Bangladesh and Global Studies chapter 5: Our Liberation War
আমাদের মুক্তিযুদ্ধ
- Bangladesh and Global Studies
- Textbook pages 41-60
- 1 source
- 19,587 characters of context
Textbook (verbatim transcription): Our Liberation War
Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.
Contents9ShowHide
Printed page 41
অধ্যায় ৫
আমাদের মুক্তিযুদ্ধ
১ স্বাধীনতা ঘোষণার পটভূমি ও মুজিবনগর সরকার
ক) ছবিগুলো দেখে পাশের ঘরের প্রশ্নগুলোর উত্তর লিখি।
Figure: ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৬
লেবেল: ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৬; প্ল্যাকার্ডের লেখা [অস্পষ্ট] বর্ণনা: মিছিলে অনেক মানুষ হাঁটছেন, সামনে একজন নারী একটি প্ল্যাকার্ড ধরে আছেন; পেছনে রিকশা ও সাইকেল দেখা যাচ্ছে।
১. ছবিটি কোন আন্দোলনের?
২. আন্দোলনটি কখন হয়েছিল?
৩. ছয় দফা আন্দোলন কেন করা হয়েছিল?
Figure: ২৫শে মার্চ রাতে গণহত্যা, ১৯৭১
লেবেল: ২৫শে মার্চ রাতে গণহত্যা, ১৯৭১ বর্ণনা: একটি সাইকেলের ওপর ও তার আশেপাশে কয়েকজন মানুষ নিথর অবস্থায় পড়ে আছে।
১. ছবিতে কী দেখা যাচ্ছে?
২. কখন এ হত্যাকাণ্ড হয়েছিল?
৩. কারা এ হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিল?
Printed page 42
পাকিস্তান সৃষ্টির শুরু থেকেই শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের উপর বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক আচরণ করে। প্রথমেই আঘাত করে বাংলা ভাষার উপর। উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করে। এদেশের মানুষ ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে তা প্রতিহত করে। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠন করেও বেশি দিন টিকতে পারেনি। ১৯৫৮ সালে জেনারেল আইয়ুব খান পাকিস্তানের ক্ষমতা দখল করে। পাকিস্তানের শাসন-শোষণ, নির্যাতন-নিপীড়ন থেকে মুক্তির লক্ষ্যে এদেশের মানুষকে বারবার সংগ্রাম করতে হয়েছে। ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন এবং ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর এসেছে সত্তরের জাতীয় নির্বাচন।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ জয় লাভ করে। কিন্তু শাসকচক্র ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি। শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বিশাল জনসমাবেশে ভাষণ দেন। তিনি ঘোষণা করেন, “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম”। ইয়াহিয়া খান ও জুলফিকার আলী ভুট্টো শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করে। আলোচনার মধ্যেই ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বাঙালির উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। বর্বর হামলা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল, শিক্ষকদের বাসভবন, পিলখানা, রাজারবাগ পুলিশ লাইনস, ইপিআর সদর দফতরসহ ঢাকা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে। প্রতিরোধ গড়ে তুলে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসের সদস্যরা। এ রাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী শিক্ষক, শিক্ষার্থী, পুলিশ, ইপিআর সদস্যসহ নির্বিচারে সবার উপর গণহত্যা চালায়। পাকবাহিনী এই আক্রমণের নাম দেয় ‘অপারেশন সার্চলাইট’। এটিই বাংলাদেশের ইতিহাসে ‘কালরাত’ নামে পরিচিত। ঐ রাতেই শেখ মুজিবুর রহমানকে বন্দি করা হয়। ২৬শে মার্চ তারিখে মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এরপর তিনি ২৭শে মার্চ শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে আবারও স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
Figure: মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা
লেবেল: মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা বর্ণনা: একজন সামরিক পোশাক পরা ব্যক্তি মাইক্রোফোনের সামনে বসে নিচের দিকে তাকিয়ে আছেন; সামনে একাধিক মাইক্রোফোন রাখা আছে।
Printed page 43
