Amar Bangla Boi chapter 11: Tiger Eating Fox Cub
বাঘখেকো শিয়ালের ছানা
- Amar Bangla Boi
- Textbook pages 56-62
- 1 source
- 8,851 characters of context
Textbook (verbatim transcription): Tiger Eating Fox Cub
Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.
Contents3ShowHide
Printed page 56
পাঠ ১১
বাঘখেকো শিয়ালের ছানা
উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
এক শিয়াল আর এক শিয়ালনী ছিল। তাদের তিনটি ছানা ছিল, কিন্তু থাকার জায়গা ছিল না।
তারা ভাবল, ছানাগুলোকে এখন কোথায় রাখি? একটা গর্ত না হলে তো এরা বৃষ্টিতে ভিজে মারা যাবে। তখন তারা অনেক খুঁজে একটা গর্ত বার করল। কিন্তু গর্তের চারধারে দেখল, খালি বাঘের পায়ের দাগ! তা দেখে শিয়ালনী বলল, ‘ওগো, এটা যে বাঘের গর্ত! এর ভিতরে কী করে থাকব?’
শিয়াল বলল, ‘এত খুঁজেও তো আর গর্ত পাওয়া গেল না। এখানেই থাকতে হবে!’
শিয়ালনী বলল, ‘বাঘ যদি আসে তখন কী হবে?’
শিয়াল বলল, ‘তখন তুমি খুব করে ছানাগুলোর গায়ে চিমটি কাটবে। তাতে তারা চেঁচাবে। আর আমি জিজ্ঞেস করব—ওরা কাঁদছে কেন? তখন তুমি বলবে—ওরা বাঘ খেতে চায়।’
Printed page 57
তা শুনে শিয়ালনী বলল, ‘বুঝেছি। আচ্ছা, বেশ!’ বলেই সে খুব খুশি হয়ে গর্তের ভিতরে ঢুকল। তখন থেকে তারা সেই গর্তের ভিতরেই থাকে।
এমনি করে কিছু দিন যায়। শেষে একদিন তারা দেখল যে ওই বাঘ আসছে। অমনি শিয়ালনী তার ছানাগুলোকে ধরে খুব চিমটি কাটতে লাগল। তখন ছানাগুলো চেঁচাতে শুরু করল।
শিয়াল তখন খুব মোটা আর বিশ্রী গলার সুর করে জিজ্ঞেস করল, ‘খোকারা কাঁদছে কেন?’
শিয়ালনী তেমনি বিশ্রী সুরে বলল, ‘ওরা বাঘ খেতে চায়। তাই কাঁদছে।’
বাঘ তার গর্তের দিকে আসছিল। এর মধ্যে ‘ওরা বাঘ খেতে চায়’ শুনে সে থমকে দাঁড়াল। সে ভাবল, ‘বাবা! আমার গর্তের ভিতর না জানি ওগুলো কী ঢুকে রয়েছে। নিশ্চয় ভয়ানক রাক্ষস হবে, নইলে কি ওদের খোকারা বাঘ খেতে চায়!’
তখুনি শিয়াল বলল, ‘আর বাঘ কোথায় পাব? যা ছিল সবই তো ধরে এনে ওদের খাইয়েছি!’
তাতে শিয়ালনী বলল, ‘তা বললে কি হবে? যেমন করে পারো একটা ধরে আনো, নইলে খোকারা থামছে না।’ বলে সে ছানাগুলোকে আরও বেশি করে চিমটি কাটতে লাগল।
তখন শিয়াল বলল, ‘আচ্ছা, রোসো রোসো। ওই যে একটা বাঘ আসছে। আমার ঝপাংটা দাও, এখুনি ওকে ভতাং করছি।’
ঝপাং বলেও কিছু নেই, ভতাং বলেও কিছু নেই—সব শিয়ালের ফাঁকি। বাঘের কিন্তু সেই ঝপাং আর ভতাং শুনেই প্রাণ উড়ে গেল, সে ভাবল, ‘মাগো, এই বেলা পালাই। নইলে না জানি কী দিয়ে কী করবে এসে!’ বলে সে আর সেখানে একটুও দাঁড়াল না। শিয়াল চেয়ে দেখল যে, সে লাফিয়ে লাফিয়ে ঝোপ-জঙ্গল ডিঙিয়ে ছুটে পালাচ্ছে! তখন শিয়াল আর শিয়ালনী লম্বা নিঃশ্বাস ছেড়ে বলল, ‘যাক, আপদ কেটে গেছে।’
বাঘ তখনও এমনি ছুটেছে যে তেমন আর সে কখনও ছোটেনি।
একটা বানর গাছের উপর থেকে তাকে ছুটতে দেখে ভারি আশ্চর্য হয়ে ভাবল, তাই তো, বাঘ এমনি করে ছুটছে, এ তো সহজ কথা নয়! নিশ্চয় একটা ভয়ানক কিছু হয়েছে! এই ভেবে সে বাঘকে ডেকে জিজ্ঞেস করল, ‘বাঘ ভাই, বাঘ ভাই, কী হয়েছে? তুমি যে অমন করে ছুটে পালাচ্ছো?’
