Primary Science chapter 2: Health Protection
স্বাস্থ্য সুরক্ষা
- Primary Science
- Textbook pages 12-25
- 1 source
- 17,600 characters of context
Textbook (verbatim transcription): Health Protection
Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.
Contents24ShowHide
- ১. বিভিন্ন ধরনের রোগ
- সাধারণত আমরা কী কী রোগে আক্রান্ত হই?
- ২. রোগের শ্রেণিকরণ
- রোগ কত ধরনের?
- অসংক্রামক রোগ
- সংক্রামক রোগের শ্রেণিকরণ সম্পর্কে আরও কিছু জানি...
- ৩. রোগের কারণ ও বিস্তার
- কী কী কারণে আমাদের রোগ হয়?
- সংক্রামক রোগ কীভাবে বিস্তার লাভ করে?
- ৪. রোগের লক্ষণ
- বিভিন্ন রোগের সাধারণ লক্ষণগুলো কী কী?
- ৫. রোগের প্রতিকার
- রোগের প্রতিকারে করণীয়গুলো কী কী?
- রোগের প্রতিকার সম্পর্কে আরও কিছু জানি...
- ৬. রোগ প্রতিরোধ
- কীভাবে বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করা যায়?
- রোগ প্রতিরোধ সম্পর্কে আরও কিছু জানি ...
- সংক্রামক রোগ
- অসংক্রামক রোগ
- ৭. স্বাস্থ্য রক্ষার নিয়মাবলি
- স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য কী কী নিয়ম মেনে চলা দরকার?
- স্বাস্থ্যকর অভ্যাস অনুশীলন
- স্বাস্থ্য রক্ষার নিয়ম সম্পর্কে আরও কিছু জানি...
- অনুশীলনী
Printed page 12
অধ্যায় ২
স্বাস্থ্য সুরক্ষা
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সংজ্ঞা অনুযায়ী, সুস্বাস্থ্য বলতে শুধু অসুখ না থাকাকে বোঝায় না; বরং একই সঙ্গে শরীর, মন ও সামাজিক দিক থেকে ভালো থাকাকে বোঝায়। যা কিছু আমাদেরকে শারীরিক, মানসিক বা সামাজিকভাবে সমস্যায় ফেলে এবং স্বাভাবিক জীবন যাপনে বিঘ্ন ঘটায় তা রোগ। আমরা যাতে রোগে না ভুগি এবং সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে পারি সেজন্য কিছু নিয়ম মেনে চলা উচিত। এই অধ্যায়ে আমরা শারীরিক স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা করব।
১. বিভিন্ন ধরনের রোগ
সাধারণত আমরা কী কী রোগে আক্রান্ত হই?
কাজ: রোগের তালিকাপ্রস্তুতকরণ
যা করতে হবে
১. এ পর্যন্ত আমি কী কী রোগে আক্রান্ত হয়েছি, একটু ভেবে তা তালিকা আকারে লিখি।
২. আমাদের অনেকেরই পরিবারে বাবা-মা, ভাই-বোন, দাদা-দাদি, নানা-নানি আছেন। তাঁরা বিভিন্ন সময়ে যেসব রোগে আক্রান্ত হয়েছেন, সে রোগগুলোর নামও তালিকায় যুক্ত করি।
৩. এবার সহপাঠীদের তৈরি করা তালিকাটি দেখি।
৪. নিজের তালিকায় নেই এমন রোগগুলোর নামও তালিকায় যুক্ত করি।
| নিজে আক্রান্ত হওয়া রোগের নাম | পরিবারের অন্যান্য সদস্য আক্রান্ত হওয়া রোগের নাম | অন্যান্য রোগের নাম |
|---|---|---|
৫. কয়েকজন সহপাঠী বন্ধু শিক্ষকের সামনে গিয়ে কয়েকটি রোগে আক্রান্ত হবার অবস্থা অভিনয় করে দেখাই।
৬. বন্ধুদের অভিনয় দেখে নতুন যেসব রোগের নাম পেলাম তা নিজের তালিকায় যুক্ত করি।
Printed page 13
৭. নিচের ছবিগুলো দেখি এবং কোনটি কোন রোগের লক্ষণ তার নাম ছবির নিচে লিখি।
Figure
বর্ণনা: একজন ব্যক্তি মাথায় সাদা ব্যান্ডেজ বেঁধে বালিশে মাথা রেখে বিছানায় শুয়ে আছেন।
Figure
বর্ণনা: একজন মহিলার মুখে ও কপালে কয়েকটি দানার মতো চিহ্ন দেখা যাচ্ছে।
Figure
বর্ণনা: একজন মহিলা নাকে নীল রঙের রুমাল বা টিস্যু চেপে ধরে আছেন।
