Skip to content

Amar Bangla Boi chapter 17: Ancient City Beneath the Earth

মাটির নিচে পুরানো নগর

  • Amar Bangla Boi
  • Textbook pages 98-101
  • 1 source
  • 6,257 characters of context

Textbook (verbatim transcription): Ancient City Beneath the Earth

Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.

Contents2

Printed page 98

পাঠ ১৭

মাটির নিচে পুরানো নগর

বাংলাদেশ অঞ্চলে প্রাচীনকালে নগর গড়ে উঠেছিল। যেমন– কুমিল্লার ময়নামতিতে সাত-আট শতকের দিকে নগর ছিল। আবার বগুড়ার মহাস্থানগড় এলাকায় তৃতীয় শতকের পরে নগর গড়ে ওঠে।

এগুলোর চেয়ে পুরানো নগর পাওয়া গেছে উয়ারী ও বটেশ্বরে। উয়ারী ও বটেশ্বর নরসিংদী জেলার দুটি গ্রাম। ধারণা করা হয়, সেখানে খ্রিস্টপূর্ব ছয়-সাত শতকে নগর গড়ে ওঠে। সেই নগর এখন মাটির নিচে চাপা পড়েছে। ২০০০ সালে মাটি খনন করে উয়ারী-বটেশ্বরে প্রাচীন নগরের রাস্তার নমুনা পাওয়া গেছে। পাওয়া গেছে রৌপ্যমুদ্রা, হাতিয়ার, পাথরের পুঁতি এবং পুরানো আরো জিনিসপত্র।

নরসিংদী অঞ্চলের শীতলক্ষ্যা নদী ব্রহ্মপুত্রের একটি শাখা। ইতিহাসবিদদের ধারণা, প্রাচীনকালে এখানকার ব্রহ্মপুত্র নদীপথে মানুষ বাণিজ্য করত। সেই নদী থেকে বঙ্গোপসাগর হয়ে সমুদ্রপথে রোমান সাম্রাজ্যের সাথে যোগাযোগ ছিল। তার মানে খুবই সমৃদ্ধ ছিল প্রাচীন উয়ারী-বটেশ্বর অঞ্চল।

Printed page 99

উয়ারী-বটেশ্বরে নগরের খোঁজ হঠাৎ করে মেলেনি। এখানকার সাধারণ শ্রমিকরা মাটি কাটার সময়ে এখানে প্রায়ই পুরানো জিনিস পেতেন। ১৯৩৩ সালে উয়ারী গ্রামে একটা পাত্রে জমানো কিছু মুদ্রা পাওয়া যায়। ওখানকার স্কুলশিক্ষক হানিফ পাঠান সেখান থেকে ২০-৩০টি মুদ্রা সংগ্রহ করেন। এগুলো এখন পর্যন্ত পাওয়া সবচেয়ে পুরানো রৌপ্যমুদ্রা। ১৯৫৫ সালে বটেশ্বর গ্রামের শ্রমিকরা দুটি পুরানো লোহার টুকরা পান। এগুলো ত্রিকোণাকৃতির এবং একদিকে সুচালো। এরপর ১৯৫৬ সালে উয়ারী গ্রামে মাটি কাটার সময়ে রৌপ্যমুদ্রার একটি ভান্ডার পাওয়া যায়। সেখানে চার হাজারের মতো মুদ্রা ছিল। হানিফ পাঠানের পুত্র হাবিবুল্লাহ পাঠানও উয়ারী-বটেশ্বর থেকে প্রচুর প্রাচীন নিদর্শন সংগ্রহ করেন। পরে তিনি সেগুলো জাদুঘরে জমা দেন।

২০০০ সালে প্রত্নতত্ত্ববিদরা উয়ারী-বটেশ্বর এলাকায় খননকাজ শুরু করেন। তখন মাটির নিচে আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন দুর্গ-নগরের সন্ধান মেলে। আরো পাওয়া যায় ইটের স্থাপত্য, বন্দর, রাস্তা, গলি, পোড়ামাটির ফলক, মূল্যবান পাথর, পাথরের বাটখারা, কাচের পুঁতি, মুদ্রাভান্ডার।

