Primary Science chapter 8: The Universe
মহাবিশ্ব
- Primary Science
- Textbook pages 90-108
- 1 source
- 24,908 characters of context
Textbook (verbatim transcription): The Universe
Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.
Contents15ShowHide
- ১. সৌরজগৎ
- সৌরজগতের গঠন কেমন?
- সারসংক্ষেপ
- সৌরজগতের গঠন সম্পর্কে আরও কিছু জানি...
- ২. পৃথিবীর উপগ্রহ চাঁদ
- ৩. ছায়াপথ
- মহাবিশ্ব কতটা বড়ো?
- সারসংক্ষেপ
- মহাবিশ্ব সম্পর্কে আরও কিছু জানি ...
- মহাবিশ্বের বিভিন্ন বস্তুর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক কী?
- সারসংক্ষেপ
- ৪. দৈনন্দিন জীবন-যাপনে মহাকাশের বস্তুসমূহের প্রভাব
- মহাবিশ্বের বিভিন্ন বস্তু না থাকলে কী হতো?
- দৈনন্দিন জীবন-যাপনে মহাকাশের বস্তুসমূহের প্রভাব সম্পর্কে আরও কিছু জানি ...
- অনুশীলনী
Printed page 90
অধ্যায় ৮
মহাবিশ্ব
রাতে আকাশের দিকে তাকালে আমরা কী দেখতে পাই? রাতের আকাশে সাধারণত চাঁদ এবং অসংখ্য তারা দেখতে পাই। দিনের আকাশে কেন এদের দেখা যায় না? দিনের আকাশে সূর্যের আলো অনেক বেশি, সে কারণে আমরা এদের দেখতে পাই না। আমরা শুধু সূর্যকেই দিনের বেলা দেখতে পাই। সমস্ত গ্রহ, সৌরজগৎ, নক্ষত্র, ছায়াপথ নিয়ে মহাবিশ্ব গঠিত।
১. সৌরজগৎ
সূর্য এবং তার পরিবারের সদস্য মিলে তৈরি হয় সৌরজগৎ। সৌরজগতের সদস্যরা হচ্ছে– সূর্য, গ্রহ, উপগ্রহ এবং অন্যান্য মহাকাশীয় পদার্থ। গ্রহগুলো সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে। সূর্য থেকে দূরত্ব অনুসারে গ্রহগুলোর নাম হচ্ছে– বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস ও নেপচুন। প্রত্যেক গ্রহের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে। অনেক গ্রহের উপগ্রহ রয়েছে যা তাদের চারপাশে ঘোরে। পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহের নাম চাঁদ।
সৌরজগতের গঠন কেমন?
কাজ ১: খেলার মাঠে দৌড়ের মাধ্যমে সৌরজগৎ সম্পর্কে ধারণা লাভ।
কী কী দরকার: খোলা মাঠ, গ্রহের নাম লেখা প্ল্যাকার্ড।
কী করতে হবে
১. নয় জন সহপাঠী নিয়ে একটি দল গঠন করি। ২. সূর্যের ভূমিকায় অভিনয় করার জন্য একজনকে দল থেকে লটারির মাধ্যমে বাছাই করি। তার হাতে সূর্য লেখা প্ল্যাকার্ড দেই। সূর্যের ভূমিকা নেওয়া বন্ধুটি একটি মাঠের ঠিক মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকবে। ৩. বাকি আট জন বন্ধুর প্রত্যেকে লটারির মাধ্যমে সৌরজগতের ৮টি গ্রহের নাম তুলবে। তাদের হাতে এক একটি গ্রহের নাম লেখা প্ল্যাকার্ড ধরা থাকবে। ৪. বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস, নেপচুন গ্রহের প্ল্যাকার্ডধারী সহপাঠীরা পরপর দাঁড়াই। প্ল্যাকার্ড উঁচু করে কল্পিত সূর্যের চারদিকে গোলাকার পথে দৌড়াই। ৫. দৌড়ের পরে সবাই একত্রিত হই এবং সবার কেমন লাগল তা নিয়ে আলোচনা করি। ● সূর্যকে একবার ঘুরে আসতে সবাই কি একই দূরত্ব অতিক্রম করেছে? একবার সূর্যকে ঘুরে আসতে কার সবচেয়ে বেশি দূরত্ব অতিক্রম করতে হয়েছিল?