খ) পূর্বের পৃষ্ঠার অনুচ্ছেদ পড়ে স্বাধীনতা ঘোষণার প্রেক্ষাপট ধারাবাহিকভাবে ছকে উপস্থাপন করি।
| সাল/তারিখ | কী ঘটেছিল |
|---|---|
| ১৯৫২ সাল | |
| ১৯৫৪ সাল | |
| ১৯৫৮ সাল | |
| ১৯৬৬ সাল | |
| ১৯৬৯ সাল | |
| ১৯৭০ সাল | |
| ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ |
১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত হয় বাংলাদেশের প্রথম সরকার। এটি মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত। এ সরকারের উদ্দেশ্য ছিল মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা ও বিশ্বজনমত গড়ে তোলা।
Figure
বর্ণনা: বনের মধ্যে সশস্ত্র পোশাক পরা একজন ব্যক্তি ও সাদা পোশাকে একজন ব্যক্তি হাঁটছেন; পেছনে রাইফেল হাতে কয়েকজন মানুষ দাঁড়িয়ে আছেন।
১৯৭১ সালের ১৭ই এপ্রিল বর্তমান মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথ তলায় আম্রকাননে (বর্তমানে মুজিবনগর নামে পরিচিত) এই সরকার শপথ গ্রহণ করে। মুজিবনগর সরকারে রাষ্ট্রপতি ছিলেন– শেখ মুজিবুর রহমান। এ সরকারের অন্য সদস্যগণ হলেন: উপ-রাষ্ট্রপতি– সৈয়দ নজরুল ইসলাম (অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি), প্রধানমন্ত্রী– তাজউদ্দীন আহমদ, অর্থমন্ত্রী– এম মনসুর আলী, স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী– এএইচএম কামরুজ্জামান।
মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয় এমএজি ওসমানীকে। মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়। যুদ্ধের সময় এ সরকার বিদেশে বাংলাদেশ মিশন স্থাপন করে। বিভিন্ন দেশে কূটনৈতিক প্রতিনিধিদল প্রেরণ করে। তাঁরা বহির্বিশ্বের সরকার ও জনগণের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করে। মুজিবনগর সরকার গঠনের ফলে মুক্তিযুদ্ধে গতি সঞ্চার হয়। এ সরকার বিদেশি রাষ্ট্রের সমর্থন অর্জন করতে থাকে। স্বল্প সময়ের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের সাফল্য আসতে শুরু করে।
Printed page 44
গ) অনুচ্ছেদটি পড়ে নিচের মুজিবনগর সরকার সম্পর্কে তথ্যগুলো খুঁজে বের করি।
| বিষয় | বাম পাশের বিষয়ের আলোকে তথ্য লিখি |
|---|---|
| মুজিবনগর সরকার গঠন | |
| ১৭ই এপ্রিল ১৯৭১ | |
| রাষ্ট্রপতি | |
| প্রধানমন্ত্রী | |
| অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি | |
| প্রধান সেনাপতির নাম কী | |
| যে স্থানে সরকার গঠিত হয়েছিল |
ঘ) মুজিবনগর সরকারের অবদান লিখি।
১.
২.
৩.
৪.
Printed page 45
২ মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনী
Figure: ছবি-১ এমএজি ওসমানী, ১৯৭১
বর্ণনা: সেপিয়া রঙের একটি ছবি। একজন সামরিক পোশাক পরা ব্যক্তি টেবিলের সামনে ঝুঁকে কিছু লিখছেন, তাঁর পাশে আরেকজন ঝুঁকে আছেন।
Figure: ছবি-২ মুক্তিবাহিনী, ১৯৭১
বর্ণনা: কয়েকজন যুবক সারি বেঁধে কাদাযুক্ত রাস্তা ধরে হাঁটছেন। সামনের যুবকের কাঁধে একটি ভারী অস্ত্র (রকেট লঞ্চারের মতো) রয়েছে; পেছনে গাছপালা ও ঘরবাড়ি দেখা যাচ্ছে।
Figure: ছবি-৩ ১৯৭১
বর্ণনা: কয়েকজন যুবক জলাশয়ে নেমে ঝুঁকে কিছু কাজ করছেন; তাঁদের চারপাশে ঝোপঝাড়।
Figure: ছবি-৪ ১৯৭১
বর্ণনা: সাদা শাড়ি ও সাদা পোশাক পরা অনেক নারী ও পুরুষ সারি বেঁধে রাস্তায় হাঁটছেন; তাঁদের কারও কারও কাঁধে রাইফেল রয়েছে।
Printed page 46
ক) পূর্বের পৃষ্ঠার ছবিগুলো পর্যবেক্ষণ করে নিচের প্রশ্নের আলোকে বিশ্লেষণ করি।
| প্রশ্ন | ছবি-১ | ছবি-২ | ছবি-৩ | ছবি-৪ |
|---|---|---|---|---|
| কাকে/কাদেরকে দেখতে পাচ্ছি? | ||||
| সে/তাঁরা কী করছে? | ||||
| এ কাজটি কখন ঘটেছে? | ||||
| কেন তাঁরা কাজটি করছে? |
মুক্তিবাহিনী
১৯৭১ সালে পাকিস্তানের কবল থেকে বাংলাদেশকে স্বাধীন করতে গঠিত হয় মুক্তিবাহিনী। ছাত্র, যুবক, কৃষক, শ্রমিক, পুলিশ, ইপিআর ও সামরিক বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে গড়ে ওঠে মুক্তিবাহিনী। মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন জেনারেল মহম্মদ আতাউল গণি ওসমানী।
