Skip to content

Amar Bangla Boi chapter 14: Defeated

কুপোকাত

  • Amar Bangla Boi
  • Textbook pages 74-83
  • 1 source
  • 11,544 characters of context

Textbook (verbatim transcription): Defeated

Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.

Contents10

Printed page 74

পাঠ ১৪

কুপোকাত

মুনীর চৌধুরী

চরিত্র

খরগোশ

বাঘ

শেয়াল

মোষ

শজারু

হরিণ

ময়ূর

[দৃশ্য: অরণ্য। এক পাশে মাটির ঢিবি। তার গায়ে স্তম্ভের আকারে ইষ্টক চিত্রিত। দেখে মনে হবে যেন একটা কুয়া, ঢিবির চূড়ায় তার মুখ।]

[ঘটনা: পশুদের জনসভা। আছে মোষ, ময়ূর, হরিণ, সজারু, শেয়াল ও খরগোশ। সভাপতি হলেন মোষ।]

Figure

বর্ণনা: অরণ্যের দৃশ্যে একটি হরিণ, একটি শেয়াল, একটি মোষ, একটি বানর, একটি ময়ূর ও একটি খরগোশ দেখানো হয়েছে; পেছনে গাছ এবং একটি ইটের তৈরি কুয়া।

Printed page 75

মোষ : [করতালি শেষ হলে] বড়োই পরিতাপের বিষয় যে, খরগোশ আমাদের সিদ্ধান্ত মানতে রাজি হচ্ছে না। তাকে আমরা সকলে সাধ্যমতো বুঝিয়ে বলেছি। জাতীয় স্বার্থে সকলেরই আত্মত্যাগের জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত। খরগোশ অবুঝ। সে কেবল নিজের জীবনকেই বেশি মূল্যবান মনে করে। কে না জানে এক ভীষণ বাঘের অত্যাচারে আমাদের সকলের জীবন বিপন্ন। এই ভয়ানক ব্যাঘ্র প্রত্যহ নির্বিচারে বহু পশু হত্যা করে। কিছু খায়, কিছু ফেলে রাখে। আমাদেরই অনুরোধে শেয়াল বাঘের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে একটা আপস-রফা করে। সেই অনুযায়ী স্থির হয় যে, অদ্য খরগোশ স্বেচ্ছায় মহামান্য বাঘের খাদ্য হিসেবে নিজেকে উৎসর্গ করবে। কিন্তু খরগোশ এই প্রস্তাব মানতে অনিচ্ছুক। এখন উপায় কী? আমি আর একবার শেয়ালকে বলি, আপনাদেরও বলি, খরগোশকে বুঝিয়ে বলুন। তাকে রাজি করান।

শেয়াল : দেখো খরগোশ, আমি অনেক কষ্টে বাঘকে শান্ত করেছি। সে বলেছে যে তাকে যদি রোজ একটি করে পশু আমরা উপহার দেই, তবে সেদিন সে আর অকারণে অন্য প্রাণী হত্যা করবে না। আজ তুমি বীরের মতো সহাস্যে এগিয়ে যাও, কাল তোমার পথ অনুসরণ করে অন্যজন যাবে। সকলের মঙ্গালের জন্য নিজের প্রাণ বিসর্জন দিতে তোমার ইচ্ছে করে না?

খরগোশ : না। আমি অন্যের খাদ্য হতে চাই না। আমি নিজে খেতে চাই, বাঁচতে চাই।

শজারু : সে সকলেই চায়। কথা তা নিয়ে নয়। যেদিন আমার সময় আসবে, আমি পিছপা হব না। অবশ্য হয়তো আমাকে নির্বাচন করা কখনোই ঠিক হবে না। কারণ, আমার সর্বাঙ্গে কাঁটা। চেহারাও বিদঘুটে। বাঘ হয়তো আমাকে দেখে, খাওয়ার বদলে ক্ষেপে যাবে। তাতে সকলের বিপদ আরো বেড়ে যেতে পারে। অবুঝ হোয়ো না। দেরি না করে বাঘের গুহায় চলে যাও।

