Skip to content

Bangladesh and Global Studies chapter 10: Our Country

আমাদের দেশ

  • Bangladesh and Global Studies
  • Textbook pages 77-88
  • 1 source
  • 14,010 characters of context

Textbook (verbatim transcription): Our Country

Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.

Contents8

Printed page 77

অধ্যায় ১০

আমাদের দেশ

১ বাংলাদেশের ভূমিরূপ

Figure: বাংলাদেশের অধিকাংশ অঞ্চল

বর্ণনা: ধানখেতের সমতল দৃশ্য; খেতের আলের ওপর কয়েকজন মানুষ ধানের বোঝা নিয়ে হাঁটছে, দূরে সারি সারি গাছ।

Figure: চট্টগ্রাম ও পার্বত্য জেলা অঞ্চল

বর্ণনা: সবুজ গাছে ঢাকা উঁচু পাহাড়; পাহাড়ের ঢালে ধাপের মতো স্তর দেখা যাচ্ছে।

Figure: কুমিল্লার লালমাই অঞ্চল

বর্ণনা: লাল মাটির উঁচু ঢিবি; ঢিবির ওপর ও আশেপাশে কিছু গাছ ও ঝোপ, ঢিবির গা দিয়ে একটি পথ উঠে গেছে।

Figure: ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল অঞ্চল

বর্ণনা: মাটির উঁচু পাড়ের নিচে গাছপালা; পাড়ের গোড়ায় ভাঙা ও ক্ষয়ে যাওয়া অংশ দেখা যাচ্ছে।

Figure: রাজশাহী অঞ্চল

বর্ণনা: লাল মাটির উঁচু ঢিবি, চারপাশে গাছপালা; ঢিবির নিচে কাদামাটির মতো সমতল অংশ।

ক) উপরের ছবিগুলো পর্যবেক্ষণ করে নিচের ছকের প্রশ্নের সঠিক উত্তর চিহ্নিত করি ও লিখি।

প্রশ্নবাংলাদেশের অধিকাংশ অঞ্চলের ভূমিরূপচট্টগ্রাম, রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি অঞ্চলের ভূমিরূপকুমিল্লার লালমাই অঞ্চল ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল অঞ্চল, রাজশাহী অঞ্চলের ভূমিরূপ
কোন ছবিতে কী ধরনের ভূমি দেখা যাচ্ছে তা খালি ঘরে লিখি।উঁচু/সমতল/পাহাড়ি ভূমিউঁচু/সমতল/পাহাড়ি ভূমিউঁচু/সমতল/পাহাড়ি ভূমি

Printed page 78

বাংলাদেশের ভূমিরূপ মূলত তিন ভাগে বিভক্ত—

□ পাহাড়ি ভূমি □ সোপান ভূমি যা সমতল ভূমির চেয়ে বেশ কিছুটা উঁচু

□ সমতল ভূমি

খ) পূর্বের কাজের ধারণার আলোকে মানচিত্রে চিহ্নিত অঞ্চল অনুযায়ী খালি ঘরে ভূমির ধরনের নাম লিখি।

Figure

লেবেল: ক. পাহাড়ি ভূমি; খ. সোপান ভূমি বা উঁচু ভূমি; গ. সমতল ভূমি; উত্তর; ২১°, ২২°, ২৩°, ২৪°, ২৫°, ২৬°; ৮৯°, ৯০°, ৯১°, ৯২°; স্কেল ০ ৫ [অস্পষ্ট] কিলোমিটার বর্ণনা: বাংলাদেশের মানচিত্র, অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ রেখা সহ। পাহাড়ি ভূমি গাঢ় সবুজে দক্ষিণ-পূর্বে চট্টগ্রাম অঞ্চলে; সোপান ভূমি লাল রঙে উত্তর-পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে; বাকি অংশ হালকা সবুজ সমতল ভূমি। তিনটি ফাঁকা হলুদ বক্স আছে: বাম দিকের উপরের বক্স থেকে তিনটি তীর উত্তর-পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলের লাল অঞ্চলে যায়; বাম দিকের নিচের বক্সের তীর দক্ষিণ-পশ্চিমের সমতল অঞ্চলে; ডান দিকের নিচের বক্সের তীর দক্ষিণ-পূর্বের গাঢ় সবুজ অঞ্চলে যায়।

Printed page 79

বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। এটি পৃথিবীর একটি বৃহত্তম ব-দ্বীপ। দেশের সব অঞ্চলের ভূমির ধরন এক নয়। উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে ভূমি কিছুটা ঢালু, ফলে সকল নদ-নদী উত্তর থেকে দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের দিকে প্রবাহিত হয়েছে।

