Islamic Studies chapter 3: Acquiring Moral and Human Qualities
নৈতিক ও মানবিক গুণাবলি অর্জন
- Islamic Studies
- Textbook pages 47-60
- 1 source
- 21,930 characters of context
Textbook (verbatim transcription): Acquiring Moral and Human Qualities
Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.
Contents5ShowHide
Printed page 47
তৃতীয় অধ্যায়
নৈতিক ও মানবিক গুণাবলি অর্জন
ভালো-মন্দ ও ন্যায়-অন্যায়
চলো আমরা কয়েকটি কাজের একটি তালিকা পর্যবেক্ষণ করি।
- সত্য কথা বলা
- কৃপণতা করা
- প্রতারণা করা
- অন্যের উপকার করা
- মিথ্যা কথা বলা
- আল্লাহর ইবাদত করা
- অপব্যয় করা
- সৎ কাজ করা এবং অসৎ কাজ থেকে বিরত থাকা
- মিথ্যা অপবাদ দেওয়া
- গালি দেওয়া
- সবর করা, ক্ষমা করা ও দান করা
- নিজের দোষ অন্যের ওপর চাপানো
- পিতামাতা ও বড়োদের শ্রদ্ধা করা
- মন্দ কাজে সহযোগিতা করা
- কথা দিয়ে কথা রাখা
- গাছ লাগানো
- চুরি করা
- প্রাণীদের প্রতি দয়া দেখানো
এবার উপরের তালিকা থেকে কোনগুলো ভালো কাজ এবং কোনগুলো মন্দ কাজ তা আলাদা করে নিচের ছকে লিখি।
| ভালো কাজ | মন্দ কাজ |
|---|---|
Printed page 48
উপরের তালিকা থেকে আমরা শিখলাম যে, কিছু কাজ আমাদের জন্য উপকারী, আবার কিছু কাজ আমাদের জন্য ক্ষতিকর। আমাদের সঙ্গে যখন কেউ হাসিমুখে কথা বলে, বিপদ-আপদে উপকার করে, সহমর্মিতা দেখায় তখন আমাদের ভালো লাগে এবং তা আমাদের জন্য কল্যাণকর। আবার কেউ যখন প্রতারণা করে, গালি দেয়, মিথ্যা অপবাদ দেয় তখন আমাদের খারাপ লাগে এবং তা আমাদের জন্য কল্যাণকর নয়। যেসব কাজ আমাদের জন্য উপকারী এবং নৈতিকভাবে সঠিক, সেগুলো হলো ভালো কাজ। অন্যদিকে যেসব কাজ আমাদের জন্য ক্ষতিকর এবং নৈতিকভাবে সঠিক নয়, সেগুলো হলো মন্দ কাজ। ভালো কাজ ও মন্দ কাজ সম্পর্কে হাদিসে উল্লেখ আছে— “এক ব্যক্তি মহানবি (স.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমি যখন কোনো ভালো কাজ করি, কীভাবে বুঝব যে আমি ভালো কাজ করেছি। আর যখন কোনো মন্দ কাজ করি, কীভাবে বুঝব যে আমি মন্দ কাজ করেছি। মহানবি (স.) বললেন, যখন তোমার প্রতিবেশীরা বলে যে তুমি ভালো কাজ করেছ, তবে তুমি ভালো কাজ করেছ। আর যখন তারা বলে যে তুমি মন্দ কাজ করেছ, তবে তুমি মন্দ কাজ করেছ।” (সুনানে ইবনে মাজাহ)
যে কাজগুলো করলে মহান আল্লাহ খুশি হন এবং যে কাজগুলো মানুষের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে সেগুলো ভালো কাজ বা ন্যায় কাজ। যেমন— মহান আল্লাহর ইবাদত করা, মা-বাবা ও শিক্ষকদের কথা মেনে চলা, সত্য কথা বলা, অন্যের উপকার করা, সৎকাজ করা ও অসৎকাজ থেকে বিরত থাকা, ধৈর্যধারণ করা, মানুষকে ক্ষমা করা, অভাবী ও দরিদ্র মানুষকে দান করা, মাতা-পিতা ও বড়োদের শ্রদ্ধা করা, সবার সঙ্গে ভালো আচরণ করা, কথা দিয়ে কথা রাখা ইত্যাদি।
