Skip to content

Primary Science chapter 9: Weather

আবহাওয়া

  • Primary Science
  • Textbook pages 109-125
  • 1 source
  • 23,728 characters of context

Textbook (verbatim transcription): Weather

Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.

Contents15

Printed page 109

অধ্যায় ৯

আবহাওয়া

দিনের শুরুতেই আমরা আমাদের দৈনন্দিন কাজের পরিকল্পনা করে থাকি। আমরা কী ধরনের পোশাক পরব, ছাতা প্রয়োজন কি না অথবা শীতের কাপড় নিতে হবে কি না তা কী দেখে ঠিক করি? এ কাজগুলোর বিষয়ে সাধারণত ঐ দিনের আবহাওয়া দেখে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকি।

১. আবহাওয়া

প্রকৃতিতে কখনো গরম, কখনো ঠান্ডা, কখনো অঝোর ধারায় বৃষ্টি আবার কখনো ঝড়ো হাওয়া দেখা যায়। কোনো স্থানে একটি দিনে প্রকৃতির এ অবস্থাগুলোকে আবহাওয়া বলা হয়।

আজকের দিনটি কেমন তা আমরা কীভাবে বুঝি?

Figure: রৌদ্রোজ্জ্বল দিন

বর্ণনা: গ্রামের দৃশ্যে আকাশ রৌদ্রোজ্জ্বল; সূর্য দেখা যাচ্ছে, একজন মানুষ মাথার ওপর ছাতা ধরে রাস্তায় হাঁটছেন।

Figure: বৃষ্টির দিন

বর্ণনা: একই গ্রামের দৃশ্যে আকাশ মেঘলা এবং বৃষ্টি পড়ছে; একজন মানুষ ছাতা মাথায় হাঁটছেন।

Figure: শীতের দিন

বর্ণনা: একই গ্রামের দৃশ্যে ফ্যাকাশে আকাশ; দুজন মানুষ কাঁধে বাঁক নিয়ে হাঁটছেন।

Printed page 110

কাজ: ছবি দেখে আবহাওয়া চিনি

যা করতে হবে:

উপরের ছবি থেকে ঐ দিনের আবহাওয়া কেমন ছিল তা পর্যবেক্ষণ করে নিচের ছকটি পূরণ করি-

ছবিতে আবহাওয়া কেমন
১ নং ছবি২ নং ছবি৩ নং ছবি
● প্রখর সূর্যতাপ
● পরিষ্কার আকাশ

সারসংক্ষেপ

আবহাওয়া হলো নির্দিষ্ট স্থানে কোনো নির্দিষ্ট দিনের আকাশের অবস্থা, বায়ুর তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বৃষ্টিপাত, বায়ুপ্রবাহ ইত্যাদির সামগ্রিক প্রকাশ।

২. আবহাওয়ার প্রতীক

আমরা রেডিয়ো, টেলিভিশন ও খবরের কাগজ থেকে আবহাওয়ার খবর পেয়ে থাকি। এছাড়াও আমরা স্মার্টফোন বা কম্পিউটার থেকেও প্রতিদিনের আবহাওয়ার খবর জানতে পারি। আবহাওয়ার খবরে কী বলা হয়? এগুলো এরকম হতে পারে- 'দিনের তাপমাত্রা বাড়তে পারে' বা 'হাল্কা/ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে' বা 'হালকা কুয়াশা থাকতে পারে' অথবা 'দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাবে'।

ভিন্ন ভিন্ন প্রতীকের মাধ্যমে আবহাওয়ার বিভিন্ন অবস্থা বোঝানো হয়। এবার সেগুলো দেখে চিনে নিই-

Figure

লেবেল: রৌদ্রোজ্জ্বল, আংশিক মেঘাচ্ছন্ন, বর্ষণমুখর, বজ্রবৃষ্টি বর্ণনা: চারটি প্রতীক পাশাপাশি সাজানো আছে। প্রথমটি হলুদ সূর্য; দ্বিতীয়টিতে সূর্যের সামনে নীল মেঘ; তৃতীয়টি নীল মেঘ থেকে বৃষ্টির ফোঁটা পড়ছে; চতুর্থটি গাঢ় মেঘ থেকে বৃষ্টির ফোঁটা ও বিদ্যুৎচমক দেখানো হয়েছে।

প্রতীকের মাধ্যমে আমরা কীভাবে আবহাওয়ার অবস্থা শনাক্ত করব?

