Skip to content

Islamic Studies chapter 5: Love for the Living World and Nature

জীবজগৎ ও প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা

  • Islamic Studies
  • Textbook pages 69-76
  • 1 source
  • 10,039 characters of context

Textbook (verbatim transcription): Love for the Living World and Nature

Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.

Contents9

Printed page 69

পঞ্চম অধ্যায়

জীবজগৎ ও প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা

মানব কল্যাণে সৃষ্টিজগৎ

মহান আল্লাহ আসমান ও জমিনের সবকিছু সৃষ্টি করেছেন। তিনি সমগ্র সৃষ্টিকে মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত করেছেন। পবিত্র কুরআনের মহান আল্লাহ বলেন—

وَسَخَّرَ لَكُمْ مَّا فِي السَّمٰوٰتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا مِّنْهُ ۚ إِنَّ فِي ذٰلِكَ لَآيٰتٍ لِّقَوْمٍ يَّتَفَكَّرُوْنَ

উচ্চারণ: ওয়া সাখ্খারা লাকুম মা ফিস্সামাওয়াতি ওয়া মা ফিল্আরদি জামীআম-মিনহ; ইন্না ফি যা-লিকা লাআয়া-তিল লিকাওমিই ইয়াতাফাক্কারূন।

অর্থ: আর তিনি (তোমাদের কল্যাণে) আসমান ও জমিনের সব কিছুকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন। এতে চিন্তাশীল মানুষদের জন্য অবশ্যই অনেক নিদর্শন আছে। (সূরা আল-জাসিয়া, আয়াত: ১৩)

মহাকাশে রয়েছে চন্দ্র, সূর্য, মেঘমালা ও বায়ুপ্রবাহ ইত্যাদি। পৃথিবীতে রয়েছে ফল-ফসল, নদী-নালা, গাছপালা, পর্বতমালা ইত্যাদি। উপরের আয়াত থেকে বোঝা যায় যে, মহান আল্লাহ এসব মানুষের উপকারের জন্য নিয়োজিত করেছেন।

Figure: চিত্র: প্রকৃতি ও বৃষ্টি

Printed page 70

মহান আল্লাহর এক বিস্ময়কর সৃষ্টি হলো সূর্য। এটি পৃথিবীতে বেঁচে থাকার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শক্তির উৎস। সূর্য পৃথিবীতে আলো ও তাপ দেয়। এর আলো ছাড়া কোনো উদ্ভিদ বাঁচতে পারে না। উদ্ভিদ ছাড়া কোনো প্রাণী বাঁচতে পারে না। উদ্ভিদ ক্ষতিকর কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে বায়ুকে দূষণমুক্ত করে। আমাদের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের জোগান দেয়। আমাদের খাদ্য, কাঠ, জ্বালানি, ওষুধ ইত্যাদি সরবরাহ করে। এসব আমাদের বেঁচে থাকা ও সুস্থতার জন্য অপরিহার্য। মহান আল্লাহ আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন। তিনি বলেন—

وَاللّٰهُ اَنْزَلَ مِنَ السَّمَاۤءِ مَاۤءً فَاَحْيَا بِهِ الْاَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا

উচ্চারণ: ওয়াল্লাহু আনঝালা মিনাছছামাই মা-আন ফাআহইয়া বিহিল আরদা বা’দা মাওতিহা।

অর্থ: আর আল্লাহ আসমান থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেন। অতঃপর তা দিয়ে জমিনকে তার মৃত্যুর পর সজীব করেছেন। (সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৬৫)

পানি খুবই মূল্যবান সম্পদ। মহান আল্লাহ পানি দিয়েছেন জীবনের জন্য এক অমূল্য নিয়ামত হিসেবে। আমাদের জীবনধারণের জন্য পানির প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। পানি আমরা পান করি। কৃষিকাজে ব্যবহার করি। পানি দ্বারা আমাদের জীবিকার জন্য ফলমূল উৎপাদিত হয়। আমাদের বেঁচে থাকার জন্য নদ-নদী, খাল-বিল ও সাগর-মহাসাগরের পানি প্রয়োজন।

Figure: চিত্র: পানির উৎস

Printed page 71

গরু, ছাগল, মহিষ, উট ও ভেড়ার মত প্রাণী থেকে আমরা দুধ ও মাংস পাই, যা আমাদের পুষ্টির জোগান দেয়। এগুলো আমাদের কৃষিকাজেও সাহায্য করে। এমনকি ছোট্ট কীটপতঙ্গ বা পোকামাকড়ও আমাদের জন্য উপকারী। আমরা মৌচাক থেকে মধু পাই। তাছাড়া মৌমাছি ফুলের পরাগায়নে সহায়তা করে। ফুল থেকে ফল বা শস্য উৎপন্ন হয় এবং আমরা তা খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করি।