Figure
বর্ণনা: একজন ব্যক্তি দুই হাত দিয়ে মাথার দুই পাশ চেপে ধরে আছেন।
Figure
বর্ণনা: একজন ব্যক্তি হলুদ জামা পরে পেটে হাত দিয়ে আছেন।
Figure
বর্ণনা: একজন ব্যক্তি সাদা গেঞ্জি পরে পেটে হাত দিয়ে আছেন; পাশে একটি টয়লেট ও একটি জগ দেখানো হয়েছে।
Printed page 14
সারসংক্ষেপ
আমরা বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন রোগে আক্রান্ত হই। সেগুলোর কয়েকটি হল- সর্দি, কাশি, বসন্ত, চোখ উঠা, রাতকানা, ডায়রিয়া, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ইত্যাদি। যেকোনো রোগই আমাদের কষ্ট দেয়।
২. রোগের শ্রেণিকরণ
আমরা যেকোনো সময় রোগে আক্রান্ত হতে পারি। বিভিন্ন কারণে রোগ হতে পারে। কোনো কোনো রোগ একজন থেকে আরেকজনের হতে পারে। সাধারণত অনুজীবের দ্বারা রোগ সৃষ্টি হয়। আবার কোনো অঙ্গের গঠন বা কাজ করার ক্ষমতা নষ্ট হয়ে গেলেও আমরা রোগাক্রান্ত হই।
রোগের কারণের উপর ভিত্তি করে রোগকে নানাভাবে শ্রেণিকরণ করা হয়।
রোগ কত ধরনের?
কাজ: রোগের শ্রেণিকরণ
যা করতে হবে:
১। সহপাঠীদের সাথে আলোচনা করে নিচের ছকটি পূরণ করি।
| একজন থেকে অন্যজনের হয়, এমন রোগের নাম | একজন থেকে অন্যজনের হয় না, এমন রোগের নাম |
|---|---|
সারসংক্ষেপ
সংক্রামক রোগ
কিছু কিছু রোগ একজনের থেকে আরেকজনে ছড়ায় সেগুলোকে সংক্রামক রোগ বলে। সংক্রামক রোগগুলো ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক বা অন্য কোনো পরজীবীর কারণে হয়ে থাকে। যেমন: সর্দি, চোখ ওঠা, বসন্ত, করোনা, হাম ইত্যাদি।
Printed page 15
অসংক্রামক রোগ
কিছু কিছু রোগ একজনের থেকে আরেকজনের হয় না। সাধারণত শরীরের কোনো অঙ্গের কর্মক্ষমতা হ্রাস বা বিপাকীয় কার্যক্রম বাধা পেলে মানুষ এ ধরনের রোগে আক্রান্ত হয়। এদেরকে বলে অসংক্রামক রোগ। যেমন—হৃদরোগ, রাতকানা, আলঝেইমার, ডায়াবেটিস, ক্যান্সার, মানসিক রোগ ইত্যাদি। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ শ্রেণিবিভাগ অনুযায়ী মাদকাসক্তিও একটি রোগ।
সংক্রামক রোগের শ্রেণিকরণ সম্পর্কে আরও কিছু জানি...
সাধারণত বায়ু, পানি বা প্রাণী সংক্রামক রোগের জীবাণু বহন করে এবং রোগের বিস্তার ঘটায়। বিস্তারের মাধ্যমের উপর ভিত্তি করে এ রোগগুলো নানা নামে পরিচিত। যেমন—
পানিবাহিত রোগ: পানির মাধ্যমে যে সব রোগ ছড়ায় সেগুলোকে পানিবাহিত রোগ বলে। যেমন— ডায়রিয়া, আমাশয়, টাইফয়েড, হেপাটাইটিস-এ ইত্যাদি।
বায়ুবাহিত রোগ: বায়ুর মাধ্যমে যেসব রোগ ছড়ায় সেগুলোকে বায়ুবাহিত রোগ বলে। যেমন— ইনফ্লুয়েঞ্জা, ফুসফুসের যক্ষ্মা, কোভিড-১৯ ইত্যাদি।
প্রাণিবাহিত রোগ: কোনো কোনো রোগের জীবাণু প্রাণীরাবহন করে, এদের প্রাণিবাহিত রোগ বলে। যেমন— মশার মাধ্যমে ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গু, ইঁদুরের মাধ্যমে প্লেগ এবং কুকুরের কামড়ে জলাতঙ্ক রোগ ছড়ায়।
কাজ: বায়ু, পানি ও প্রাণিবাহিত রোগ শনাক্তকরণ
যা করতে হবে:
১। নিজে ভেবে ও সহপাঠীদের সাথে আলোচনা করে নিচের ছকটি পূরণ করি।
| গ্যাসের মাধ্যমে ছড়ায় এমন রোগ | পানি মাধ্যমে ছড়ায় এমন রোগ | প্রাণীর মাধ্যমে ছড়ায় এমন রোগ |
|---|---|---|
Printed page 16
৩. রোগের কারণ ও বিস্তার
কী কী কারণে আমাদের রোগ হয়?
