Skip to content

Primary Science chapter 4: Matter

পদার্থ

  • Primary Science
  • Textbook pages 39-58
  • 1 source
  • 25,648 characters of context

Textbook (verbatim transcription): Matter

Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.

Contents20

Printed page 39

অধ্যায় ৪

পদার্থ

আমাদের চারপাশে নানা রকমের বস্তু আছে। বই, খাতা, কলম, চেয়ার, টেবিল, বালুকণা, পানি, বাতাস, মাটি, কীটপতঙ্গ, পশুপাখি ইত্যাদি। এগুলো সবই পদার্থ। সকল পদার্থ কি একই রকম?

১. পদার্থের বৈশিষ্ট্য

পদার্থ কী?

কাজ: দু'টি বস্তুর মধ্যে তুলনা

যা প্রয়োজন: একটি ফুটবল, একটি কমলা

যা করতে হবে

Figure

বর্ণনা: একটি ফুটবল ও একটি কমলা সবুজ ঘাসের ওপর পাশাপাশি রাখা।

১. নিচের ছবির মতো করে একটি ভেনচিত্র আঁকি।

২. পাশের ছবি দুটি লক্ষ করি। বস্তু দুটির কী কী বৈশিষ্ট্য আছে খুঁজে বের করি।

৩. এগুলোর মধ্যে মিল ও অমিল ভেনচিত্রে লিখি।

৪. এই কাজটি নিয়ে সহপাঠীদের সঙ্গে আলোচনা করি।

Figure

লেবেল: শুধু ফুটবলের বৈশিষ্ট্য, মিল, শুধু কমলালেবুর বৈশিষ্ট্য বর্ণনা: দুটি বৃত্ত আংশিক ছেদ করে আঁকা একটি ভেনচিত্র। বাম বৃত্তে "শুধু ফুটবলের বৈশিষ্ট্য", ছেদের অংশে "মিল", ডান বৃত্তে "শুধু কমলালেবুর বৈশিষ্ট্য" লেখা।

সারসংক্ষেপ

কমলালেবু ও ফুটবল দুটি বস্তুরই আকৃতি গোল। কমলালেবু আকারে ছোটো; বলটি বড়ো। ফুটবল ভারী আর কমলা হালকা। দুটি বস্তুরই ওজন আছে। এগুলোর বর্ণ ভিন্ন; কমলালেবুর মিষ্টি গন্ধ আছে।

কমলালেবু নরম। চাপ দিলে চ্যাপ্টা হয়ে যায়।

Printed page 40

পদার্থ সম্পর্কে আরো কিছু জানি ...

যা কিছুর ওজন ও আয়তন আছে, তাই পদার্থ। বিভিন্ন পদার্থের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য থাকে; কিন্তু প্রায় সকল পদার্থেরই ওজন ও আয়তন অবশ্যই থাকবে।

ওজন

বিজ্ঞানের ভাষায়, ফুটবল ও কমলালেবু উভয়েই পদার্থ। পদার্থের ওজন আছে।

কিছু পদার্থের ওজন বেশি। যেমন: ইট, পাথর। এগুলো ভারী পদার্থ।

কিছু পদার্থের ওজন কম থাকে। যেমন: তুলা, বাতাস। এগুলো হালকা পদার্থ।

লক্ষ করি, “বেশি” বা “কম” বলার ক্ষেত্রে তুলনার প্রশ্ন আসে। একটি ইটের ওজন তুলার ওজনের চাইতে বেশি হলেও একটি উড়োজাহাজের ওজনের তুলনায় তা নগণ্য।

Figure

বর্ণনা: লাল রঙের দুটি ইট একটির ওপর আরেকটি রাখা।

আয়তন

প্রায় সব পদার্থের আয়তন আছে। এর মানে হলো, পদার্থ জায়গা দখল করে। কিছু পদার্থ বেশি জায়গা দখল করে। সেগুলোর আয়তন বেশি। কিছু পদার্থ কম জায়গা দখল করে। সেগুলোর আয়তন কম।

পাশের চিত্রটি দেখেই বোঝা যায়, মুরগির ছানার চেয়ে হাতি আকারে অনেক বড়। মুরগির ছানার চেয়ে হাতি বেশি স্থান দখল করে। তাই হাতির আয়তন মুরগির ছানার আয়তনের চেয়ে বেশি।

Figure

বর্ণনা: বামে একটি বেগুনি রঙের হাতি, ডানে একটি হলুদ মুরগির ছানা। হাতিটি ছানার চেয়ে অনেক বড়।

আকৃতি

অনেক পদার্থের নির্দিষ্ট আকৃতি থাকে। আবার সকল পদার্থের নির্দিষ্ট আকৃতি থাকে না। আকৃতি বলতে একটি পদার্থের বাহ্যিক গঠন কেমন তা বোঝায়। যেমন: ফুটবলের আকৃতি গোল। আকৃতি বিষয়ে আমরা এ অধ্যায়ের পাঠ-৪ এ আরো বিস্তারিত জানতে পারব। আকৃতি সম্পর্কে ধারণা থাকলে তা বিভিন্ন ধরনের পদার্থ চিহ্নিত করতে আমাদের সাহায্য করবে।

২. পদার্থের আয়তন

পদার্থের আয়তন সম্পর্কে আমরা কীভাবে ধারণা করতে পারি?