Printed page 91
Figure: খেলার মাঠে সৌরজগৎ
লেবেল: মঙ্গল, পৃথিবী, শুক্র, সূর্য, বুধ, ইউরেনাস, শনি, বৃহস্পতি, নেপচুন বর্ণনা: কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রী গ্রহের নাম লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে একটি বৃত্তাকার পথে দৌড়াচ্ছে; কেন্দ্রে একজন সূর্যের ভূমিকায় দাঁড়িয়ে আছে। প্রতিটি প্ল্যাকার্ড একটি গ্রহের নাম বহন করছে।
● একবার ঘুরলে সব ছাত্রের কি একই সময় লেগেছিল? কার একবার ঘুরে শুরুর অবস্থানে ফিরে আসতে সবচেয়ে কম সময় লেগেছে?
Figure
লেবেল: সৌরজগতের সবগুলো গ্রহ কি একই রকম? ; গ্রহগুলোর কী কী বৈশিষ্ট্য রয়েছে? বর্ণনা: দুজন ছেলে ও মেয়ে একে অপরের দিকে তাকিয়ে কথা বলছে; তাদের উপরে দুটি কথার বুদবুদে প্রশ্ন লেখা।
কাজ ২: সৌরজগতের মডেল তৈরি করা।
কী কী দরকার: বিভিন্ন রঙের কাগজ, সাদা সুতা, কলম।
যা করতে হবে:
১. একটি সমান জায়গায় একটি কালো কাগজ রাখি।
Printed page 92
Figure
বর্ণনা: একটি কালো পটভূমিতে সূর্যের চারদিকে বৃত্তাকার কক্ষপথে বিভিন্ন রঙের গ্রহ সাজানো আছে। বাম নিচে একটি বড় হলুদ বৃত্ত (সূর্য), তার উপরে ক্রমান্বয়ে ছোট ছোট রঙিন গ্রহ; ডানদিকের উপরের গ্রহটির চারদিকে বলয় আছে।
| গ্রহের নাম | এমন বৈশিষ্ট যা অন্য গ্রহের নেই |
|---|---|
২. কালো কাগজের মাঝখানে সূর্য বোঝায় এমন একটি বড়ো গোল হলুদ কাগজ রাখি। ৩. বিভিন্ন রঙের রঙিন কাগজ কেটে সূর্যের চারপাশের গ্রহগুলো বোঝায় এমন আটটি বৃত্ত বানাই এবং এদের উপর নাম লিখি। ৪. যথেষ্ট লম্বা করে সাদা সুতা কাটি। প্রতিটি সুতা আঠা দিয়ে সমান ফাঁকে এবং একে অপরের সাথে সমান দূরে রেখে বৃত্ত তৈরি করি। এগুলো হলো কক্ষপথ। ৫. সূর্য থেকে দূরত্ব অনুযায়ী সাদা সুতার উপর বিভিন্ন গ্রহকে বসাই। ৬. একটি রঙিন কাগজে উপরের মতো করে ছক আঁকি এবং প্রতিটি গ্রহের এমন বৈশিষ্ট্য লিখি যা অন্য কোনো গ্রহে নাই।
Figure
লেবেল: সবচেয়ে বড়ো গ্রহ কোনটি? ; কোন গ্রহ সূর্য থেকে সবচেয়ে দূরে? বর্ণনা: দুজন ছেলে ও মেয়ে একে অপরের দিকে তাকিয়ে কথা বলছে; তাদের উপরে দুটি কথার বুদবুদে প্রশ্ন লেখা।
সারসংক্ষেপ
সৌরজগতের কেন্দ্রে রয়েছে সূর্য। সূর্যকে কেন্দ্র করে গ্রহগুলো ঘুরে। কাছের গ্রহগুলোর তুলনায় দূরের গ্রহগুলোর সূর্যের চারদিকে ঘুরে শুরুর অবস্থানে ফিরে আসতে বেশি সময় লাগে।
Printed page 93
সৌরজগতের গঠন সম্পর্কে আরও কিছু জানি...
