Skip to content

Islamic Studies chapter 2: Following the Life of the Prophet and His Companions

রাসুল (স.) ও তাঁর সাহাবিগণের জীবনচরিত অনুসরণ

  • Islamic Studies
  • Textbook pages 30-39
  • 1 source
  • 14,151 characters of context

Textbook (verbatim transcription): Following the Life of the Prophet and His Companions

Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.

Contents6

Printed page 30

দ্বিতীয় অধ্যায়

রাসুল (স.) ও তাঁর সাহাবিগণের জীবনচরিত অনুসরণ

মহানবি হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনচরিত

হজরত মুহাম্মদ (স.) ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে আরবের মক্কা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম আব্দুল্লাহ এবং মায়ের নাম আমিনা। জন্মের পূর্বেই তাঁর পিতা মারা যান। তখনকার নিয়ম অনুযায়ী জন্মের পর তাঁকে লালন-পালনের জন্য দুধ মা হালিমার কাছে পাঠানো হয়। পাঁচ বছর বয়সে তিনি ফিরে আসেন তাঁর মায়ের কাছে। কিন্তু মায়ের কাছে বেশিদিন থাকা হয় না তাঁর। ছয় বছর বয়সে তাঁর মাও মারা যান। তখন তাঁর লালন-পালন করার দায়িত্ব নেন দাদা আব্দুল মুত্তালিব। আট বছর বয়সে দাদাও মারা যান। এবার বালক মুহাম্মদের দায়িত্ব নেন চাচা আবু তালিব।

ছোটোবেলা থেকেই মুহাম্মদ (স.) শান্ত ও বিনয়ী স্বভাবের ছিলেন। ছোটো-বড়ো সবার সাথে ভালো ব্যবহার করতেন। কখনো অহংকার করতেন না। কাউকে অপমান বা ছোটো করতেন না। মানুষের সুখে-দুঃখে তাদের পাশে দাঁড়াতেন এবং সহযোগিতা করতেন। সে সময় আরবের অবস্থা খুব খারাপ ছিল। তারা নানা রকম অন্যায় কাজে লিপ্ত ছিল। প্রায়ই বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে মারামারি, সংঘাত লেগে থাকত। সমাজে মোটেও শান্তি ছিল না। তাই তিনি যুবক বয়সে আরবের অন্য যুবকদের নিয়ে ‘হিলফুল ফুযুল’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তুললেন। এ সংগঠনের মাধ্যমে সমাজে শান্তি ফেরাতে চেষ্টা করলেন।

পঁচিশ বছর বয়সে তিনি হজরত খাদিজা (রা.)-কে বিয়ে করেন। এ সময় মাঝে মাঝে তিনি হেরা পর্বতের গুহায় গিয়ে ধ্যান করতেন। তিনি তখন মাঝ বয়সি, চল্লিশ ছুঁয়েছেন। তখন সেই হেরা গুহাতেই নবুয়ত লাভ করেন। এরপর তিনি সবাইকে এক আল্লাহর ইবাদত করার আহ্বান জানান। মিথ্যা ও মন্দ কাজ থেকে সরে আসতে বলেন। ফলে তাঁর বিরোধীরা তাঁর ওপর নানা ধরনের অত্যাচার শুরু করে। মহানবি (স.) অসীম ধৈর্য ও মনোবল বজায় রেখে কাজ করে যেতে লাগলেন। ধীরে ধীরে মানুষ নবিজি (স.)-এর আহ্বানে সাড়া দিতে লাগলেন।

এক সময় তাঁর নেতৃত্বে আরবের অন্ধকার যুগ শেষ হল। ইসলামের বাণী ছড়িয়ে পড়ল দূর-দূরান্তে। শান্তি ও সাম্যের ধর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হল ইসলাম। ততদিনে তিনি জীবনের শেষপ্রান্তে। অবশেষে ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে ৬৩ বছর বয়সে মদিনায় ইন্তিকাল করেন।

Printed page 31

ক) হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর ছেলেবেলা সম্পর্কে আমরা জেনেছি। এবার নিচের কাজটি করি। তাঁর ছেলেবেলা সম্পর্কিত তথ্য দিয়ে নিচের বৃত্তগুলো পূরণ করি। কাজটি একা করি।

