Amar Bangla Boi chapter 14: Amal and the Curdseller
অমল ও দইওয়ালা
- Amar Bangla Boi
- Textbook pages 73-78
- 1 source
- 5,622 characters of context
Textbook (verbatim transcription): Amal and the Curdseller
Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.
Contents7ShowHide
Printed page 73
পাঠ ১৪
অমল ও দইওয়ালা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
দইওয়ালা : দই-দই-ভালো দই!
অমল : দইওয়ালা, দইওয়ালা, ও দইওয়ালা!
দইওয়ালা : ডাকছো কেন? দই কিনবে?
Printed page 74
অমল : কেমন করে কিনব! আমার তো পয়সা নেই।
দইওয়ালা : কেমন ছেলে তুমি। কিনবে না তো আমার বেলা বইয়ে দাও কেন?
অমল : আমি যদি তোমার সঙ্গে চলে যেতে পারতুম তো যেতুম।
দইওয়ালা : আমার সঙ্গে!
অমল : হ্যাঁ। তুমি যে কত দূর থেকে হাঁকতে হাঁকতে চলে যাচ্ছ। শুনে, আমার মন কেমন করছে।
দইওয়ালা : (দইয়ের বাঁক নামিয়ে) বাবা, তুমি এখানে বসে কী করছ?
অমল : কবিরাজ আমাকে বেরোতে বারণ করেছে, তাই আমি সারাদিন এইখেনেই বসে থাকি।
দইওয়ালা : আহা, বাছা তোমার কী হয়েছে?
অমল : আমি জানিনে। আমি তো কিছু পড়িনি, তাই আমি জানিনে আমার কী হয়েছে। দইওয়ালা, তুমি কোথা থেকে এসেছ?
দইওয়ালা : আমাদের গ্রাম থেকে আসছি।
অমল : তোমাদের গ্রাম? অনে—ক দূরে তোমাদের গ্রাম?
দইওয়ালা : আমাদের গ্রাম সেই পাঁচমুড়া পাহাড়ের তলায়। শামলী নদীর ধারে।
অমল : পাঁচমুড়া পাহাড়—শামলী নদী—কী জানি, হয়তো তোমাদের গ্রাম দেখেছি—কবে সে আমার মনে পড়ে না।
দইওয়ালা : তুমি দেখেছ? পাহাড় তলায় কোনোদিন গিয়েছিলে নাকি?
অমল : না, কোনোদিন যাইনি। কিন্তু আমার মনে হয় যেন আমি দেখেছি। অনেক পুরোনো কালের খুব বড়ো বড়ো গাছের তলায় তোমাদের গ্রাম—একটি লাল রঙের রাস্তার ধারে। না?
দইওয়ালা : ঠিক বলেছ বাবা।
অমল : সেখানে পাহাড়ের গায়ে সব গরু চরে বেড়াচ্ছে।
দইওয়ালা : কী আশ্চর্য! ঠিক বলছ। আমাদের গ্রামে গরু চরে বইকি, খুব চরে।
অমল : মেয়েরা সব নদী থেকে জল তুলে মাথায় কলসি করে নিয়ে যায়—তাদের লাল শাড়ি পরা।
Printed page 75
দইওয়ালা : বা! বা! ঠিক কথা। আমাদের সব গয়লাপাড়ার মেয়েরা নদী থেকে জল তুলে তো নিয়ে যায়ই। তবে কি না তারা সবাই যে লাল শাড়ি পরে তা নয়। কিন্তু বাবা, তুমি নিশ্চয় কোনোদিন সেখানে বেড়াতে গিয়েছিলে!
অমল : সত্যি বলছি দইওয়ালা, আমি একদিনও যাইনি। কবিরাজ যেদিন আমাকে বাইরে যেতে বলবে, সেদিন তুমি নিয়ে যাবে তোমাদের গ্রামে?
দইওয়ালা : যাব বইকি বাবা, খুব নিয়ে যাব!
অমল : আমাকে তোমার মতো ওইরকম দই বেচতে শিখিয়ে দিয়ো। ওইরকম বাঁক কাঁধে নিয়ে—ওইরকম খুব দূরের রাস্তা দিয়ে।
দইওয়ালা : মরে যাই! দই বেচতে যাবে কেন বাবা? এত এত পুঁথি পড়ে তুমি পণ্ডিত হয়ে উঠবে।
অমল : না, না, আমি কক্খনো পণ্ডিত হব না। আমি তোমাদের রাঙা রাস্তার ধারে তোমাদের বুড়ো বটের তলায় গোয়ালপাড়া থেকে দই নিয়ে এসে দূরে দূরে গ্রামে গ্রামে বেচে বেচে বেড়াব। কী রকম করে তুমি বলো, দই, দই, দই—ভালো দই। আমাকে সুরটা শিখিয়ে দাও।
দইওয়ালা : হায় পোড়াকপাল! এ সুরও কি শেখবার সুর!
