Bangladesh and Global Studies chapter 14: Dealing with Emergency Situations
জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা
- Bangladesh and Global Studies
- Textbook pages 108-115
- 1 source
- 9,519 characters of context
Textbook (verbatim transcription): Dealing with Emergency Situations
Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.
Contents4ShowHide
Printed page 108
অধ্যায় ১৪
জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা
১ অগ্নিকাণ্ডজনিত জরুরি পরিস্থিতি ও সামাজিক প্রভাব
Figure: ছবি-১
বর্ণনা: একটি টিনের ঘর আগুনে জ্বলছে। একজন পুরুষ মোবাইল ফোনে কথা বলছেন। কয়েকজন মানুষ ঘরের আগুনে পানি ঢালছেন এবং একটি শিশু ও একজন নারী দাঁড়িয়ে আছেন।
Figure: ছবি-২
বর্ণনা: একটি বাজারে আগুন লেগে দোকান ও ঘর পুড়ছে এবং ধোঁয়া উঠছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পানির পাইপ দিয়ে আগুন নেভাচ্ছেন। কয়েকজন মানুষ ধ্বংসস্তূপের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন এবং একজন বসে আছেন।
ক) উপরের ছবিগুলো পর্যবেক্ষণ করে নিচের ছকে প্রশ্নগুলোর উত্তর লিখি।
| ছবি | প্রশ্ন | উত্তর |
|---|---|---|
| ছবি-১ | ১. ঘরটিতে কী হয়েছে? | |
| ২. পুরুষ লোকটি কোথায় ফোন করছেন? | ||
| ৩. অন্যরা কী করছেন? | ||
| ছবি-২ | ১. বাজারটিতে কী ঘটেছে? | |
| ২. লোকজন কী করছেন? | ||
| ৩. অগ্নিনির্বাপণ কর্মীরা কী করছেন? |
Printed page 109
বাংলাদেশে আজকাল অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা বাড়ছে। ঘরবাড়ি, বস্তি, দোকানপাট, কলকারখানা, গার্মেন্টস, যানবাহন ইত্যাদিতে দুর্ঘটনাবশত আগুন লাগে। অসতর্কতা ও অসচেতনতা আগুন লাগার মূল কারণ। অনেক সময় কুপিবাতি, মোমবাতি, মশার কয়েল ব্যবহার ইত্যাদি থেকে আগুন লাগতে পারে। এছাড়া ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, অপ্রয়োজনে রান্নার চুলা জ্বালিয়ে রাখা প্রভৃতি কারণে আগুন লাগতে পারে। অগ্নিকাণ্ডে অনেক প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতি হয়। আগুন ব্যবহারে আমাদের অধিকতর সতর্ক হতে হবে।
Figure: অগ্নিনির্বাপন সামগ্রী
খ) বিভিন্ন কারণে আগুন লাগতে পারে। আগুন লাগার কারণগুলো দিয়ে নিচের মাইন্ডম্যাপ সম্পূর্ণ করি।
Figure
লেবেল: আগুন লাগার কারণ, প্রয়োজন ছাড়া চুলা জ্বালিয়ে রাখা বর্ণনা: মাঝখানে একটি কেন্দ্রীয় ষড়ভুজ "আগুন লাগার কারণ"। এর চারপাশে আটটি খালি ষড়ভুজ বাক্স রেখা দিয়ে যুক্ত। উপরের মাঝের বাক্সে "প্রয়োজন ছাড়া চুলা জ্বালিয়ে রাখা" লেখা আছে; বাকি সাতটি বাক্স ফাঁকা।
Printed page 110
খ) বিভিন্ন কারণে অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে। এ জন্য আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। নিচের সতর্কতামূলক নির্দেশনাগুলো পড়ি ও অনুধাবন করি।
Figure
লেবেল: কাজ শেষে আপনার চুলার আগুন নিভিয়েছেন কি?; আগুন জ্বালানোর পর দিয়াশলাইয়ের কাঠির আগুন নিভিয়েছেন কি?; আপনার বাসা বা অফিসের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম নিয়মিত পরীক্ষা করেছেন কি?; আপনি অগ্নিনির্বাপন সামগ্রী প্রস্তুত রেখেছেন কি? বর্ণনা: চারজন শিশু একটি করে রঙিন ফলকের পেছনে দাঁড়িয়ে ফলক ধরে আছে। প্রতিটি ফলকে একটি করে সতর্কতামূলক প্রশ্ন লেখা আছে।
গ) উপরের দেওয়া সতর্কতামূলক নির্দেশনাগুলো পড়ি এবং অগ্নিকাণ্ড না ঘটার জন্য আমরা পূর্বপ্রস্তুতিমূলক কী কী পদক্ষেপ নিতে পারি তা নিচের ছকে লিখি।