আমরা জেনেছি সৌরজগতের কেন্দ্রে সূর্য অবস্থান করে। সূর্যকে কেন্দ্র করে আটটি গ্রহ এবং এদের উপগ্রহগুলো আবর্তিত হয়। এসো সৌরজগতের গ্রহগুলোর বৈশিষ্ট্য জেনে নিই।
বুধ: বুধ সূর্যের সবচেয়ে কাছের গ্রহ। সৌরজগতের সবচেয়ে ছোটো গ্রহ হলো বুধ। এর কোনো উপগ্রহ নেই। এর পৃষ্ঠতে রয়েছে পাথর, গর্ত এবং সমতল ভূমি । মাত্র ৮৮ দিনে এটি সূর্যের চারপাশে একবার ঘুরে আসে।
শুক্র: শুক্রের আকার এবং গঠন পৃথিবীর অনুরূপ। কিন্তু এর পরিবেশ একদম ভিন্ন। খুব ভারী এবং ঘন বায়ুমণ্ডল থাকার কারণে গ্রহটি তাপ ধরে রাখে। ফলে সৌরজগতের এই গ্রহের তাপমাত্রা সবচেয়ে বেশি। এর কোনো উপগ্রহ নেই। শুক্র গ্রহকে শুকতারা বা সন্ধ্যাতারাও বলে। সকালে শুকতারা পূর্ব আকাশে দেখা যায়, তখন একে বলি ভোরের তারা। আবার সন্ধ্যায় এটি থাকে পশ্চিম আকাশে, তখন তাকে বলি সন্ধ্যাতারা।
পৃথিবী: পৃথিবীই একমাত্র গ্রহ যেখানে তরল পানি আছে এবং এর পরিবেশ জীবদের বসবাসের উপযোগী। এর একমাত্র উপগ্রহ হলো চাঁদ। পৃথিবী ৩৬৫ দিনে একবার সূর্যের চারপাশে ঘুরে আসে। এই সময়কালকে আমরা বলি এক বছর।
মঙ্গল: মঙ্গলের পৃষ্ঠ কমলাভ-লাল বলে মঙ্গল গ্রহকে লাল গ্রহ হিসেবে নামকরণ করা হয়। অত্যন্ত ঠান্ডা এই গ্রহের পৃষ্ঠ দেখতে অনেকটা মরুভূমির মতো। মঙ্গল গ্রহ ৬৮৭ দিনে একবার সূর্যের চারপাশে ঘুরে আসে। মঙ্গলের বায়ুমণ্ডল খুব পাতলা। মঙ্গলের পৃষ্ঠের নিচে বরফ আছে। এই গ্রহের দুটি ছোটো উপগ্রহ রয়েছে।
বৃহস্পতি: আমাদের সৌরজগতের সবচেয়ে বড়ো গ্রহ। বৃহস্পতিতে গত কয়েকশত বছর যাবৎ সব সময় একটি সুবিশাল ঝড় ঘূর্ণায়মান রয়েছে। এই গ্রহের ৯৫টি উপগ্রহ আছে। এর মধ্যে চারটি উপগ্রহ সৌরজগতের সবচেয়ে বড়ো উপগ্রহ।
শনি: এটি সৌরজগতের দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রহ। শনির আছে একটি সুন্দর বলয় যেটি বরফ আর পাথরের খণ্ড দিয়ে তৈরি। এর ১৪৬টি উপগ্রহ রয়েছে।
Figure: মঙ্গল
লেবেল: আমাকে সবাই বলে লাল গ্রহ
Figure: শনি
লেবেল: বরফ আর পাথরের খণ্ড দিয়ে তৈরি রিং বর্ণনা: একটি বড় গোলাকার গ্রহ, যার চারদিকে একাধিক চ্যাপ্টা বলয় আছে। বলয় থেকে একটি রেখা গ্রহের দিকে নির্দেশ করছে।
Printed page 94
Figure
লেবেল: আমি তিন ভাগ জল আর এক ভাগ স্থলবেষ্টিত গ্রহ।; পৃথিবী; আমার রং নীল! আমি খুব ঠান্ডা; নেপচুন বর্ণনা: বাম পাশে নীল-সবুজ পৃথিবী, তার ওপরে বক্তব্য-বুদবুদ; ডান পাশে গাঢ় নীল নেপচুন, তার ওপরে বক্তব্য-বুদবুদ।