মোষ : সজারু ঠিকই বলেছে। শেয়াল যা করে তা আমাদের মঙ্গালের জন্যই করে।

ময়ূর : অবশ্য এর মধ্যে আরো একটু কথা আছে। সজারুর কথাও ঠিক, আবার তার উলটোটাও ঠিক।

শেয়াল : একটু পেখম ছড়িয়ে বলো, সবাই সহজে বুঝতে পারবে।

ময়ূর : মানে, কদাকার হওয়ার যেমন সুবিধা-অসুবিধা আছে, তেমনি বেশি সুন্দর হওয়ারও অসুবিধা অনেক। আমি সব সময়ই যেতে রাজি আছি। যেদিন সকলে আমার যাওয়া স্থির করবেন, আমি নিশ্চয়ই যাব। তবে আমি লক্ষ করেছি, আমাকে সামনে পেলে

Printed page 76

সবাই খাওয়ার কথা ভুলে যায়। আমার শোভায় মুগ্ধ হয়। বেশি সুন্দর বলে কেউ খেতে চায় না। আমাকে খাওয়া চলে না বলে মনে করে। বাঘ তা পছন্দ না-ও করতে পারে। তাতেও সকলের বিপদ বাড়বে বই কমবে না।

হরিণ : কথা বাড়াস নে খরগোশ। লক্ষ্মী ভাই, তোর লেজে পড়ি, এবার যা তুই!

মোষ : বেলা বেড়ে যাচ্ছে। বাঘ নিশ্চয়ই অস্থির হয়ে উঠেছে। আর বেশিক্ষণ এখানে সমবেতভাবে থাকা মোটেই নিরাপদ মনে হচ্ছে না।

শেয়াল : সভাপতি সাহেব, সভা ভেঙে দিন। গর্জন শোনা যাচ্ছে। হয়তো এখানেই এসে পড়বে। খরগোশ না যেতে চায় এখানেই থাকুক। আপনি সভা ভেঙে দিন। আমরা বিদায় হই।

মোষ : সভা ভঙ্গা। বিদায়, বিদায়, বিদায়!

[খরগোশ ব্যতীত অন্য সকলের দ্রুত প্রস্থান।]

খরগোশ : (একাকী)

কত গাজর কত মুলো কত না সুন্দর এই পৃথিবী,
স্বপ্নের মতো কচি কচি কত সবুজ ঘন বাঁধাকপি।
মরিতে চাহি না অল্প বয়সে,
চাহি না কো যেতে বাঘের গ্রাসে।
যে করে পারি রহিব আঁকড়ি লইব মাটির সুরভি,
আহা, কত গাজর, কত মুলো, কত না সুন্দর এই পৃথিবী।

[চিন্তাযুক্তভাবে পদচারণা।]

সকলে বলে
ভেজিটেবিলে
শক্তি বাড়ে বুদ্ধি গজায়!
ও ভাই পালং
ও ভাই মুলো
শীঘ্র বলো মুক্তি উপায়।

Printed page 77

গাজর কপি
মটরশুঁটি
খেয়েছি রোজ মজায় মজায়;
তবু কি আজ
হবে না কাজ
বিপদ যখন নাকের ডগায়?

[প্রাণপণে কাঁচা তরকারি চিবিয়ে খায় এবং চিন্তা করে। হঠাৎ উল্লসিত হয়।]

পেয়েছি পেয়েছি পেয়ে গেছি ভাই, বুদ্ধি, ফুর্তি, ফুর্তি।
এখনি দেখিবে, কেমনে হবে কার্য সিদ্ধি, ফুর্তি ফুর্তি।

[নেপথ্যে বাঘের গর্জন।]

বাবারে বাবা, কাঁপিছে প্রাণ, হাঁকিছে বজ্রনির্ঘোষ।
দেখিয়া দেরি আসিছে স্বয়ং, খেপেছে বেটা রাক্ষস।
এখনই বুঝি, প্রবেশে আসি, তুলিয়া ধরিবে থাবা।
আসলে ফাঁকি, সকলই ভান, সাজিতে হবে গো হাবা।

[খরগোশ মাথা নিচু করে কাঁদতে থাকে। বাঘের প্রবেশ।]

বাঘ : আমি ক্ষুধার্ত। কথা ছিল সূর্য খাড়া মাথার উপর ওঠার সঙ্গে সঙ্গে আমার দুপুরের খাদ্য আমার সামনে হাজির হবে। হয়নি কেন?

খরগোশ : হুজুর, হাজির হলাম!

বাঘ : কিন্তু দেরি হলো কেন?

খরগোশ : সে কথা মনে করেই তো কাঁদছি।

বাঘ : তোর মনে আবার এত দুঃখ থাকবে কেন? এতটুকু পশু তুই। তোর সুখই কী আর দুঃখই কী?