যে কাজগুলো করলে মহান আল্লাহ অখুশি হন এবং যে কাজগুলো মানুষের জন্য অকল্যাণ বয়ে আনে সেগুলোই মন্দ কাজ বা অন্যায় কাজ। যেমন— মা-বাবা ও শিক্ষকের কথা না শোনা, মিথ্যা কথা বলা, অন্যের ক্ষতি করা, খারাপ আচরণ করা, অপব্যয় করা, কৃপণতা করা, ঝগড়া-বিবাদ করা, হিংসা-বিদ্বেষ করা, নিজের দোষ অন্যের ওপর চাপানো, অন্যের দোষ খোঁজা, গিবত করা, মন্দ কাজে সহযোগিতা করা, অন্যকে ধোঁকা দেওয়া, ওজনে কম দেওয়া, চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই করা ইত্যাদি।
ইসলামে ভালো কাজ করা এবং অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন—
تَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوٰى ۖ وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ
উচ্চারণ: তাআ-ওয়ানূ আলাল বিরবি ওয়াত্তাক্বওয়া ওয়ালা তাআ-ওয়ানূ আলাল ইছমি ওয়াল উদওয়ান।
অর্থ: সৎকর্ম ও পরহেজগারিতে তোমরা পরস্পরের সহযোগিতা করো। মন্দকর্ম ও সীমালঙ্ঘনে পরস্পরের সহযোগিতা করো না। (সূরা আল-মায়িদা, আয়াত: ২)
Printed page 49
মহান আল্লাহ আরো বলেন—
فَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهٗ وَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهٗ
উচ্চারণ: ফামাই ইয়া’মাল মিছক্বালা যাররাতিন খাইরাই ইয়ারাহ। ওয়ামাই ইয়া’মাল মিছক্বালা যাররাতিন শাররাই ইয়ারাহ।
অর্থ: কেউ অণু (অতি ক্ষুদ্র) পরিমাণ ভালো কাজ করলে সে তা দেখতে পাবে এবং কেউ অণু পরিমাণ মন্দ কাজ করলে সে তাও দেখতে পাবে। (সূরা আল-যিলযাল, আয়াত: ৭-৮)
প্রিয়নবি হজরত মুহাম্মদ (স.) ভালো কাজ করতে আদেশ করেছেন এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ করেছেন। তিনি বলেছেন— “যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কোনো মুমিনের দুঃখ-কষ্ট দূর করে দেয়, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার দুঃখ-কষ্ট দূর করে দিবেন। যে ব্যক্তি কোনো বিপদগ্রস্ত ব্যক্তির বিপদ দূর করে দেয়, আল্লাহ দুনিয়াতে ও আখিরাতে তার বিপদ দূর করে দিবেন। যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের দোষ-ত্রুটি গোপন রাখে, আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবেন। যে বান্দা তার ভাইকে সাহায্য করবে, আল্লাহ সে বান্দাকে সাহায্য করবেন।” (সহিহ মুসলিম)
মহানবি (স.)-এর সাহাবিগণ ইসলামের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে ভালো কাজ করতেন। ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর (রা.) তাঁর খিলাফতকালে সাধারণ মানুষের খোঁজ-খবর নেওয়ার জন্য রাতে মদিনার রাস্তায় ঘুরে বেড়াতেন। একরাতে তিনি রাস্তায় হাঁটছিলেন। হঠাৎ রাস্তার পাশের একটি ঘর থেকে কথা শুনতে পেলেন। এক বৃদ্ধা তার মেয়েকে বলছেন, আজ তো উটের দুধ কম হয়েছে। এত অল্প দুধ বিক্রি করে বেশি টাকা পাওয়া যাবে না। তাই দুধের সাথে কিছুটা পানি