Skip to content

Amar Bangla Boi chapter 6: Sukhu and Dukhu

সুখু আর দুখু

  • Amar Bangla Boi
  • Textbook pages 32-37
  • 1 source
  • 7,952 characters of context

Textbook (verbatim transcription): Sukhu and Dukhu

Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.

Contents3

Printed page 32

পাঠ ৬

সুখু আর দুখু

দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার

এক ছিল তাঁতি। তাঁর দুই মেয়ে। বড়ো মেয়ের নাম সুখু। আর ছোটো মেয়ের নাম দুখু। বড়ো মেয়ে ঘরের কোনো কাজ করে না। শুধু বসে বসে খায়। দুখু ঘরের সব কাজ করে। সময় পেলে বাবার জন্য সুতা কেটে দেয়।

একদিন দুখু তুলা রোদে দিয়ে উঠানে বসে আছে। এমন সময়ে দমকা বাতাস এসে দুখুর তুলা উড়িয়ে নিয়ে গেল। দুখু মনের দুঃখে কাঁদতে লাগল।

তখন বাতাস বলল, ‘দুখু, কেঁদো না। আমার সাথে এসো। তোমাকে তুলা দেবো।’

Printed page 33

দুখু কাঁদতে কাঁদতে বাতাসের পিছু পিছু গেল।

যেতে যেতে একটা কলাগাছের সাথে দেখা হলো। কলাগাছ বলল, ‘দুখু, কোথায় যাচ্ছ? আমাকে অনেক লতাপাতা ঘিরে ধরেছে। এগুলোকে একটু সরিয়ে দিয়ে যাবে?’

কলাগাছের কথা শুনে দুখু থামল। তারপর কলাগাছের গায়ে থাকা লতাপাতা সরিয়ে দিলো।

খানিক দূর যেতেই এক ঘোড়া দুখুকে ডাকল। বলল, ‘দুখু, কোথায় যাচ্ছ? আমাকে কিছু কচি ঘাস দিয়ে যাবে?’

ঘোড়ার কথা শুনে দুখু দাঁড়াল। কচি ঘাস কেটে ঘোড়াকে খেতে দিলো। তারপর বাতাসের সাথে চলতে লাগল।

চলতে চলতে দুখু ধবধবে সাদা একটা বাড়িতে গিয়ে হাজির হলো। সেই বাড়ির দাওয়ায় বসে এক বুড়ি চরকা কাটছে। গায়ে সাদা শাড়ি। চুলগুলোও দুধের মতো সাদা।

বাতাস বলল, ‘দুখু, তুমি বুড়ির কাছে যাও। তার কাছে তুলা চাও, পাবে।’

দুখু তখন বুড়ির কাছে গেল। নরম গলায় বলল, ‘বুড়ি মা, তুমি কেমন আছ?’

বুড়ি তাকিয়ে দেখে, ছোট্ট একটা মেয়ে। কী মিষ্টি তার কথা! বুড়ি বলল, ‘ভালো আছি, বাছা। ডাকছ কেন?’

দুখু বলল, ‘আমার সব তুলা বাতাস উড়িয়ে তোমার কাছে এনেছে!’

বুড়ি বলল, ‘ও ঘরে গামছা আছে, কাপড় আছে। ওগুলো নিয়ে ওই পুকুরে ডুব দিয়ে এসো। তারপর এই ঘরে খাবার আছে, খাও। এরপর তুলা নিয়ো।’

ঘরে গিয়ে দুখু দেখে কত দামি দামি গামছা, কাপড়। কিন্তু সে লোভ করল না। সাধারণ একটা গামছা আর একটা কাপড় নিল। তারপর পুকুরে ডুব দিতে গেল।

কিন্তু কী অদ্ভুত! একটা ডুব দিতেই দুখুর গা সোনার গয়নায় ভরে গেল।

পুকুর থেকে উঠে খাবার ঘরে গেল দুখু। এত এত মজার খাবার সেখানে! দুখু লোভ করল না। শুধু একটু পান্তা ভাত খেলো। তারপর বুড়ির কাছে এলো।

বুড়ি বলল, ‘এখন তুমি ওই ঘরে যাও। যত তুলা লাগে নিয়ে যাও।’

তুলার ঘরে গিয়ে দুখু অবাক হয়ে গেল। কিন্তু সব তুলা সে নিলো না। যতটুকু তুলা বাতাস উড়িয়ে নিয়ে এসেছিল, ততটুকু তুলা সে প্যাটরায় ভরে নিলো। তারপর সে বুড়ির কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাড়ির পথে রওনা দিলো।