খরগোশ : আমার অনেক দুঃখ। মনে অনেক কষ্ট।

Printed page 78

Figure

বর্ণনা: একটি বাঘ গোলাকার ইটের কুয়ার ভেতরে মাথা ঢুকিয়ে ঝুঁকে আছে, তার সামনের পা গাছের গুঁড়িতে ঠেকানো। পাশে একটি খরগোশ বসে আছে।

বাঘ : আমার অভ্যন্তরে যেতে হবে বলে তোর এত দুঃখ! দেখ, আমি হচ্ছি এই অরণ্যের রাজা বাহাদুর। আমার ওপরে কেউ নেই। আমার ডোরাদার পেটের মধ্যে যেতে পারা তোর মতো ক্ষুদ্র পশুর পক্ষে এক মহা সৌভাগ্য!

খরগোশ : আপনার ওপরে আরেক জন আছে। সেই তো সব নস্ট করেছে। সেই জন্যই তো কাঁদছি।

বাঘ : কী বললি? অত ফোঁপাস নে। ফোঁপালে তোর গোঁফ আর পশম এত থরথর করে কাঁপে যে তাতে সব কথা আটকে যায়। কিছুই পরিষ্কার করে বুঝতে পারছি না। গোড়া থেকে বল। কাঁদছিস কেন?

খরগোশ : আমি এত ছোটো, এত সামান্য, পরিমাণে এত অল্প! আমাকে খেয়ে কি আপনার কোনো পরিতৃপ্তি হবে? এই দুঃখে কাঁদছি।

বাঘ : আমি আবার তোর বেড়াল ভাইয়ের দাদা হই কি না, দিনের বেলায় সব কিছু স্পষ্ট দেখতে পাই না। কাছে আয় দেখি। তাই তো, তুই দেখছি সত্যি অতি ক্ষুদ্রকায়। শেয়াল পন্ডিত দেখছি ভারি পাজি। বেছে বেছে সবচেয়ে শুঁটকোটাকে পাঠাল?

Printed page 79

খরগোশ : না না, হুজুর, শিয়াল মামার কোনো দোষ নেই। আপনার জন্য পাঠানো হয়েছিল আমার সেজ আপাকে। ইয়া মোটাসোটা। কী হৃষ্টপুষ্ট!

বাঘ : এাঁ্যা! তাহলে তার বদলে তুই এলি কী জন্যে?

খরগোশ : সেই দুঃখেই তো কাঁদছি। সেজ আপাকে আরেকটা বাঘ খেয়ে ফেলেছে।

বাঘ : কী বললি? আমার মুখের গ্রাস অন্যে কেড়ে নিয়েছে? এত বড়ো সাহস!

খরগোশ : সেজ আপাও কত কান্নাকাটি করল। বারবার আপনার কথা বলল। কিন্তু কিছুতেই শুনল না। ওই বাঘটা দেখতেও ঠিক আপনার মতো। তবে আরো রাগী আরো তেজি। তাই তো কাঁদছি। তখন উপায় না দেখে সবাই আপার জায়গায় আমাকে ঠেলে পাঠাল। আমি কি আপনার খাদ্য হবার যোগ্য। আমার কি সেজ আপার বহর আছে, না সে রকম মেদময় অঙ্গ! আমার কত দুঃখ! সে জন্যই তো কাঁদছি!

বাঘ : কাঁদিস না। আজ বোধ হয় তোকে বাইরেই জীবন কাটাতে হবে। কারণ, আমার ভীষণ ইচ্ছে হচ্ছে নিজের ওই জাত ভাইটির ঘাড় মটকাই। রক্ত হাড় মাংস সব একসঙ্গে মিশিয়ে লোকমা লোকমা খাই! কোথায় ওটাকে পাওয়া যাবে একবার আমাকে দেখিয়ে দিতে পারিস?

