Skip to content

Bangladesh and Global Studies chapter 3: Ethnic Groups of Bangladesh

বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী

  • Bangladesh and Global Studies
  • Textbook pages 19-31
  • 1 source
  • 16,633 characters of context

Textbook (verbatim transcription): Ethnic Groups of Bangladesh

Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.

Contents4

Printed page 19

অধ্যায় ৩

বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী

১ গারো

Figure: ছবি-১

বর্ণনা: একজন নারী ও একজন পুরুষ গারো পোশাক পরে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছেন।

Figure: ছবি-২

বর্ণনা: কয়েকজন গারো সবুজ মাঠে ঢোল বাজাচ্ছেন ও নৃত্য করছেন; দুজন নারীও আছেন।

ক) উপরের ছবিগুলো পর্যবেক্ষণ করে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর লিখি।

ছবি-১নারী ও পুরুষ কী ধরনের পোশাক পরিধান করেছেন?নারীপুরুষ
ছবি-২কীসের ছবি?
তারা কী করছেন?

বাংলাদেশে সাধারণত ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, শেরপুর, টাঙ্গাইল জেলায় গারো নৃগোষ্ঠী বসবাস করে। তাদের বিশেষভাবে তৈরি ঘরের নাম নকমান্দি। গারোদের নিজস্ব ভাষার নাম আচিক বা গারো ভাষা। গারো সমাজ মাতৃতান্ত্রিক। সমাজে সন্তানদের বংশপরিচয় ও উত্তরাধিকার মায়ের গোত্রের দিক থেকে হয়। তারা পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধে বিশ্বাসী। গারো নারী-পুরুষ অত্যন্ত পরিশ্রমী। অনেক ক্ষেত্রে নারীরা পুরুষদের থেকেও বেশি পরিশ্রম করে। গারোদের আদি ধর্মের নাম সাংসারেক। তবে বর্তমানে বেশিরভাগ গারো খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বী। তারা ভাত, মাছ, মাংস এবং বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি খেতে পছন্দ করে। গারো নারীদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকের নাম দকবান্দা ও দকসারি। পুরুষেরা শার্ট, গেঞ্জি, লুঙ্গি, ধুতি ইত্যাদি পরিধান করে।

Printed page 20

গারোদের ঐতিহ্যবাহী উৎসবের নাম ওয়ানগালা। এই সময়ে তারা দেবতা সালজং-এর প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতাস্বরূপ নতুন শস্য উৎসর্গ করে। এদেশের সামগ্রিক অগ্রগতিতে সবার মতো তারাও অবদান রেখে চলেছে। গারো নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য জেনে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা পোষণ করা উচিত।

খ) অনুচ্ছেদটি পড়ে গারোদের প্রধান সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যগুলো খুঁজে নিচের তথ্যগুলো পূরণ করি।

Figure

লেবেল: গারোদের সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য, পোশাক, খাবার, ধর্ম, উৎসব বর্ণনা: মাঝখানের একটি বৃত্তে "গারোদের সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য" লেখা। বৃত্ত থেকে পাঁচটি সংযোগ রেখা পাঁচটি লম্বাটে ঘরে গেছে; তার মধ্যে চারটি ঘরের লেবেল "পোশাক", "খাবার", "ধর্ম", "উৎসব" এবং বাকি ঘরটি (সবচেয়ে উপরে) লেবেলবিহীন। ঘরগুলোর ডান অংশ ফাঁকা।

গ) নিচের ছকে বাঙালিদের সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য ও গারো জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যের তুলনা করে ছকে লিখি।

সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যবাঙালিগারো
ভাষা
পোশাক
খাবার
জীবনধারা
উৎসব

ঘ) ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী/বাঙালিদের প্রতি আমরা যেভাবে শ্রদ্ধা পোষণ করব সে সম্পর্কে দুটি বাক্য লিখি।




Printed page 21

২ খাসি

Figure: ছবি-১

বর্ণনা: একজন নারী ও একজন পুরুষ খাসি পোশাক পরে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছেন; নারীর মাথায় ফুলের সাজ ও গলায় মালা, পুরুষের মাথায় পাগড়ি।