Printed page 34

ফেরার পথে ঘোড়ার সাথে দেখা। ঘোড়া বলল, ‘দুখু, এসো এসো। তোমাকে আমি আর কী দেবো? এই নাও।’ এই বলে সে একটা পঙ্খিরাজ ঘোড়ার বাচ্চা দিলো।

একটু পরে কলাগাছের সাথে দেখা হলো। কলাগাছ বলল, ‘দুখু, এসো, এসো। তোমাকে আর কী দেবো? এই নাও।’ এই বলে কলাগাছ মস্ত এক ছড়া সোনার কলা দিলো।

দুখু তুলার প্যাটরা, ঘোড়ার বাচ্চা আর কলার ছড়া নিয়ে বাড়ি ফিরল। এত কিছু দেখে সবাই অবাক! তার উপর দুখুর গা ভরতি গয়না।

সব শুনে সুখুর লোভ হলো। পরদিন সে উঠানে বসল চরকা কাটতে। কিন্তু চরকা ঘুরানোর আগেই জোরে বাতাস এলো। সেই বাতাস সুখুর সব তুলা উড়িয়ে নিয়ে গেল। সুখু বাতাসের পিছন পিছন ছুটল।

পথের পাশের কলাগাছ সুখুকে ডাকল। বলল, ‘সুখু, কোথায় যাচ্ছ? একটু শুনে যাও।’

সুখু ফিরেও তাকাল না। বলল, ‘আমার সময় নেই। আমি যাচ্ছি বুড়ির কাছে।’

একটু পরে সেই ঘোড়াও সুখুকে ডাকল। সুখু তার দিকেও ফিরে তাকাল না। শুধু কঠিন গলায় বলল, ‘আমি যাচ্ছি বুড়ির বাড়ি। তোমার কথা শুনতে আমার বয়েই গেছে!’

বাতাসের সাথে সাথে সুখু গেল বুড়ির বাড়ি। গিয়েই বুড়িকে বলল, ‘ও বুড়ি! তুই বসে বসে কী করছিস? আগে আমার জিনিস দে। তারপর সুতা কাটিস।’

সুখুর কথা শুনে বুড়ি মনে কষ্ট পেল। তবু বলল, ‘ও ঘরে গামছা আছে, কাপড় আছে। ওগুলো নিয়ে পুকুরে ডুব দিয়ে এসো। তারপর এই ঘরে খাবার আছে, খাও। এরপর দেবো।’

সুখু তাড়াতাড়ি ঘরে ঢুকল। সবচেয়ে দামি গামছা আর দামি কাপড় নিলো। তারপর পুকুরে গেল ডুব দিতে।

সে ভাবল, বেশি বেশি ডুব দিলে বেশি বেশি গয়না পাবে। তাই ইচ্ছামতো ডুব দিতে লাগল। একটু পরে বুঝতে পারল তার সারা শরীর চুলকাচ্ছে। কথা বলতে গিয়ে দেখল এমন শোনাচ্ছে, ‘আঁমাঁর সাঁরাঁ শঁরীর চুলকাচ্ছেঁ কেঁন?’

বুড়ির নামে খারাপ কথা বলে সুখু খাওয়ার ঘরে গেল। সেখানে পায়েস, পিঠা আর ভালো ভালো খাবার ছিল। সুখু সেগুলো গপ গপ করে খেতে লাগল। পেট ঢোল করে খেয়ে এলো বুড়ির কাছে। কঠিন গলায় সুখু বলল, ‘আঁর দেঁরিঁ কঁরতেঁ পাঁরবঁ নাঁ। আঁমাঁর তুঁলাঁ তাঁড়াঁতাঁড়িঁ দেঁ।’

বুড়ি বলল, ‘ওই ঘরে যাও। তোমার তুলা তুমি নিয়ে যাও।’

Printed page 35

সুখু তুলার ঘরে গেল। বিশাল এক প্যাটরা ভরে ইচ্ছামতো তুলা নিলো। তারপর সেটা কাঁধে নিতেই কুঁজো হয়ে গেল। তারপর গা চুলকাতে চুলকাতে বাড়ির পথ ধরল।