| ক্রমিক | অগ্নিকাণ্ড না ঘটার জন্য পূর্বপ্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ |
|---|---|
| ১. | রান্নার পর চুলার আগুন সম্পূর্ণভাবে নিভাতে হবে। |
| ২. | |
| ৩. | |
| ৪. | |
| ৫. |
Printed page 111
গাজীপুরের টঙ্গী বস্তিতে আগুন লাগে। আগুনের আতঙ্কে বস্তির মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়ে। অস্থির হয়ে ছোটাছুটি করতে থাকে। স্থানীয়রা আগুন নিভানোর চেষ্টা করে। কেউ ফায়ার সার্ভিসে ফোন করে সাহায্য চায়। অল্প সময়ের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন হাজির হন। অগ্নিনির্বাপনকর্মীদের দুই ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ইতোমধ্যে শতাধিক বসতঘর ও মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এই দুর্ঘটনায় একজন বৃদ্ধা নিহত হন ও দুজন শিশু দগ্ধ হয়। আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়। বস্তির সাথে লাগানো একটি মুদিদোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কারো ঘরের একটা ছাগল ও কয়েকটি হাঁস-মুরগির পোড়া মৃতদেহ পড়ে আছে। আশপাশে থাকা কিছু গাছ পুড়ে যায়। বস্তির পাশ দিয়ে যাওয়া বিদ্যুতের লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আশপাশের প্রাকৃতিক ও সামাজিক পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হয়। বসতঘর হারানো মানুষগুলো সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যায়। সরকারি ও স্থানীয়দের সহায়তায় প্রাথমিকভাবে তাদের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন করতে স্থানীয় ও সরকারের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়।
ঘ) উপরের ঘটনাটি পড়ে অগ্নিকাণ্ডের ফলে কী কী সামাজিক প্রভাবের সৃষ্টি হয়েছে তার তালিকা নিচের ছকে তৈরি করি।
| ক্রমিক | অগ্নিকাণ্ডের ফলে সৃষ্ট সামাজিক প্রভাব |
|---|---|
| ১. | বসতঘর পুড়ে যাওয়াতে ক্ষতিগ্রস্তদেরকে রাস্তায় রাত্রিযাপন করতে হয়েছে |
| ২. | |
| ৩. | |
| ৪. | |
| ৫. |
Printed page 112
২ ঘূর্ণিঝড়জনিত জরুরি পরিস্থিতি ও সামাজিক প্রভাব
Figure: ছবি-১
লেবেল: ১০ নম্বর বিপদ সংকেত দেখানো হয়েছে; ১০/১২ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাস হতে পারে; সকলকে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য বলা হচ্ছে বর্ণনা: একটি গাছের নিচে রাস্তায় একটি গোলাপি রঙের সিএনজি/অটোরিকশা দাঁড়িয়ে আছে, যাত্রীরা ভেতরে বসা। উপরে মেঘের মধ্যে তিনটি বক্তৃতার বুদবুদে সতর্কবার্তা লেখা।
Figure: ছবি-২
বর্ণনা: ঘূর্ণিঝড়ের সময় বন্যায় প্লাবিত একটি এলাকা দেখানো হয়েছে। একটি ভাসমান ভেলায় কয়েকজন মানুষ, একজন মহিলা কোমর পানিতে দাঁড়িয়ে আছেন, এবং পানিতে ভাসছে হাঁস-মুরগি ও জিনিসপত্র। পেছনে ঝড়ে নুয়ে পড়া গাছ ও ঘরবাড়ি দেখা যাচ্ছে।
ক) ছবি দুটি পর্যবেক্ষণ করে নিচের ছকে প্রশ্নগুলোর উত্তর লিখি।
| ছবি | প্রশ্ন | উত্তর |
|---|---|---|
| ছবি-১ | ১. ছবিতে কী করা হচ্ছে? | |
| ২. কাজটি কেন করা হয়েছে? | ||
| ৩. কখন এমন কাজ করা হয়? | ||
| ছবি-২ | ১. ছবিটি কীসের? | |
| ২. কখন এমন ধ্বংসলীলা হয়? | ||
| ৩. এর ফলে কী কী সমস্যার তৈরি হয়? |
