Bangladesh and Global Studies chapter 4: Our Memorable Leaders
আমাদের স্মরণীয় নেতা
- Bangladesh and Global Studies
- Textbook pages 32-40
- 1 source
- 12,813 characters of context
Textbook (verbatim transcription): Our Memorable Leaders
Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.
Contents6ShowHide
Printed page 32
অধ্যায় ৪
আমাদের স্মরণীয় নেতা
১ এ কে ফজলুল হক
অবিভক্ত বাংলায় এ কে ফজলুল হক ছিলেন অত্যন্ত সাহসী একজন অবিসংবাদী নেতা। তাঁর সাহস ও দৃঢ় মনোভাবের জন্য তাঁকে শেরে বাংলা বা বাংলার বাঘ বলা হতো। তিনি ছিলেন অসাধারণ বাগ্মী। ইংরেজি, বাংলা ও উর্দুতে অনর্গল বক্তৃতা করতে পারতেন। তাঁর পুরো নাম আবুল কাশেম ফজলুল হক। তিনি ১৮৭৩ সালে বর্তমান বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বরিশাল জিলা স্কুল থেকে এন্ট্রান্স (এসএসসি), প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে এফএ (এইচএসসি) এবং বিএ (অনার্স) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৮৯৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি গণিত শাস্ত্রে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর ১৮৯৭ সালে কলকাতার 'ইউনিভার্সিটি ল কলেজ' থেকে বিএল ডিগ্রি লাভ করে আইন পেশায় কর্মজীবন শুরু করেন।
পিতার মৃত্যুর পরে তিনি বরিশাল শহরে চলে আসেন। ১৯০৬ সালে আইন পেশা ছেড়ে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে ফজলুল হক সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন। একই বছরে তিনি সর্বভারতীয় মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় অংশ নিয়েছিলেন। ১৯০৮ থেকে ১৯১২ সাল পর্যন্ত হক সাহেব ছিলেন সমবায়ের সহকারী রেজিস্ট্রার। পরবর্তীকালে সরকারি চাকরি ছেড়ে দিয়ে তিনি জনসেবামূলক কাজ ও আইন পেশাকে বেছে নেন। ১৯১৬ থেকে ১৯২১ সাল পর্যন্ত শেরে বাংলা ছিলেন সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের সভাপতি। তিনি ১৯৩৫ সালে কৃষক-প্রজা পার্টি গঠন করেন। তিনি ছিলেন অবিভক্ত বাংলার প্রথম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। সেসময় এদেশে জমিদারি প্রথা প্রচলিত ছিল। দেশের বেশিরভাগ জমির মালিক ছিল কিছু জমিদার। আর বাকি সবাই ছিল প্রজা। শেরে বাংলা এই জমিদারি প্রথা বাতিল করে কৃষকের দুঃখ দূর করার চেষ্টা করেন। মহাজনদের ঋণের অত্যাচার থেকে কৃষকদের বাঁচানোর জন্য ঋণ সালিশি বোর্ড গঠন করেন।
এদেশের মানুষের শিক্ষার জন্য তিনি অসামান্য অবদান রেখেছিলেন। ১৯২৪ সালে বাংলার শিক্ষামন্ত্রী হয়েছিলেন। তখন শিক্ষাসংক্রান্ত অবকাঠামো সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তিনি বহু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। বিশেষভাবে বাংলায় মাদ্রাসা শিক্ষার নতুন কাঠামো তৈরিতেও তাঁর ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। শিক্ষার উন্নতির জন্য অনেক স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। দুর্দশাগ্রস্ত ও অতি দরিদ্রদের সাহায্য করতে তিনি ছিলেন উদার। তাঁর উদার ও পরোপকারী স্বভাবের জন্য জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকলেই তাঁকে গভীরভাবে ভালোবাসত ও শ্রদ্ধা করত। শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ১৯৬২ সালের ২৭শে এপ্রিল ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।
Printed page 33
ক) উপরের অনুচ্ছেদ পড়ে নিচের তালিকা পূরণ করি।
| প্রশ্ন | উত্তর |
|---|---|
| ১। শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক কত সালে এবং কোথায় জন্মগ্রহণ করেন? | |
| ২। তিনি কোন নামে অধিক পরিচিত ছিলেন? | |
| ৩। তাঁকে বাংলার বাঘ উপাধিতে কেন ভূষিত করা হয়? |
খ) এদেশের প্রজা সাধারণের ভাগ্য উন্নয়নে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের বিশেষ অবদানের তালিকা তৈরি করি।
Figure
লেবেল: ১., ২., ৩.