উয়ারী-বটেশ্বরের আশেপাশে প্রায় পঞ্চাশটি পুরানো জায়গার সন্ধান পাওয়া গেছে। যেমন— রাঞ্জার টেক, সোনারু তলা, কেন্দুয়া, মরজাল, টঞ্জী রাজার বাড়ি, মন্দির ভিটা, জানখাঁর টেক, টঞ্জীর টেক। এসব গ্রামে প্রাচীন বসতির প্রমাণ মিলেছে। এখানে দুর্গ-প্রাচীর, ইটের স্থাপত্য, মুদ্রা, গয়না, ধাতব বস্তু, অস্ত্র থেকে শুরু করে জীবনধারণের পুরানো তৈজসপত্র পাওয়া গেছে। এই স্থানটি সম্ভবত প্রাচীন কোনো রাজ্যের রাজধানী ছিল। পুরানো সেই নগর অত্যন্ত সমৃদ্ধ ছিল। নগরটিও ছিল যথাযথ পরিকল্পনায় গড়া। এই সভ্যতা প্রাচীনকালে সোনাগড়া নামে বিশ্বজুড়ে পরিচিত ছিল।

উয়ারী-বটেশ্বর থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত শিবপুর উপজেলা। এখানকার মন্দিরভিটায় এক বৌদ্ধ পদ্মমন্দির আবিষ্কৃত হয়েছে। জানখাঁর টেক গ্রামে একটি বৌদ্ধ বিহারের সন্ধান পাওয়া গেছে। হয়তো আরও অনেক নিদর্শন ঢাকা পড়ে আছে মাটির আবরণে।

অর্থ জেনে নিই

ইতিহাসবিদ — ইতিহাস বিষয়ে অভিজ্ঞ যিনি।

দুর্গ — শত্রুসৈন্য সহজে প্রবেশ করতে পারে না এমন স্থান।

নিদর্শন — প্রমাণ; উদাহরণ।

প্রত্নতত্ত্ববিদ — প্রাচীন ইতিহাস ও উপকরণ নিয়ে কাজ করেন যিনি।

মৃত্তিকা — মাটি।

রৌপ্যমুদ্রা — রুপার তৈরি মুদ্রা বা টাকা।

সাম্রাজ্য — সম্রাটের শাসনাধীন রাজ্য।

Printed page 100

অনুশীলনী

১. শব্দ নিয়ে খালি ঘরে বসিয়ে বাক্য লিখি।

প্রমাণমহাস্থানগড়ঐতিহাসিকসভ্যতাপ্রাচীর

ক. এলাকাটি ............................ স্থান হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

খ. বগুড়ার ............................ একসময়ে বাংলার রাজধানী ছিল।

গ. দুর্গের চারপাশে থাকত ............................ আর পরিখা।

ঘ. সাধারণত নদীর তীরগুলোতে ............................ গড়ে উঠতে দেখা যায়।

ঙ. এসব গ্রামে প্রাচীন বসতির ............................ মিলেছে।

২. প্রশ্নের উত্তর বলি ও লিখি।

ক. এ অঞ্চলের সবচেয়ে পুরানো নগর কোথায় পাওয়া গেছে?

খ. উয়ারী ও বটেশ্বরে কী কী প্রাচীন নিদর্শন পাওয়া গেছে?

গ. কীভাবে উয়ারী-বটেশ্বরে প্রাচীন সভ্যতার খোঁজ পাওয়া যায়?

ঘ. দুর্গ কী?

ঙ. 'খুবই সমৃদ্ধ ছিল প্রাচীন উয়ারী-বটেশ্বর অঞ্চল'—কীভাবে এটি বোঝা যায়?

৩. প্রশ্ন বানাই।

পাঠ থেকে কী, কেন, কোথায়, কীভাবে, কত, কেমন ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করে প্রশ্ন তৈরি করি এবং বন্ধুকে জিজ্ঞেস করি।

ক. ........................................................................................................

খ. ........................................................................................................

গ. ........................................................................................................

Printed page 101

ঘ. ........................................................................................................

ঙ. ........................................................................................................

চ. ........................................................................................................

৪. আজ, গতকাল ও আগামীকাল শব্দ ব্যবহার করে একই রকম বাক্য লিখি।

সুজন আজ বেড়াতে এসেছে।

সুজন গতকাল বেড়াতে এসেছিল।

সুজন আগামীকাল বেড়াতে আসবে।

........................................................................................................

........................................................................................................

........................................................................................................

........................................................................................................

........................................................................................................

৫. আমার এলাকার বিখ্যাত তিনটি জিনিসের নাম লিখি।

........................................................................................................

........................................................................................................

........................................................................................................

৬. সংগ্রহ করি।

পুরানো কয়েন, অন্য দেশের টাকা, ডাকটিকিট, দেশলাইয়ের বাক্স কিংবা পুরানো কোনো জিনিস সংগ্রহ করে সহপাঠীকে দেখাই।

Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.

Trusted resources

Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.