ইউরেনাস: এটি পাথরের উপর পানি, মিথেন এবং অ্যামোনিয়ার বরফ দিয়ে গঠিত। এটি সৌরজগতের তৃতীয় বৃহত্তম গ্রহ। এর বায়ুমন্ডলে থাকা মিথেন গ্যাসের কারণে ইউরেনাসকে দেখতে নীল মনে হয়। এই গ্রহের ২৮টি উপগ্রহ রয়েছে ।
নেপচুন: নেপচুন সূর্য থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী গ্রহ। এর গঠন ও বায়ুমন্ডল ইউরেনাসের মত। এটি দেখতেও ইউরেনাসের মতোই নীল। সৌরজগতের মধ্যে সবচেয়ে জোরে বায়ুপ্রবাহ এবং ঝড় হয় এই গ্রহে। নেপচুনের রয়েছে ১৬টি উপগ্রহ।
২. পৃথিবীর উপগ্রহ চাঁদ
সূর্যকে কেন্দ্র করে যেমন গ্রহরা ঘোরে, তেমনি গ্রহকে কেন্দ্র করে ঘোরে উপগ্রহ। উপগ্রহের আকার গ্রহ থেকে অনেক ছোটো। উপগ্রহ দুই প্রকার: প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম বা মানুষের পাঠানো। পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহ হলো চাঁদ।
কৃত্রিম উপগ্রহ হলো একটি মানুষের তৈরি বস্তু যা পৃথিবীর চারপাশে ঘোরে। এগুলো স্যাটেলাইট নামে পরিচিত। যোগাযোগ, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ, বৈজ্ঞানিক এবং সামরিক গবেষণাসহ বিভিন্ন কাজের জন্য এই স্যাটেলাইটগুলো মহাকাশে পাঠানো হয়। বাংলাদেশেরও একটি স্যাটেলাইট আছে যার নাম ‘বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১’।
চাঁদের আকৃতি কীভাবে পরিবর্তিত হয়?
কাজ: চাঁদ পর্যবেক্ষণ
যা করতে হবে:
১. আমরা বিভিন্ন সময়ে রাতের আকাশে কী কী আকৃতির চাঁদ দেখেছি, তা খাতায় আঁকি।
Printed page 95
Figure: চাঁদের বিভিন্ন আকৃতি
বর্ণনা: কালো পটভূমিতে চাঁদের আটটি আকৃতি দুই সারিতে সাজানো: উপরের সারিতে দুটি ক্রিসেন্ট (একটির বাম কিনারা আলোকিত, অন্যটির ডান কিনারা আলোকিত), একটি শুধু রূপরেখার বৃত্ত এবং একটি পূর্ণ সাদা বৃত্ত; নিচের সারিতে বাম দিক আলোকিত অর্ধবৃত্ত, ডান দিক আলোকিত অর্ধবৃত্ত, একটি দুই পাশে উত্তল আকৃতি এবং একটি ডিম্বাকার আকৃতি।
২. উপরের চিত্রের বিভিন্ন আকৃতির চাঁদের সাথে নিজের আঁকা চাঁদের চিত্রগুলো মিলাই।
৩. চিত্রে থাকা চাঁদের কোন আকৃতিগুলো আমরা দেখতে পেয়েছি এবং কোনগুলো দেখতে পাইনি, তা চিহ্নিত করি।
সারসংক্ষেপ
আমরা যদি রাতে ভালোভাবে চাঁদ দেখি তাহলে দেখতে পাব চাঁদের আকৃতি কখনো কখনো বড়ো এবং গোল। আবার কখনো কখনো তা ছোটো এবং অর্ধ-গোলাকার।
চাঁদের আকৃতি পরিবর্তন সম্পর্কে আরও কিছু জানি ...
