Primary Science chapter 3: Accidents and First Aid
দুর্ঘটনা ও প্রাথমিক চিকিৎসা
- Primary Science
- Textbook pages 26-36
- 1 source
- 13,703 characters of context
Textbook (verbatim transcription): Accidents and First Aid
Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.
Contents15ShowHide
- ১. দৈনন্দিন জীবনে দুর্ঘটনা
- দুর্ঘটনার ক্ষতি সম্পর্কে আরও কিছু জানি ...
- ২. দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সতর্কতা
- দুর্ঘটনা প্রতিরোধ সম্পর্কে আরও কিছু জানি ...
- পানিতে ডোবা
- আগুনজনিত দুর্ঘটনা
- তড়িতাহত হওয়া
- সড়ক দুর্ঘটনা
- সাপে কাটা
- ৩. দুর্ঘটনার প্রাথমিক চিকিৎসা
- বিভিন্ন দুর্ঘটনায় কী কী ধরনের প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে হয়?
- দুর্ঘটনার প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে আরও কিছু জানি ...
- ৪. বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ
- বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ বিষয়ে আরও কিছু জানি...
- অনুশীলনী
Printed page 26
অধ্যায় ৩
দুর্ঘটনা ও প্রাথমিক চিকিৎসা
১. দৈনন্দিন জীবনে দুর্ঘটনা
সুস্থ থাকার পাশাপাশি আমাদের দেহের সুরক্ষাও প্রয়োজনীয়। নানা রকম দুর্ঘটনার কারণে আমাদের জীবনের সুরক্ষা নষ্ট হয়।
আমাদের জীবনে সাধারণত কী কী দুর্ঘটনা ঘটে?
কাজ: দুর্ঘটনার নামের তালিকা তৈরি করা
যা করতে হবে:
Figure
বর্ণনা: গাছ থেকে পড়ে যাওয়া একটি শিশু, পা মচকানো বা ভাঙা একটি পা, পানিতে ডুবে হাত তুলে সাহায্য চাওয়া একটি শিশু, পা মচকানো বা আহত একটি পা, সাপ, বিদ্যুতের সকেট ধরে থাকা একজন ব্যক্তি, পোড়া একটি হাত, এবং রাস্তায় গাড়ির ধাক্কায় পড়ে থাকা একজন ব্যক্তি দেখানো হয়েছে।
১। উপরের চিত্রগুলো ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করি। ২। নিজের জীবনে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনাগুলো অপর পৃষ্ঠার ছকে লিখি। ৩। এই ছকে আমাদের দেখা দুর্ঘটনাগুলোকে যুক্ত করি। ৪। সহপাঠীদের সাথে আলোচনা করে বাদ পড়া দুর্ঘটনাগুলোও ছকে যোগ করি।
Printed page 27
| আমার জীবনে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনা | আমার দেখা দুর্ঘটনা | অন্যান্য দুর্ঘটনা |
|---|---|---|
সারসংক্ষেপ
বিভিন্ন সময়ে আমাদের জীবনে বিভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। যেমন–শরীরের কোনো অংশ কেটে যাওয়া, হাড় ভেঙে বা মচকে যাওয়া, আগুনে পুড়ে যাওয়া, সাপে কাটা, পানিতে ডুবে যাওয়া, বিদ্যুতায়িত হওয়া ইত্যাদি।
কাজ: দুর্ঘটনায় ক্ষতি চিহ্নিতকরণ
যা করতে হবে:
১। দুর্ঘটনায় সাধারণভাবে যা যা ক্ষতি হয় সেগুলো নিজে ভেবে ও সহপাঠীদের সাথে আলোচনা করে নিচের ডায়াগ্রামের শূন্যস্থানে লিখি।
Figure: ফিসবোন ডায়াগ্রাম
বর্ণনা: একটি মাছের কাঁটার আকারের ডায়াগ্রাম। ডান দিকে একটি মাছের মাথা, বাঁ দিকে লেজের মতো অংশ এবং মাঝখানে একটি সরল অনুভূমিক রেখা। রেখা থেকে ওপরে ও নিচে একান্তরে চারটি বাঁকানো শাখা আঁকা আছে; শাখাগুলোর ওপর কোনো লেখা নেই।
সারসংক্ষেপ
দুর্ঘটনা আমাদের জীবনের স্বাভাবিকতা ও নিরাপত্তায় ব্যাঘাত ঘটায়। এর ফলে আমাদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়। কখনো এতে মৃত্যুর– ঝুঁকিও থাকে।
Printed page 28
দুর্ঘটনার ক্ষতি সম্পর্কে আরও কিছু জানি ...
