Amar Bangla Boi chapter 16: Those Who Are Remembered and Honored
স্মরণীয় যাঁরা বরণীয় যাঁরা
- Amar Bangla Boi
- Textbook pages 90-97
- 1 source
- 9,662 characters of context
Textbook (verbatim transcription): Those Who Are Remembered and Honored
Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.
Contents3ShowHide
Printed page 90
পাঠ ১৬
স্মরণীয় যাঁরা বরণীয় যাঁরা
বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রাণ দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আছেন কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, শিক্ষক, রাজনীতিবিদ, পুলিশ, সৈনিক, কর্মকর্তা, নারী, শিশুসহ সর্বস্তরের মানুষ। আছেন সমতল, পাহাড়, হাওর, নদী, উপকূলসহ সকল অঞ্চলের মানুষ। সকল ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি ও পেশার মানুষ মুক্তিযুদ্ধে শহিদ হয়েছেন।
১৯৭১ সালের পঁচিশে মার্চ গভীর রাতে পাকিস্তানি সেনারা ঢাকার নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। আক্রমণ চালায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসে, পুলিশ ব্যারাকে আর বিভিন্ন আবাসিক এলাকায়। নির্বিচারে হত্যা করে ঘুমন্ত মানুষকে। নয় মাস ধরে তারা এ হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যায়। তারা পরিকল্পনা করে একে একে হত্যা করে এদেশের মেধাবী, আলোকিত, বুদ্ধিজীবী ও বরেণ্য মানুষদের। পঁচিশে মার্চের মধ্যরাতেই শহিদ হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এম. মুনিরুজ্জামান, অধ্যাপক জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা, ড. গোবিন্দচন্দ্র দেব প্রমুখ।
Figure
লেবেল: গোবিন্দচন্দ্র দেব; সেলিনা পারভীন; গিয়াসউদ্দিন আহমদ
বর্ণনা: তিনজন ব্যক্তির প্রতিকৃতি পাশাপাশি; প্রতিটির নিচে নাম লেখা।
Printed page 91
Figure
লেবেল: রণদাপ্রসাদ সাহা; মুনীর চৌধুরী; রাশীদুল হাসান
বর্ণনা: তিনজন ব্যক্তির প্রতিকৃতি পাশাপাশি; প্রতিটির নিচে নাম লেখা।
বিজ্ঞানের শিক্ষক ছিলেন এম. মুনিরুজ্জামান। প্রচণ্ড গোলাগুলির শব্দ শুনে তিনি পবিত্র কুরআন পড়া শুরু করেন। কুরআন পাঠরত মানুষটিকেই টেনেহিঁচড়ে নিচে নামায় পাকিস্তানি সেনারা। একই বাড়ির নিচতলায় থাকতেন অধ্যাপক জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা। তিনি ছিলেন ইংরেজি সাহিত্যের খ্যাতিমান শিক্ষক। তাঁকেও শত্রুসেনারা টেনেহিঁচড়ে বের করে আনে। তারপর দুজনকেই গুলি করে হত্যা করে। এ বাড়ির খুব কাছেই থাকতেন অধ্যাপক গোবিন্দচন্দ্র দেব। দর্শন বিষয়ের খ্যাতনামা শিক্ষক ছিলেন তিনি। মানুষ হিসেবে ছিলেন খুব সহজ-সরল আর নিরহংকার। ওই একই রাতে তাঁকেও হত্যা করা হয়। হত্যা করা হয় আরও অনেক শিক্ষককে।
পঁচিশে মার্চ রাতে আক্রান্ত হয় সংবাদপত্র অফিসগুলোও। অনেক অফিসে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। হত্যা করা হয় বহু সাংবাদিককে। সেই রাতে লেখক ও সাংবাদিক শহীদ সাবের পত্রিকা অফিসেই ঘুমাচ্ছিলেন। ঘুমন্ত অবস্থায় পুড়ে মারা যান তিনি। শহিদ হন সেলিনা পারভীন। মাত্র পঁচিশ বছর বয়সে প্রাণ দেন কবি ও সাংবাদিক মেহেরুন্নেসা।
হানাদাররা হত্যা করে প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ ও আইনজীবী ধীরেন্দ্রনাথ দত্তকে। তখন তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। ১৯৪৮ সালে পাকিস্তান গণপরিষদে তিনিই প্রথম বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি তুলেছিলেন। কুমিল্লার বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে শত্রুসেনারা তাঁকে হত্যা করে। অধ্যক্ষ যোগেশচন্দ্র ঘোষ দেশবাসীর স্বাস্থ্যসেবার জন্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সাধনা ঔষধালয়। ৮৪ বছর বয়সের এই মানুষটিও রেহাই পাননি। তাঁকেও হত্যা করে পাকিস্তানি সেনারা।