মিশিয়ে নাও। বৃদ্ধার মেয়ে উত্তরে বলল, মা শুনেননি যে, খলিফা উমর (রা.) দুধের সাথে পানি মেশাতে নিষেধ করেছেন! মা বললেন, আহ! খলিফা এখন আমাদের দেখছেন নাকি? তিনি হয়ত এখন নিজ ঘরে ঘুমাচ্ছেন। তুমি নিশ্চিন্তে দুধের সাথে পানি মিশাও। এ কথা শুনে মেয়ে বলল, মা খলিফা না হয় এখানে নেই, তাঁর কোনো লোকও নেই। কিন্তু মহান আল্লাহ তো সব দেখছেন। তার কাছে কী জবাব দিব? হজরত উমর (রা.) ঘরের পাশ থেকে এসব কথা শুনলেন। মেয়েটির সততায় তিনি মুগ্ধ হলেন।
উমাইয়া খলিফা উমর বিন আবদুল আজিজ (রহ.) ছিলেন একজন আদর্শবান শাসক। ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর (রা.)-এর সঙ্গে চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের মিল থাকায় তাঁকে ‘দ্বিতীয় উমর’ বলা হয়। তিনি সাধারণ মানুষের মত জীবনযাপন করতেন। তিনি খুব নম্র ও ভদ্র স্বভাবের মানুষ ছিলেন। তিনি সব সময় মানুষের কল্যাণে কাজ করতেন। তিনি ছিলেন জ্ঞানানুরাগী। শিশুকাল থেকেই তিনি মহান আল্লাহর বিধানগুলো পরিপূর্ণভাবে মেনে চলতেন। খলিফা নির্বাচিত হওয়ার পর মহান আল্লাহর বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করতেন। তাঁর খিলাফতকালে তিনি অনেক জনকল্যাণমূলক কাজ করেছেন। তাঁর শাসনামলে মুসলিম-অমুসলিম সকল নাগরিক সুখ-শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করত।
Printed page 50
উপরে বর্ণিত বিভিন্ন দৃষ্টান্ত দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরা ভালো ও ন্যায় কাজ করব। মন্দ ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকব। নিজের কাজ নিজে করব। আজকের কাজ আগামীকালের জন্য ফেলে রাখব না। সদা সত্য কথা বলব। মা-বাবার কথা শুনব। সহপাঠীদের সঙ্গে মিলেমিশে থাকব। তাদেরকে বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করব। আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করব। পিতা-মাতা ও বড়োদের সঙ্গে সালাম বিনিময় করব, তাদের উপদেশ মেনে চলব। সর্বদা ন্যায়ের পক্ষে থাকব। কারও সঙ্গে প্রতারণা করব না। মিথ্যা বলব না। ঝগড়া-বিবাদ করব না। অন্যের জিনিস না বলে নেব না। ধার করা জিনিস সময়মত ফেরত দিব। এসব কাজ করলে মহান আল্লাহ খুশি হবেন এবং আমাদেরকে আখিরাতে পুরস্কৃত করবেন।
ক) ছবি বা ভিডিয়ো দেখার মাধ্যমে ভালো-মন্দ বা ন্যায়-অন্যায় সম্পর্কে আলোচনা করে তালিকা তৈরি করি। কাজটি দলগতভাবে করি।
| ভালো বা ন্যায় কাজ | মন্দ বা অন্যায় কাজ |
|---|---|
খ) হজরত উমর (রা.), গোয়ালিনীর মেয়ে ও হজরত উমর বিন আবদুল আজিজ (রহ.)-এর ঘটনাসমূহের আলোকে ভালো কাজ ও ন্যায়ের অনুশীলন সম্পর্কে তালিকা তৈরি করি। কাজটি একাকী করি।
গ) কোনো ভালো কাজের ঘটনা নিয়ে ভূমিকাভিনয় করি। কাজটি দলগতভাবে করি।
Printed page 51
উদারতা
