Skip to content

Amar Bangla Boi chapter 16: Golden Plate

সোনার থালা

  • Amar Bangla Boi
  • Textbook pages 83-88
  • 1 source
  • 6,420 characters of context

Textbook (verbatim transcription): Golden Plate

Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.

Contents11

Printed page 83

পাঠ ১৬

সোনার থালা

অনেক দিন আগের কথা। এক দেশে সেরিবান নামে এক ফেরিওয়ালা থাকতেন। তিনি কখনো লোভ করতেন না। সেখানে সেরিবা নামে আরও একজন ফেরিওয়ালা থাকতেন। সেরিবা ছিলেন খুব লোভী। একবার সেরিবান আর সেরিবা অন্ধপুর নগরে বাণিজ্য করতে গেলেন।

Printed page 84

অন্ধপুরে সেই সময়ে এক বণিক পরিবার বাস করত। একসময় ওই বণিক পরিবার খুব ধনী ছিল। তবে ধন-সম্পদ হারিয়ে তারা গরিব হয়ে যায়। সেই পরিবারের কেবল বুড়ি ঠাকুরমা এবং তার এক নাতনি বেঁচে ছিল। তারা প্রতিবেশীর বাড়িতে কাজ করে অতি কষ্টে সংসার চালাতেন।

তাদের ছিল একটি সোনার থালা। বণিক যখন বেঁচে ছিলেন, সেই থালায় ভাত খেতেন। এখন আর সেই থালা কেউ ব্যবহার করে না। ধীরে ধীরে থালাটায় ময়লা জমতে শুরু করে। দেখেও বোঝা যাচ্ছিল না থালাটা সোনা দিয়ে তৈরি। ভাঙা থালা-বাটির সাথে সেটিকে রেখে দেওয়া হয়েছিল। বুড়ি ঠাকুরমাও থালাটির কথা ভুলে গিয়েছিলেন।

একদিন লোভী সেরিবা সেই বাড়ির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। যেতে যেতে সুর করে বলছিলেন—'জিনিস কিনি, জিনিস। কেউ কি পুরানো জিনিস বেচবেন?'

ফেরিওয়ালার ডাক শুনে নাতনি ঘর থেকে বেরিয়ে এলো। ফেরিওয়ালাকে বলল, 'তুমি কি পুরানো থালা কিনবে?'

'থালাটা দেখাও তো!' সেরিবা বললেন।

নাতনি সোনার থালাটি বের করে আনল। তারপর ঠাকুরমাকে বলল, 'ও ঠাকুরমা, এটা তো কোনো কাজে আসে না। এটা বিক্রি করে দিই?'

ঠাকুরমা বললেন, 'এটা বিক্রি করে কী করবে?'

নাতনির ছিল গয়না কেনার শখ। সে বলল, 'আমাকে গয়না কিনে দিয়ো।'

ঠাকুরমাও দেখলেন থালাটি কোনো কাজে আসে না। তাই তিনি বিক্রি করতে রাজি হলেন। ফেরিওয়ালাকে বললেন, 'এই থালার বদলে আমাদের কত টাকা দিতে পারবেন?'

সেরিবা থালাটা উলটে-পালটে দেখলেন। তাঁর মনে হলো এটি সোনার। তাই তিনি সুঁই দিয়ে থালার পিছনে দাগ দিলেন। নিশ্চিত হলেন থালাটি আসলেই সোনার। তিনি ভাবলেন, তাদের ঠকিয়ে এটি নিতে হবে। তাই বললেন, 'এর আবার দাম কী! এক টাকায় নিলেও ঠকা হয়।' এ রকম বলে তিনি থালাটা রেখে চলে গেলেন।

একটু পরেই সেই বাড়ির পাশ দিয়ে সেরিবান যাচ্ছিলেন। তিনিও হেঁকে বলছিলেন—'জিনিস কিনি, জিনিস। কেউ কি পুরানো জিনিস বেচবেন?'

আরেক ফেরিওয়ালার ডাক শুনে নাতনি আবার ছুটে এলো। ঠাকুরমাকে বলল, 'ঠাকুরমা, ডাক দাও না এই ফেরিওয়ালাকে!'

Printed page 85

ঠাকুরমা বললেন, 'নিজের কানেই তো শুনেছ। থালাটির কোনো দাম নেই। ঘরে বেচার মতো আর কোনো জিনিস নেই।'

নাতনি বলল, 'সেই ফেরিওয়ালা ভালো না। ওর কথা শুনে গায়ে জ্বালা ধরে যায়। এই ফেরিওয়ালার ডাক কত মিষ্টি। ইনি বোধ হয় থালাটা নিতে রাজি হবেন। একবার দেখি না!'