খরগোশ : তা পারব। তবে আপনি সামনে থাকবেন, আমি পেছন পেছন এগিয়ে আসব। আপনার সংকল্প দেখে আমার দুঃখ একটু একটু করে কমছে।

বাঘ : কোনো ভয় নেই তোর। আমি সঙ্গে আছি। পথ দেখিয়ে নিয়ে যা। আমি আবার দিনের বেলায় সব ঠিকমতো ঠাহর করতে পারি না। শেষে ভুলে অন্য কাউকে সাবড়ে না দেই।

খরগোশ : আসুন। এই দিক দিয়ে আসুন। এই ঢালু পথটা দিয়ে একটু নিচে নামব। এরপর থেকে জঞ্জাল কিছু ঘন হয়ে এসেছে। সাবধানে পা ফেলবেন হুজুর। এইবারে একটু উপরের দিকে উঠতে হবে। পাহাড়িয়া পথ কি না। এর মাথাতেই আপনার দুশমনের গুহা। আসুন আরেকটু এগিয়ে আসুন। আমার ভয় করছে। আপনি সামনে আসুন। গুহার মধ্যে চোখ দিয়ে ভেতরে নিচের দিকে তাকান।

বাঘ : কই, কিছু তো দেখা যাচ্ছে না।

খরগোশ : হুজুরের বোধহয় আলোর ঘোর এখনো ভালো করে কাটেনি। আর একটু চেষ্টা করে দেখেন। কিন্তু সাবধান থাকবেন। আপনাকে দেখতে পেলে ও কিন্তু খেপে যাবে।

Printed page 80

বাঘ : ওই তো! ওই তো! দেখা যাচ্ছে। স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। চকচক করছে। অবিকল আমার মতো দেখতে। এাঁ্যা! এত বড়ো সাহস, আমাকে চোখ পাকাচ্ছে। খবরদার! আমাকে তুই হুমকি দিস?

খরগোশ : হুজুর!

বাঘ : না না। কোনো কথা নয়। ওর একদিন কি আমার একদিন। আমার মুখের গ্রাস কেড়ে নিয়েছিস? তোর মাথা ফাটাব, দাঁত ভাঙব, গোঁফ উপড়ে ফেলব, চামড়া খুলে ফেলব! কী আমাকে পালটা গালি দিচ্ছিস তুই? তবে রে—হালুম! হালুম! হালুম!

[ঝাঁপ দিয়ে পড়ে ও কুয়ার মধ্যে অদৃশ্য হয়ে যায়। পানির মধ্যে ঝপাৎ করে পড়ার এবং পরে তার মধ্যে হাবুডুবু খাওয়ার শব্দ শোনা যাবে।]

খরগোশ : (নাচতে নাচতে)

হুররে হুয়া, কেয়া মজা, বনের রাজা কুপোকাত
কুয়ার মধ্যে দেখে ছায়া, ঝম্প দিয়ে প্রাণপাত!
হুররে হুয়া কেয়া মজা, কেল্লা ফতে বাজিমাত।
বনের রাজা কুপোকাত,
ঝম্প দিয়ে প্রাণপাত।
তাই তো বলি যত পারো কেবল খাও তরকারি
বাড়বে মেধা গায়ের বল, বুদ্ধি হবে তরবারি
গাজর মুলো শাকসবজি
শক্ত হবে হাতের কবজি,
খেলে পরে পুই পালং টাটকা তাজা শালগম,
হবেই হবে সকল কাজে অতিশয় পারঞ্জাম।

অর্থ জেনে নিই

অদ্য — আজ।
অবুঝ — বোঝে না এমন।
অরণ্য — বন।

Printed page 81

আত্মত্যাগ — পরের জন্য নিজের জীবন দিয়ে দেওয়া।
আপস — মিটমাট।
ইষ্টক — ইট।
উল্লসিত — খুশি।
কদাকার — দেখতে খারাপ।
কুপোকাত — পরাজিত; ধরাশায়ী।
ক্ষুদ্রকায় — ছোটো আকৃতির
গর্জন — জোরালো আওয়াজ।
চিত্রিত — আঁকা।
নেপথ্যে — আড়ালে।
পদচারণা — পায়চারি।
পরিতাপ — দুঃখ।
পারঞ্জাম — দক্ষ; পটু।
প্রাণপাত — মৃত্যু।
প্রাণ বিসর্জন — জীবন দেওয়া।
বজ্রনির্ঘোষ — বজ্রের মতো জোরালো আওয়াজ।
বাজিমাত — দারুণ সফলতা।
বিদঘুটে — অদ্ভুত
ভান — নকল আচরণ।
রাক্ষস — রূপকথার কল্পিত ভয়ংকর প্রাণী।
সমবেতভাবে থাকা — একসাথে থাকা।
সর্বাঙ্গ — সারা শরীর।
সহাস্যে — হাসিমুখে।
সুরভি — সুবাস।
স্তম্ভ — থাম
স্বয়ং — নিজে।
হৃষ্টপুষ্ট — মোটাতাজা।

Printed page 82

Loading the rest of the chapter…

Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.

Trusted resources

Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.