খানিক পরে পথে ঘোড়ার সাথে দেখা হলো। সুখুকে দেখে ঘোড়া দিলো একটা লাথি। লাথি খেয়ে সুখু ল্যাংচাতে ল্যাংচাতে হাঁটতে লাগল।

এরপর দেখা হলো কলাগাছের সাথে। কলাগাছের একটা বড়ো পাতা ভেঙে পড়ল সুখুর মাথায়। সুখু ‘মঁলাঁম মঁলাঁম’ বলে সেখান থেকে পালাল।

বাড়িতে ফিরে সুখু ভারী প্যাটরা নিচে রাখল। তারপর ইচ্ছামতো গা চুলকিয়ে নিলো। এরপর সবাইকে ডেকে বলল, ‘আঁমিঁ চঁলেঁ এঁসেঁছিঁ।’

সুখুর অবস্থা দেখে আর কথা শুনে সবাই থ হয়ে গেল।

প্যাটরা খুলে সুখু কোনো তুলাও পেল না।

অর্থ জেনে নিই

এক ছড়া কলা — এক কাঁদি কলা।
থ হয়ে যাওয়া — অবাক হয়ে যাওয়া।
পঙ্খিরাজ ঘোড়া — উড়তে পারে এমন কাল্পনিক ঘোড়া।
পেট ঢোল করে খাওয়া — অতিরিক্ত খেয়ে পেট ফুলানো।
প্যাটরা — ছোট বাক্স।
মঁলাঁম — মরে গেলাম।
ল্যাংচাতে ল্যাংচাতে — খোঁড়াতে খোঁড়াতে।

Printed page 36

অনুশীলনী

১. 'কাটা' শব্দের বিভিন্ন অর্থ পড়ি।

বাক্যঅর্থ
এই গাছটা কেটো না।কর্তন করা
শ্রমিকেরা পুকুর কাটছে।খনন করা
ভালোই তো সময় কাটছে!অতিবাহিত হওয়া
বিপদ কেটে গেল।দূর হওয়া
দুখু চরকায় সুতা কাটছে।তৈরি করা
তিনি পুকুরে সাঁতার কাটছেন।ভেসে এগিয়ে যাওয়া
মা সিলেটে যাওয়ার টিকিট কেটেছেন।ক্রয় করা

২. প্রশ্ন তৈরি করি, উত্তর শুনি।

'সুখু আর দুখু' গল্প পড়ে প্রশ্ন তৈরি করো। এরপর সহপাঠীকে প্রশ্ন জিজ্ঞেস করে উত্তর শোনো।

ক. ................................................................................................

খ. ................................................................................................

গ. ................................................................................................

ঘ. ................................................................................................

ঙ. ................................................................................................

চ. ................................................................................................

Printed page 37

৩. প্রশ্নের উত্তর বলি ও লিখি।

ক. বাড়িতে সুখু ও দুখু কী কী কাজ করে তা লিখি।

খ. বাতাসের সঙ্গো যেতে যেতে দুখু কাদের কী কী উপকার করল?

গ. চরকা কাটা বুড়ি দেখতে কেমন? সে কেমন বাড়িতে থাকে?

ঘ. দুখু বাড়িতে ফেরার সময় কলাগাছ ও ঘোড়ার কাছ থেকে কী উপহার পেল?

ঙ. সুখু কেন ভালো কিছু পেল না?

৪. দুটি বাক্য জোড়া দিয়ে এক বাক্য বানাই।

ক. দুখু তুলা রোদে দিয়েছে। তারপর উঠানে বসে আছে।

দুখু তুলা রোদে দিয়ে উঠানে বসে আছে।

খ. দুখু ঘোড়ার কথা শুনল। তারপর তাকে কচি ঘাস এনে দিলো।

...................................................................................................

গ. আমি তোমার সাথে শিউলিতলায় যাব। তারপর ফুল কুড়াব।

...................................................................................................

ঘ. তিনি তোমার কথা শুনেছেন। তিনি একটি বই কিনে এনেছেন।

...................................................................................................

ঙ. পাখিরা খড়কুটা নিয়ে এলো। তাদের বাসা বানাল।

...................................................................................................

৫. ভালো কাজের তালিকা করি।

মানুষের জন্য করতে পারি এমন তিনটি কাজ লিখি।

ক. ................................................................................................

খ. ................................................................................................

গ. ................................................................................................

৬. শিক্ষকের সহায়তায় 'সুখু আর দুখু' গল্পটি অভিনয় করি।

Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.

Trusted resources

Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.