গাছ থেকে পড়ে আঘাত লেগে আমাদের দেহের কোনো অংশ কেটে বা ভেঙে যেতে পারে। ফলে অজ্ঞানহানি, রক্তপাত, এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। পানিতে ডুবে গেলে শ্বাস বন্ধ হয়ে আমরা মৃত্যুর মুখোমুখিও হতে পারি। আগুন লাগলে শরীরের নানা অংশ পুড়ে যায়, গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। সাপের কামড়েও মৃত্যু-ঝুঁকি থাকে। সাপের বিষ রক্তে মিশে গিয়ে শ্বাসকষ্ট ও অঙ্গো পচন সৃষ্টি করতে পারে। রোগীর পক্ষাঘাতও হতে পারে। তড়িতাহত হলে আমাদের দেহের ত্বক, পেশি, স্নায়ু, হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসের ক্ষতি হয়। এতেও মৃত্যু-ঝুঁকি থাকে। সড়ক দুর্ঘটনায় অজ্ঞানহানি ঘটে, কখনো মৃত্যুও হয়। দুর্ঘটনামুক্ত থাকতে সতর্কতা জরুরি। সতর্ক থাকলে দুর্ঘটনায় ক্ষতির পরিমাণ কমে আসবে।
২. দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সতর্কতা
আমরা কীভাবে দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করতে পারি?
কাজ: দুর্ঘটনা প্রতিরোধের উপায় চিহ্নিতকরণ
যা করতে হবে:
Figure
বর্ণনা: তিনটি ছবি পাশাপাশি। প্রথমটিতে বৃষ্টির মধ্যে একজন ব্যক্তি গাছের নিচে দাঁড়িয়ে আছেন; দ্বিতীয়টিতে একজন নারী চুলায় রাখা গরম পাত্রের কাছে কাজ করছেন; তৃতীয়টিতে একটি হাতে জ্বলন্ত মোমবাতি ধরা আছে। প্রতিটি ছবিতে লাল ক্রস চিহ্ন দেওয়া আছে।
Figure
বর্ণনা: রাস্তায় জেব্রা ক্রসিংয়ে দুজন শিশু পারাপার করছে; পাশে সিগন্যাল বাতি এবং রাস্তায় একটি নীল গাড়ি দেখানো হয়েছে।
Printed page 29
১। উপরের চিত্রগুলো ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করি। ২। একটি করে দুর্ঘটনা প্রতিরোধের সতর্কতা নিয়ে দলে আলোচনা করি। ৩। প্রতিটি দলের একজন নিজের দলে আলোচনা করা প্রতিরোধমূলক সতর্কতাগুলো ভূমিকাভিনয় করে দেখাই। ৪। দলের আলোচনা ও সহপাঠীদের ভূমিকাভিনয় দেখে নিচের ছক পূরণ করি।
| দুর্ঘটনার ধরন | প্রতিরোধে সতর্কতা |
|---|---|
| গাছ থেকে পড়া | |
| আগুনে/তাপে পোড়া | |
| পানিতে ডোবা | |
| সড়ক দুর্ঘটনা | |
| সাপে কাটা | |
| তড়িতাহত হওয়া |
সারসংক্ষেপ
সতর্ক থাকলে আমরা সহজেই দুর্ঘটনা থেকে বাঁচতে পারি। তাই এই সতর্কতামূলক প্রতিরোধক ব্যবস্থাগুলো জানা ও তা মেনে চলা জরুরি।
দুর্ঘটনা প্রতিরোধ সম্পর্কে আরও কিছু জানি ...