চাঁদের উজ্জ্বল অংশের আকৃতি পরিবর্তনই হচ্ছে চাঁদের দশা। চাঁদের আটটি দশা বা পর্যায় রয়েছে। একটি অবস্থা থেকে শুরু করার পর প্রায় প্রতি ২৯.৫ দিনে চাঁদ ঠিক তার আগের অবস্থায় ফিরে যায়।
Figure: চাঁদের আটটি দশা
লেবেল: ক্রমশ হ্রাস পাওয়া ক্রিসেন্ট; অমাবস্যা; ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়া ক্রিসেন্ট; প্রথম চতুর্থাংশ; চাঁদের আলোকিত অংশের ক্রমশ বৃদ্ধি; পূর্ণিমা; চাঁদের আলোকিত অংশের ক্রমশ হ্রাস; শেষ চতুর্থাংশ বর্ণনা: কালো পটভূমিতে চাঁদের আটটি দশা একটি বৃত্তাকার পথে সাজানো; তীর দিয়ে দেখানো হয়েছে ক্রম: অমাবস্যা (উপরে মধ্যে), তারপর ডানদিকে ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়া ক্রিসেন্ট, প্রথম চতুর্থাংশ, চাঁদের আলোকিত অংশের ক্রমশ বৃদ্ধি, পূর্ণিমা (নিচে মধ্যে), তারপর চাঁদের আলোকিত অংশের ক্রমশ হ্রাস, শেষ চতুর্থাংশ, এবং ক্রমশ হ্রাস পাওয়া ক্রিসেন্ট, ফিরে অমাবস্যায়।
Printed page 96
অমাবস্যা: এ সময় চাঁদের যে দিকটি পৃথিবীর দিকে থাকে সে দিকটি সম্পূর্ণ ছায়ায় ঢেকে যায়। ফলে পৃথিবী থেকে চাঁদ দেখা যায় না। যখন চাঁদ পৃথিবী এবং সূর্যের মধ্যে অবস্থান করে, তখন এটি ঘটে।
ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়া ক্রিসেন্ট: অমাবস্যার পরে চাঁদের পৃষ্ঠ ধীরে ধীরে আরও বেশি উজ্জ্বল হয়। একে বলে ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়া ক্রিসেন্ট।
প্রথম চতুর্থাংশ: চাঁদ যখন পৃথিবীর চারপাশে তার কক্ষপথের প্রায় এক-চতুর্থাংশ ঘুরে আসে, তখন চাঁদের ভূমির অর্ধেক আলোকিত হয়। ফলে চাঁদকে অর্ধ-গোলাকার আকৃতির দেখায়।
আলোকিত অংশের ক্রমশ বৃদ্ধি: প্রথম চতুর্থাংশের পরে ধীরে ধীরে চাঁদের পৃষ্ঠের অর্ধেকেরও বেশি আলোকিত হয়ে যায়।
পূর্ণিমা: এ সময় চাঁদ সম্পূর্ণ আলোকিত হয় এবং পৃথিবী থেকে চাঁদকে পুরোপুরি গোলাকার দেখা যায়। পূর্ণিমার সময় পৃথিবী সূর্য এবং চাঁদের মাঝখানে অবস্থান করে।
পরবর্তী পর্যায়গুলো হলো: আলোকিত অংশের ক্রমশ কমে যাওয়া, শেষ চতুর্থাংশ এবং ক্রমশ কমে যাওয়া ক্রিসেন্ট। এভাবে এই পর্যায়গুলো একের পর এক ঘটতে থাকে যা পুরোপুরি সম্পূর্ণ হতে প্রায় ২৯.৫ দিন সময় লাগে। এটি চান্দ্রমাস নামে পরিচিত।
পূর্ণিমা এবং অমাবস্যা কীভাবে হয়?
