বৃত্তাকার ঘর বর্ণনা: মাঝখানে একটি বড় বৃত্তে '২১ ফেব্রুয়ারি' লেখা; সেখান থেকে ছয় দিকে তির চিহ্ন বের হয়ে ছয়টি রঙিন ডিম্বাকার ঘর যুক্ত হয়েছে। ওপরের ঘরে 'শহিদ দিবস' লেখা, বাকি পাঁচটি ঘর খালি।

গ) শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের গুরুত্ব সম্পর্কে তিনটি বাক্য তৈরি করি-

১.

২.

৩.

ঘ) বিদ্যালয়ে প্রভাতফেরিতে শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর ভূমিকাভিনয় করি।

Printed page 27

৩ আমাদের স্বাধীনতা দিবস

Figure

বর্ণনা: ভারতীয় উপমহাদেশের মানচিত্র; বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সবুজ রঙে চিহ্নিত। দুই অংশের মাঝে একটি লাল দ্বিমুখী তির আঁকা আছে।

ক) মানচিত্রে বাংলাদেশ (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) এবং পাকিস্তান (তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তান) চিহ্নিত করি-

Figure: ছবি-১: ৭ মার্চ ১৯৭১ সাল

বর্ণনা: একটি বিশাল জনসমাবেশের সামনে মঞ্চে দাঁড়িয়ে এক ব্যক্তি বক্তৃতা করছেন; সামনে অসংখ্য মানুষ।

Figure: ছবি-২: ২৬ মার্চ ১৯৭১ সাল

বর্ণনা: একজন ব্যক্তি সামনে মাইক্রোফোনের সামনে বসে আছেন; তাঁর সামনে টেবিলে মাইক্রোফোন ও কাগজ রাখা।

খ) ১নং ও ২নং ছবি পর্যবেক্ষণ করি ও কোন ছবিতে কী হচ্ছে তা লিখি-

Printed page 28

ছবি-১

কে বক্তৃতা করছেন?

কখন করছেন?

ছবি-২

কে বক্তৃতা করছেন?

কখন করছেন?

পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের মানুষকে শোষণ করতে থাকে। প্রতিবাদে এদেশের মানুষ পাকিস্তানি শাসকদের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে বিশাল জনসভায় ভাষণ দেন। এ ঐতিহাসিক ভাষণে তিনি ঘোষণা করেন, 'এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম ।' এরপর ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী নির্মমভাবে হত্যা করে এদেশের ছাত্র, শিক্ষক, পুলিশ, ইপিআর সদস্য ও সাধারণ মানুষকে। তাই ২৫ মার্চকে আমরা কালরাত বলি।

২৬ মার্চ তারিখে মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এইদিন থেকেই শুরু হয় পশ্চিম পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমেই আমরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন করি। ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল বলে এই দিবসটি আমাদের 'স্বাধীনতা দিবস'। এ দিবসটি আমাদের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ।

অনেক ত্যাগের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লক্ষ মানুষ শহিদ হন। শহিদদের স্মরণে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়। স্বাধীনতা দিবসে আমরা স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করি। বিদ্যালয়ে চিত্রাঙ্কন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা ইত্যাদি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানগুলোতে আমরা সকলে অংশগ্রহণ করি।

Printed page 29

গ) নিচের ছকে সময় অনুযায়ী প্রদত্ত ঘটনা সাজাই-

মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণা, কালরাত, শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ, পূর্ব পাকিস্তানকে শোষণ করা

সময়ঘটনা
পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর
৭ মার্চ ১৯৭১
২৫ মার্চ ১৯৭১
২৬ মার্চ ১৯৭১

ঘ) স্বাধীনতা দিবসের গুরুত্ব সম্পর্কে তিনটি বাক্য লিখি-

১. ...............................................

২. ...............................................

৩. ...............................................

ঙ) আগামী স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপনে কী কী করতে চাই তার একটি তালিকা তৈরি করি-

১. ...............................................

২. ...............................................

৩. ...............................................

৪. ...............................................

৫. ...............................................

৬. ...............................................

৭. ...............................................

৮. ...............................................

৯. ...............................................

১০. ...............................................

Printed page 30

Loading the rest of the chapter…

Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.

Trusted resources

Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.