পাহাড়ি ভূমি

বাংলাদেশের প্রায় ১২ ভাগ পাহাড়ি ভূমি। চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজার অঞ্চলে পাহাড়ি ভূমি বা পাহাড়গুলো অবস্থিত। এগুলোই বাংলাদেশের উঁচু পাহাড়। এ পাহাড়গুলো পাথুরে। সিলেট বিভাগের জেলাগুলোতেও কিছু ছোটো-বড়ো পাহাড় দেখা যায়। ময়মনসিংহ, শেরপুর, নেত্রকোনা ও জামালপুর জেলার সীমান্ত এলাকায় দেখা যায় গারো পাহাড়। পাহাড়ের গহিনে লুকিয়ে আছে অসংখ্য ঝরনা ও জলপ্রপাত। পাহাড়ের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ছোটো-বড়ো ঝরনা ও নদী। এগুলো গৃহস্থালি ও কৃষিকাজের পানির উৎস। তৃষ্ণা মেটায় পশুপাখির। সংরক্ষিত বন ও অনেক বন্য প্রাণীর অভয়ারণ্য এই পাহাড়ি অঞ্চল।

সোপান ভূমি

সোপান ভূমি সমতল ভূমি থেকে উঁচু এবং পাহাড় থেকে নিচু ভূমি। রাজশাহী অঞ্চলের 'বরেন্দ্রভূমি', ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল অঞ্চলের 'মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়', কুমিল্লার 'লালমাই পাহাড়' এলাকায় সোপান ভূমির অবস্থান। দেশের প্রায় ৮ ভাগ সোপান ভূমি। সোপান ভূমির মাটি পুরানো পলি দ্বারা গঠিত। এসব মাটি ধূসর ও লালচে বর্ণের। এখানে আছে মূল্যবান শালবন। এ বন কড়ই, বহেড়াসহ বিচিত্র উদ্ভিদ ও নানা বন্য প্রাণীর আবাস। এছাড়া এ অঞ্চলে প্রচুর কৃষিজ পণ্য উৎপন্ন হয়।

সমতল ভূমি

পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র ইত্যাদি নদ-নদী ও এগুলোর শাখা-উপশাখা বয়ে আনে পলিমাটি। এ মাটি দ্বারা গঠিত বাংলাদেশের সমতল ভূমি। একে প্লাবন সমভূমিও বলে। দেশের প্রায় ৮০ ভাগ ভূমিই প্লাবন সমভূমি। এখানকার মাটি খুবই উর্বর। সমতল ভূমি দেশের কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূলকেন্দ্র। এ সমভূমি অঞ্চলে বিল, ঝিল ও হাওর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে।

Figure: টাজুয়ার হাওর

বর্ণনা: পানিতে ভরা হাওর; দূরে সারি সারি গাছ পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে, পানির ওপর একটি ছাউনিওয়ালা ছোট নৌকা।

Printed page 80

গ) উপরের অনুচ্ছেদ পড়ে বিভিন্ন ধরনের ভূমিরূপের বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করে নিচের চিত্রে লিখি।

Figure

লেবেল: পাহাড়ি ভূমি; বাংলাদেশের ভূমিরূপ; সমতল ভূমি; সোপান ভূমি বর্ণনা: কেন্দ্রে গাঢ় সবুজ ত্রিভুজের ওপর "বাংলাদেশের ভূমিরূপ" লেখা। ত্রিভুজের উপরের দিকে "পাহাড়ি ভূমি", বাম নিচে "সমতল ভূমি", ডান নিচে "সোপান ভূমি" লেখা রঙিন বক্স। প্রতিটি মূল বক্সের নিচে তিনটি করে ক্রমিক ফাঁকা লাইনের একটি বক্স রয়েছে।

১. ……………………………………………

২. ……………………………………………

৩. ……………………………………………

১. …………………………………………… ১. ……………………………………………

২. …………………………………………… ২. ……………………………………………

৩. …………………………………………… ৩. ……………………………………………

ঘ) আমি যে এলাকায় বাস করি সে এলাকার ভূমিরূপ শনাক্ত করি এবং সেই ভূমিরূপের বৈশিষ্ট্য লিখি।

ভূমিরূপবৈশিষ্ট্য

Printed page 81

২ বাংলাদেশের নদ-নদী

ক) মানচিত্র পর্যবেক্ষণ করে পাশে দেওয়া খালি ঘরে বাংলাদেশের প্রধান নদ-নদীর নাম লিখি।

Figure

লেবেল: বাংলাদেশ; ভারত (আসাম); ভারত (পশ্চিমবঙ্গ); ভারত (ত্রিপুরা); ভারত (মিজোরাম); মিয়ানমার; বঙ্গোপসাগর; সাংকেতিক চিহ্ন; আন্তর্জাতিক সীমারেখা; জেলা সীমারেখা; রাজধানী; বিভাগীয় শহর; নদী; নৌবন্দর; ০ ৫০ ১০০ কিলোমিটার; [অস্পষ্ট] বর্ণনা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্র, সাথে সাংকেতিক চিহ্নের বাক্স। মানচিত্রের ডানপাশে ছয়টি ফাঁকা বাক্স আছে, প্রতিটি একটি রেখা দিয়ে মানচিত্রের একটি নদীর অবস্থানের সঙ্গে যুক্ত।

বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। অসংখ্য ছোটো-বড়ো নদী এদেশের আনাচকানাচে ছড়িয়ে আছে। আমাদের দেশের প্রধান নদ-নদী হলো পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, তিস্তা, সুরমা, কুশিয়ারা ইত্যাদি। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে নদ-নদী নানাভাবে জড়িয়ে আছে। নদীকে কেন্দ্র করেই বাংলাদেশে শহর গড়ে উঠেছে। নদ-নদী এ দেশের মানুষের মাছের চাহিদা মেটায়। কৃষিকাজে সেচের পানির প্রধানতম উৎস হচ্ছে নদ-নদী। নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন সেচ প্রকল্প। বর্ষাকালে নদ-নদীর বয়ে আনা

Printed page 82

পলি আমাদের কৃষিজমিকে উর্বর করে। বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নদ-নদীর গুরুত্ব অপরিসীম। নদীপথে পণ্য পরিবহন অধিকতর সহজ। নদীকে কেন্দ্র করেই কাপ্তাইয়ে স্থাপিত হয়েছে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। এভাবেই নদ-নদী আমাদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে।

খ) উপরের অনুচ্ছেদটুকু পড়ে বাংলাদেশের উল্লিখিত ক্ষেত্রে নদ-নদীর কী গুরুত্ব তা নিচের ছকে উল্লেখ করি।

Figure

লেবেল: বাংলাদেশের নদ-নদীর গুরুত্ব; কৃষিতে; যোগাযোগে; অন্যান্য ক্ষেত্রে বর্ণনা: একটি ছক। বাম দিকের মূল বাক্স থেকে বাঁকানো রেখায় তিনটি শাখা বের হয়েছে: কৃষিতে, যোগাযোগে ও অন্যান্য ক্ষেত্রে। প্রতিটি শাখার ডানদিকে দুইটি করে ফাঁকা আয়তক্ষেত্র আছে, যা রঙিন ও সংযুক্ত।

ঐতিহ্যগতভাবে বাংলাদেশের গ্রামীণ জনগণের জীবন-জীবিকা নদীর উপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশের যোগাযোগব্যবস্থা অনেকাংশে নদীনির্ভর। নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে নদীবন্দর। এ নদীবন্দরগুলো ব্যবসা-বাণিজ্য, পণ্য পরিবহনসহ নানা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র। এই নৌপথকে ঘিরেই সৃষ্টি হয়েছে কর্মসংস্থানের। নৌপথে পরিবহন খরচও সবচেয়ে কম। আমাদের অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের অনেক অবদান। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার উল্লেখযোগ্য অংশ মৎস্য খাতে নিয়োজিত। আমাদের দেশ নদ-নদীর মাছ রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে থাকে। নদ-নদীর সৌন্দর্যে মুগ্ধ এ দেশের অনেক পর্যটক। এই নদীকেন্দ্রিক পর্যটনশিল্পও আমাদের একটি অর্থনৈতিক খাত।

Printed page 83

গ) উপরের অনুচ্ছেদটি পড়ে নদীভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চিহ্নিত করি এবং তার একটি তালিকা তৈরি করি।

Figure

বর্ণনা: একটি খোলা খাতা, দুই পৃষ্ঠায় সারি সারি ফাঁকা লাইন আছে। মাঝখানে কুণ্ডলী (স্পাইরাল) বাঁধাই দেখানো হয়েছে।

আমাদের সভ্যতা পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা দ্বারা প্রভাবিত। নদ-নদী এদেশের গর্ব, আমাদের ঐতিহ্যের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। নদীতে বর্জ্য ফেলা, স্রোতের পরিবর্তন, নদী ভরাট ও দখল করা অপরাধ। এ সকল কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। নদীদূষণ রক্ষার্থে শিল্পবর্জ্য শোধনাগার ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাগার তৈরি করতে হবে। বলা হয়, যেখানে নদী মারা গেছে সেখানে সভ্যতা ধ্বংস হয়ে গেছে। মরা নদীকে খনন করে ফিরিয়ে দিতে হবে তার আসল রূপ। নদী রক্ষায় তীর বা পাড় বাঁধাই করতে হবে। নদীতে পলিথিন ও প্লাস্টিক ফেলা যাবে না। বালু উত্তোলন বন্ধ করতে হবে। শিল্প কারখানার বর্জ্য নদীতে নির্গমন বন্ধ করতে হবে। মৎস্যসম্পদের আবাস ও বংশবৃদ্ধি বিঘ্নিত করা যাবে না।

ঘ) আমার জেলায় অবস্থিত নদীর তালিকা তৈরি করি এবং উপরের অনুচ্ছেদের আলোকে তা রক্ষা করার জন্য কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে তা লিখি।

আমার জেলার নদ-নদীনদ-নদী রক্ষায় গৃহীত পদক্ষেপ

Printed page 84

Loading the rest of the chapter…

Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.

Trusted resources

Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.