কাজ: বড়-ছোট খুঁজে বের করা

যা প্রয়োজন: একই রকম দুটি কাঁচের গ্লাস, পানি, দুই আকারের দুই খন্ড পাথর, চারটি রাবার ব্যান্ড

Printed page 41

যা করতে হবে

Figure

বর্ণনা: দুটি একই রকম কাঁচের গ্লাসে অর্ধেক পর্যন্ত পানি রাখা; গ্লাস দুটি পাশাপাশি। ডান দিকে গ্লাসের পাশে দুটি পাথর রাখা।

১. পাশের ছবিটি দেখি।

২. ছবির মতো করে গ্লাস দুটি পাশাপাশি রাখি।

৩. গ্লাস দুটি একইভাবে পানি দিয়ে অর্ধেক পূর্ণ করি। উভয় গ্লাসের পানির উচ্চতা যেন একই থাকে।

৪. গ্লাসে পানির স্তর যে উচ্চতায় আছে, সেখানে একটি রাবার ব্যান্ড আটকাই। কিংবা একটি চক বা মার্কার কলম দিয়ে দাগ দিয়ে পানির স্তর চিহ্নিত করি।

৫. এখন বাম পাশের গ্লাসে ছোটো পাথরটি ফেলি। ডান পাশের গ্লাসে বড় পাথরটি ফেলি।

৬. উভয় গ্লাসে পানির স্তরের পরিবর্তন লক্ষ করি। পানির নতুন উচ্চতা পূর্বের মতো করে রাবার ব্যান্ড বা চক বা মার্কার কলম দিয়ে চিহ্নিত করি।

৭. দুটি গ্লাসে পানির স্তরের পরিবর্তনের মধ্যে কী পার্থক্য দেখতে পাচ্ছি? কেন এমন হলো? সহপাঠীদের সঙ্গে আলোচনা করি।

ফলাফল

গ্লাসে পাথর ফেললে পানির স্তর উপরে উঠে যায়। ছোটো আকারের পাথর ফেললে পানির স্তর যতটুকু উপরে ওঠে, বড়ো আকারের পাথর ফেললে পানি তার চেয়ে বেশি উপরে ওঠে।

আলোচনা

Figure

লেবেল: গ্লাসের পানিতে পাথর ফেললে পানির স্তর উপরে উঠে যায় কেন?; ছোটো পাথর অপেক্ষা বড়ো পাথরে পানির স্তর বেশি উপরে ওঠে কেন? এতে কী বোঝা যায়? বর্ণনা: দুজন শিশু কথা বলছে; বাম দিকের মেয়েটির এবং ডান দিকের ছেলেটির বক্তব্য বুদবুদে লেখা।

Printed page 42

সারসংক্ষেপ

পানি দিয়ে অর্ধেক পূর্ণ গ্লাসে পাথর ফেললে পানির স্তর উপরে উঠে যায়। এর কারণ কী? এখানে যে পাথর পানিতে ডুবে গেল সেটি পানির ভেতর কিছু স্থান দখল করেছে। এই স্থানটুকুই পাথরটির আয়তন। পাথরটি যতটুকু স্থান দখল করে নিয়েছে, ততটুকু পানি সেখান থেকে উপরের দিকে উঠে যায়। ফলে পানির স্তর উপরে উঠে যায়। এখন যে পাথরটি আকারে বড়ো, সেটি বেশি স্থান দখল করে। অর্থাৎ, এর আয়তন বেশি। তাই বড়ো পাথরটি বেশি পানি উপরের দিকে ঠেলে দেয়। সেজন্য বড়ো পাথরটি গ্লাসে ফেললে পানি বেশি উপরে ওঠে। গ্লাসের পানি যতটুকু উপরে উঠেছে, তার আয়তন, ডুবে যাওয়া পাথরের আয়তনের সমান।

Figure

বর্ণনা: তিনটি কাঁচের গ্লাসে পানি রাখা। প্রথম গ্লাসে কোনো পাথর নেই; দ্বিতীয় গ্লাসের নিচে একটি ছোট পাথর ডুবে আছে; তৃতীয় গ্লাসে একটি বড় পাথর ডুবে আছে এবং পানির স্তর আরও উপরে উঠেছে।

৩. বায়ু এক ধরনের পদার্থ

আমরা জেনেছি, সকল পদার্থেরই ওজন ও আয়তন আছে। বাতাসেরও কি ওজন ও আয়তন আছে?