কাজ: বিভিন্ন রোগের কারণ খুঁজে বের করা
যা করতে হবে:
১। নিজের অভিজ্ঞতা ও জানা থেকে নিচের ছকটি পূরণ করি।
২। সহপাঠীর সাথে আলোচনা করে ছকে রোগের আরও কারণ যুক্ত করি।
| রোগের নাম | রোগের কারণ |
|---|---|
সারসংক্ষেপ
সংক্রামক রোগের কারণ
বিভিন্ন কারণে মানুষ রোগাক্রান্ত হতে পারে। আমরা ইতোমধ্যে জেনেছি সংক্রামক রোগের কারণ হলো বিভিন্ন রোগের জীবাণু। এসব জীবাণু শরীরে প্রবেশ করলে রোগ সৃষ্টি হয়। সুতরাং রোগীর কাছাকাছি থাকলে অথবা জীবাণু দ্বারা দূষিত পানি পানে রোগ হতে পারে। আবার কখনো কখনো জীবাণু বহনকারী পোকামাকড় বা প্রাণীর মাধ্যমে রোগ হতে পারে। অনেক সময় পুষ্টিহীনতার কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। এর ফলে মানুষ রোগে আক্রান্ত হয়।
অসংক্রামক রোগের কারণ
সাধারণত পরিবেশের নানা উপাদান, যেমন- পানি, বায়ু প্রভৃতি দূষিত হবার কারণে মানুষের রোগ হয়। শারীরিক পরিশ্রম না করাও কিছু অসংক্রামক রোগের জন্য দায়ী। বায়ু দূষণ ও অন্যান্য পরিবেশ দূষণের কারণে চর্মরোগ, অ্যাজমা ইত্যাদি রোগ হয়। ধূমপান ও মাদকদ্রব্য গ্রহণে ক্যান্সার, হৃদরোগসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগ হতে পারে। বংশগত কারণেও বেশ কিছু অসংক্রামক রোগ হতে পারে। কখনো আবার ভিটামিনের অভাবেও রোগ হয়। যেমন- ভিটামিন এ-এর অভাবে রাতকানা ও ভিটামিন ডি-এর অভাবে রিকেটস রোগ হয়। স্বাস্থ্যকর ও সুষম নয় এসব খাবার খেলে; জীবন-যাপনে অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসের কারণেও রোগ হতে পারে।
Printed page 17
সংক্রামক রোগ কীভাবে বিস্তার লাভ করে?