এভাবে মহান আল্লাহ আমাদের উপকারের জন্য অসংখ্য জীব ও বস্তু সৃষ্টি করেছেন। সবকিছুই আমাদের প্রতি তার, অনুগ্রহ ও দান। এর মধ্যে আমাদের জন্য নিদর্শন রয়েছে। এসব দানের জন্য আমরা তার প্রতি শুকরিয়া প্রকাশ করব। তার হুকুম বা বিধি-বিধান মেনে চলব।

ক) পবিত্র কুরআনের বাণীর আলোকে সৃষ্টিজগতে মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত থাকার বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করি এবং একটি অনুচ্ছেদ তৈরি করি। কাজটি দলগতভাবে করি।

Printed page 72

মহান আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি ভালোবাসা

সৃষ্টিজগতের প্রতি যত্নশীল হওয়া ও তাদের পরিচর্যা করা আমাদের দায়িত্ব। আমরা পৃথিবীতে মহান আল্লাহর খলিফা বা প্রতিনিধি। আমাদের দায়িত্ব সৃষ্টিজগতের প্রাণ ও প্রকৃতির যত্ন নেওয়া। আমাদের নিজেদের কল্যাণেই এগুলোর যত্ন ও পরিচর্যা করা প্রয়োজন।

ইসলামে সৃষ্টিজগতের প্রতি যত্নশীল হওয়া ও তাদের পরিচর্যা করার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। ইসলামপূর্ব যুগে জীবজন্তুকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হত। তাদের খাবার ও সুস্থতার প্রতি লক্ষ্য করা হত না। তাদেরকে নির্দয়ভাবে খাটানো হত। বিশ্রাম দেওয়া হত না। নির্মমভাবে শাস্তি দেওয়া হত। মহানবি (স.) তাদের প্রতি সদয় হওয়ার নির্দেশ দেন। একদিন তিনি একটি উটের কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন। উটটি খুবই ক্ষুধার্ত ছিল। তিনি সাহাবিদের বললেন— “তোমরা এসব বাকশক্তিহীন জন্তুর ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো। সুস্থ-সবল জন্তুর পিঠে আরোহণ করো এবং এদেরকে উত্তমরূপে আহার করাবে।” (আবু দাউদ)

Figure: চিত্র: গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা

Printed page 73

একটি হাদিসে সৃষ্টিজগতের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন করে একজন ব্যক্তির বেহেশতে যাওয়ার কথা বর্ণিত হয়েছে। উক্ত হাদিসটি হলো এই যে, মহানবি (স.) বলেছেন– “রাস্তা দিয়ে চলতে চলতে একজন লোকের ভীষণ পিপাসা পেল। সে কূপে নেমে পানি পান করল। এরপর বের হয়ে দেখতে পেল একটা কুকুর হাঁপাচ্ছে। পিপাসায় কাতর হয়ে মাটি চাটছে। সে ভাবল, কুকুরটিরও তার মত পিপাসা লেগেছে। সে কূপের মধ্যে নামল। নিজের মোজা ভরে পানি নিয়ে উপরে উঠে এসে কুকুরটিকে পানি পান করাল। মহান আল্লাহ তার আমল কবুল করলেন এবং তার গুনাহ মাফ করে দিলেন। সাহাবিগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! চতুষ্পদ জন্তুর উপকার করলেও কি আমাদের সাওয়াব হবে? তিনি বললেন, প্রত্যেক প্রাণীর উপকার করাতেই সাওয়াব রয়েছে।” (সহিহ বুখারি)

বৃক্ষরোপণ পৃথিবীর কল্যাণে সহায়ক। ইসলাম আমাদেরকে বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যার জন্য উদ্বুদ্ধ করে। গাছের চারা রোপণ একটি দানমূলক কাজ। মহানবি (স.) বলেছেন– “যে ব্যক্তি বৃক্ষরোপণ করে, ফলবান হওয়া পর্যন্ত ধৈর্যসহকারে তার পরিচর্যা ও সংরক্ষণ করে, তার প্রতিটি ফল যদি নষ্টও হয়ে যায়, তবুও তার বিনিময়ে মহান আল্লাহ তাকে সদকার নেকি দান করবেন।” (মুসনাদে আহমাদ) তিনি আরো বলেছেন– “যে ব্যক্তি বৃক্ষরোপণ করে, মহান আল্লাহ তার বিনিময়ে তাঁকে ওই বৃক্ষের ফলের সমপরিমাণ সাওয়াব দান করবেন।” (মুসনাদে আহমাদ) বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরে অন্য এক হাদিসে মহানবি (স.) বলেন– “যদি কোনো মুসলমান একটি বৃক্ষরোপণ করে অথবা কোনো শস্য উৎপাদন করে এবং তা থেকে কোনো মানুষ কিংবা পাখি অথবা পশু খায়, তবে তা উৎপাদনকারীর জন্য সদকাস্বরূপ গণ্য হবে।” (সহিহ বুখারি)