এ দেশের সাধারণ মানুষের মঙ্গল ও কল্যাণের জন্য নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন রণদাপ্রসাদ সাহা। দানশীলতার জন্য লোকে তাঁকে ডাকত ‘দানবীর’ বলে। হত্যা করা হয় তাঁকেও। চট্টগ্রামের বিখ্যাত সমাজসেবক ছিলেন নূতনচন্দ্র সিংহ। শত্রুসেনারা তাঁকেও রেহাই দেয়নি।
Printed page 92
একুশে ফেব্রুয়ারিতে ভাষাশহিদদের স্মরণ করে আমরা ফুল দিতে যাই শহিদ মিনারে। তখন আমাদের মনে আর মুখে বেজে ওঠে একটি গান— ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি।’ এ গানে সুর দেন আলতাফ মাহমুদ। এই সুরসাধকের প্রাণ কেড়ে নেয় পাকিস্তানি বাহিনী।
মুক্তিযুদ্ধের একেবারে শেষের দিকে পাকিস্তানিরা বুঝতে পারে যে, তাদের পরাজয় অবধারিত। তখন তারা এদেশকে মেধাশূন্য করার ষড়যন্ত্র করে। তারা জানত চিন্তাবিদ, শিক্ষাবিদ ও সৃষ্টিশীল মানুষদের হত্যা করলে এদেশের অপূরণীয় ক্ষতি হবে। তখন তারা সেই ক্ষতি করার কাজ শুরু করে। নতুন করে হত্যাযজ্ঞ শুরু করে ১৯৭১ সালের ১৪ই ডিসেম্বর। তারা ধরে নিয়ে যায় অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী, অধ্যাপক মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী ও অধ্যাপক আনোয়ার পাশাকে। তাঁরা ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতিমান শিক্ষক। তুলে নিয়ে যায় ইতিহাসের অধ্যাপক সন্তোষচন্দ্র ভট্টাচার্য ও অধ্যাপক গিয়াসউদ্দিন আহমদকে। ইংরেজির অধ্যাপক রাশীদুল হাসানও বাদ পড়েনি। এর আগেই হানাদারেরা হত্যা করে সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেনকে।
তারা প্রখ্যাত লেখক ও সাংবাদিক শহীদুল্লা কায়সারকে তুলে নিয়ে যায়। সাংবাদিক নিজাম উদ্দীন আহমদ ও আ. ন. ম. গোলাম মোস্তফা, প্রখ্যাত চিকিৎসক ফজলে রাব্বী, আবদুল আলীম চৌধুরী ও মোহাম্মদ মোর্তজাকেও একইভাবে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। ধরে নিয়ে যাওয়া হয় আরো বহুজনকে। এঁরা কেউই আর জীবিত ফিরে আসেননি।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে এ সকল বুদ্ধিজীবীর অনেকের ক্ষত-বিক্ষত লাশ পাওয়া যায় মিরপুর ও রায়ের বাজারের বধ্যভূমিতে। আবার অনেকের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
Figure
লেবেল: শহীদুল্লা কায়সার; আনোয়ার পাশা; ফজলে রাব্বী
বর্ণনা: তিনজন ব্যক্তির প্রতিকৃতি পাশাপাশি; প্রতিটির নিচে নাম লেখা।
Printed page 93
তাঁদের স্মরণে প্রতিবছর ১৪ই ডিসেম্বর আমরা পালন করি ‘শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস’। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান ছিলেন তাঁরা। তাঁদের আত্মদান আমরা কখনো ব্যর্থ হতে দেবো না। আমরা তাঁদের স্মরণ করব চিরদিন।
অর্থ জেনে নিই
| শব্দ | অর্থ |
|---|---|
| অবধারিত | ঘটবেই এমন। |
| অবরুদ্ধ | বন্দি; আটক। |
| আত্মদানকারী | অন্যের উপকারের জন্য নিজের জীবন দান করেন যিনি। |
| খ্যাতনামা | বিখ্যাত। |
| নির্বিচারে | বাছবিচার না করে। |
| পাষণ্ড | নিষ্ঠুর; নির্মম ব্যক্তি। |
| বরেণ্য | বরণ করার যোগ্য। |
| মনস্বী | জ্ঞানী। |
Printed page 94
অনুশীলনী
১. ঘরের ভিতরের শব্দগুলো খালি জায়গায় বসিয়ে বাক্য তৈরি করি।
| অবরুদ্ধ | অবধারিত | আত্মদানকারী | নির্বিচারে | মনস্বী | খ্যাতনামা |
|---|
ক. তারা বুঝতে পারে যে, তাদের পরাজয় ................................।
খ. দেশের ভিতরে .......................... অবস্থায় প্রাণ দেন লক্ষ লক্ষ মানুষ।
গ. পাকিস্তানিরা এদেশের মেধাবী, আলোকিত ও ....................... মানুষদের হত্যা করে।
ঘ. মুক্তিযুদ্ধে শহিদরা মহান ................................ হিসেবে চিরস্মরণীয়।
ঙ. পঁচিশে মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনারা ........................ হত্যা করে নিদ্রিত মানুষকে।
চ. অধ্যাপক গোবিন্দচন্দ্র দেব ছিলেন দর্শন বিষয়ে ............................ শিক্ষক।
২. নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর বলি ও লিখি।
ক. ১৯৭১ সালের পঁচিশে মার্চ রাতে পাকিস্তানি সৈন্যরা এদেশে কী করেছিল?