Figure: ছবি-২

বর্ণনা: কয়েকজন খাসি সবুজ গাছপালার মাঝে মাথার ওপর কাপড় তুলে নাচ করছেন; আশেপাশে কয়েকজন মানুষ দাঁড়িয়ে দেখছেন।

ক) উপরের ছবিগুলো পর্যবেক্ষণ করে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর লিখি।

ছবি-১নারী ও পুরুষ কী ধরনের পোশাক পরিধান করেছেন?নারীপুরুষ
ছবি-২কীসের ছবি?
তারা কী করছেন?

বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় খাসি জনগোষ্ঠী বসবাস করে। তাদের জীবনযাপনে রয়েছে নানা বৈচিত্র্য ও ঐতিহ্য। তারা গ্রামকে পুঞ্জি বলে। খাসি জনগোষ্ঠীর সমাজব্যবস্থা মাতৃতান্ত্রিক। নারী-পুরুষ কঠোর পরিশ্রমী। তারা প্রত্যেকেই পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল। সমাজে স্বামী-স্ত্রী পরস্পর সহযোগিতা ও সমঝোতার মাধ্যমে কৃষি ও সংসারের কাজকর্ম করে। তারা কৃষিকাজের উপর নির্ভরশীল। তারা প্রচুর পান ও সুপারি চাষ করে। বাড়িতে অতিথি এলে পান-সুপারি ও চা দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। এই জনগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা আছে। তাদের ভাষার নাম মনখেমে। তারা বিভিন্ন দেবতার পূজা করে। তাদের প্রধান দেবতার নাম উল্লাই নাংথউ। খাসিদের প্রধান খাবার ভাত, মাছ, মাংস, শুঁটকি। খাসি মেয়েরা কাজিম পিন নামক ব্লাউজ ও লুঙ্গি পরে। আর ছেলেরা পকেট ছাড়া শার্ট ও লুঙ্গি পরে, যার নাম ফুংগ মারুং। তারা 'খাসি সেং কুটস্নেম' বা বর্ষবিদায় উৎসব পালন করে। এ উৎসবে তারা নতুন বছরকেও বরণ করে। এই উৎসবে তারা মেলাসহ নাচ, গান ও খেলার আয়োজন করে।

Printed page 22

এছাড়াও সকল ধরনের অনুষ্ঠান যেমন– পূজাপার্বণ, বিয়ে, খরা, অতিবৃষ্টি ইত্যাদি অনুষ্ঠানে নাচ, গান করা হয়। এই উপলক্ষ্যে খাসি জনগোষ্ঠী উৎসবের আয়োজন করে। বাংলাদেশের বসবাসকারী খাসি জনগোষ্ঠী এদেশেরই অবিচ্ছেদ্য এবং অনিবার্য অংশ। এদেশের সামগ্রিক উন্নয়নে অন্যান্য নৃগোষ্ঠীর মতো খাসি জনগোষ্ঠীও অবদান রেখে চলেছে।

খ) খাসি জনগোষ্ঠীর প্রধান সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যগুলো লিখি।

Figure

লেবেল: খাসি জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য, ভাষা, পোশাক, খাবার, উৎসব বর্ণনা: মাঝখানের একটি বৃত্তে "খাসি জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য" লেখা। বৃত্ত থেকে চারটি সংযোগ রেখা চারটি লম্বাটে ঘরে গেছে; তার মধ্যে তিনটি ঘরের লেবেল "ভাষা", "পোশাক", "খাবার" এবং নিচের ঘরের লেবেল "উৎসব"। ঘরগুলোর ডান অংশ ফাঁকা।

গ) গারো ও খাসি নৃগোষ্ঠীদের সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যের তুলনা করে নিচের ছকে লিখি।

সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যখাসিগারো
ভাষা
পোশাক
খাবার
জীবনধারা
উৎসব

ঘ) একটি খাসি/বাঙালি পরিবার আমার প্রতিবেশী। তাদের প্রতি আমার করণীয় সম্পর্কে দুটি বাক্য লিখি।