সৃষ্টিজগৎ হলো মহান আল্লাহর নিয়ামত বা অনুগ্রহ। এসব সৃষ্টি প্রতিনিয়ত আমাদের প্রয়োজন মেটায়। আমাদের কল্যাণে অবদান রাখে। মহান আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে এসব সৃষ্টিকে ভালোবাসা, যত্ন নেওয়া ও রক্ষা করা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব।

বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে আমরা এ দায়িত্ব পালন করতে পারি। যেমন–

১. চারপাশের পশুপাখির যত্ন নেওয়া; ২. সাধ্যমত তাদের খাদ্য, পানীয় ও আশ্রয় প্রদানে যত্নবান হওয়া; ৩. প্রাণীদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করা; ৪. সম্পদের অপচয় রোধ ও সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা; ৫. পরিবেশ রক্ষার কাজে অংশ নেওয়া; ৬. বৃক্ষরোপণ করা এবং প্রয়োজনে কোনো গাছ কাটলে সেখানে গাছ লাগানো; ৭. বন উজাড় রোধ করা; ৮. আমাদের চারপাশ পরিষ্কার ও দূষণমুক্ত রাখা;

Printed page 74

৯. যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা না ফেলা এবং ১০. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করা।

Figure: চিত্র: বিদ্যালয়ের আঙিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ

বর্ণনা: একটি দোতলা বিদ্যালয় ভবনের সামনের আঙিনায় চারজন শিক্ষার্থী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করছে। দুজন ঝুঁকে আবর্জনা পরিষ্কার করছে, একজন ঝাড়ু দিচ্ছে এবং একজন ছাত্রী ঝুড়িতে আবর্জনা রাখছে। ভবনের ওপর একটি পতাকা উড়ছে।

ক) মহানবি (স.)-এর হাদিসের আলোকে আমাদের বিদ্যালয়ের বাগান/ছাদবাগান/টবে বৃক্ষরোপণ করি এবং পরিচর্যা করি। কাজটি জোড়ায় করি।

বৃক্ষরোপণ ও এর পরিচর্যার জন্য আমরা কী করব তার তালিকা
১.
২.
৩.
৪.
৫.

খ) ছবি বা ভিডিয়ো দেখে জীবের প্রতি দয়া প্রদর্শনের ভূমিকাভিনয় করি। কাজটি দলগতভাবে করি।

Printed page 75

অনুশীলনী - ৫

১. সঠিক উত্তরে টিক চিহ্ন (✓) দাও:

(ক) যদি কোন মুসলমান শস্য উৎপাদন করে এবং তা মানুষ ও পশু-পাখি খায়, সেটা কী হিসেবে গণ্য হয়? ১. সদকা ২. ব্যবসা ৩. প্রতিদান ৪. পুরস্কার

(খ) জীববৈচিত্র্য পৃথিবীর জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ? ১. খাদ্যের অভাব ঘটায় ২. পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে ৩. মানুষকে অলস করে ৪. জীবন ধ্বংস করে

(গ) কোন কাজের মাধ্যমে মহান আল্লাহর সৃষ্টিজগতের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন করা যায়? ১. বন উজাড় করে ২. ক্ষতিকর প্রাণী মেরে ফেলে ৩. যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা ফেলে ৪. চারপাশ পরিষ্কার ও দূষণমুক্ত রেখে

(ঘ) মহান আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে কীভাবে আমরা দায়িত্ব পালন করব? ১. পৃথিবীতে কর্তৃত্ব করে ২. শাসন করে ৩. সম্পদ অর্জন করে ৪. জীবের প্রতি দয়া প্রদর্শন করে

(ঙ) মহান আল্লাহর অনুগ্রহের জন্য আমরা কীভাবে তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করব? ১. তার সৃষ্টিকে উপকারের জন্য ব্যবহার করে ২. তার সৃষ্টিকে পরিচর্যা করে ৩. তার বিধি-বিধান মান্য করে ৪. সৃষ্টিজগতের প্রতি দয়া প্রদর্শন করে

২. শূণ্যস্থান পূরণ

ক) মহান আল্লাহর এক বিস্ময়কর সৃষ্টি হলো --------------------। খ) আমরা -------------------- থেকে মধু পাই। গ) -------------------- পৃথিবীর কল্যাণে সহায়ক। ঘ) মহান আল্লাহর সৃষ্টিকে ভালোবাসা, যত্ন নেওয়া ও রক্ষা করা আমাদের পবিত্র --------------------। ঙ) মহান আল্লাহর দানের জন্য আমরা তার প্রতি -------------------- প্রকাশ করব।

Printed page 76

Loading the rest of the chapter…

Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.

Trusted resources

Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.