Skip to content

Amar Bangla Boi chapter 22: We Shall Not Forget You

আমরা তোমাদের ভুলব না

  • Amar Bangla Boi
  • Textbook pages 124-129
  • 1 source
  • 6,455 characters of context

Textbook (verbatim transcription): We Shall Not Forget You

Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.

Contents3

Printed page 124

পাঠ ২২

আমরা তোমাদের ভুলব না

যাঁরা ন্যায়ের পথে যুদ্ধ করতে গিয়ে মারা যান, আমরা তাঁদের শহিদ বলি। এ দেশ আর এ দেশের মানুষের জন্য বহুকাল ধরে বহু মানুষ প্রাণ দিয়েছেন, তাঁরা শহিদ হয়েছেন।

Figure: শহিদ মীর নিসার আলী তিতুমীর

আজ থেকে প্রায় দুশো বছর আগে ইংরেজদের নির্যাতন থেকে এ দেশের কৃষকদের রক্ষা করতে জীবন দিয়েছিলেন তিতুমীর। আমরা তাঁকে কখনো ভুলব না।

প্রায় শত বছর আগে ইংরেজ শাসন থেকে এ দেশকে মুক্ত করতে যুদ্ধ করেছিলেন সূর্য সেন। যুদ্ধ করেছিলেন প্রীতিলতাসহ অনেকে। সূর্য সেনকে আটক করার পর তাঁকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়। প্রীতিলতা আত্মাহুতি দেন। আমরা তাঁদের চিরদিন স্মরণ করব।

Figure: শহিদ প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার

বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের শহিদদের কথা আমরা সবাই জানি। বাংলাভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে প্রাণ দিয়েছিলেন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অনেকে। তাঁদের স্মরণ করেই আমাদের শহিদ মিনার তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবছর ফেব্রুয়ারির ২১ তারিখে আমরা তাঁদের বিশেষভাবে স্মরণ করি।

Figure: শহিদ আমানুল্লাহ মোঃ আসাদুজ্জামান

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগে পাকিস্তানের শাসক ছিলেন আইয়ুব খান। তাঁর অত্যাচার ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে ১৯৬৯ সালে একটি গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল। সেই অভ্যুত্থানের একজন ছাত্রনেতা ছিলেন আসাদ। পুলিশ খুব কাছ থেকে তাঁকে গুলি করে হত্যা করেছিল। তাঁর স্মরণে ঢাকায় নির্মাণ করা হয়েছে আসাদ গেট। মতিয়ুর নামের নবম শ্রেণির

Printed page 125

একজন শিক্ষার্থীকে রাস্তায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। নিহত হয়েছিলেন আনোয়ারা বেগম নামের একজন মা-ও। তিনি তখন ঘরের মধ্যে বসে তাঁর সন্তানকে খাবার খাওয়াচ্ছিলেন।

Figure: শহিদ মতিয়ুর রহমান মল্লিক

Figure: শহিদ সার্জেন্ট জহুরুল হক

Figure: শহিদ ড. মুহম্মদ শামসুজ্জোহা

ক্যান্টনমেন্টের মধ্যে আটক রেখে হত্যা করা হয় সার্জেন্ট জহুরুল হককে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের বাঁচাতে গিয়ে নিহত হন অধ্যাপক শামসুজ্জোহা। নিহত হন কৃষক-শ্রমিক আর খেটে-খাওয়া অসংখ্য মানুষ। তাঁরা সবাই শহিদ। তাঁরা আমাদের স্মৃতিতে চিরদিন অমলিন থাকবেন।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ হয়। এটি ছিল আমাদের স্বাধীনতার জন্য লড়াই। তখন এ দেশের নাম ছিল পূর্ব পাকিস্তান। পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী আমাদের প্রতি অন্যায় আচরণ করে। নানাভাবে আমাদের অধিকার হরণ করে। এ দেশের মানুষ তাদের শোষণ থেকে মুক্তি চায়। মুক্তিযোদ্ধারা অস্ত্র হাতে নিয়ে যুদ্ধে অংশ নেন। এই যুদ্ধে শহিদ হন অনেক মুক্তিযোদ্ধা। আমরা তাদের স্মরণ করব।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরও এদেশে অন্যায়-অত্যাচার থামেনি। তাই মানুষ প্রতিবাদ করেছে। শিক্ষার অধিকার রক্ষা করতে গিয়ে ১৯৮৩ সালে শহিদ হন ছাত্রনেতা সেলিম-দেলোয়ারসহ অনেকে। গণতন্ত্রের জন্য বুকে-পিঠে স্লোগান লিখে ১৯৮৭ সালে শহিদ হন নূর হোসেন।

Printed page 126

Figure: শহিদ নূর হোসেন

Figure: শহিদ ডা. শামসুল আলম খান মিলন

Figure: শহিদ নাজির উদ্দিন জেহাদ

১৯৯০ সালে নিহত হন ডাক্তার মিলন ও জেহাদ। তারপর গণ-অভ্যুত্থান ঘটে। সারা দেশে অনেক মানুষ মারা যায়। তাঁরা সবাই শহিদ। আমরা তাঁদের কখনো ভুলব না।

এত ত্যাগের পরও এ দেশের মানুষ অধিকার পায়নি, বৈষম্য কমেনি। অধিকারের দাবি ও বৈষম্যের কথা বলতে গিয়ে এদেশের শিক্ষার্থীরা তাই ২০২৪ সালে আবার রাস্তায় নামে। সরকারি বাহিনী নির্মমভাবে সেই আন্দোলন দমন করতে চেয়েছিল।

