Skip to content

Amar Bangla Boi chapter 11: Cottage Industry

কুটির শিল্প

  • Amar Bangla Boi
  • Textbook pages 57-62
  • 1 source
  • 5,545 characters of context

Textbook (verbatim transcription): Cottage Industry

Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.

Contents3

Printed page 57

পাঠ ১১

কুটির শিল্প

তোমরা তো বেতের ঝুড়ি, মাটির হাঁড়ি, পাটের শিকা দেখেছ। একসময় বাংলাদেশের গ্রামের কুটিরে এসব জিনিস হাতে বানানো হতো। তারপর সেগুলো বিক্রি করা হতো বাজারে বা মেলায় নিয়ে। কুটিরে তৈরি হতো বলে এসব জিনিসকে বলা হয় কুটির পণ্য। কুটির পণ্যের মধ্যে আরো আছে জামদানি শাড়ি, তাঁতের শাড়ি, শীতলপাটি, শতরঞ্জি, নকশিকাঁথা, হাতপাখা, গয়না। এসব পণ্যকে শিল্পের মর্যাদা দিয়ে বলা হয় কুটির শিল্প।

ইবনে বতুতা চৌদ্দ শতকে বাংলাদেশে ভ্রমণ করতে এসেছিলেন। তাঁর বিবরণে বাংলার সমৃদ্ধ কুটির শিল্পের কথা আছে। এখন কুটির পণ্য শুধু কুটিরে তৈরি হয় না। কারখানাতেও এসব জিনিস তৈরি করা হয়। এ দেশের কুটির শিল্পের কোনো কোনো পণ্য পৃথিবীতে বিখ্যাত হয়েছিল। যেমন– মসলিন কাপড়। সূক্ষ্ম সুতা দিয়ে বানানো হতো মসলিন। মোগল বাদশাহ-বেগমরা মসলিন কাপড় ব্যবহার করতেন। মসলিন কিনে নিয়ে যেতেন আরব ও ইউরোপের বণিকেরা।

Printed page 58

বাংলাদেশে অনেক ধরনের কুটির পণ্য রয়েছে। যেমন– মাটি দিয়ে বানানো হয় থালা-বাটি, হাঁড়ি-পাতিল, হাতি-ঘোড়া, পুতুল। বেড়া, ঝুড়ি, কুলা, চালুনি ও মোড়া তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয় বাঁশ। বেত দিয়ে বানানো হয় চেয়ার, টেবিল, দোলনা, বই রাখার তাক, ধামা। বস্তা, দড়ি, পাপোশ, শিকা প্রস্তুত করা হয় পাট দিয়ে। সোনা-রুপা দিয়ে বানানো হয় কানের দুল, গলার মালা, হাতের চুড়ি। কাঁসা-পিতল দিয়ে বানানো হয় তৈজসপত্র।

তাঁতে তৈরি করা কাপড় কুটির শিল্পের আরেকটি নমুনা। কলকারখানা আবিষ্কারের আগে এ দেশের মানুষ তাঁতে বোনা কাপড় পরত। এখনও তাঁতিরা শাড়ি, লুঙ্গি, চাদর, গামছা ইত্যাদি তৈরি করেন। তাঁতে তৈরি জামদানি শাড়ি বাংলাদেশের নিদর্শন হিসেবে বিশ্বে সুপরিচিত।

খেজুরপাতা ও বেতের চটা দিয়ে পাটি বানানো হয়। এসব পাটি বসার আসন বা মাদুর হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশের বিশেষ একধরনের পাটির নাম শীতলপাটি। চিকন বাঁশের মতো দেখতে মুর্তা গাছ দিয়ে বানানো হয় শীতলপাটি । শীতলপাটিও বাংলাদেশের নিদর্শন হিসেবে মর্যাদা পেয়েছে।

বাংলাদেশের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কুটির শিল্প নকশিকাঁথা। গ্রামের নারীরা মেঝেতে কাপড় পেড়ে কাঁথা বানাত। তারপর সেই কাঁথায় নকশা করে ফুল, লতা, পাতা এঁকে তৈরি করত নকশিকাঁথা।

তালপাতা, বাঁশ ও বেতের চটা, কাপড় ইত্যাদি দিয়ে হাতপাখা বানানো হয়। গরমে শরীরকে শীতল করে পাখার বাতাস।

কুটির পণ্যগুলো আকর্ষণীয় হয়ে থাকে। দৈনন্দিন নানা প্রয়োজনে এসব পণ্য ব্যবহার করা হয়। এছাড়া গৃহসজ্জায় কুটির পণ্যের সমাদর লক্ষ করা যায়। নাগরিক মানুষের প্রবল চাহিদার কারণে বাংলাদেশে গড়ে উঠেছে কুটির পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান।