কাজ: আবহাওয়ার অবস্থা শনাক্তকরণ

Printed page 111

যা করতে হবে:

নিচের ছকে দেওয়া প্রতীক ও তাপমাত্রা দেখে আবহাওয়ার অবস্থা শনাক্ত করে লিখি।

কাজটি নিয়ে সহপাঠীর সাথে আলোচনা করি।

Figure

বর্ণনা: ছকের প্রথম সারিতে আংশিক মেঘাচ্ছন্ন আকাশের প্রতীক এবং একটি থার্মোমিটার; দ্বিতীয় সারিতে বৃষ্টিপাতের প্রতীক এবং একটি থার্মোমিটার; তৃতীয় সারিতে রৌদ্রোজ্জ্বল প্রতীক এবং একটি থার্মোমিটার। প্রতিটি থার্মোমিটারে সেলসিয়াস ও ফারেনহাইট স্কেল আছে এবং পারদ লাল রঙে দেখানো হয়েছে।

প্রতীকতাপমাত্রাআবহাওয়ার বর্ণনা
● আকাশ আংশিক মেঘাচ্ছন্ন।
● দিনে গরম অনুভূত হবে।

সারসংক্ষেপ

আমরা বিভিন্ন মাধ্যম থেকে আবহাওয়ার পূর্বাভাস পেয়ে থাকি। এই পূর্বাভাস জানাতে আবহাওয়া অফিস বিভিন্ন প্রতীক ব্যবহার করে।

Printed page 112

৩. আবহাওয়ার উপাদান

আবহাওয়ার উপাদান বলতে আমরা বুঝি আমাদের চারপাশের কোন কোন বিষয়গুলো আবহাওয়াকে প্রভাবিত করে। এই উপাদানগুলো হলো প্রধানত তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত, অক্ষাংশ, দ্রাঘিমাংশ, বায়ুর চাপ, মেঘের অবস্থান ইত্যাদি। এই উপাদানগুলোর মধ্যে তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বায়ুপ্রবাহ ও বৃষ্টিপাত নিয়ে আলোচনা করব। আবহাওয়ার উপাদানগুলোর বিভিন্ন অবস্থা অনুযায়ী আবহাওয়া কেমন হবে তা জানা যায়।

আবহাওয়ার উপাদানগুলো কী কী?

কাজ: আবহাওয়ার উপাদান খুঁজে বের করি।

যা করতে হবে:

১। বামপাশের বাক্যাংশের সাথে ডানপাশের সঠিক বাক্যাংশটি দাগ টেনে মিলাই।

ঘটনাকেন ঘটে?
১। আমাদের গরম লাগেআর্দ্রতা বাড়লে
২। আমরা ঘেমে যাইতাপমাত্রার পার্থক্য হলে
৩। ঠোঁট ফেটে যায়বর্ষাকালে
৪। ভেজা কাপড় দেরিতে শুকায়তাপমাত্রা বাড়লে
৫। বায়ু প্রবাহিত হয়শীতকালে

সারসংক্ষেপ

বায়ুর তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে আমরা ঠান্ডা বা গরম অনুভব করি। বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকলে শীতকালে আমাদের হাত, পা, ঠোঁটের চামড়া ফেটে যায়। আবার আর্দ্রতা বেড়ে গেলে আমরা ঘেমে যাই, বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা বাড়ে। বায়ুপ্রবাহের গতি থেকে আমরা ঝড়ের পূর্বাভাস জানতে পারি।

আবহাওয়ার উপাদান সম্পর্কে আরও কিছু জানি...

তাপমাত্রা

আমরা প্রতিদিন একই রকম ঠান্ডা বা গরম অনুভব করি না। বাতাস কতটা ঠান্ডা বা গরম তার ভিত্তিতেই আমাদের ঠান্ডা বা গরম লাগে। কোনো সময় বাতাস কতটা ঠান্ডা বা গরম, তাই ঐ সময়ের তাপমাত্রা।

Printed page 113

Figure

লেবেল: পূর্ব, পশ্চিম বর্ণনা: আকাশে সূর্যের গতিপথ একটি বাঁকা চাপ হিসেবে দেখানো হয়েছে; বাঁ দিকে পূর্বে সূর্য উঠছে এবং ডান দিকে পশ্চিমে অস্ত যাচ্ছে। নিচে একটি গ্রামের দৃশ্যে ঘর, গাছ, নদী ও মাঠ আঁকা আছে।

