Skip to content

Bangladesh and Global Studies chapter 4: Ethnic Groups of Bangladesh

বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী

  • Bangladesh and Global Studies
  • Textbook pages 25-34
  • 1 source
  • 14,619 characters of context

Textbook (verbatim transcription): Ethnic Groups of Bangladesh

Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.

Contents5

Printed page 25

অধ্যায় ৪

বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী

১ চাকমা

Figure

বর্ণনা: দুজন মানুষ পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছেন; একজন পুরুষ, একজন নারী। পুরুষ লাল ও সাদা জামা এবং সাদা লুঙ্গির মতো পোশাক পরেছেন, নারী লাল ওড়না ও গাঢ় রঙের নিচের পোশাক পরেছেন।

১. ছবির মানুষেরা কোন নৃগোষ্ঠীর?


২. ছবিতে নারী কী কী পোশাক পরেছেন?


৩. ছবিতে পুরুষ কী কী পোশাক পরেছেন?


Figure

বর্ণনা: সবুজ পাহাড়ের মাঝে একটি কাঠ ও বাঁশের তৈরি ঘর, যার ছাউনি কাঠের। ঘরের সামনে একটি ছোট চালা এবং দুজন মানুষ দেখা যাচ্ছে।

১. বাংলাদেশের কোথায় এ ধরনের ঘর দেখা যায়?


২. এখানে কোন নৃগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করে?


Figure

বর্ণনা: একটি জলাশয়ে কয়েকজন নারী ফুল ও পাতায় সাজানো থালা জলে রাখছেন; পাশে ফুল ও পাতা ভাসছে।

১. ছবিতে কী দেখা যাচ্ছে?


২. এ উৎসবের নাম কী?


ক) ছবিগুলো দেখি এবং ছবির পাশের ঘরে দেওয়া প্রশ্নগুলোর উত্তর লিখি।

Printed page 26

বাংলাদেশে বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বসবাস করছে। তাদের রয়েছে নিজস্ব জীবনধারা ও সংস্কৃতি। তাদের জীবনধারা ও সংস্কৃতি বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে বৈচিত্র্যময় করেছে। বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে চাকমা সংখ্যাগরিষ্ঠ। তারা বেশির ভাগ বাস করে রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি অঞ্চলে। চাকমাদের নিজস্ব ভাষা ও বর্ণমালা আছে। তাদের ভাষার নাম 'চাঙমা'। তাদের নিজের ভাষায় রচিত সাহিত্যকর্ম আছে। চাকমাদের পরিবার পিতৃতান্ত্রিক। পুরুষরাই পরিবারের প্রধান এবং সম্পত্তির অধিকারী। তাদের প্রতিটি গ্রামে একজন করে গ্রামপ্রধান থাকেন। গ্রামপ্রধানকে 'কারবারি' বলে। তাদের নিজেদের রাজা আছে। চাকমারা কাঠ ও বাঁশ দিয়ে মাচার ওপর ঘর তৈরি করে। তারা 'জুম' পদ্ধতিতে কৃষিকাজ করে। চাকমা জনগোষ্ঠী প্রধানত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। তাদের একটি ধর্মীয় উৎসব হলো 'কঠিন চীবর দান'। চাকমাদের প্রধান সামাজিক উৎসব হচ্ছে 'বিজু'। উৎসবের সময় তারা বাড়িঘর ফুল দিয়ে সাজায়। চাকমাদের প্রধান খাদ্য হচ্ছে ভাত, মাছ, মাংস ও সবজি। তারা সিদ্ধ শাকসবজি বেশি খেতে ভালোবাসে। চাকমারা নিজেদের কাপড় কোমর-তাঁতে বোনে। চাকমা মেয়েরা কোমর থেকে পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত একধরনের কাপড় পরে যাকে 'পিনোন' বলা হয়। শরীরের উপরের অংশে যে ওড়না, পরে তাকে 'খাদি' বলা হয়। চাকমা পুরুষেরা সাধারণত নিচের অংশে ধুতি বা লুঙ্গি আর উপরের অংশে পরে সিলুম। চাকমাদের সংস্কৃতির সাথে বাঙালি সংস্কৃতির মিল ও অমিল রয়েছে। আমরা চাকমা সংস্কৃতি সম্পর্কে জানব। সামাজিক সম্পর্ক বজায় রেখে একত্রে বসবাস করব।

খ) উপরের অনুচ্ছেদ থেকে চাকমাদের প্রধান সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যগুলো খুঁজে বের করে লিখি।

সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যভাষা
প্রধান ধর্ম
পোশাক
খাদ্য
চাষাবাদ পদ্ধতি
উৎসব

গ) চাকমা ও বাঙালিদের সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য নিচের ছকে লিখি।

সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যবাঙালিচাকমা
ভাষাবাংলাচাঙমা
পোশাক
খাদ্য
উৎসব

ঘ) চাকমা নৃগোষ্ঠী ও বাঙালি একে অপরের প্রতি আমরা যেভাবে শ্রদ্ধা পোষণ করব, সে সম্পর্কে দুটি বাক্য লিখি।



Printed page 27

২ মারমা

Figure

বর্ণনা: একজন নারী ও একজন পুরুষ পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছেন। নারী লাল ওড়না ও রঙিন ডোরাকাটা লম্বা পোশাক পরেছেন; পুরুষ সাদা জামা ও বেগুনি রঙের নিচের পোশাক পরেছেন।

১. ছবির মানুষেরা কোন নৃগোষ্ঠীর?


২. ছবিতে নারী কী কী পোশাক পরেছেন?


৩. ছবিতে পুরুষ কী কী পোশাক পরেছেন?


Figure

বর্ণনা: একটি উঁচু বাঁশের খুঁটির ওপর কাঠ ও বাঁশের তৈরি ঘর; ঘরের গায়ে একটি মই লাগানো আছে এবং পাশে গাছ ও পাহাড় দেখা যাচ্ছে।

১. এ ধরনের ঘর বাংলাদেশের কোথায় দেখা যায়?


২. এখানে কারা বসবাস করে?


Figure

বর্ণনা: একটি নৌকার সামনে কয়েকজন মানুষ দাঁড়িয়ে আছেন এবং তাঁদের হাত থেকে পানির ধারা ছিটকে পড়ছে। কয়েকজন নারী লাল পোশাকে নৌকায় বসে আছেন।

১. এটি কীসের ছবি?


২. এ উৎসবের নাম কী?


ক) ছবিগুলো দেখি এবং ছবির পাশের ঘরে দেওয়া প্রশ্নগুলোর উত্তর লিখি।

Printed page 28

চাকমা নৃগোষ্ঠীর পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী মারমা। বেশির ভাগ মারমা নৃগোষ্ঠী বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি এলাকায় বসবাস করে। মারমাদের নিজেদের ভাষা আছে। তাদের ভাষার নাম 'মারমা' ভাষা। এই ভাষার নিজস্ব বর্ণমালা আছে। মারমা সমাজ পিতৃতান্ত্রিক। সম্পত্তির মালিকানার ক্ষেত্রে ছেলে ও মেয়ে উভয়ে সমান অধিকার ভোগ করে। মারমাদের নিজস্ব রাজা আছে। এছাড়া প্রতিটি গ্রামে গ্রামপ্রধান রয়েছেন। এ গোষ্ঠী মাচার উপর ঘর তৈরি করে। তারা 'জুম' চাষ করে। এছাড়া তারা বনায়ন, সমতল ভূমিতে চাষাবাদ ও উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে। তারা মূলত বৌদ্ধ ধর্ম অনুসরণ করে। বৈশাখী পূর্ণিমাকে তারা অতি পবিত্র মনে করে। প্রতিমাসে তারা অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করে। মারমাদের প্রধান খাদ্য ভাত, মাছ, মাংস ও সবজি। মারমা জনগোষ্ঠী ভাতের সাথে নানা ধরনের সবজি সিদ্ধ করে খেতে পছন্দ করে। তারা রান্না ও ভর্তা তৈরিতে 'নাপ্পি' ব্যবহার করে। মারমা ছেলে-মেয়েদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকের নাম 'থামি' ও 'আঞ্জি' । মারমাদের প্রধান সামাজিক উৎসব হচ্ছে 'সাংগ্রাই'। এই সময় তারা একে অপরের প্রতি মৈত্রী পানি বর্ষণ করে। সময়ের সাথে তাদের জীবনযাপনে কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। আমরা মারমাদের সম্পর্কে জানব এবং তাদের সাথে মিলেমিশে চলব।

খ) উপরের অনুচ্ছেদ পড়ি এবং মারমাদের প্রধান সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যগুলো খুঁজে বের করে লিখি।

সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যভাষা
প্রধান ধর্ম
পোশাক
খাদ্য
চাষাবাদ পদ্ধতি
উৎসব

গ) নিচের ছকে মারমা ও চাকমা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যের মধ্যে তুলনা করি।

সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যচাকমামারমা
ভাষাচাঙমামারমা
ধর্ম
পোশাক
খাবার
উৎসব