নিচের কাজটির মাধ্যমে জানার চেষ্টা করি বাতাস একটি পদার্থ কি না।

Figure

বর্ণনা: দুটি ফুটবল পাশাপাশি সবুজ ঘাসের ওপর; বাম দিকের ফুটবলটি চুপসানো, ডান দিকেরটি বাতাসে ভরা।

বাতাস কি একটি পদার্থ?

কাজ : বাতাসের ওজন ও আয়তন আছে কি না, তা যাচাই করা

যা প্রয়োজন : একটি বেলুন, একটি চুপসানো ফুটবল, ফুটবলে বাতাস ভরার পাম্প।

যা করতে হবে :

১. নিচের ছকের মতো একটি ছক তৈরি করি।

২. ফুঁ দিয়ে বেলুনটি ফোলাই। বেলুনের আয়তনের কি পরিবর্তন হচ্ছে লক্ষ করি এবং ছকে লিখি।

৩. চুপসানো ফুটবলটি কেমন ভারী তা হাতে নিয়ে দেখি।

৪. পাম্পের সাহায্যে বলটিতে বাতাস ভরি। বাতাস ভরার পর বলের ওজন ও আয়তনের পরিবর্তন হয়েছে কি না, লক্ষ্য করি।

বাতাস ভরলে কী হয়?ফলাফল
বেলুনের আয়তন কি বেড়ে যায়?
ফুটবল কি ভারী হয়ে যায়?
ফুটবলের আয়তন কি বাড়ে?

Figure

লেবেল: বাতাসের কী আয়তন আছে?; ওজন আছে? বর্ণনা: দুজন শিশু কথা বলছে; মেয়েটি বাতাসের আয়তন নিয়ে এবং ছেলেটি বাতাসের ওজন নিয়ে প্রশ্ন করছে।

Printed page 43

সারসংক্ষেপ

একটি বেলুনকে বাতাস দিয়ে ফোলালে বেলুনটি আকারে বড় হয়ে যায়। যত বেশি বাতাস ভরা হয়, বেলুনটি তত বড় হয়। বেশি বাতাস বেশি স্থান দখল করে। এতে বোঝা যায়, বাতাসের আয়তন আছে। একটি ফুটবলের ভেতর বাতাস না থাকলে এটি চুপসে থাকে। বাতাস ভরলে বলটি ভারী হয়। ফলে আমরা বুঝতে পারি, বাতাসের ওজন আছে। আবার, ফুটবলটিতে বাতাস ভরলে এর আয়তনও বাড়ে। যেহেতু বাতাসের ওজন ও আয়তন আছে, তাই বাতাস একটি পদার্থ।

Figure

বর্ণনা: একটি ছেলে মুখে ফুঁ দিয়ে একটি নীল বেলুন ফোলাচ্ছে।

আলোচনা

নিচের প্রশ্নটি সম্পর্কে চিন্তা করি।

আলো কী পদার্থ? উত্তরের স্বপক্ষে যুক্তি বের করি।

এ ব্যাপারে সহপাঠীদের সঙ্গে আলোচনা করি।

৪. পদার্থের আকৃতি

আকৃতি কী?

কাজ: আকৃতির মিল খুঁজে বের করা

যা করতে হবে

১. নিচের ছবিতে দুটি সারি বা লাইন দেখতে পাচ্ছি। উপরের সারিতে চারটি আকৃতির ছবি ও নাম দেওয়া আছে। আর নিচে চারটি বস্তুর ছবি এলোমেলো করে দেওয়া আছে। উপরের কোন আকৃতির সঙ্গে নিচের কোন বস্তুর মিল আছে? পেনসিল দিয়ে দাগ টেনে মিল দেখাই।

Figure

লেবেল: ঘনাকার, গোলীয়, বেলনাকার, শঙ্কু আকার বর্ণনা: উপরের সারিতে চারটি আকৃতি—ঘনক, গোলক, বেলন ও শঙ্কু; নিচের সারিতে চারটি বস্তু—আইসক্রিমের কোন, একটি টিনের কৌটা, একটি রঙিন বল ও একটি রুবিকস কিউব।

Printed page 44

ফলাফল

উপরের প্রতিটি বস্তুর আকৃতি আলাদা। ব্লুবিক'স কিউবের আকৃতি ঘনকের মতো; বল গোল; কোমল পানীয়ের ক্যানটি দেখতে সিলিন্ডারের মতো। চিত্রের আইসক্রিমের আকৃতি কোণ আকৃতির।

আলোচনা

দেখা গেল, একেক পদার্থের আকৃতি একেক রকম। সকল পদার্থের কি আকৃতি থাকে?