Figure: শহিদ আবু সাঈদ

দুঃশাসনের বিরুদ্ধে রংপুরে প্রতিবাদ করেন ছাত্রনেতা আবু সাঈদ। দুই হাত প্রসারিত করে তিনি পুলিশের সামনে দাঁড়ান। পুলিশ তাঁকে খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করে। সারা দেশের মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। বিশাল এক গণ-অভ্যুত্থানের সৃষ্টি হয়।

Figure: শহিদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ

ঢাকার উত্তরায় নিহত হন শিক্ষার্থী মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ। আন্দোলনরত সবার মধ্যে পানি বিতরণ করছিলেন তিনি। চট্টগ্রামে শহিদ হন ওয়াসিম আকরাম। নিহত হয়েছে মায়ের কোলের শিশু ও বাবার সাথে খেলতে থাকা কিশোর পর্যন্ত। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে দেড় হাজারের বেশি মানুষ জীবন

Printed page 127

দিয়েছেন। অনেক মানুষ হারিয়েছেন দৃষ্টিশক্তি। অনেকেই চিরতরে পঙ্গুত্বরণ করেছেন। তাঁরা সবাই একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশের জন্য রক্ত দিয়েছেন। সবাইকে নিয়ে একটি সুন্দর রাষ্ট্রে মিলেমিশে বসবাস করার স্বপ্ন ছিল তাঁদের। দেশের জন্যই তাঁরা শহিদ হয়েছেন। আমরা তাঁদের কখনো ভুলব না।

অর্থ জেনে নিই

আক্রমণ — অন্যের ওপর হামলা।

আন্দোলন — কোনো দাবি আদায়ের জন্য একসাথে বিক্ষোভ করা।

ক্যান্টনমেন্ট — সেনানিবাস।

গণ-অভ্যুত্থান — দেশের মানুষের সম্মিলিত আন্দোলন।

বৈষম্য — পার্থক্য; প্রভেদ; অসমতা।

অনুশীলনী

১. ঘরের শব্দগুলো খালি জায়গায় বসিয়ে বাক্য তৈরি করি।

ফাঁসিতেকৃষকদেরপ্রসারিত১৯৪৭শহিদ মিনার

ক. তিতুমীর যুদ্ধ করেছিলেন এ দেশের ... ... ... ... ... বাঁচাতে।

খ. সূর্য সেনকে ... ... ... ... ... ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়।

গ. ভারত ও পাকিস্তান স্বাধীন হয় ... ... ... ... ... সালে।

ঘ. ভাষা শহিদদের স্মরণে তৈরি হয়েছে ... ... ... ... ...।

ঙ. পুলিশের গুলির মুখে আবু সাঈদ দুই হাত ... ... ... ... ... করে দাঁড়ান।

Printed page 128

২. প্রশ্নগুলোর উত্তর বলি ও লিখি।

ক. কাদের আমরা শহিদ বলি?
খ. ইংরেজদের বিরুদ্ধে দেশ বাঁচাতে কারা যুদ্ধ করেছিলেন?
গ. বায়ান্নর ভাষাশহিদদের নাম লিখি।
ঘ. ১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান সম্পর্কে যা জানি তা লিখি।
ঙ. ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে মানুষ জীবন দিয়েছেন কেন?

৩. বিপরীত শব্দ লিখি এবং বিপরীত শব্দ দিয়ে বাক্য তৈরি করি।

শব্দবিপরীত শব্দবাক্য
বন্দিমুক্তআমরা মুক্ত দেশের মানুষ।
ন্যায়…………………………………………………………………………
যুদ্ধ…………………………………………………………………………
নির্মম…………………………………………………………………………
গণতন্ত্র…………………………………………………………………………
বৈষম্য…………………………………………………………………………

৪. ঠিক উত্তরটিতে টিকচিহ্ন (✓) দিই।

ক. নিচের কোন বিপ্লবী আত্মাহুতি দেন?

১) সূর্য সেন ২) প্রীতিলতা
৩) তিতুমীর ৪) মতিউর

খ. বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগে পাকিস্তানের শাসক ছিলেন–

১) ইয়াহিয়া খান ২) বেনজির ভুট্টো
৩) আইয়ুব খান ৪) খাজা নাজিমুদ্দিন

Printed page 129

গ. ৬৯-এর অভ্যুত্থানে কোন ছাত্রনেতা শহিদ হন?

১) আসাদ ২) জব্বার
৩) নূর হোসেন ৪) মতিয়ুর

ঘ. বুকে-পিঠে স্লোগান লিখে নূর হোসেন শহিদ হন–

১) ১৯৮৩ সালে ২) ১৯৮৭ সালে
৩) ১৯৯০ সালে ৪) ২০০২ সালে

৬. আন্দোলনরত সবার মধ্যে পানি বিতরণ করতে গিয়ে মীর মুগ্ধ শহিদ হন–

১) ঢাকার আজিমপুরে ২) নরসিংদীর বেলাবতে
৩) ঢাকার উত্তরায় ৪) রংপুরের পার্কে

৫. পাঠে বর্ণিত বীর শহিদদের একটি ধারাবাহিক তালিকা প্রস্তুত করি।

Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.

Trusted resources

Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.