ঘ) আমার প্রতিবেশী একটি মারমা নৃগোষ্ঠীর পরিবার, এক্ষেত্রে আমি আমার প্রতিবেশীর সাথে কর্তব্য পালনে কী করব সে সম্পর্কে দুটি বাক্য লিখি।



Printed page 29

৩. মণিপুরি

Figure

বর্ণনা: তিনজন নারী পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছেন; মাঝের জনের মাথায় একটি বিশেষ মাথার অলংকার এবং তিনি কমলা রঙের শাড়ি পরেছেন। দুপাশের দুজন রঙিন ঘেরাওয়ালা পোশাক পরে নাচের ভঙ্গিতে রয়েছেন।

১. এ ছবিতে কী করা হচ্ছে?


২. এ নৃগোষ্ঠীর নাম কী?


Figure

বর্ণনা: কাঠের বেড়া ও টিনের ছাউনির একটি ঘর, ঘরের সামনে কয়েকটি ধাপের সিঁড়ি; চারপাশে গাছপালা।

১. এ ধরনের ঘর কারা তৈরি করে?


২. তারা বসবাস করে এমন একটা জেলার নাম লেখো।


Figure

বর্ণনা: একজন নারী মাটিতে বসে তাঁতে কাপড় বুনছেন; তাঁতে নীল রঙের কাপড় টানা অবস্থায় রয়েছে।

১. এখানে কী করা হচ্ছে?


২. যারা কাপড় বোনেন তাদের কী বলে?


ক) ছবিগুলো দেখি এবং ছবির পাশের ঘরে দেওয়া প্রশ্নগুলোর উত্তর লিখি।

Printed page 30

মণিপুরি নৃগোষ্ঠী বাংলাদেশের মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সিলেট জেলায় বসবাস করে। মণিপুরি নৃগোষ্ঠী দুটি ভাষাগোষ্ঠীতে বিভক্ত; বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি ও মৈতৈ মণিপুরি। মণিপুরিদের বাড়িঘর বাঁশ, ইট বা টিনের তৈরি। মণিপুরিরা মূলত কৃষিজীবী ও তাঁতি। মণিপুরিরা বৈষ্ণব ধর্মের অনুসারী। তারা হিন্দু ধর্মের আচার-অনুষ্ঠানাদি পালন করে। তবে বাংলাদেশে বসবাসরত পাঙাল মণিপুরিরা ইসলাম ধর্ম অনুসরণ করে। মণিপুরিদের প্রধান খাবার ভাত, মাছ ও সবজি। তারা কোনো প্রকার মাংস খায় না। তাদের একটি প্রিয় খাবারের নাম 'সিঞ্জিদা' যা নানা ধরনের সবজি দিয়ে তৈরি করা হয়। তাদের প্রয়োজনীয় পোশাকসহ অনেক জিনিস নিজেরাই তৈরি করে। মণিপুরি মেয়েরা 'লাহিং' (একধরনের ঘাগরা-জাতীয় পোশাক) 'আহিং' (ব্লাউজ) ও ওড়না পরে। ছেলেরা ধুতি ও পাঞ্জাবি পরে। মণিপুরিদের নানা ধরনের উৎসব আছে। যেমন– রথযাত্রা, দোলযাত্রা, চৈত্রসংক্রান্তি, রাসপূর্ণিমা ইত্যাদি। তারা খুব উৎসবপ্রিয়। তাদের নিকট নৃত্য খুবই পবিত্র বিষয়। আমরা মণিপুরিদের জীবনধারা সম্পর্কে জানব এবং তাঁদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে বসবাস করব।

খ) উপরের অনুচ্ছেদ পড়ি এবং মণিপুরিদের প্রধান সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যগুলো খুঁজে বের করে ছক পূরণ করি।

সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যবিবরণ
ভাষাবিষ্ণুপ্রিয়া, মৈতৈ
ধর্ম
পোশাক
খাবার
উৎসব

গ) নিচের ছকে মারমা ও মণিপুরি নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যের মধ্যে তুলনা করে লিখি।

সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যমারমামণিপুরি
ভাষামারমাবিষ্ণুপ্রিয়া, মৈতৈ
প্রধান ধর্ম
পোশাক
খাবার
উৎসব

ঘ) মণিপুরি নৃগোষ্ঠী ও বাঙালি একে অপরের প্রতি আমরা যেভাবে শ্রদ্ধা পোষণ করব সে সম্পর্কে দুটি বাক্য লিখি।



Printed page 31

Loading the rest of the chapter…

Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.

Trusted resources

Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.