বর্ণনা: একটি সাদা ফলকের মতো আয়তাক্ষেত্রে তিনটি ক্রমিক নম্বর (১., ২., ৩.) দেওয়া আছে; প্রতিটির পাশে লেখার জন্য ফাঁকা জায়গা।
গ) পূর্বের পৃষ্ঠার তথ্যের আলোকে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক সম্পর্কে একটি মাইন্ডম্যাপ তৈরি করি।
Figure
বর্ণনা: একটি আয়তাকার কাঠামো চার ভাগে ভাগ করা (একটি আনুভূমিক ও একটি উল্লম্ব রেখা দ্বারা)। কেন্দ্রে নীল বৃত্তাকার বর্ডারের ভেতরে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের ছবি।
Printed page 34
২ মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী বাংলাদেশের মজলুম জননেতা হিসেবে সর্বাধিক পরিচিত। মজলুম শব্দের অর্থ নির্যাতিত বা নিপীড়িত। মওলানা ভাসানী সারাজীবন নির্যাতিত মানুষের জন্য কাজ করেছেন। তিনি শাসকের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে সংগ্রাম করার ফলে বহুবার জেল খেটেছেন। মওলানা ভাসানী ১৮৮০ সালে সিরাজগঞ্জ জেলার ধনপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। স্থানীয় স্কুল ও মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে তিনি টাঙ্গাইলের কাগমারিতে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে কিছুদিন তিনি ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট এলাকার কালা গ্রামে একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন।
১৯১৯ সালে ব্রিটিশবিরোধী অসহযোগ ও খেলাফত আন্দোলনে যোগদানের মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়। ত্রিশের দশকের শেষদিকে তিনি আসামের ঘাগমারায় বসবাসকারী বাঙালিদের স্বার্থরক্ষার জন্য আন্দোলন শুরু করেন। ঐ এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদীর ভাসানচরে বন্যার কবল থেকে বাঙালি কৃষকদের রক্ষার জন্য তিনি স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে একটি বাঁধ নির্মাণ করেন। ভাসানচরের জনসাধারণ তাঁর এ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে 'ভাসানী' উপাধি দিয়ে সম্মান জানায়।
১৯৩৭ সালে ভাসানী মুসলিম লীগে যোগ দেন এবং অচিরেই দলের আসাম শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি সর্বদা সাধারণ মানুষের স্বার্থরক্ষায় আন্দোলন ও সংগ্রাম করে গেছেন। ইংরেজদের বিরুদ্ধে তিনি অনেক আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছেন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পরে শাসকশ্রেণির জুলুম-নির্যাতনের বিরুদ্ধে তিনি পূর্ব বাংলার সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য সংগ্রাম করেন। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ঢাকায় রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে ছাত্র-জনতা নিহত হলে ভাসানী এর কঠোর প্রতিবাদ করেন। তাতে শাসকগোষ্ঠী রুষ্ট হয়ে ২৩শে ফেব্রুয়ারি তাঁকে তাঁর গ্রামের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠায়। উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পটভূমিতে মওলানা ভাসানী অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
তিনি একাধিক রাজনৈতিক দল গঠন করেন। মওলানা ভাসানী এমন একটি সমাজ চাইতেন যেখানে মানুষের উপর নির্যাতন থাকবে না, সমাজে বৈষম্য থাকবে না। তিনি গ্রাম-গঞ্জ, শহর-বন্দর ঘুরে ঘুরে সাধারণ মানুষকে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তুলতেন। দেশ ও দেশের মানুষের উপর করা সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে তিনি সব সময় সোচ্চার ছিলেন। ভারতের ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের প্রতিবাদে ফারাক্কা অভিমুখে তাঁর লংমার্চ জনসাধারণের ব্যাপক সমর্থন পায়। শিক্ষার বিস্তারে তিনি ভারতের আসামে এবং বাংলাদেশে অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছেন। ১৯৭৬ সালের ১৭ই নভেম্বর মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী মৃত্যুবরণ করেন।
Printed page 35
ক) উপরের অনুচ্ছেদ পড়ে নিচের তালিকা পূরণ করি।
| প্রশ্ন | উত্তর |
|---|---|
| ১. মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী কত সালে এবং কোথায় জন্মগ্রহণ করেন? | |
| ২. মওলানা ভাসানীকে কেন মজলুম জননেতা বলা হয়? | |
| ৩. তাঁর নামের সাথে 'ভাসানী' শব্দটি কীভাবে যুক্ত হয়? | |