খেলার সময় আঘাত এরকম আঘাত থেকে রক্ষা পেতে হলে খেলার সময় অন্যদেরকে দেখে দৌড়াব এবং কাউকে ধাক্কা দিব না। অন্যদেরকেও এ ব্যাপারে সতর্ক করতে হবে।
কেটে যাওয়া ছুরি, কাঁচি বা ধারালো কিছু ব্যবহার করতে গিয়ে অনেক সময় আমাদের হাত বা শরীরের কোনো অংশ কেটে যায়। তাই এরূপ আঘাত থেকে বাঁচতে ধারালো বস্তু ব্যবহারের সময় আমরা বড়োদের সাহায্য নিব। এতে শরীরের কোথাও কেটে গিয়ে রক্তপাত হবার সম্ভাবনা থাকবে না।
গাছ থেকে পড়ে যাওয়া বৃষ্টির দিনে কখনো গাছে উঠব না। অন্য সময়ও সাবধানে গাছে উঠব, যাতে পড়ে না যাই। গাছে উঠার সময় কাউকে গাছের নিচে দাঁড় করিয়ে রাখব।
Printed page 30
পানিতে ডোবা
আমরা অনেকেই সাঁতার কাটতে ও পানিতে ঝাঁপাঝাঁপি করতে পছন্দ করি। সাঁতার না জানা থাকলে কখনোই পুকুরে, খালে, নদীতে একা একা নামব না বা গোসল করব না। এ সময় অবশ্যই বড়োদেরকে সাথে রাখব। এতে পানিতে ডুবে যাবার সম্ভাবনা থাকবে না। সাঁতার শিখেও পানিতে ডোবাজনিত দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।
আগুনজনিত দুর্ঘটনা
খালি হাতে গরম কিছু ধরবো না। অনেক সময় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লেগে যায়। এক্ষেত্রে বাড়ির বৈদ্যুতিক তার ও সংযোগের ব্যাপারে সাবধান থাকব। দিয়াশলাই, জ্বলন্ত বিড়ি বা সিগারেট ও চুলা ইত্যাদি থেকে ঘর-বাড়ি বা স্থাপনায় আগুন লেগে যায়। অগ্নিকাণ্ডের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে দিয়াশলাই বা আগুনের কোনো উৎস যেমন– কুপি, হারিকেন, মোমবাতি ইত্যাদি নিয়ে খেলব না। সহজে আগুন লাগে এমন কিছু যেমন– কাগজ, কাপড়, কাঠ ইত্যাদি আগুনের কাছ থেকে দূরে রাখব। এ ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করলে দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা কমে যায়।
তড়িতাহত হওয়া
ভেজা হাতে বৈদ্যুতিক জিনিস ধরলে শক লাগতে পারে। একে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া বলে। এটি এড়াতে বড়োদের সাহায্য ছাড়া বা ভেজা হাতে কখনোই বৈদ্যুতিক তার বা কোনো জিনিস ধরব না।
সড়ক দুর্ঘটনা
নিয়ম না মেনে গাড়ি চালানোর ফলে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। সব সময় ডান ও বাম দিক লক্ষ করে, সিগনাল বাতি দেখে সতর্কভাবে রাস্তা পার হব। এতে দুর্ঘটনা বহুলাংশে প্রতিরোধ করা যায়। রাস্তায় জেব্রাক্রসিং অথবা রাস্তার পাশে ফুটপাথ থাকলে অবশ্যই তা ব্যবহার করব।
সাপে কাটা
বাড়িঘরের আশপাশ পরিষ্কার রাখলে সাপ লুকিয়ে থাকতে পারে না। সাপ থাকতে পারে এমন জায়গা এড়িয়ে চলব। রাতে বাতি ও লাঠি নিয়ে চলাফেরা করলে নিরাপদ থাকব। সাপের খেলা দেখার সময়ও সতর্ক থাকব। বাড়ির আশপাশে ঝোপঝাড় থাকলে তা পরিষ্কার করব, ইঁদুরের গর্ত থাকলে তা ভরাট করব।
আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এ সতর্কতাগুলো মেনে চললে সহজেই বিভিন্ন দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব।
৩. দুর্ঘটনার প্রাথমিক চিকিৎসা
ডাক্তার আসা বা হাসপাতালে নেওয়ার আগে দুর্ঘটনাকবলিত ব্যক্তিকে দ্রুত যে সাময়িক চিকিৎসা দেওয়া হয়, তাই প্রাথমিক চিকিৎসা।
প্রাথমিক চিকিৎসার কিছু সাধারণ নিয়ম আছে। এগুলো হলো–
১। প্রথমেই বয়সে বড়ো বা জরুরি সেবার কারো কাছে সাহায্য চাইতে হবে।
Printed page 31
২। নিজেকে দুর্ঘটনামুক্ত রাখতে, আহত ব্যক্তিকে সাহায্য করার আগে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নিতে হবে।
৩। দুর্ঘটনা– কবলিত ব্যক্তিকে নড়াচড়া না করে স্থির রাখতে হবে।
৪। আহত ব্যক্তিকে ভরসা দিয়ে (তুমি সুস্থ হয়ে যাবে- এটা বলে) শান্ত রাখতে হবে।
এই সাধারণ নিয়মগুলো অনুসরণ করার পর দুর্ঘটনা অনুযায়ী প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে হয়।
বিভিন্ন দুর্ঘটনায় কী কী ধরনের প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে হয়?