Figure

লেবেল: বাবার নাম, মায়ের নাম, দাদার নাম, চাচার নাম, জন্মস্থান, জন্মসাল, হজরত মুহাম্মদ (স.) বর্ণনা: মাঝখানে একটি বৃত্তে "হজরত মুহাম্মদ (স.)" লেখা। এর চারপাশে ছয়টি ফাঁকা বৃত্ত আছে, প্রতিটি একটি তীরচিহ্ন দ্বারা কেন্দ্রের সাথে যুক্ত। উপরে "বাবার নাম", ওপরের ডানে "মায়ের নাম", নিচের ডানে "দাদার নাম", নিচে "চাচার নাম", নিচের বামে "জন্মস্থান", ওপরের বামে "জন্মসাল" লেখা।

খ) হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর ছেলেবেলা সম্পর্কে নিজের ভাষায় আলোচনা করি। তিনি যেসব কাজ করেছেন তা নিচে ধারাবাহিকভাবে সাজিয়ে লিখি। কাজটি দুজনে মিলে করি।

১.

২.

৩.

৪.

৫.

গ) নিচের ছকে হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর জীবনের বিভিন্ন সময় দেওয়া আছে। দলে আলোচনা করে কোন বয়সে কী করেছেন তা লিখি।

Figure

লেবেল: শৈশবকাল, যৌবনকাল, মধ্যবয়স, শেষজীবন বর্ণনা: চারটি ফাঁকা বাক্স নিয়ে একটি ছক। উপরের বাঁয়ে "শৈশবকাল", উপরের ডানে "যৌবনকাল", নিচের বাঁয়ে "মধ্যবয়স", নিচের ডানে "শেষজীবন" শিরোনাম দেওয়া, প্রতিটি শিরোনামের নিচে একটি করে ফাঁকা বাক্স।

Printed page 32

মহানবি (স.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ

মহানবি হজরত মুহাম্মদ (স.) একজন উত্তম আদর্শের মানুষ ছিলেন। তাঁর আদর্শ আমাদের জন্য অনুকরণীয় ও অনুসরণীয়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেছেন– “নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসুলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।” (সূরা আল-আহজাব, আয়াত: ২১) আগের পাঠে আমরা জেনেছি যে, নবিজি (স.) ছেলেবেলা থেকেই শান্ত ও বিনয়ী ছিলেন। অহংকার করতেন না। সুখে-দুঃখে মানুষের পাশে দাঁড়াতেন এবং সহযোগিতা করতেন। তাঁর নেতৃত্বের গুণ ছিল অসাধারণ। অসীম ধৈর্য, কঠিন মনোবল ও বিচক্ষণতা ছিল তাঁর।

তিনি সব সময় সত্য কথা বলতেন। কাউকে কথা দিলে তা রক্ষা করতেন। তাই সবাই তাঁকে বিশ্বাস করত । এজন্য মক্কার লোকেরা তাঁকে ‘আল-আমিন’ বা বিশ্বাসী বলে ডাকত। সবাই তাঁর ওপর আস্থা রাখত। একবার কাবা ঘর মেরামতের সময় হাজরে আসওয়াদ (কালো পাথর) পুনঃস্থাপন করার প্রয়োজন দেখা দেয়। আরবে অনেকগুলো গোত্র ছিল। প্রত্যেক গোত্রই এই পাথর স্থাপনের মর্যাদা পেতে চায়। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিবাদ শুরু হল। তখন সিদ্ধান্ত হল, পরদিন সকালে যে সবার আগে কাবা ঘরে প্রবেশ করবে, তার সিদ্ধান্ত সবাই মেনে নিবে। পরদিন হজরত মুহাম্মদ (স.) সবার আগে কাবা ঘরে প্রবেশ করলেন। সবাই খুব খুশি হল। ভরসা পেল যে, আল-আমিনের সিদ্ধান্তই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত হবে। মুহাম্মদ (স.) তখন একটি কাপড়ের উপর পাথরটি রাখলেন। এরপর সব গোত্র থেকে একজন করে নিয়ে ঐ কাপড়ের প্রান্ত ধরে কাবা ঘরের যথাস্থানে নিয়ে যেতে বললেন। এভাবে একটি সংঘাতের হাত থেকে রক্ষা পেল মক্কার মানুষ। সবাই খুব খুশি হল।