কাজ: পূর্ণিমা এবং অমাবস্যার মডেল তৈরি করা।
কী কী দরকার: বিভিন্ন রঙের কাগজ, সাদা সুতা, কলম।
কী করতে হবে:
Figure
লেবেল: দিন; রাত; পৃথিবী; ১; ২; ৩; ৪ বর্ণনা: বাম পাশে একটি বড়ো হলুদ বৃত্ত (সূর্য)। ডান পাশে একটি সবুজ বৃত্ত (পৃথিবী), যাকে ঘিরে একটি সাদা বৃত্তাকার কক্ষপথ; কক্ষপথের চারটি স্থান ১, ২, ৩ ও ৪ চিহ্নিত। পৃথিবীর বাম অংশে "দিন" এবং ডান অংশে "রাত" লেখা।
Printed page 97
১. একটি সমতল পৃষ্ঠে কালো রঙের কাগজ রাখি।
২. কালো রঙের কাগজের ঠিক মাঝখানে সূর্য নির্দেশ করে এমন একটি গোলাকার কমলা রঙের কাগজ রাখি।
৩. সবুজ রঙের কাগজ গোল করে কেটে সূর্যের পার্শে রাখি এবং মনে করি এটা পৃথিবী।
৪. যথেষ্ট লম্বা করে সাদা সুতা কাটি। আঠা দিয়ে পৃথিবীর চারদিকে বৃত্ত তৈরি করি। এগুলো হলো কক্ষপথ।
৫. হলুদ রঙের কাগজ গোল করে কেটে দুটি চাঁদ বানাই এবং একটির উপর লিখি পূর্ণিমা এবং অন্যটির উপর লিখি অমাবস্যা।
৬. চাঁদকে কক্ষপথের ১,২,৩ এবং ৪ চিহ্নিত স্থানগুলোর মধ্যে সঠিক স্থানে রেখে পূর্ণিমা এবং অমাবস্যার জন্য দুটি মডেল তৈরি করি।
৭. মডেল দেখে নিচের প্রশ্নগুলো নিয়ে ভাবি ছকে নিচের প্রশ্ন দুটির উত্তর লিখি।
- পূর্ণিমার সময় চাঁদকে কেন আলোকিত দেখায়?
- অমাবস্যায় চাঁদকে কেন অন্ধকার দেখায়?
Figure
লেবেল: চাঁদের পূর্ণিমা ও অমাবস্যা মূলত কীসের উপর নির্ভর করে?; সূর্য ও পৃথিবীর সাপেক্ষে চাঁদের অবস্থানের উপর! বর্ণনা: দুজন শিশু পাশাপাশি কথা বলছে; বাম পাশের ছেলেটি প্রশ্ন করছে, ডান পাশের মেয়েটি উত্তর দিচ্ছে।
সারসংক্ষেপ
অমাবস্যার সময় চাঁদ, সূর্য এবং পৃথিবীর মাঝখানে থাকে। এই অবস্থানে চাঁদের আলোকিত অংশটি পৃথিবী থেকে দেখা যায় না। পূর্ণিমার সময় পৃথিবী, সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে থাকে। এ সময় চাঁদের সম্পূর্ণ আলোকিত অংশটি পৃথিবী থেকে দেখা যায়।
Printed page 98
চাঁদ কীভাবে আলোকিত হয়?
আমরা কি কখনো রাতের আকাশের দিকে তাকিয়ে ভেবে দেখেছি চাঁদের সুন্দর আলোর পিছনে কী রহস্য লুকিয়ে আছে? আকাশে কেন এটি এত উজ্জ্বলভাবে জ্বলছে? এটার কি নিজস্ব আলো আছে?
কাজ : চাঁদ আলোকিত হওয়ার কারণ অনুধাবন।
যা করতে হবে:
Figure
লেবেল: জোনাকি পোকা; ফড়িং; বাল্ব; আয়না; সূর্য; পৃথিবী; টর্চ লাইট; উজ্জ্বল পাথর বর্ণনা: আটটি বস্তুর ছবি সাজানো আছে: জোনাকি পোকা একটি পাতার উপর, একটি ফড়িং, একটি বাল্ব, একটি আয়না, একটি সূর্য, একটি পৃথিবী, একটি জ্বলন্ত টর্চ লাইট এবং একটি উজ্জ্বল পাথর।
১. নিচের ছকের মতো একটি ছক আঁকি।
| আলো উৎপন্ন করে | আলো উৎপন্ন করে না |
|---|---|
২. উপরের ছবিগুলো দেখি।
৩. এদের মধ্যে কারা নিজেরা আলো তৈরি করে এবং কারা নিজেরা আলো তৈরি করে না, তা ছকে লিখি।
৪. নিচের প্রশ্নটি নিয়ে দলে আলোচনা করি: যারা আলো তৈরি করে না, তাদের কেন আমরা দেখতে পাই?