কাজ: দুর্ঘটনার সাথে সম্পর্কিত প্রাথমিক চিকিৎসা পদ্ধতি শনাক্তকরণ
যা করতে হবে:
Figure
বর্ণনা: চারটি ছবি রয়েছে। প্রথম ছবিতে একটি হাতের কবজির কাছে কাপড় দিয়ে বাঁধা এবং অন্য একটি ভাঙা হাত দেখানো হয়েছে। দ্বিতীয় ছবিতে একজন ব্যক্তি জগ/পাত্র থেকে একটি হাতে পানি ঢালছেন। তৃতীয় ছবিতে একজন ব্যক্তি একটি কাঠের টুকরা দিয়ে বৈদ্যুতিক তার থেকে আরেক ব্যক্তিকে সরাচ্ছেন, যিনি বিদ্যুতের শকে আক্রান্ত। চতুর্থ ছবিতে একটি পায়ের গোড়ায় সবুজ কাপড়ে বাঁধা এবং পাশে একটি সাপ দেখানো হয়েছে।
১। উপরের চিত্রগুলো ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করি।
২। একটি করে দুর্ঘটনার প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে দলে আলোচনা করি।
৩। প্রতিটি দলের একজন নিজের দলে আলোচনা করা প্রাথমিক চিকিৎসা ভূমিকাভিনয় করে দেখাই।
৪। দলের আলোচনা ও সহপাঠীদের ভূমিকাভিনয় দেখে নিচের ছক পূরণ করি।
Printed page 32
| দুর্ঘটনার নাম | প্রাথমিক চিকিৎসা |
|---|---|
| গাছ থেকে পড়া | |
| আগুনে/তাপে পোড়া | |
| পানিতে ডোবা | |
| সড়ক দুর্ঘটনা | |
| সাপে কাটা |
সারসংক্ষেপ
দুর্ঘটনাকবলিত ব্যক্তিকে দুত প্রাথমিক চিকিৎসা দিলে তা ঐ ব্যক্তির জীবনহানির সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়। তাই আমাদের সবারই কিছু প্রাথমিক চিকিৎসা জানা দরকার।
দুর্ঘটনার প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে আরও কিছু জানি ...