একই দিনের সকালবেলা ঠান্ডা এবং দুপুরটা বেশ গরম হতে পারে। তোমরা কি জানো কেন এমন হয়ে থাকে? সকালবেলা সূর্য উঠলে তাপমাত্রা বেড়ে আবহাওয়া ধীরে ধীরে গরম হতে থাকে। আবার সন্ধ্যায় সূর্য যখন অস্ত যায় তখন তাপমাত্রা কমে পরিবেশ ধীরে ধীরে ঠান্ডা হয়। তাপমাত্রা যত বেশি হবে তত বেশি জলীয় বাষ্প উৎপন্ন হয়। এই জলীয়বাষ্প পরবর্তী সময়ে প্রচুর মেঘ উৎপন্ন করে। তাপমাত্রা প্রকাশ করা হয় সেলসিয়াস (∘{}^\circC) দিয়ে।

আর্দ্রতা

বাতাসে যখন জলীয়বাষ্পের পরিমাণ কম থাকে তখন সেটি বাতাসের শুষ্ক অবস্থা। যখন এর পরিমাণ বেশি থাকে তখন সেটি বাতাসের আর্দ্র অবস্থা। বাতাসের জলীয় বাষ্পের উপস্থিতিই হলো আর্দ্রতা। বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকলে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকলে কাপড় তাড়াতাড়ি শুকায়, আমাদের ঠোঁট ও চামড়া ফেটে যায়। আর্দ্রতার পরিমাপ শতকরা (%) হারে প্রকাশ করা হয়। সাধারণত আর্দ্রতা ৯০%- এর বেশি হলে বৃষ্টিপাত ঘটে।

বৃষ্টিপাত

জলীয় বাষ্প আকাশে মেঘ হয়ে ভেসে বেড়ায়। তাপমাত্রা ও বায়ু চাপের প্রভাবে ঠান্ডা হয়ে এই মেঘ বৃষ্টি হয়ে ভূপৃষ্ঠে নেমে আসে। বৃষ্টি, তুষার, শিশির, শিলাবৃষ্টি সবকিছুই বৃষ্টিপাত হিসেবে গণ্য করা হয়। বৃষ্টিপাতের পরিমাপ মিলিমিটারে (mm\text{mm}) প্রকাশ করা হয়।

বায়ুপ্রবাহ

পতাকা বা গাছের পাতার নড়াচড়া দেখে বুঝতে পারি যে বাতাস বইছে বা বায়ু প্রবাহিত হচ্ছে। আমরা বাতাস দেখতে পাই না। কিন্তু বাতাস বইলে তা বোঝা যায়। বায়ুপ্রবাহ হলো বায়ুর সচল অবস্থা। বায়ু কখনো ধীরে আবার কখনো তীব্র বেগে প্রবাহিত হয়। বায়ুপ্রবাহকে এর দিক ও গতি দ্বারা বিবেচনা করা যায়।

Printed page 114

Figure: বাতাসে পতাকা উড়ছে

বর্ণনা: একটি সবুজ পতাকায় লাল বৃত্ত আঁকা আছে; পতাকাটি বাতাসে উড়ছে এবং খুঁটির সাথে লাগানো।

Figure: ঝড়ো বাতাসে গাছের পাতা নড়ছে

বর্ণনা: একটি নারিকেল বা খেজুর জাতীয় গাছ বাঁকা হয়ে আছে এবং পাতাগুলো বাতাসে উড়ছে; পেছনে নীল আকাশ।

৪. আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে সম্পর্ক

ইতোমধ্যেই আমরা আবহাওয়ার উপাদানগুলো কী তা জেনেছি। মূলত উপাদানগুলোর অবস্থার পরিবর্তন হলেই আবহাওয়ার পরিবর্তন হয়।

আবহাওয়ার উপাদানগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক কী?

কাজ: আবহাওয়ার উপাদানগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ণয় করি।

যা করতে হবে:

১। বামপাশের বাক্যের সাথে ডানপাশের সঠিক বাক্যটি দাগ টেনে মিলাই।

ঘটনাকী ঘটে?
১। বায়ুর তাপমাত্রা বৃদ্ধিতাপমাত্রা কমে যায়
২। আর্দ্রতা বৃদ্ধিমেঘ তৈরি হয়
৩। বায়ু প্রবাহ বৃদ্ধিবৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা
৪। বৃষ্টিপাত হলেঝড়ের সম্ভাবনা

সারসংক্ষেপ

আবহাওয়ার উপাদানগুলো পরস্পর নির্ভরশীল। একটি উপাদানের হ্রাস-বৃদ্ধি হলে অন্য উপাদানের উপর তার প্রভাব পড়ে। আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাদানের পারস্পরিক ক্রিয়ার ফলেই সামগ্রিক আবহাওয়া বোঝা যায়।

Printed page 115

আবহাওয়ার উপাদানের পারস্পরিক সম্পর্ক বিষয়ে আরও কিছু জানি...