উপ-প্রধান সেনাপতি ছিলেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার। মুক্তিবাহিনীকে ৩টি ব্রিগেড ফোর্সে ভাগ করা হয়েছিল; মেজর খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে 'কে' ফোর্স, মেজর কেএম শফিউল্লাহর নেতৃত্বে 'এস' ফোর্স এবং মেজর জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে 'জেড' ফোর্স। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও আসামে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য যুবকদের যুবক্যাম্পে ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা হতো। প্রশিক্ষণ শেষে তাঁরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তাঁরা মাইন বসিয়ে রাস্তা ও সেতু নষ্ট করে পাকসেনাদের যাতায়াতে বাধার সৃষ্টি করেন। বন্দর অচল করে দেন। মুক্তিবাহিনী গেরিলা আক্রমণ করে হানাদার বাহিনীকে পরাস্ত করতে থাকেন।
[Image blocked: মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের নৌ-কমান্ডোদের আক্রমণের পূর্ব মুহূর্তের একটি দৃশ্য। কমান্ডোদের সবার বুকে মাইন। ছবিটি [অস্পষ্ট] এলাকায় তোলা।]
বর্ণনা: সংবাদপত্রের কাটিং-এর একটি ছবি। কয়েকজন ব্যক্তি জলে দাঁড়িয়ে ও ঝুঁকে আছেন; তাঁদের সামনে জলযান ও ঝোপঝাড়ের মতো কিছু দেখা যাচ্ছে।
নৌ-কমান্ডো ১৯৭১ সালের ১৫ই আগস্ট 'অপারেশন জ্যাকপট' নামে প্রথম অভিযান পরিচালনা করে। এদিন রাতে নৌ-কমান্ডোরা একযোগে মংলা, চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, নারায়ণগঞ্জ বন্দর আক্রমণ করে। পাকিস্তান বাহিনীর ২৬টি পণ্য ও সমরাস্ত্রবাহী জাহাজ এবং গানবোট ডুবিয়ে দেয়।
Printed page 47
নারী মুক্তিযোদ্ধারাও সশস্ত্র প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন। তাঁরা মুক্তিযোদ্ধাদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা করেন। সেবা-চিকিৎসা, ওষুধপত্র, খাবার, প্রয়োজনীয় অর্থ ও গোপন তথ্য আদান-প্রদানে নারী মুক্তিযোদ্ধাগণ অবদান রাখেন। অস্ত্র বহন, অস্ত্র চালনা, মুক্তিযোদ্ধাদের নিরাপদ আশ্রয়-প্রশ্রয় দিতে নারী মুক্তিযোদ্ধারা পিছপা হননি।
সাংস্কৃতিক কর্মীরা বিভিন্নভাবে মুক্তিযুদ্ধে অবদান রেখেছেন। স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র গান, কবিতা, চরমপত্র ও সংবাদ বুলেটিন প্রচার করে। এ কাজ মুক্তিযোদ্ধাদের উৎসাহ ও সাহস জুগিয়েছে।
যুদ্ধে শহিদ হয়েছেন অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা। অনেকেই পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের এ অবদান আমরা কখনো ভুলব না।
খ) অনুচ্ছেদটি পড়ে মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান লিখি।
Printed page 48
মুক্তিযুদ্ধে সাধারণ মানুষ
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেণির মানুষের অবদান রয়েছে। তাঁরা বিভিন্ন বাহিনীতে যোগ দিয়ে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। যারা সরাসরি অংশগ্রহণ করতে পারেননি তাঁরা নানাভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করেছেন। গ্রামের সাধারণ মানুষই মুক্তিযোদ্ধাদের খাবার, চিকিৎসা, অর্থ ও আশ্রয় দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। অনেকে আবার শত্রুবাহিনীর খবর সংগ্রহ করে মুক্তিযোদ্ধাদের জানিয়েছেন। নারীরা খাবার রান্না করে, জামা-কাপড় সংগ্রহ করে এবং আহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা দিয়ে সহায়তা করেছেন। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাধারণ মানুষও এ যুদ্ধে অবদান রাখেন। মুক্তিযুদ্ধে সাধারণ মানুষের অবদান ভুলার নয়। তাঁরা দেশকে ভালোবাসতে ও দেশের প্রয়োজনে নিজেকে কীভাবে উৎসর্গ করতে হয় তা শিখিয়েছেন।
গ) সাধারণ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে কীভাবে অবদান রেখেছেন তা লিখি।
| অবদানের ক্ষেত্র | কীভাবে অবদান রেখেছেন |
|---|---|
| খাদ্য | |
| আশ্রয় | |
| সেবা/সাহায্য | |
| যোগাযোগ |
ঘ) 'মুক্তিবাহিনী' ও 'মুক্তিযুদ্ধে সাধারণ মানুষ' অনুচ্ছেদ দুটি পড়ে প্রশ্ন তৈরি ও জিজ্ঞাসা করি।
Printed page 49
Loading the rest of the chapter…
Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.
Trusted resources
Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.