বাঘ হাঁপাতে হাঁপাতে বলল, ‘সাধে কি পালাচ্ছি? নইলে এক্ষুণি আমাকে ধরে খেতো!’
বানর বলল, ‘তোমাকে ধরে খায় এমন কোনো জানোয়ারের কথা তো আমি জানি না। ও কথা আমার বিশ্বাস হচ্ছে না!’
Printed page 58
বাঘ বলল, ‘সেখানে থাকতে বাপু, তবে দেখতাম! দূর থেকে অমনি করে সকলেই বলতে পারে!’
বানর বলল, ‘আমি যদি সেখানে থাকতাম, তবে তোমাকে বুঝিয়ে দিতাম যে সেখানে কিছু নেই। তুমি বোকা, তাই মিছামিছি অত ভয় পেয়েছ।’
এ কথায় বাঘের ভারি রাগ হলো। সে বলল, ‘বটে! আমি বোকা? আর তোমার বুঝি ঢের বুদ্ধি! চলো তো একবার সেখানে যাই।’
বানর বলল, ‘যাব বইকি, যদি আমাকে পিঠে করে নিয়ে যাও।’
বাঘ বলল, ‘তাই সই! আমার পিঠে বসেই চলো!’ এই বলে সে বানরকে পিঠে করে আবার গর্তের দিকে ফিরে চলল।
শিয়াল আর শিয়ালনী সবে ছানাদের শান্ত করে একটু বসেছে। আর অমনি বানরকে পিঠে করে বাঘ আবার আসছে। তখন শিয়ালনী তাড়াতাড়ি ছুটে গিয়ে আবার ছানাগুলোকে চিমটি কাটতে লাগল, ছানাগুলোও ভূতের মতো চ্যাঁচাতে শুরু করল।
তখন শিয়াল আবার সেই রকম সুর করে বলল, ‘আরে থামো, থামো! অত চেঁচিও না—অসুখ করবে।’
শিয়ালনী বলল, ‘আমি বলছি, যতক্ষণ না একটা বাঘ এনে এদের খেতে দেবে, ততক্ষণ এরা কিছুতেই থামবে না।’
শিয়াল বলল, ‘আমি যে ওদের মামাকে বাঘ আনতে পাঠিয়েছি। এখুনি সে বাঘ নিয়ে আসবে। তোমরা থামো!’
তারপর একটু চুপ করেই সে আবার বলল, ‘ওই, ওই! ওই যে তোদের বাঁদর মামা একটা বাঘ ধরে এনেছে! আর কাঁদিস না। শিগগির ঝপাংটা দে, ভতাং করি!’
বানরের এতক্ষণ খুব সাহস ছিল। কিন্তু ঝপাং আর ভতাঙের কথা শুনে আর সে বসে থাকতে পারল না। সে এক লাফে একটা গাছে উঠে, দেখতে দেখতে কোথায় পালিয়ে গেল।
আর বাঘের কথা কী আর বলব! সে যে সেইখান থেকে ছুট দিল, দুদিনের মধ্যে আর দাঁড়ালই না।
তারপর থেকে আর শিয়ালদের কোনো কষ্ট হয়নি। তারা মনের সুখে সেই গর্তে থেকে দিন কাটাতে লাগল।
Printed page 59
অর্থ জেনে নিই
এক্ষুণি — এখুনি; এখনি; এখনই।
জানোয়ার — জন্তু; প্রাণী।
ঢের — যথেষ্ট; অনেক।
থমকে দাঁড়ানো — ভয়ে বা অবাক হয়ে হঠাৎ দাঁড়িয়ে যাওয়া।
প্রাণ উড়ে যাওয়া — ভীষণ ভয় পাওয়া।
বিশ্রী গলা — বাজে কণ্ঠ।
রোসো — অপেক্ষা করো; ধৈর্য ধরো।
অনুশীলনী
১. প্রশ্নের উত্তর বলি ও লিখি।
ক. কোন দুটো শব্দ শুনে বাঘ ভয় পেয়ে গেল?