অমল : না, না, ও আমার শুনতে খুব ভালো লাগে। আকাশের খুব শেষ থেকে যেমন পাখির ডাক শুনলে মন উদাস হয়ে যায়—তেমনি ওই রাস্তার মোড় থেকে ওই গাছের সারির মধ্যে দিয়ে যখন তোমার ডাক আসছিল, আমার মনে হচ্ছিল—কী জানি কী মনে হচ্ছিল!
দইওয়ালা : বাবা, এক ভাঁড় দই তুমি খাও।
অমল : আমার তো পয়সা নেই।
দইওয়ালা : না না না না—পয়সার কথা বোলো না। তুমি আমার দই একটু খেলে আমি কত খুশি হব।
অমল : তোমার কি অনেক দেরি হয়ে গেল?
দইওয়ালা : কিচ্ছু দেরি হয়নি বাবা, আমার কোনো লোকসান হয়নি। দই বেচতে যে কত সুখ সে তোমার কাছে শিখে নিলুম। [প্রস্থান]
Printed page 76
অর্থ জেনে নিই
উদাস — উদাসীন; আনমনা।
কবিরাজ — গাছগাছালি দিয়ে চিকিৎসা করেন যিনি।
বেলা বইয়ে দেওয়া — দেরি করিয়ে দেওয়া।
হাঁকতে হাঁকতে — উঁচু গলায় ডাকতে ডাকতে।
অনুশীলনী
১. ডানপাশ থেকে শব্দ নিয়ে খালি জায়গায় বসাই।
| ক. কথা বলতে বলতে ............................ গেল। | কবিরাজ |
| খ. মাথায় করে সবজি নিয়ে ............................ চলে যাচ্ছে। | হাঁকতে হাঁকতে |
| গ. ............................ ঘরের বাইরে যেতে নিষেধ করেছেন। | বাছা |
| ঘ. আহা! ............................ আবার ঘুমিয়ে পড়েছে। | উদাস |
| ঙ. ............................ মনে কী যেন ভাবছে ও। | বেলা বয়ে |
২. বন্ধনীতে দেওয়া প্রশ্নের উত্তর যোগ করে বাক্য বড়ো করি।
ক. নদী থেকে জল তুলে মাথায় কলসি করে নিয়ে যায়। (কারা?)
মেয়েরা নদী থেকে জল তুলে মাথায় কলসি করে নিয়ে যায়।
খ. কবিরাজ বেরোতে বারণ করেছে। (কাকে?)
........................................................................................
Printed page 77
গ. সব গরু চরে বেড়াচ্ছে। (কোথায়?)
………………………………………………………………………………
ঘ. তুমি পণ্ডিত হয়ে উঠবে। (কীভাবে?)
………………………………………………………………………………
ঙ. তুমি দই খাও। (কতটুকু?)
………………………………………………………………………………
৩. প্রশ্নের উত্তর বলি ও লিখি।
ক. দইওয়ালার বাড়ি কোথায়?
খ. অমল কেন দইওয়ালার সাথে যেতে চায়?
গ. অমল কেন দইওয়ালার সাথে যেতে পারছে না?
ঘ. অমল কীভাবে দইওয়ালার গ্রাম সম্পর্কে জানে?
ঙ. অমল দইওয়ালা হতে চায় কেন?
চ. অমলের সাথে কথা বলে দইওয়ালা কীভাবে দই বেচার সুখ খুঁজে পেল?
৪. বিরামচিহ্ন বসিয়ে লিখি।
কিচিরমিচির ডাক শুনে ঘুম ভেঙে যায় বকুলের ওর ভাই পলাশ ও এখনো ঘুমাচ্ছে বকুল পলাশকে ডাক দেয় বলে তাড়াতাড়ি ওঠো ফুল দিতে যেতে হবে শহিদ মিনারে পলাশ উঠে পড়ে বকুল বলে ফুলের ডালাটা কোথায় পলাশ বলে আমি তো ওটা টেবিলের উপরে রেখেছিলাম মা বললেন ওটা আমি বাইরে এনে রেখেছি
Printed page 78
৫. নিচের ছবি দেখে দুজনের কথা লিখি।
Figure
বর্ণনা: একটি বহুবর্ণের ফুলে ভরা গাছের ডালে একটি পাখি বসে আছে; নিচে নীল শার্ট পরা একটি ছেলে গাছের দিকে তাকিয়ে আছে এবং তার হাত একটি ফুলগাছের দিকে বাড়ানো। ডান পাশের নিচে লাল, সাদা ও গোলাপি ফুলের ঝোপ।
ছেলে :
পাখি :
ছেলে :
পাখি :
ছেলে :
পাখি :
ছেলে :
পাখি :
ছেলে :
৬. শিক্ষকের সহায়তায় 'অমল ও দইওয়ালা' নাটিকাটি অভিনয় করি।
Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.
Trusted resources
Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.