উদারতা হলো একটি মানবিক ও নৈতিক গুণ। অন্যের সঙ্গে ভালো আচরণ, নম্র ব্যবহার, সহানুভূতি ও দয়া প্রদর্শন ইত্যাদি হলো উদারতা। উদারতা এমন একটি গুণ যা মানুষকে নিঃস্বার্থভাবে অন্যের উপকার করতে উৎসাহিত করে। উদার ব্যক্তি কোনো কিছু পাওয়ার আশা ছাড়াই অন্যদের জন্য তার মূল্যবান সময়, অর্থ ও সম্পদ ব্যয় করে থাকেন।
একজন উদার ব্যক্তি নিঃস্বার্থভাবে অন্যের উপকার করেন। তিনি অন্যের উপকার করে আনন্দ ও তৃপ্তি লাভ করেন। তাই সবাই তাকে পছন্দ করে এবং তার সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলে। তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা ভালো থাকে এবং তিনি জীবনে সুখী হন ও আত্মতৃপ্তি লাভ করেন।
উদারতামূলক কিছু কাজ হলো—
১. অসহায় ও দরিদ্রদের দান করা; ২. অন্যের প্রতি দয়া প্রদর্শন ও ভালো ব্যবহার করা; ৩. বৃদ্ধ, দুর্বল ও অসুস্থ লোকদেরকে সাহায্য-সহযোগিতা করা; ৪. কথা ও কাজে বিনয় ও নম্রতা প্রদর্শন করা; ৫. অন্য ধর্মের লোকদের প্রতি সহনশীল আচরণ করা; ৬. পরমতসহিষ্ণুতা প্রদর্শন করা; ৭. অপরের প্রতি ঘৃণা বা অবজ্ঞা প্রদর্শন না করা ইত্যাদি।
ইসলাম মানবিকতা, উদারতা ও মহানুভবতার ধর্ম। ইসলামে উদারতামূলক কাজের জন্য বিশেষভাবে উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে সৎকর্মশীল মানুষের উদার স্বভাব সম্পর্কে বলেন—
وَيُطْعِمُونَ الطَّعَامَ عَلَىٰ حُبِّهِ مِسْكِينًا وَيَتِيمًا وَأَسِيرًا إِنَّمَا نُطْعِمُكُمْ لِوَجْهِ اللَّهِ لَا نُرِيدُ مِنكُمْ جَزَاءً وَلَا شُكُورًا
উচ্চারণ: ওয়া ইউত্ইমূনাত তাআ-মা আলা-হব্বিহী মিছকীনাও ওয়া ইয়াতীমাও ওয়া আছীরা। ইন্নামা নুতইমুকুম লিওয়াজহিল্লাহি লা নুরীদু মিনকুম জাযাআও ওয়ালা শুকূরা।
অর্থ: তাদের চাহিদা থাকা সত্ত্বেও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মিসকিন, এতিম ও বন্দিকে আহার দান করে। আর তারা বলে নিশ্চয়ই আমরা কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই খাদ্য দান করি। আমরা তোমাদের নিকট এর প্রতিদান ও কৃতজ্ঞতা চাই না। (সূরা আদ-দাহর, আয়াত: ৮-৯)
Printed page 52
মহানবি (স.) বলেছেন– “তোমরা ক্ষুধার্তকে খাদ্য দাও, অসুস্থ ব্যক্তির খোঁজ-খবর নাও, বস্ত্রহীন লোকদের বস্ত্র দাও এবং বন্দিকে মুক্ত করে দাও।” (সহিহ বুখারি)
মহানবি (স.) অমুসলিমদের প্রতিও উদারতা প্রদর্শন করেছেন। অমুসলিম প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভালো আচরণ করেছেন। তাদের খাবার খেয়েছেন এবং তাদেরকেও খাবার খাইয়েছেন। তাদের মতামতের প্রতি সহিষ্ণুতা প্রদর্শন করেছেন। তাদের নিজ নিজ ধর্মপালনের অধিকার দিয়েছেন। তাদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন করেছেন। তাদের বাড়িঘর ও ব্যবসা-বাণিজ্যসহ জানমালের নিরাপত্তা দিয়েছেন। রাষ্ট্রের কোষাগার থেকে অসহায় অমুসলিমদের ভাতা প্রদান করেছেন। মদিনার সকল মুসলিম ও অমুসলিম মানুষের স্বার্থরক্ষা করে তাদের সঙ্গে চুক্তি করেছেন, যা ‘মদিনা সনদ’ নামে পরিচিত। তিনি প্রত্যেক নাগরিককে তাদের ন্যায্য অধিকার প্রদান করেছেন এবং সাহাবিদের তা পালন করার নির্দেশনা দিয়েছেন।