Printed page 59

অর্থ জেনে নিই

ইবনে বতুতা — মরক্কোর একজন ভ্রমণকারী।
কুলা — ধান, চাল ইত্যাদি ঝাড়ার ডালা।
চটা — বাঁশের পাতলা ফালি।
চালুনি — ছাঁকার কাজে লাগে এমন ছিদ্রযুক্ত পাত্র।
তৈজসপত্র — ধাতুর তৈরি থালা-বাসন।
দৈনন্দিন — প্রতিদিনের।
ধামা — বেতের ঝুড়ি।
নিদর্শন — নমুনা।
বণিক — ব্যবসায়ী।
মোড়া — বাঁশ বা বেত দিয়ে তৈরি বসার নিচু আসন।
শতরঞ্জি — হাতে বোনা কার্পেট।
সমৃদ্ধ — উন্নত।
সূক্ষ্ম — মিহি।

অনুশীলনী

১. শব্দ দিয়ে বাক্য লিখি।

কুটির : ……………………………………………………………………………………

সমৃদ্ধ : ……………………………………………………………………………………

সূক্ষ্ম : ……………………………………………………………………………………

তৈজসপত্র : ……………………………………………………………………………………

নিদর্শন : ……………………………………………………………………………………

মোড়া : ……………………………………………………………………………………

কুলা : ……………………………………………………………………………………

Printed page 60

২. প্রশ্নের উত্তর বলি ও লিখি।

ক. কুটির শিল্প কাকে বলে?

খ. ইবনে বতুতা কে? তিনি কোন সময়ে বাংলাদেশে ভ্রমণ করতে এসেছিলেন?

গ. বাংলাদেশের নিদর্শন হিসেবে মর্যাদা পেয়েছে কোন কোন পণ্য?

ঘ. নকশিকাঁথা কীভাবে তৈরি করা হয়?

ঙ. কুটির পণ্য কোন কাজে লাগে?

চ. আমার বাড়িতে কী কী কুটির পণ্য আছে তার তালিকা করি।

৩. একটি বাক্য ভেঙে দুটি বাক্য বানাই।

ক. ইবনে বতুতা বাংলাদেশে ঘুরে সমৃদ্ধ কুটির শিল্পের কথা লিখেছেন।

……………………………………………………………………………………

খ. কুটির পণ্যের ব্যবহার বাড়ানোর মধ্য দিয়ে এর সমৃদ্ধি ঘটতে পারে।

……………………………………………………………………………………

গ. আমি বৈশাখী মেলায় গিয়ে নানা রকম কুটির পণ্য দেখেছি।

……………………………………………………………………………………

ঘ. কুটির শিল্পে পুঁজি কম লাগে এবং স্থানীয় কাঁচামাল ব্যবহার করা হয়।

……………………………………………………………………………………

ঙ. হাতপাখাটি দামে সস্তা হলেও ভালো বাতাস দেয়।

……………………………………………………………………………………

Printed page 61

৪. কুটির পণ্যের নাম ও ব্যবহার লিখি।

পণ্যের নামযে কাজে লাগে

৫. পেশার নাম লিখি।

যারা চাষ করে : ……………………………………………………………

যারা মাছ ধরে : ……………………………………………………………

যারা নৌকা চালায় : ……………………………………………………………

Printed page 62

যারা লোহা দিয়ে জিনিস বানায় : ……………………………………………………………

যারা মাটি দিয়ে জিনিস বানায় : ……………………………………………………………

যারা তাঁতে কাপড় বোনে : ……………………………………………………………

যারা গাড়ি চালায় : ……………………………………………………………

যারা চাকরি করে : ……………………………………………………………

যারা শিক্ষকতা করে : ……………………………………………………………

যারা সোনার গয়না বানায় : ……………………………………………………………

৬. কাজ বোঝায় এমন শব্দ বাছাই করে লিখি।

নবীন তার মামা-মামির সঙ্গে মেলায় এসেছে। সে মামার হাত ধরে রেখেছে। মেলায় অনেক রকম জিনিস সে দেখতে পাচ্ছে। এগুলো দেখে তার ভালো লাগছে। হঠাৎ মামি বললেন, ‘নবীন, নাগরদোলায় চড়বে?’ নবীন মাথা নাড়িয়ে সায় জানাল। মামা দশ টাকা দিয়ে টিকিট কাটলেন। নবীন ভয়ে ভয়ে নাগরদোলায় চড়ল। চরকির মতো ঘুরতে লাগল নাগরদোলা।

…………………………

…………………………

…………………………

…………………………

…………………………

Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.

Trusted resources

Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.