Printed page 99
সারসংক্ষেপ
কিছু পদার্থ আলো তৈরি করে। কিছু পদার্থ নিজস্ব আলো উৎপন্ন করে না। তবু আমরা এদের দেখতে পাই কারণ তারা অন্যের আলোকে প্রতিফলিত করে।
চাঁদ কীভাবে আলোকিত হয় সে সম্পর্কে আরও কিছু জানি...
চাঁদের এর নিজের কোনো আলো নেই; এটি আলোর জন্য সূর্যের উপর নির্ভরশীল। সূর্যকে আকাশে একটি বিশাল টর্চলাইট হিসেবে কল্পনা করা যায়। চাঁদের উপরিভাগ পাথর এবং ধুলো দ্বারা আবৃত, যা আয়নার মতো সূর্যের আলোকে প্রতিফলিত করে। পৃথিবীর দিকে সেই আলো ফিরে আসে। এই কারণে আমরা রাতের আকাশে চাঁদ দেখতে পাই। সূর্য চাঁদের একপাশ আলোকিত করলেও সূর্যের বিপরীত দিকে থাকা চাঁদের অংশটি সব সময় অন্ধকার থাকে।
এখন ভেবে দেখি তো, আমরা যদি চাঁদে থাকতাম, তবে সেখান থেকে কি পৃথিবীকে দেখতে পেতাম? অবশ্যই, চাঁদের মতোই পৃথিবীও সূর্যের আলো কিছুটা প্রতিফলিত করে। ফলে চাঁদ থেকে পৃথিবীকে দেখা যায়।
Figure: চাঁদের আকাশে পৃথিবীর উদয় হয়েছে
লেবেল: পৃথিবী; চাঁদের পৃষ্ঠ বর্ণনা: চাঁদের পৃষ্ঠ থেকে তোলা ছবি; নিচের অংশে ধূসর চাঁদের পৃষ্ঠ এবং উপরের বাম দিকে নীল-সবুজ পৃথিবী দেখা যাচ্ছে, পেছনে তারার আলো।
চাঁদের উপরিভাগে কী কী আছে?
কাজ : চাঁদের পৃষ্ঠটি কী দ্বারা গঠিত তা কাছে থেকে তোলা ছবি হতে পর্যবেক্ষণ।
যা করতে হবে: চাঁদের উপরিভাগের ছবিগুলো ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করি।
Printed page 100
Figure
লেবেল: উচ্চভূমি; সমতল ভূমি বর্ণনা: দূর থেকে তোলা চাঁদের গোলাকার ছবি; বাম দিকে দুটি তীর সমতল ভূমির অংশের দিকে, ডান দিকের উপরের একটি তীর উচ্চভূমির দিকে নির্দেশ করছে।
Figure
লেবেল: গর্ত বর্ণনা: কাছে থেকে তোলা চাঁদের পৃষ্ঠের ছবি; মাঝখানে একটি বড়ো গোলাকার গর্ত, তীর দিয়ে চিহ্নিত।
Figure
লেবেল: বালু বর্ণনা: কাছে থেকে তোলা চাঁদের পৃষ্ঠের ছবি; পৃষ্ঠের উপর ছড়ানো বালুর স্তর, তীর দিয়ে চিহ্নিত।
দূর থেকে তোলা ছবি কাছে থেকে তোলা ছবি
চাঁদের উপরিভাগের সাথে পৃথিবীর উপরিভাগের পার্থক্যগুলো নিচের ছকে লিখি।
| চাঁদ | পৃথিবী |
|---|---|
সারসংক্ষেপ
কাছে থেকে দেখলে চাঁদের পৃষ্ঠটিতে বিভিন্ন আকারের গর্ত দেখা যায়, যা পৃথিবীতে নেই। এছাড়া চাঁদের পৃষ্ঠে বালুর স্তর রয়েছে। পৃথিবীর মতো চাঁদে বাতাস আর পানি নেই। তাই চাঁদে গাছপালাও নেই।
কাজ : চাঁদের পৃষ্ঠটি কী দিয়ে তৈরি তা দূর থেকে পর্যবেক্ষণ।
যা করতে হবে:
চাঁদের উপরিভাগের ছবিটি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করি।
Figure
লেবেল: উচ্চভূমি; সমতল ভূমি বর্ণনা: দূর থেকে তোলা চাঁদের ছবি; উপরের ডান দিকে একটি গোলাপি তীর উচ্চভূমির দিকে, এবং নিচের বাম দিকে দুটি গোলাপি তীর সমতল ভূমির দিকে নির্দেশ করছে।
দূর থেকে তোলা চাঁদের ছবি
Printed page 101
সহপাঠীর সাথে আলোচনা করি এবং চাঁদের উজ্জ্বলতা সব জায়গায় সমান কি না তা লক্ষ করে নিচের ছকে লিখি।
১.