ঠাকুরমা সেরিবানকে ডাকলেন। তারপর থালাটা তাঁর হাতে দিলেন। সেরিবান দেখেই বুঝলেন থালাটা সোনার। তিনি বললেন, 'মা, এই থালার দাম লক্ষ টাকা। আমার কাছে তো এত টাকা নেই।'

ঠাকুরমা বললেন, 'একটু আগে এক ফেরিওয়ালা এসেছিলেন। তিনি বললেন এর দাম এক টাকাও না। বোধ হয় আপনার পুণ্যের কারণে থালাটা সোনার হয়ে গেছে। আমরা এটা আপনাকেই দেব। তার বদলে আপনি যা ইচ্ছা দিন।'

সেরিবান তাদের এক হাজার টাকা দিলেন। তারপর সোনার থালাটা নিয়ে চলে গেলেন।

খানিক বাদে লোভী সেরিবা আবার বণিকের বাড়িতে এলেন। তিনি বললেন, 'থালাটা দাও তো। যেতে যেতে ভাবলাম, কিছু টাকা দিয়ে এটা নিয়ে যাই। সেজন্য আবার এলাম।'

ঠাকুরমা বললেন, 'সে কী কথা! আপনি তো বললেন ওটার দাম এক টাকাও হবে না। এইমাত্র একজন ফেরিওয়ালা এসে সেটি নিয়ে গেছেন। থালার বদলে এক হাজার টাকা দিয়ে গেছেন।'

ঠাকুরমার কথা শুনে লোভী সেরিবার মাথা ঘুরে গেল। তিনি তখন পাগলের মতো লাফালাফি শুরু করলেন। জিনিসপত্র সব ছুড়ে ফেলে হায় হায় করতে লাগলেন।

অর্থ জেনে নিই

পুণ্য — ভালো কাজ।

ফেরিওয়ালা — যিনি ঘুরে ঘুরে জিনিস বেচাকেনা করেন।

বণিক — ব্যবসায়ী।

Printed page 86

অনুশীলনী

১. নিচের শব্দগুলো খালি জায়গায় বসিয়ে বাক্য লিখি।

গয়নাউদারতাসোনারসেরিবালোভীসেরিবানঅন্ধপুরে

ক. সেরিবা ছিলেন খুব ............................।

খ. ............................ এক বণিক পরিবার থাকত।

গ. বণিক পরিবারে একটি ............................ থালা ছিল।

ঘ. নাতনির ............................ কেনার শখ।

ঙ. ............................ মানুষকে মহান করে।

চ. ............................ দেখেই বুঝলেন থালাটা সোনার।

২. শব্দ দিয়ে বাক্য লিখি।

ফেরিওয়ালা: ..........................................................................................

শখ : ..........................................................................................

বণিক : ..........................................................................................

সংসার : ..........................................................................................

উপস্থিত : ..........................................................................................

হতাশ : ..........................................................................................

Printed page 87

৩. প্রশ্নের উত্তর বলি ও লিখি।

ক. অন্ধপুরে বণিকের পরিবারে কে কে ছিল?

খ. বুড়ি ঠাকুরমা থালাটির কথা ভুলে গিয়েছিলেন কেন?

গ. সেরিবা কী করে বুঝলেন থালাটি সোনার?

ঘ. সেরিবান থালা হাতে নিয়ে কী বললেন?

ঙ. সেরিবান আর সেরিবার স্বভাবের পার্থক্য কী?

৪. একশব্দে লিখি।

ক. যিনি ঘুরে ঘুরে জিনিস বেচাকেনা করেন —

খ. ব্যবসা করেন যিনি —

গ. যারা বাড়ির আশপাশে বাস করে —

ঘ. সাহস আছে যার —

ঙ. যা সহ্য করা যায় না —

৫. বিপরীত শব্দ লিখি।

প্রদত্ত শব্দবিপরীত শব্দ
ধনী
পুরানো
কেনা
পুণ্য
সাধু
চেনা
আলো

Printed page 88

৬. বাক্যগুলো সাজিয়ে গল্প তৈরি করি ও লিখি।

খবরে কিছু মানুষকে দেখানো হচ্ছে।

বাবা বললেন, ‘ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ওরা বিপদে পড়েছে।’

বাবা টেলিভিশনে খবর দেখছিলেন।

রেবা জিজ্ঞেস করল, ‘ওদের কী হয়েছে?’

রেবা বলল, ‘আমরা কি ওদের জন্য কিছু করতে পারি, বাবা?’

ওই সময়ে রেবা তাঁর পাশে এসে বসল।

তারা সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে খাবার নিচ্ছিল।

৭. ‘সোনার থালা’ গল্পটি পড়ে যা শিখলাম তা নিজের মতো করে বলি ও লিখি।

……………………………………………………………………………………………………………………………

……………………………………………………………………………………………………………………………

……………………………………………………………………………………………………………………………

……………………………………………………………………………………………………………………………

……………………………………………………………………………………………………………………………

……………………………………………………………………………………………………………………………

……………………………………………………………………………………………………………………………

……………………………………………………………………………………………………………………………

……………………………………………………………………………………………………………………………

৮. ‘সোনার থালা’ গল্প কয়েকজন মিলে অভিনয় করে দেখাই।

Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.

Trusted resources

Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.