তাসিন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার একজন ছাত্র। সে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। একদিন টেলিভিশনে ঘূর্ণিঝড়ের বিপদসংকেত শুনে সে মা-বাবাকে জানায়। ঘূর্ণিঝড় শুরুর আগে তারা আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। যাওয়ার আগে পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে মা চুলার আগুন নিভালেন। মোবাইলে চার্জ দিলেন। বিদ্যুৎ-সংযোগের মেইন সুইচ বন্ধ করলেন। ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখলেন। তাসিনের বাবা গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি নিরাপদ জায়গায় রাখলেন। তাসিন তার বই, খাতা, কলম ইত্যাদি ব্যাগে ভরে রাখল।
Printed page 113
তারা জমির দলিল ও অন্যান্য জরুরি কাগজপত্র পানি-নিরোধক কৌটায় ভরলেন। প্রয়োজনীয় মালামাল, শুকনো খাবার, টর্চলাইট, মোমবাতি, ওষুধ, খাওয়ার পানি, কাপড়, বইয়ের ব্যাগ সাথে নিলেন। তারপর সবাই একসাথে আশ্রয়কেন্দ্রে গেলেন। সেখানে গ্রামের আরও অনেক পরিবার আছে। সবাই সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে সেখানে অবস্থান করছেন। নিজেদের সাথে নেওয়া জিনিসপত্র খেয়াল রাখলেন। নিজেদের শুকনো খাবার খেলেন ও নিরাপদ পানি পান করলেন। তাসিন একাকী কোথাও যায়নি। বড়োদের কথা মেনে পরিবারের সদস্যদের সাথে থেকেছে।
খ) উপরের ঘটনাটি পড়ে ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে আমি কী কী কাজ করব এবং আশ্রয়কেন্দ্রে আমার করণীয় কাজ নিচের ছকে লিখি।
| ক্রমিক | ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বপ্রস্তুতিমূলক আমার করণীয় |
|---|---|
| ১. | জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে রাখব |
| ২. | |
| ৩. | |
| ৪. |
| ক্রমিক | আশ্রয়কেন্দ্রে আমার করণীয় |
|---|---|
| ১. | প্রয়োজন ছাড়া কক্ষের বাহিরে যাব না |
| ২. | |
| ৩. | |
| ৪. |
Printed page 114
ঘূর্ণিঝড় সিডরের আঘাত উপকূলবাসী আজও ভুলতে পারে না
২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর প্রলয়ঙ্করী এক ঘূর্ণিঝড়ের নাম ছিল সিডর। এ ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণ হারান অনেক মানুষ । নিখোঁজ হন অনেকে। অগণিত মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েন। গাছপালা, মোবাইল টাওয়ার, বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে লন্ডভন্ড হয়ে যায়। মোবাইল নেটওয়ার্ক ও সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। হাঁস-মুরগি, গবাদিপশু, বন্য প্রাণী পানিতে ভেসে যায়। পানীয় জলের তীব্র অভাব দেখা দেয়।
জলোচ্ছ্বাসের কারণে ফসলের মাঠে লবণাক্ত পানি প্রবেশ করে। লবণাক্ততার জন্য কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হয়। কাজের সুযোগ হারিয়ে অনেকে পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হন। কাজের খোঁজে কেউ কেউ এলাকা ছেড়ে শহরে পাড়ি দেন। এই প্রলয়ঙ্করী ঝড়ের প্রথম ঝাপটা গিয়েছে সুন্দরবনের উপর দিয়ে। সুন্দরবনের কারণে ব্যাপক ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে উপকূলী অঞ্চল।
গ) উপরের লেখাটি পড়ে ঘূর্ণিঝড় সিডরের ফলে সৃষ্ট সামাজিক প্রভাব চিহ্নিত করে নিচের ছকে লিখি।
| ক্রমিক | ঘূর্ণিঝড়ের সামাজিক প্রভাবসমূহ |
|---|---|
| ১. | |
| ২. | |
| ৩. | |
| ৪. | |
| ৫. |
ঘ) শিক্ষার্থীরা দুটি দলে বিভক্ত হয়ে একদল ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বপ্রস্তুতির ও অন্যদল ঘূর্ণিঝড়-পরবর্তী করণীয়ের উপর মহড়া দেবে।
Printed page 115
Loading the rest of the chapter…
Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.
Trusted resources
Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.