২.
Figure
লেবেল: কেন চাঁদের কিছু অংশ বেশি উজ্জ্বল আর কিছু অংশ কম উজ্জ্বল দেখা যায়?; বেশি উজ্জ্বল অংশ পাওয়া যায় চাঁদের উচ্চ ভূমির জন্য হয়। কম উজ্জ্বল অংশ পাওয়া যায় চাঁদের সমতল ভূমির জন্য। বর্ণনা: দুজন শিশু পাশাপাশি কথা বলছে; বাম পাশের ছেলেটি প্রশ্ন করছে, ডান পাশের মেয়েটি উত্তর দিচ্ছে।
সারসংক্ষেপ
খালি চোখে পূর্ণিমার চাঁদের দিকে তাকালে দেখা যায় চাঁদের উজ্জ্বল অংশের পাশাপাশি কম উজ্জ্বল অংশও রয়েছে। চাঁদের দিকে তাকালে যে কম উজ্জ্বল অংশ দেখা যায়, যাকে আমরা বলি চাঁদের কলঙ্ক।
দূর থেকে পুরো চাঁদকে দেখলে এর গায়ে হালকা ও গাঢ় দুই রঙের অঞ্চল দেখা যায়। চাঁদের পৃষ্ঠের হালকা রঙের জায়গাগুলো হলো উচ্চভূমি। চাঁদের পৃষ্ঠের অন্ধকার জায়গাগুলো হলো সমতল ভূমি।
পৃথিবীর উপগ্রহ চাঁদ সম্পর্কে আরও কিছু জানি ...
বহু বছর ধরে মহাকাশ থেকে উল্কা এবং অন্যান্য মহাজাগতিক বস্তু চাঁদের গায়ে প্রবল বেগে পড়েছে। ফলে বিভিন্ন আকারের গর্তগুলো তৈরি হয়েছে। সেই সাথে উৎপন্ন হয়েছে বিশেষ ধরনের বালু, যাকে রেগোলিথ বলা হয়। এটি চাঁদের পৃষ্ঠকে ধুলোময় ময়লার একটি স্তরের মতো ঢেকে রাখে। চাঁদ এবং পৃথিবীর পৃষ্ঠের মধ্যে আরো একটি বড়ো পার্থক্য হলো চাঁদে কোনো পানি পাওয়া যায় না। চাঁদে পৃথিবীর মতো বাতাস এবং বৃষ্টিপাত নেই। আমাদের পৃথিবীতে যেমন পাথর আছে, চাঁদেরও তা আছে।
দূর থেকে তোলা চাঁদের ছবিতে হাল্কা রঙের অঞ্চলগুলো হলো উচ্চভূমি। এরা চাঁদের পৃষ্ঠের বেশিরভাগ অংশ তৈরি করে। এই অঞ্চলগুলো অ্যালুমিনিয়াম এবং ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ এক ধরনের শিলা দিয়ে গঠিত, যাতে আলো ভালোভাবে প্রতিফলিত হয়।
চন্দ্রপৃষ্ঠ জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ‘মারিয়া’ নামক কালো, মসৃণ সমভূমি। এখানকার শিলা প্রাচীন আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত হতে তৈরি। আশপাশের উচ্চভূমির তুলনায় এখানে থাকা বালু কম প্রতিফলন করে বলে এদের তুলনামূলকভাবে কালো দেখায়।
Printed page 102
Loading the rest of the chapter…
Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.
Trusted resources
Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.