Amar Bangla Boi chapter 18: Noble Woman
মহীয়সী নারী
- Amar Bangla Boi
- Textbook pages 94-98
- 1 source
- 6,365 characters of context
Textbook (verbatim transcription): Noble Woman
Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.
Printed page 94
পাঠ ১৮
মহীয়সী নারী
অনেক দিন আগের কথা। সেকালে মেয়েদের লেখাপড়ার প্রচলন ছিল না। তখন অভিভাবকেরা মেয়েদের স্কুলে যেতেই দিতেন না।
মেয়েদের থাকতে হতো ঘরের ভেতর বন্দি অবস্থায়। সমাজে ছিল অবরোধ প্রথা। অবরোধ মানে বাড়ির নির্দিষ্ট গন্ডির মধ্যে আটকে থাকা। শুধু মেয়ে হওয়ার কারণে তাদের বন্দিজীবন কাটাতে হতো। মেয়েদের ছিল না লেখাপড়ার অধিকার। ছিল না বাইরে বের হওয়ার স্বাধীনতা। সামাজিক বিধিনিষেধের কারণে মেয়েরা লেখাপড়া করতে পারত না।
সে সময় জন্ম নিল ফুটফুটে এক শিশু। নাম তার রোকেয়া। রোকেয়া বড়ো হতে থাকে।
সকালে রোকেয়ার ঘুম ভাঙে পাখির ডাকে। পাখিদের তো ডানা আছে। পাখিরা উড়তে পারে। যখন যেখানে খুশি যেতে পারে। কিন্তু রোকেয়ার কোথাও যাওয়ার অনুমতি নেই। ঘরের বাইরে তো দূরের কথা, কারও সামনে যাওয়াও নিষেধ। এমনকি সে যদি মেয়ে হয়, তার সামনেও না।
একবার কয়েকজন অতিথি রোকেয়াদের বাড়িতে বেড়াতে এলেন। রোকেয়ার বয়স তখন পাঁচ বছর। আত্মীয়দের দেখে রোকেয়ার খুশি হওয়ার কথা। কিন্তু তাকে লুকিয়ে থাকতে হলো। কখনও চিলেকোঠায়, কখনও সিঁড়ির নিচে, কখনও-বা দরোজার আড়ালে।
রোকেয়ার খুব লেখাপড়া করার ইচ্ছে। কিন্তু সে স্কুলে যাবে কী করে? লেখাপড়াই-বা শিখবে কীভাবে? রোকেয়া তো চার দেয়ালের মধ্যে বন্দি। সে তো দমবার পাত্রী নয়। বাড়িতে পবিত্র কোরআন পড়া শিখল। উর্দুও শিখল। কিন্তু বাংলা শেখার জন্যও তার মন ছটফট করতে লাগল।
রোকেয়ার বড়ো ভাই ছিলেন শিক্ষিত। রোকেয়া তাঁর কাছে লেখাপড়া শেখার আবদার করল। তিনি রোকেয়ার অদম্য ইচ্ছা দেখে এগিয়ে এলেন। শুরু হলো লেখাপড়া শেখার আরেক লড়াই। ভাইয়ের কাছে আরম্ভ হলো তার জ্ঞানার্জন।
Printed page 95
বাবা-মা তখন গভীর ঘুমে। সারা বাড়ি নিঝুম। মোমবাতি জ্বালিয়ে রোকেয়া বই খুলে বসেছে। এ বই সে বই থেকে ভাই তাকে পাঠ দিচ্ছেন। জ্ঞানের জন্য তৃষ্ণার্ত বোন রোকেয়া শিখছে কত কিছু। রাতের পর রাত এভাবেই কেটে গেছে। কখনো কখনো পড়তে পড়তে ভোর হয়ে গেছে। এভাবেই পড়া শিখেছে রোকেয়া।
রোকেয়ার বিয়ে হলো ষোলো বছর বয়সে। স্বামী সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেন। বিয়ের দশ বছর পর তাঁর স্বামীর মৃত্যু হলো। এবার শুরু হলো রোকেয়ার আরেক জীবন।
Printed page 96
মেয়েরা তখন অনেক পিছিয়ে। লেখাপড়া করার স্কুল নেই। মৃত্যুর আগে স্বামী কিছু অর্থ রেখে গিয়েছিলেন। রোকেয়া কলকাতায় স্বামীর নামে মেয়েদের জন্য একটি প্রাথমিক স্কুল প্রতিষ্ঠা করলেন। শুরুর দিকে এই স্কুলের ছাত্রী ছিল মাত্র পাঁচজন। কিন্তু আস্তে আস্তে সংখ্যা বাড়তে থাকল। রোকেয়া বুঝতে পারলেন, কেন মেয়েরা এত পিছিয়ে আছে। কত কথা তাঁর মনে, কত কিছু বলার ইচ্ছা। এবার তিনি বাংলা ভাষায় শুরু করলেন লেখালেখি। মনের সব কথা তুলে ধরলেন তাঁর লেখায়। এ লেখা তাঁকে বাংলা ভাষার অন্যতম লেখকের খ্যাতি এনে দিলো।
ছোটোবেলাই রোকেয়া দেখেছিলেন, মেয়েদের পড়ালেখার সুযোগ নেই। তাদের অল্প বয়সে বিয়ে দিয়ে স্বামীর ঘরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সারাজীবন মেয়েরা আর কিছুই করতে পারে না। বাইরে কাজ করার অধিকারও তারা পায় না। অথচ পড়ালেখা করে ছেলেরা। বাইরে কাজ করে ছেলেরা। রোকেয়া বুঝেছিলেন, মেয়েদেরও তো সেসব অধিকার থাকার কথা।
রোকেয়া বলেছেন, গাড়ির চাকাগুলোকে সমানভাবে চলতে হয়। সমভাবে না চলে সামনে এগোনো যায় না। সমাজে মেয়ে আর ছেলে হচ্ছে গাড়ির চাকার মতো। ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা যদি পিছিয়ে থাকে, সেই সমাজের উন্নতি হতে পারে না।