হজরত মুহাম্মদ (স.) ছিলেন কঠোর পরিশ্রমী। তিনি নিজের কাজ নিজে করতেন। অলসভাবে সময় নষ্ট করা তিনি পছন্দ করতেন না। একবার এক শারীরিকভাবে সক্ষম ব্যক্তিকে ভিক্ষা করতে দেখে তাকে কুঠার কিনে দিয়েছিলেন। বলেছিলেন সে যেন ভিক্ষা না করে কাঠ কেটে তা বিক্রি করে উপার্জন করে।

তাঁর নবুয়তলাভের পূর্বে আরবের কন্যাশিশুদের জীবন্ত কবর দেওয়া হত। তিনি কন্যাশিশু হত্যা রোধ করেন। তিনি নারীদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার তাগিদ দিয়েছেন। তাঁর দুধ-মা হজরত হালিমা (রা.) মাঝে মাঝে তাঁর সাথে দেখা করতে আসতেন। তাঁকে দেখামাত্র মহানবি (স.) দাঁড়িয়ে সম্মান জানাতেন। তিনি তার পাগড়ি অথবা চাদর বিছিয়ে হজরত হালিমা (রা.)-কে বসতে দিতেন।

Figure: ছবি: হাজরে আসওয়াদ

বর্ণনা: একটি বড় ধাতব কাঠামোর মাঝখানে গোলাকার কালো পাথর বসানো আছে; পাশে একটি কাঠের ফ্রেম দেখা যায়।

Printed page 33

ক) মহানবি (স.) এর জীবন ও কাজের মধ্য দিয়ে তার যেসব গুণ প্রকাশিত হয়েছে তা দলগতভাবে আলোচনা করি। এরপর সেগুলোকে ধারাবাহিকভাবে সাজিয়ে গুণাবলির ফুল তৈরি করি।

১.

২.

৩.

৪.

৫.

আমরা দেখলাম মহানবি (স.)-এর জীবন ও কাজের মধ্য দিয়ে অসংখ্য গুণ প্রকাশিত হয়েছে। এসব গুণাবলিই আমাদের জন্য আদর্শ। আমরা আমাদের জীবন পরিচালনার ক্ষেত্রে এসব আদর্শ অনুসরণ করব।

হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর যেসব আদর্শ অনুসরণ করতে পারি

■ আমরা আচরণে বিনয়ী হব। অহংকার করব না। কাউকে অপমান বা ছোটো করব না। ছোটো-বড়ো সবার সাথে ভালো ব্যবহার করব।

■ মানুষকে সহযোগিতা করব। সুখে-দুঃখে তাদের পাশে দাঁড়াব। অভাবী মানুষদের সহযোগিতা করব। প্রতিবেশীদের খোঁজ-খবর রাখব।

■ সব সময় সত্য কথা বলব। মিথ্যা বলব না। কাউকে কথা দিলে তা রাখার চেষ্টা করব।

■ আমরা চেষ্টা করব আমাদের আশপাশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে। অন্যরাও যেন শান্তি বজায় রাখে সে ব্যাপারে উদ্যোগী হব। কোনো সংঘাত দেখা দিলে তা দূর করার চেষ্টা করব।

■ পরিশ্রম করব। কোনো ধরনের অলসতা করব না। নিজের কাজ নিজে করব। বাড়িতে বা বিদ্যালয়ে বিভিন্ন কাজে উৎসাহের সাথে যোগ দেব।

■ আমরা আমাদের মা, বোন, সহপাঠীসহ অন্য নারীদের সম্মান করব। তাদের কাজে সহযোগিতা করব।

■ স্কুলে, বাড়িতে বা আশপাশের বিভিন্ন কাজে নিজ থেকেই এগিয়ে যাব। সবাইকে একত্র করে সেসব কাজ ভালোভাবে করতে চেষ্টা করব। ধৈর্য ও মনোবলের সাথে এসব কাজে যুক্ত থাকব।

Printed page 34

খ) মহানবি (স.)-এর জীবনাচরণ অনুসরণ করে আমরা নিজেরা কোন কোন আদর্শগুলো চর্চা করি তার একটি তালিকা তৈরি করি। কাজটি একা করি।

১.