কোন ধরনের পদার্থের আকৃতি থাকে?

আরও কিছু করি

পানির কি আকৃতি আছে? বাতাসের? সহপাঠীদের সঙ্গে আলোচনা করি।

৫. বিভিন্ন ধরনের পদার্থের আকৃতির ভিন্নতা

সকল পদার্থের কি নির্দিষ্ট আকৃতি থাকে?

কাজ: ইরেজার ও পানির আকৃতি পরীক্ষা

যা প্রয়োজন: একটি ইরেজার, পানি, কয়েকটি বিভিন্ন আকৃতির বাটি বা পাত্র এবং পানির গ্লাস

যা করতে হবে

১. একটি পাত্রে ইরেজারটি নিই।

২. ইরেজারের আকৃতি কেমন পর্যবেক্ষণ করে লিখে রাখি।

৩. এখন ইরেজারটিকে বিভিন্ন পাত্রে নিয়ে পর্যবেক্ষণ করি।

৪. ইরেজারটির আকৃতির কোনো পরিবর্তন হয়েছে? খাতায় লিখে রাখি।

৫. এখন একটি গ্লাসে কিছু পানি নিই। পানির আকৃতি কেমন দেখতে পাচ্ছি লিখে রাখি।

৬. এখন ভিন্ন ভিন্ন কয়েকটি পাত্রে গ্লাসের পানি ঢেলে দেখি। পানির আকৃতির কোনো পরিবর্তন দেখা যায়? লিখে রাখি।

বস্তুপর্যবেক্ষণমন্তব্য
পাত্র ১পাত্র ২
ইরেজার
পানি

Printed page 45

Figure

লেবেল: ইরেজারটির আকৃতি কেমন? একেক পাত্রে কি একেক রকম? / পানির আকৃতি কেমন? জগ থেকে গ্লাসে ঢাললে কি পানির আকৃতির পরিবর্তন হয়? বর্ণনা: দুজন শিশু কথা বলছে। বাম দিকের ছেলেটি একটি প্রশ্ন করছে, ডান দিকের মেয়েটি আরেকটি প্রশ্ন করছে।

ফলাফল

ইরেজারের টুকরোর নির্দিষ্ট একটি আকৃতি থাকে। ভিন্ন ভিন্ন পাত্রে রাখলেও ইরেজারটির আকৃতি একই থাকে। আকৃতির পরিবর্তন হয় না। অন্যদিকে পানিকে যে পাত্রে রাখা হয়, সে পাত্রের আকৃতি ধারণ করে। বোতলে রাখলে বোতলের আকৃতি; জগে রাখলে জগের আকৃতি; বাটিতে রাখলে বাটির আকৃতি ধারণ করে। এখান থেকে সিদ্ধান্তে আসা যায়, কিছু পদার্থের নির্দিষ্ট আকৃতি থাকে; আবার কিছু পদার্থের নির্দিষ্ট আকৃতি থাকে না।

আরও কিছু করি

১. পানির মতোই এমন আরো কিছু পদার্থ আছে। এ পদার্থগুলো যখন যে পাত্রে রাখা হয়, সে পাত্রের আকৃতি ধারণ করে। এ রকম কিছু পদার্থের তালিকা তৈরি করি।

২. বরফের মতোই আরো অনেক পদার্থের নির্দিষ্ট আকৃতি আছে। এমন কিছু পদার্থের তালিকা তৈরি করি।

পদার্থের আকৃতি সম্পর্কে আরো কিছু জানি ...

Figure

বর্ণনা: একজন বিক্রেতা হাতে অনেকগুলো বিভিন্ন আকৃতির রঙিন বেলুন নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন।

বাতাসের নিজস্ব আকৃতি আছে কি না, একটি পরিচিত ঘটনা দেখে আমরা বুঝতে পারি। বাজারে কিছু বেলুন বিক্রি করতে দেখা যায়। বিভিন্ন আকৃতির বেলুন। পাখি, মাছ, বিমান, মানুষ, কার্টুনের চরিত্র যেমন: মীনা, রাজু, মিঠু এ রকম বিভিন্ন আকৃতি। বিভিন্ন আকৃতির প্লাস্টিকের বেলুনের ভেতর বাতাস ভরে এগুলো তৈরি করা হয়। বাতাসের নিজস্ব আকৃতি নেই। যে বেলুনে বাতাস ভরা হয়, বাতাস সে বেলুনের আকৃতি ধারণ করে।

Loading the rest of the chapter…

Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.

Trusted resources

Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.