রোগ একজন থেকে আরেকজনের দেহে ছড়ানোই হলো রোগের বিস্তার। বিভিন্ন মাধ্যমে সংক্রামক রোগ রোগাক্রান্ত ব্যক্তির দেহ হতে সুস্থ মানুষের দেহে ছড়ায়। সাধারণত বিভিন্ন মাধ্যমে রোগের জীবাণু বিস্তার লাভ করে। যেমন জীবাণু দ্বারা দূষিত পানি পান বা ব্যবহার করলে পানিবাহিত রোগ হয়। রোগাক্রান্ত ব্যক্তি হাঁচি-কাশি ও কথাবার্তা বলার সময় বায়ুবাহিত রোগের জীবাণু বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং সুস্থ মানুষের শরীরে প্রবেশ করে।
ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া রোগের জীবাণু বহন করে মশা। রোগাক্রান্ত ব্যক্তিকে কামড়ানোর পর ঐ মশা সুস্থ ব্যক্তিকে কামড়ালে সেই ব্যক্তির এসব রোগ হবার সম্ভাবনা থাকে। এভাবেই মশার মাধ্যমে অনেক রোগের জীবাণু একটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। কুকুরের কামড়ে জলাতঙ্ক ও ইঁদুরের কামড়ে প্লেগ রোগ হয়। অর্থাৎ মশা, ইঁদুর, কুকুরসহ আরও কিছু প্রাণীর মাধ্যমে অনেক রোগের জীবাণু বিস্তার লাভ করে।
Figure: ডেঙ্গু রোগের বিস্তার
লেবেল: এডিস মশার কামড়, ডেঙ্গু ভাইরাস বহন, ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তি, সুস্থ ব্যক্তি, এডিস মশার কামড় বর্ণনা: বাম দিকে বালিশে মাথা রেখে শোয়া ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তিকে দেখানো হয়েছে, যার মাথার কাছে এডিস মশার কামড় চিহ্নিত। তীর চিহ্ন দিয়ে মশাটি ডেঙ্গু ভাইরাস বহন করে দেখানো হয়েছে। ডান দিকে একজন সুস্থ ব্যক্তির কাঁধের কাছে মশার কামড় চিহ্নিত আছে।
কোনো কোনো সময় রোগীর সংস্পর্শে এলে ঐ রোগের জীবাণু সরাসরি আরেকজন সুস্থ মানুষের দেহে ছড়িয়ে পড়তে পারে। যেমন- চর্মরোগ। এছাড়াও রক্তের মাধ্যমেও বিভিন্ন সংক্রামক রোগ বিস্তার লাভ করতে পারে।
৪. রোগের লক্ষণ
প্রতিটি রোগের আলাদা আলাদা লক্ষণ রয়েছে। কোনো রোগে আক্রান্ত হলে আমাদের শরীর ও আচরণে যে পরিবর্তন হয়,তা-ই ঐ সব রোগের লক্ষণ। এসব লক্ষণ দেখে আমরা রোগটিকে চিনে থাকি।
বিভিন্ন রোগের সাধারণ লক্ষণগুলো কী কী?
দলগত কাজ: লক্ষণ দেখে রোগ চেনা
Printed page 18
যা করতে হবে:
১। কয়েকটি কাগজের টুকরা নিই এবং টুকরায় একটি করে রোগের নাম লিখি।
২। শ্রেণিতে কয়েকটি দলে ভাগ হই।
৩। প্রতিটি দল একটি করে কাগজের টুকরা নিই।
৪। তুলে নেয়া কাগজের টুকরায় লেখা রোগটির লক্ষণ নিয়ে দলের মধ্যে আলোচনা করি।
৫। কাগজে লেখা রোগটি কখনো নিজের হয়ে থাকলে, সে অভিজ্ঞতাও এখানে যুক্ত করি।
৬। ভূমিকাভিনয়ের মাধ্যমে লক্ষণগুলো উপস্থাপন করি।
৭। নিজ ও অন্য দলের উপস্থাপন দেখে বিভিন্ন রোগের লক্ষণগুলো নিচের ছকে লিখি।
| রোগের নাম | লক্ষণসমূহ |
|---|---|
সারসংক্ষেপ
বিভিন্ন রোগের সাধারণ লক্ষণগুলো হলো–
- সর্দি হলে নাক দিয়ে অনবরত তরল পড়তে থাকে, নাক লাল হয়ে যায়।
- চোখ উঠা রোগ হলে চোখ লাল হয়ে যায়, চোখে চুলকানি ও জ্বালা অনুভূত হয়। চোখে পিচুটি জমা হয়ে পাতা আটকে যায়।
- ডায়রিয়া হলে ঘনঘন পাতলা পায়খানা হয়। অতিরিক্ত পিপাসা পায়। পেট ব্যথা করে। শরীর পানিশূন্য হয়ে চামড়া কুঁচকে যায়। রোগী আস্তে আস্তে নিস্তেজ হতে থাকে।
- ম্যালেরিয়া জ্বরে কিছু সময় পরপর কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে। মাথা ও পেটসহ সারা শরীর ব্যথা করে ও বমি বমি ভাব হয়।
- অ্যাজমা রোগে শ্বাসকষ্ট হয়, শ্বাসের সাথে শোঁ শোঁ শব্দ হয়। ।
- ডায়াবেটিস রোগীর ঘনঘন পানির পিপাসা পায়, বার বার প্রস্রাব হয়, শরীরের ওজন কমতে থাকে।
- ফুসফুসের যক্ষ্মা রোগ হলে দীর্ঘমেয়াদি কাশি থাকে, কাশির সাথে মাঝে মাঝে রক্তপাত হয়। বুকে ব্যথা হয়, ওজন কমতে থাকে। সাথে জ্বরও থাকে।
Printed page 19
Loading the rest of the chapter…
Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.
Trusted resources
Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.