২.

৩.

৪.

৫.

হজরত আবু বকর (রা.)

হজরত আবু বকর (রা.) ছিলেন ইসলামের প্রথম খলিফা। তিনি ৫৭৩ খ্রিষ্টাব্দে আরবের মক্কা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর উপাধি 'সিদ্দিক' বা বিশ্বাসী। ছেলেবেলা থেকেই হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর সাথে তাঁর গভীর বন্ধুত্ব ছিল। বয়স্ক পুরুষদের মধ্যে হজরত আবু বকর (রা.) প্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি সুখে-দুঃখে সকল অবস্থায় নবিজি (স.)-এর সাথে থাকতেন। নবিজি (স.)-কে তিনি বিশ্বাস করতেন ও ভালোবাসতেন।

মহানবি (স.)-এর ইন্তিকালের পর তিনি ইসলামের প্রথম খলিফা মনোনীত হন। সে সময় আরবে বেশ কিছু সমস্যা তৈরি হয়। কেউ কেউ নিজেকে নবি দাবি করে, কিছু লোক ইসলাম ত্যাগ করে, আবার কেউ বা জাকাত দিতে অস্বীকার করে। তাঁর চেষ্টায় ইসলামে পুনরায় শৃঙ্খলা ফিরে আসে। এছাড়া তিনিই প্রথম পবিত্র কুরআনকে একত্রিত করে গ্রন্থ আকারে প্রকাশ করার উদ্যোগ নেন।

Figure: চিত্র: গ্রন্থ আকারে পবিত্র কুরআন

বর্ণনা: একটি খোলা কুরআন শরীফ কাঠের রেহালের ওপর রাখা আছে; এর চারদিকে রশ্মির মতো আলো ছড়াচ্ছে।

Printed page 35

হজরত আবু বকর (রা.) ব্যবসা-বাণিজ্য করে জীবন চালাতেন। তবে খলিফা নির্বাচিত হবার পর অন্যদের পরামর্শে ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার কাজে পুরোপুরি মনোযোগ দেন। তখন সংসার চালানোর জন্য তিনি রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে অল্পকিছু ভাতা নিতেন। তিনি ৬৩৪ খ্রিষ্টাব্দে ৬১ বছর বয়সে ইন্তিকাল করেন। মদিনায় মহানবি (স.)-এর পাশেই তাঁকে দাফন করা হয়।

ক) হজরত আবু বকর (রা.) সম্পর্কে আমরা জানলাম। এর আলোকে নিচের প্রবাহচিত্রটি পূরণ করি। কাজটি একা করি।

Figure

লেবেল: জন্মসাল .... ........; জন্মস্থান .............. ; বয়স ......... ; ............ গ্রন্থ আকারে একত্রিত করেন; ............দমন করেন; ............ তম খলিফা; ......... জীবন চালাতেন; ...... সালে ইন্তেকাল করেন; ..........দাফন করা হয় বর্ণনা: নয়টি বাক্স তিন সারি ও তিন স্তম্ভে সাজানো; বাক্সগুলো ধূসর রেখা দিয়ে একটির সাথে আরেকটি যুক্ত। প্রবাহ বাঁ দিকের প্রথম স্তম্ভ থেকে নিচে নেমে, তারপর মাঝের স্তম্ভ থেকে ওপরে উঠে, এবং ডান দিকের স্তম্ভ থেকে নিচে নেমে শেষ হয়।

খ) আমরা হজরত আবু বকর (রা.) সম্পর্কে জানলাম। তিনি যেসব কাজ করেছেন তা নিচে সাজিয়ে লিখি। কাজটি দুজনে মিলে করি।

১.

২.

৩.

৪.

৫.

Printed page 36

Loading the rest of the chapter…

Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.

Trusted resources

Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.