রোকেয়া সারাজীবন মেয়েদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করে গেছেন। তিনি চেয়েছেন নারী ও পুরুষের ঐক্য। তিনি ভেবেছেন, নারী-পুরুষের যৌথ চেষ্টাতেই এভাবেই এগিয়ে যাবে পিছিয়ে থাকা সমাজ।
এই মহীয়সী নারী ১৮৮০ সালের ৯ই ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৯৩২ সালের একই তারিখে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। নারী-জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে তিনি চিরস্মরণীয়।
অর্থ জেনে নিই
গন্ডি — সীমানা।
অগ্রদূত — যিনি পথ দেখান।
ঐক্য — একতা; মতের মিল।
চিরস্মরণীয় — চিরদিন মনে রাখা যায় এমন।
চিলেকোঠা — ছাদের ওপর নির্মিত সিঁড়িসংলগ্ন ছোটো ঘর।
তৃষ্ণার্ত — যার পিপাসা পেয়েছে।
দমবার — থেমে যাওয়ার; হার মানার।
নিঝুম — সম্পূর্ণ নীরব।
বিধিনিষেধ — নিয়মের বাধা।
Printed page 97
অনুশীলনী
১. শব্দ দিয়ে বাক্য লিখি।
অধিকার ……………………………………………………………………………
ছটফট ……………………………………………………………………………
শিক্ষিত ……………………………………………………………………………
উন্নতি ……………………………………………………………………………
অগ্রদূত ……………………………………………………………………………
২. যুক্তবর্ণ ভেঙে দেখাই এবং শব্দ তৈরি করি।
| যুক্তবর্ণ | শব্দ |
|---|---|
| জ্ঞ = জ+ঞ | জ্ঞান, বিজ্ঞাপন, বিজ্ঞ |
| ঞ্জ = | |
| জ্ব = | |
| ঙ্ক = | |
| ষ্ণ = |
৩. প্রশ্নের উত্তর বলি ও লিখি।
ক. কীসের ডাকে রোকেয়ার ঘুম ভাঙত?
খ. রোকেয়া কার কাছে লেখাপড়া শেখার আবদার করেছিলেন?
গ. রোকেয়াকে নারী জাগরণের অগ্রদূত কেন বলা হয়েছে?
ঘ. রোকেয়া কখন, কীভাবে লেখাপড়া করতেন?
ঙ. রোকেয়া মেয়েদের জন্য কেন স্কুল করেছিলেন? চারটি বাক্যে তোমার মতামত দাও।
Printed page 98
৪. তারিখবাচক শব্দ লিখি।
| শব্দ | উত্তর |
|---|---|
| ডিসেম্বর মাসের ৯ তারিখ | ৯ই ডিসেম্বর |
| জ্যৈষ্ঠ মাসের ২ তারিখ | ................................ |
| জুন মাসের ৪ তারিখ | ................................ |
| আগস্ট মাসের ৫ তারিখ | ................................ |
| ডিসেম্বর মাসের ১৬ তারিখ | ................................ |
| মার্চ মাসের ২৬ তারিখ | ................................ |
৫. এককথায় প্রকাশ করি।
| শব্দ | উত্তর |
|---|---|
| চিরদিন মনে রাখা যায় এমন | ................................ |
| বাড়িতে আগত ব্যক্তি | ................................ |
| যাকে দমন করা যায় না | ................................ |
| অনেকের মধ্যে একজন | ................................ |
| মহান যে নারী | ................................ |
৬. পাঠ থেকে কে, কারা, কী, কেন, কোথায়, কীভাবে, কখন ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করে প্রশ্নবাক্য তৈরি করি।
ক. কে মেয়েদের জন্য স্কুল প্রতিষ্ঠা করলেন?
খ. ................................................................................................
গ. ................................................................................................
ঘ. ................................................................................................
ঙ. ................................................................................................
চ. ................................................................................................
ছ. ................................................................................................
Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.
Trusted resources
Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.