| ৪. এদেশের মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ে তাঁর জীবনী থেকে কী শিক্ষা লাভ করতে পারি? |
খ) উপরের অনুচ্ছেদটুকু পড়ে বাঙালির অধিকার আদায়ে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর অবদান লিখি।
⊙ ………………………………………………………………………………………
⊙ ………………………………………………………………………………………
⊙ ………………………………………………………………………………………
গ) মওলানা ভাসানীর জীবনী থেকে আমরা কী কী শিক্ষা গ্রহণ করতে পারি তা নিচের ছকে লিখি।
⊙ ………………………………………………………………………………………
⊙ ………………………………………………………………………………………
⊙ ………………………………………………………………………………………
Printed page 36
৩ হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী
হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী অবিভক্ত বাংলার একজন প্রতিভাবান রাজনীতিবিদ ছিলেন। তিনি ১৮৯২ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। সোহ্রাওয়ার্দী অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি (সম্মান) ও বিসিএল ডিগ্রি লাভ করেন এবং পরে ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯২০ সালে ইংল্যান্ড থেকে ভারতে ফিরে তিনি আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করেন।
সোহ্রাওয়ার্দী ছিলেন একজন দক্ষ রাজনৈতিক সংগঠক। তিনি কলকাতা খেলাফত কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিনি স্বল্প সময়ের মধ্যে নাবিক, রেল কর্মচারী, পাটকল ও সুতাকল কর্মচারী, রিকশাচালক, গাড়িচালক প্রভৃতি মেহনতি মানুষের প্রায় ৩৬টি ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠন গড়ে তোলেন। তিনি কলকাতা কর্পোরেশনের ডেপুটি মেয়র, বাংলা প্রাদেশিক সরকারের শ্রমমন্ত্রী, সরবরাহ মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি আজীবন সংগ্রাম করেছেন। তিনি মুসলিম লীগেরও গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন। হিন্দু-মুসলিমদের মিলন ও সংহতি রক্ষায় তিনি সংকল্পবদ্ধ ছিলেন।
পাকিস্তান সৃষ্টির পর ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের কাছে মুসলিম লীগ পরাজিত হয়। এই যুক্তফ্রন্ট গঠনে হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী প্রধান ভূমিকা পালন করেন। যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বাতিল হয়ে পাকিস্তানে একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়। এই সরকারে সোহ্রাওয়ার্দী কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তৎকালীন পাকিস্তানের সকল জাতি ও সকল ধর্মের মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য তিনি কাজ করেছেন। ব্যক্তিগত সুনাম ও সুখ্যাতির জন্য তিনি কখনো লালায়িত ছিলেন না। দলীয় সংহতি ও ঐক্য বজায় রাখতে তিনি সদা তৎপর থাকতেন। ১৯৬৩ সালে ৫ই ডিসেম্বর বৈরুতের এক হোটেল কক্ষে গণতন্ত্রের এই অতন্দ্র প্রহরী মৃত্যুবরণ করেন।
Printed page 37
ক) উপরের অনুচ্ছেদ পড়ে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর লিখি।
| প্রশ্ন | উত্তর |
|---|---|
| ১. হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী কত সালে এবং কোথায় জন্মগ্রহণ করেন? | |
| ২. তিনি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছিলেন? | |
| ৩. তিনি কোন পেশার মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন? |
খ) হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দীর জীবনী থেকে নিচের বিষয়ে তথ্য সন্নিবেশ করি।
| শিক্ষা | কর্ম | রাজনীতি |
|---|---|---|
| ১. | ১. | ১. |
| ২. | ২. | ২. |
গ) হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দীর রাজনৈতিক জীবনের উল্লেখযোগ্য ঘটনাসমূহের তালিকা তৈরি করি।
Figure
লেবেল: হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দীর রাজনৈতিক জীবনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা
বর্ণনা: একটি আয়তাকার কাঠামো চার ভাগে ভাগ করা (একটি আনুভূমিক ও একটি উল্লম্ব রেখা দ্বারা)। কেন্দ্রে সবুজ আয়তাকার বক্সের ভেতরে উক্ত লেখাটি রয়েছে।
Printed page 38
Loading the rest of the chapter…
Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.
Trusted resources
Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.