- গাছ থেকে পড়ে বা খেলতে গিয়ে বা অন্য কোনোভাবে আঘাত পেলে সঙ্গে সঙ্গে আঘাতের জায়গায় বরফ লাগাতে হয়। এসব দুর্ঘটনায় কোনোভাবে হাড় ভেঙে বা মচকে গেলে, ভাঙা হাড়ের নিচে একটা কাঠের টুকরার সাপোর্ট দিয়ে বেঁধে দিতে হবে, এরপর দুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার।
- শরীরের কোনো জায়গা কেটে গেলে, তা প্রথমে তুলা ও জীবাণুনাশক দিয়ে মুছে পরিষ্কার করতে হবে। তারপর ঐ জায়গা তুলা ও পাতলা কাপড় দিয়ে বেঁধে রক্তপড়া বন্ধ করতে হবে।
- আগুনে পুড়ে গেলে, পোড়া জায়গায় ১০ মিনিট পরিষ্কার ও স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি ঢালতে হবে। তারপর ক্ষতস্থানে তেল বা ক্রিম লাগাতে হবে। কোনোভাবেই যেন ফোসকা না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ফোসকা পড়ে গেলে, তা কখনোই গলানো যাবে না।
- কারো বৈদ্যুতিক শক লাগলে, প্রথমেই তাকে বিদ্যুতের উৎস থেকে বিচ্ছিন্ন করতে হবে। মেইন সুইচ বন্ধ বা বৈদ্যুতিক প্লাগ খুলে এটা করতে হয়। এ কাজে শুকনো কাঠ বা বাঁশও ব্যবহার করা হয়। প্লাস্টিকের মাদুর, কাঠের টুকরা, মোটা কাগজ বা চটের বাস্তর উপর দাঁড়িয়ে এ কাজটি করতে হয়। এ সময় কোনো বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ব্যক্তিকে ধরা বা ছোঁয়া যাবে না। এতে উদ্ধারকারীও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পড়বে। রোগীর শ্বাসপ্রশ্বাস, নাড়ির স্পন্দন ও ক্ষত পরীক্ষা করে লক্ষণ অনুযায়ী ডাক্তরের কাছে না নেওয়া পর্যন্ত প্রাথমিক চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে।
Printed page 33
- সাপে কাটা ব্যক্তিকে যথাসম্ভব নড়াচড়া না করে স্থির রাখতে হবে। কাটার ক্ষতস্থান বুকের উচ্চতা থেকে নিচু রাখা জরুরি। কাটা জায়গার একটু উপরে কাপড়ের ফিতা বা দড়ি দিয়ে শক্ত করে বেঁধে দুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
- কেউ পানিতে ডুবে গেলে, ঐ ব্যক্তিকে পানি থেকে উদ্ধার করে, তার শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক করার চেষ্টা করতে হবে। এ জন্য কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করা হয়। এগুলো হলো–
Figure
বর্ণনা: একজন ব্যক্তি পানি থেকে তোলা একটি অচেতন ব্যক্তিকে চিত করে শুইয়ে, তার পেটে দুই হাত দিয়ে চাপ দিচ্ছেন।
পানি থেকে তুলে আনা রোগীকে চিত করে শুইয়ে, পেটে চাপ দিয়ে পানি বের করে নিতে হবে।
Figure
বর্ণনা: একজন ব্যক্তি দুই হাত দিয়ে রোগীর মাথা পেছনের দিকে হেলিয়ে থুতনি উঁচু করে ধরে আছেন।
এরপর ডানের ছবির মতো থুতনি উঁচু করে ধরতে হবে।
Figure
বর্ণনা: একজন ব্যক্তি রোগীর নাক চেপে ধরে তার মুখে মুখ লাগিয়ে ফুঁ দিচ্ছেন।
এখন রোগীর নাক চেপে ধরে মুখে মুখ লাগিয়ে, তার বুক ফুলে না উঠা পর্যন্ত ফুঁ দিয়ে যেতে হবে।
তবে মাঝে মাঝে তাকে শ্বাস ছাড়ার সুযোগ ও সময় দেবার জন্য মুখ সরিয়ে নিতে হয়।
রোগীর বুক কিছুক্ষণের মধ্যে ফুলে না উঠলে, তার মাথার অবস্থান পরিবর্তন করে, আবারও ফুঁ দিতে হবে।
Printed page 34
এরপর ডানে দেখানো ছবির মতো রোগীর বুকের মাঝখানে হাত রেখে ৩০বার নিচের দিকে চাপ দিতে হবে। এ সময় বুকের উচ্চতা যেন এক-তৃতীয়াংশ দেবে যায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
Figure
বর্ণনা: একজন ব্যক্তি অজ্ঞান হয়ে চিত হয়ে শুয়ে থাকা রোগীর বুকের মাঝখানে দুই হাত রেখে নিচের দিকে চাপ দিচ্ছেন।
রোগীর শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক হওয়া ও চিকিৎসকের কাছে না নেওয়া পর্যন্ত, এভাবে ফুঁ দেওয়া ও বুকে চাপ দেওয়া চালিয়ে যেতে হবে।
প্রাথমিক চিকিৎসা দেবার পর অবশ্যই যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনাকবলিত ব্যক্তিকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা জরুরি।
Loading the rest of the chapter…
Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.
Trusted resources
Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.