খ. কোন শহিদ বুদ্ধিজীবী প্রথম পাকিস্তানি গণপরিষদে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানান? তাঁর সম্পর্কে বলি ও লিখি।
গ. শহীদ সাবের কে ছিলেন? তিনি কীভাবে শহিদ হন?
ঘ. রণদাপ্রসাদ সাহাকে কেন দানবীর বলা হয়?
ঙ. দুজন শহিদ সাংবাদিকের নাম বলি।
চ. আমরা কেন চিরদিন শহিদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ করব?
ছ. কোন দিনটিকে ‘শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়? কেন?
Printed page 95
৩. বাম পাশের বাক্যের সাথে ডান পাশের ঠিক শব্দ মিলিয়ে পড়ি ও লিখি।
| বরণ করার যোগ্য | মেধাবী |
| মেধা আছে এমন যে জন | নিরহংকার |
| অহংকার নেই যার | বরেণ্য |
| বিচার-বিবেচনা ছাড়া যা | অপূরণীয় |
| কোনোভাবেই পূরণ করা যায় না এমন | নির্বিচার |
৪. ঠিক উত্তরটিতে টিকচিহ্ন (✓) দিই।
ক. কোন তারিখে পাকিস্তানি সেনারা ঢাকার নিরস্ত্র, ঘুমন্ত মানুষের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে?
১) ১৯৭১ সালের সাতাশে মার্চ
২) ১৯৭১ সালের পঁচিশে মার্চ
৩) ১৯৭১ সালের উনত্রিশে মার্চ
৪) ১৯৭১ সালের ছাব্বিশে মার্চ
খ. প্রতিবছর ১৪ই ডিসেম্বর পালন করা হয়—
১) ‘স্বাধীনতা দিবস’ হিসেবে
২) ‘মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে
৩) ‘শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস’ হিসেবে
৪) ‘বিজয় দিবস’ হিসেবে
গ. দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বুদ্ধিজীবীদের ক্ষত-বিক্ষত লাশ পাওয়া যায়—
১) মিরপুর ও রায়ের বাজারের বধ্যভূমিতে
২) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে
৩) ঢাকার বুড়িগঞ্জা নদীতে
৪) সংবাদপত্র অফিসে
Printed page 96
৫. কাজ-শব্দ লিখি।
ক. খাওয়া
| আমি খাই। | তুমি ..........................। | সে ..................। |
|---|---|---|
| আমরা .......................। | তোমরা .......................। | তিনি ...............। |
খ. ওঠা
| আমি উঠি। | তুমি ..........................। | সে ..................। |
|---|---|---|
| আমরা .......................। | তোমরা .......................। | তিনি ..............। |
গ. যাওয়া
| আমি যাই। | তুমি .......................। | সে ...............। |
|---|---|---|
| আমরা .......................। | তোমরা .......................। | তিনি .............। |
৬. প্রথম বাক্যের সাথে মিলিয়ে পরের বাক্য লিখি।
শুয়ে থাকি। তবু ঘুম আসে না।
কড়া নড়ে। তবু ..........................................................।
জানালায় উঁকি দিই। তবু ..........................................................।
তাঁকে নিমন্ত্রণ জানালাম। তবু ..........................................................।
আমি সবই জানি। তবু ..........................................................।
Printed page 97
৭. ঘটনাগুলো সাজিয়ে অনুচ্ছেদ লিখি।
কয়েক দিন পর ডিম ফুটে তুলতুলে ছানা বেরিয়ে এলো।
একদিন ছানারা বড়ো হয়ে উড়তে শিখে গেল।
গাছের মগডালে বাসা বেঁধেছে একজোড়া বক।
স্ত্রী বকটি কয়েকটি ডিম পেড়েছে।
বক দুটি পালাক্রমে সেই ডিমে তা দিচ্ছে।
পুরুষ বক নদী থেকে মাছ ধরে এনে ছানাদের খাওয়ায়।
.................................................................................................................
.................................................................................................................
.................................................................................................................
.................................................................................................................
.................................................................................................................
.................................................................................................................
.................................................................................................................
৮. ‘শহিদ বুদ্ধিজীবী’ সম্পর্কে আমার অনুভূতি লিখি।
Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.
Trusted resources
Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.