খ. শিয়ালনী গর্তে ছানাগুলোকে রাখতে ভয় পেল কেন?
গ. বাঘকে দৌড়াতে দেখে বানর কী বলল?
ঘ. বাঘ ও বানরের মধ্যে কে বেশি ভয় পেল? কীভাবে তুমি বুঝলে?
ঙ. শিয়ালের বুদ্ধি বেশি—গল্প থেকে কীভাবে তা বোঝা যায়?
২. ‘বাঘখেকো শিয়ালের ছানা’ গল্পটি নিজের ভাষায় বলি।
Printed page 60
৩. খালি জায়গায় শব্দ বসাই।
| চেয়ারে | গানের | ফাঁকা | জন্মদিন | বাচ্চা | বেঁটে বানরের |
|---|---|---|---|---|---|
| বানর | সেজেগুজে | কলা | ছাগল | রাজি | আনন্দ |
আজ শেয়ালের ....................... । সবার মনেই ....................... । খাওয়া-দাওয়া হবে।
গান-বাজনাও হবে। বনের পশুরা গান গাইবে। বনের মধ্যে একটু ....................... জায়গা।
এখানেই হবে ....................... আসর। এই জায়গাটা ....................... । ও এমনিতেই
আজকের জন্য জায়গাটা ছেড়ে দিয়েছে। এর জন্য বানর আজ ....................... নেবে না।
....................... শিয়ালও এসেছে। শিয়াল ....................... বসবে না। ও বসবে তালের
আঁটির উপর। কে এনে দেবে তা? কেউই রাজি না। অনেক আলোচনার পর সেখানে
....................... এসে দাঁড়াল। ভ্যা ভ্যা করে বলল, 'শিয়াল আমার .......................
ধরে ধরে খায়। ওকে বলো, আর যেন এ রকম না করে। শিয়াল ....................... হলো।
শুরু হলো জন্মদিনের অনুষ্ঠান।
৪. শব্দগুলো সাজিয়ে বাক্য তৈরি করি।
চুপ বসো সবাই করে।
.......................................................................................................
দাও গ্লাস দয়া আমাকে পানি করে এক।
.......................................................................................................
Printed page 61
না বলতে একটু আমাকে দাও!
.......................................................................................................
সুন্দর এঁকেছো কী ছবি!
.......................................................................................................
কত এলে তুমি দিন পরে!
.......................................................................................................
কি থাকতে একসময়ে তোমরা এখানে?
.......................................................................................................
৫. কারণ অনুযায়ী বাক্যের দ্বিতীয় অংশ লিখি।
তারা থাকার জায়গা পেল না। তাই গাছের ডালে উঠে রাত কাটাল।
গর্তের চারদিকে দেখল বাঘের পায়ের ছাপ। সেজন্য .................................
আমার খুব ঘুম পাচ্ছে। অতএব.......................................................
আমার গানের কথা মুখস্থ নেই। সুতরাং .............................................
আজ বিদ্যালয়ে যেতে পারিনি। ফলে .............................................
আমি আসার আগেই তুমি চলে গেলে। এ কারণে .....................................
Printed page 62
৬. নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ি।
তিথি আর তমাল চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। এখন টিফিনের জন্য বিরতি। তমাল তিথিকে ডেকে বলল, 'আজ কী বার?' তিথি আঙুল দিয়ে ক্যালেন্ডার দেখিয়ে বলল, 'আজ রবিবার।' তিথি আরও বলল, 'তোমার বার মনে নেই কেন? গতকাল তো আমরা স্কুলে আসিনি। শনিবার ছিল।' তমাল হেসে বলল, 'আমি জানি।' আরও বলল, 'দিনের নামটা তোমার জানা আছে কি না তা যাচাই করছিলাম।'
তিথি যা যা বলেছে সেগুলো হুবহু লিখি।
.......................................................................................................
.......................................................................................................
.......................................................................................................
.......................................................................................................
তমাল যা যা বলেছে সেগুলো হুবহু লিখি।
.......................................................................................................
.......................................................................................................
.......................................................................................................
.......................................................................................................
.......................................................................................................
৭. শিক্ষকের সহায়তায় 'বাঘখেকো শিয়ালের ছানা' গল্পটি অভিনয় করি।
Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.
Trusted resources
Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.