মহানবি (স.) কোনো অমুসলিমও অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যেতেন এবং তার খোঁজ-খবর নিতেন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের সঙ্গে সদাচরণ করার জন্য নির্দেশ দিতেন। হজরত আসমা (রা.) বলেন– “কুরাইশগণ যখন মহানবি (স.)-এর সঙ্গে সন্ধি (চুক্তি) করে, ঐ সময়ে আমার মা তাঁর পিতার সঙ্গে এলেন। আমি মহানবি (স.)-এর কাছে জিজ্ঞেস করলাম, আমার মা এসেছেন, তিনি অমুসলিম, আমি কি তাঁর সঙ্গে উত্তম ব্যবহার করব? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তোমার মায়ের সঙ্গে উত্তম ব্যবহার করো।” (সহিহ বুখারি)
মহানবি (স.) মক্কা বিজয়ের সময় উদারতা, ক্ষমা ও মহানুভবতার অনন্য দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। মক্কাবাসীরা তাঁর সঙ্গে অমানবিক আচরণ করে। অত্যাচারের মাত্রা বাড়তে থাকলে তিনি মহান আল্লাহর নির্দেশে প্রিয় জন্মভূমি মক্কা ছেড়ে মদিনায় হিজরত করেন। মক্কা বিজয়ের পর তিনি তাদের সবাইকে ক্ষমা করে দিলেন। কারো ওপর কোনো প্রতিশোধ নেননি।
উদারতা ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। আমরা বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে অন্যের প্রতি উদারতা প্রদর্শন করতে পারি। অসহায় ও দরিদ্র মানুষদের অর্থ দান করতে পারি। অন্যের বিপদে পাশে দাঁড়াতে পারি। তাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে পারি। সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলতে পারি। কথায় ও কাজে বিনয় ও নম্রতা প্রদর্শন করতে পারি। অন্যের কথা, কাজ, আচার-আচরণ ও ধর্ম বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল হতে পারি। আমাদের সহপাঠীদের সঙ্গে সহনশীল আচরণ করতে পারি। অন্য ধর্মের সহপাঠীর কথা, কাজ, আচরণ ও ধর্মবিশ্বাসের প্রতি সহনশীলতা দেখাতে পারি। বৃদ্ধ, অসুস্থ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসতে পারি। এভাবে বিভিন্ন উদারতামূলক কাজের মাধ্যমে আমরা মানুষের সেবা করতে পারি।
Printed page 53
ক) ছবি বা ভিডিয়ো দেখে এবং নবি ও সাহাবিদের দৃষ্টান্তসমূহ আলোচনা করে উদারতা সম্পর্কিত কাজের তালিকা তৈরি করি। কাজটি জোড়ায় করি।
১.
২.
৩.
৪.
৫.
খ) আমরা দৈনন্দিন জীবনে কীভাবে উদারতামূলক কাজের অনুশীলন করব তার তালিকা তৈরি করি। কাজটি দলগতভাবে করি।
১.
২.
৩.
৪.
৫.
গ) বাস্তব জীবনে উদারতা প্রকাশ পায় এমন একটি কাজের ভূমিকাভিনয় করে দেখাই। কাজটি দলগতভাবে করি।
Printed page 54
Loading the rest of the chapter…
Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.
Trusted resources
Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.