তাপমাত্রার প্রভাবে বাতাসে আর্দ্রতা কম-বেশি হয়। আবার যখন ভূপৃষ্ঠের কোনো অঞ্চল অন্য অঞ্চল থেকে বেশি গরম হয় তখন সে স্থানের বায়ু হাল্কা হয়ে উপরে উঠে যায়। ফলে সেখানে বায়ুশূন্যতা সৃষ্টি হয় ও বায়ুর চাপ কমে যায়। আশপাশের এলাকার বায়ু দ্রুতবেগে ঐ শূন্যতা পূরণ করে। এভাবে তাপমাত্রার পার্থক্যের ফলে বায়ু প্রবাহিত হয়। তাপমাত্রার প্রভাবে বায়ুপ্রবাহের দিকও পরিবর্তন হয়। যেমন দিনের বেলায় সমুদ্রের বাতাস অপেক্ষাকৃত শীতল থাকে। সমুদ্র থেকে এই শীতল বাতাস স্থলভাগের দিকে প্রবাহিত হয়। এতে স্থলভাগ শীতল হয়। রাতের বেলায় স্থলভাগের বাতাস শীতল থাকে। এই শীতল বাতাস সমুদ্রের দিকে প্রবাহিত হয় এবং সমুদ্রের গরম বাতাস স্থলভাগের দিকে প্রবাহিত হয়। ফলে রাতে গরম অনুভূত হয়। মাঝে মাঝে বায়ুপ্রবাহ অনেক শক্তিশালী হয়ে ঝড় বা ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি করে। বায়ুপ্রবাহ জলীয়বাষ্পকে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় বয়ে নিয়ে যায়। তাই বায়ুপ্রবাহ কখনো বৃষ্টিপাত ঘটায় অথবা মেঘ সরিয়ে আকাশ পরিষ্কার করে। আর্দ্রতা বেশি হলে সহজেই মেঘ থেকে বৃষ্টি অথবা শিশির তৈরি করে।

তাপমাত্রা যত বাড়ে নদ-নদী, সমুদ্র, খাল-বিল এবং হুদ থেকে তত বেশি পানি জলীয় বাষ্পে পরিণত হয়। এই জলীয় বাষ্পই মেঘ হয় ও পরবর্তী সময়ে বৃষ্টি হয়ে নামে। তাই তাপমাত্রা বাড়লে বৃষ্টিপাত বাড়ে।

Figure: দিনের বেলা সমুদ্র তীরবর্তী এলাকায় বায়ুপ্রবাহ

লেবেল: উষ্ণ বাতাস, শীতল সমুদ্র বাতাস, দিন, উষ্ণ জমি, সমুদ্র শীতল বর্ণনা: একটি বৃত্তাকার তীরচিহ্ন দেখানো হয়েছে; উপরের অংশে উষ্ণ বাতাস সমুদ্র থেকে জমির দিকে এবং নিচের অংশে শীতল সমুদ্র বাতাস জমি থেকে সমুদ্রের দিকে প্রবাহিত হচ্ছে। বাঁ দিকে সূর্য, নিচে জমি ও ডান দিকে সমুদ্র আঁকা আছে।

Figure: রাতের বেলা সমুদ্র তীরবর্তী এলাকায় বায়ুপ্রবাহ

লেবেল: রাত, উষ্ণ বাতাস, শীতল জমির বাতাস, শীতল জমি, সমুদ্র উষ্ণ বর্ণনা: একটি বৃত্তাকার তীরচিহ্ন দেখানো হয়েছে; উপরের অংশে উষ্ণ বাতাস সমুদ্র থেকে জমির দিকে এবং নিচের অংশে শীতল জমির বাতাস জমি থেকে সমুদ্রের দিকে প্রবাহিত হচ্ছে। বাঁ দিকে চাঁদ, নিচে শীতল জমি ও ডান দিকে সমুদ্র আঁকা আছে।

Printed page 116

Loading the rest of the chapter…

Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.

Trusted resources

Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.