Printed page 23

৩ ওঁরাও

Figure: ছবি-১

বর্ণনা: একজন নারী ও একজন পুরুষ দাঁড়িয়ে আছেন। নারীর পরনে লাল শাড়ি, হাতে সবুজ পাতা; পুরুষের মাথায় সাদা কাপড়, গায়ে সাদা জামা ও পরনে সাদা ধুতি, কাঁধে একটি লম্বা বাদ্যযন্ত্র।

Figure: ছবি-২

বর্ণনা: একদল নারী সারি বেঁধে হাঁটছেন; সামনে একজন পুরুষ বাঁশি বাজাচ্ছেন এবং ডানপাশে একজন পুরুষ ঢোল বাজাচ্ছেন।

ক) উপরের ছবিগুলো পর্যবেক্ষণ করে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর লিখি।

ছবি-১নারী ও পুরুষ কী ধরনের পোশাক পরিধান করেছেন?নারীপুরুষ
ছবি-২কীসের ছবি?
তারা কী করছেন?

ওঁরাও জনগোষ্ঠীর বেশিরভাগ রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলে বসবাস করে। ওঁরাওদের সমাজব্যবস্থা পিতৃতান্ত্রিক। সমাজে সন্তানদের পরিচিতি, বংশমর্যাদা ও সম্পত্তির উত্তরাধিকার প্রথা বাবার গোত্রের দিক থেকে হয়। তারা নারী ও পুরুষ উভয়ই পরিশ্রমী। এই জনগোষ্ঠী বিভিন্ন দেবতার পূজা করে। তাদের প্রধান দেবতার নাম ধার্মেশ। ওঁরাওদের ভাষার নাম কুড়ুখ ও সাদরি। ওঁরাওদের জীবন কৃষিনির্ভর। তারা গবাদি পশুসহ হাঁস-মুরগি পালন করতে ভালোবাসে। তাদের প্রধান খাবার ভাত। এছাড়া তারা গম, ভুট্টা, মাছ, মাংস ও বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি খেয়ে থাকে। পুরুষেরা ধুতি, লুঙ্গি, শার্ট ও প্যান্ট পরে। মেয়েরা শাড়ি ও ব্লাউজ পরে। নারীরা বিভিন্ন অলংকার পরিধান করে। ওঁরাওদের প্রধান উৎসবের নাম কারাম। ভাদ্র মাসে এই উৎসব পালন করা হয়। এছাড়াও তারা প্রতি

Printed page 24

মাসে ও ঋতুতে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করে। নৃত্য ও সংগীত ওঁরাও সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। তারা তাদের ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র নিজেরাই তৈরি করে।

ওঁরাওদের ঘরের দেয়াল সাধারণত মাটির এবং ছাউনি ছন ও খড়ের। তাদের অধিকাংশ ঘর আকৃতিতে ছোটো ও চারচালা বিশিষ্ট। ওঁরাওদের ঘরগুলো খুবই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। ঘরের দেয়ালে অঙ্কন করা হয় গাছ, লতা-পাতা, ফুল, পাখি ইত্যাদি। এগুলো বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

খ) উপযুক্ত শব্দ বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করি।

১) ওঁরাওদের প্রধান খাবার -----------------------।

২) তাদের প্রধান ----------------------- ধার্মেশ।

৩) ওঁরাওদের ভাষার নাম --------------- ও ------------------।

গ) ওঁরাও ও খাসি জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যের তুলনা করে নিচের ছকে লিখি।

সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যওঁরাওখাসি
ভাষা
পোশাক
খাবার
জীবনধারা
উৎসব

ঘ) আমাদের শ্রেণিতে একজন নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। শিক্ষক জানালেন, আমাদের নতুন সহপাঠী একজন ওঁরাও পরিবারের সদস্য। আমি যেভাবে তার সাথে বন্ধুসুলভ আচরণ ও সহযোগিতা করব সে সম্পর্কে একটি বর্ণনা লিখি।







Printed page 25

Loading the rest of the chapter…

Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.

Trusted resources

Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.