Skip to content

Bangladesh and Global Studies chapter 7: Cultural Diversity of South Asia

দক্ষিণ এশিয়ার সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য

  • Bangladesh and Global Studies
  • Textbook pages 77-86
  • 1 source
  • 10,356 characters of context

Textbook (verbatim transcription): Cultural Diversity of South Asia

Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.

Contents12

Printed page 77

অধ্যায় ৭

দক্ষিণ এশিয়ার সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য

১ মানচিত্রে দক্ষিণ এশিয়া

Figure: দক্ষিণ এশিয়ার মানচিত্র

লেবেল: বিশ্ব মানচিত্র, দক্ষিণ এশিয়ার মানচিত্র, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ বর্ণনা: বাঁ দিকে একটি গোলক, যাতে বিশ্বের মানচিত্রে দক্ষিণ এশিয়ার অংশ সবুজ রঙে চিহ্নিত এবং একটি আয়তক্ষেত্র দিয়ে ঘেরা। সেখান থেকে দুটি রেখা ডান দিকের বড় মানচিত্রে গিয়ে মিলেছে। ডান দিকের মানচিত্রে আফগানিস্তান, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ দেখানো হয়েছে; বাংলাদেশ গোলাপি রঙে চিহ্নিত।

ক) মানচিত্রটি পর্যবেক্ষণ করে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর লিখি।

১. মানচিত্রটি কীসের? ………………………………………………………

২. মানচিত্রটিতে কয়টি দেশ আছে? ………………………………………………

৩. মানচিত্র পর্যবেক্ষণ করে বলতে হবে বাংলাদেশের নিকটতম দেশ কোনগুলো?



Printed page 78

খ) নিচের মানচিত্রটিতে বিভিন্ন দেশ চিহ্নিত করে নাম লিখি।

Figure: দক্ষিণ এশিয়া

লেবেল: দক্ষিণ এশিয়া, 0, 500 Km, 0, 500 Mi. বর্ণনা: দক্ষিণ এশিয়ার মানচিত্র, যেখানে দেশগুলো রঙিন। ছয়টি সাদা বক্স বিভিন্ন দেশের দিকে তীর চিহ্ন দিয়ে যুক্ত; বক্সগুলোতে কোনো নাম লেখা নেই। নিচের বাম কোণে স্কেল দেখানো হয়েছে।

Printed page 79

Figure: দক্ষিণ এশিয়া

লেবেল: দক্ষিণ এশিয়া, 0, 500 Km, 0, 500 Mi. বর্ণনা: দক্ষিণ এশিয়ার রূপরেখা মানচিত্র, দেশের সীমারেখা ও নাম ছাড়া। নিচের বাম কোণে স্কেল দেখানো হয়েছে।

গ) উপরের মানচিত্রটিতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ চিহ্নিত করে নাম লিখি ও রং করি।

Printed page 80

ঘ) দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের মানচিত্রের পাজল কার্ড দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার মানচিত্র বানাই।

Figure

বর্ণনা: দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সীমারেখার রূপরেখা মানচিত্র, নাম ছাড়া; ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপের আকৃতি দেখা যায়।

Printed page 81

২ দক্ষিণ এশিয়ার সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য

Figure

বর্ণনা: দুটি ছেলে মাথায় টুপি পরে আছে; একজন ছেলে অন্য একজনকে জড়িয়ে ধরে আছে।

Figure

বর্ণনা: একটি কলাপাতার ওপর পাতলা, বড় ও মুচমুচে পিঠার মতো খাবার; পাশে দুটি বাটিতে তরল খাবার ও সবজি, আরেকটি ছোট বাটিতে লাল রঙের চাটনি এবং খাবারের ওপর একটুকরো মাখন।

Figure

বর্ণনা: রাতে একদল নৃত্যশিল্পী সাদা ও লাল রঙের সাজসজ্জায় সারিবদ্ধভাবে নাচছে; পেছনে কয়েকটি রঙিন ছাতা দেখা যাচ্ছে।

Figure

বর্ণনা: নীল জ্যাকেট ও ডোরাকাটা লম্বা পোশাক পরা একটি শিশু রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে।

ক) উপরের ছবিগুলো পর্যবেক্ষণ করে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর লিখি।

১. উপরের ছবিগুলোতে কী প্রকাশ করা হয়েছে? ………………………………………………

২. ছবিগুলোতে কী কী সাংস্কৃতিক উপাদান আছে? ………………………………………………

৩. কোন ছবিটি বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে প্রকাশ করে? ………………………………………………

দক্ষিণ এশিয়া নানান জাতি, উপজাতি, গোষ্ঠী, বর্ণ এবং বিভিন্ন ধর্মের আবাসস্থল। এ অঞ্চলের মানুষ সংস্কৃতির বন্ধনে একে অপরের সাথে আবদ্ধ।

Printed page 82

বাংলাদেশ

বাংলাদেশের প্রধান ভাষা বাংলা। বাংলা ভাষার পাশাপাশি এদেশে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা রয়েছে। ‘মাছে ভাতে বাঙালি’ কথাটি পরিচয় করিয়ে দেয় বাংলাদেশের প্রচলিত খাবার। তাছাড়া মসলাসমৃদ্ধ খাবার যেমন– পোলাও, কোরমা, বিরিয়ানি, মাংস, সবজি ও নানান রকমের পিঠা ও মিষ্টি জাতীয় খাবার উল্লেখযোগ্য। পোশাকের মধ্যে আছে লুঙ্গি, শার্ট-প্যান্ট, গেঞ্জি, শাড়ি, কামিজ, ফ্রক, বোরকা ইত্যাদি। বিভিন্ন উৎসবে বা অনুষ্ঠানে পাঞ্জাবি-পায়জামা, স্যুট-ব্লেজার পরার রীতিও চালু আছে। নারীদের সালোয়ার-কামিজ ও শাড়ি প্রধান পোশাক। ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রধান উৎসব। হিন্দুদের প্রধান প্রধান ধর্মীয় উৎসবগুলোর মধ্যে রয়েছে– দুর্গাপূজা, কালীপূজা ও সরস্বতীপূজা। বৌদ্ধদের প্রধান উৎসব হচ্ছে বুদ্ধপূর্ণিমা এবং খ্রিস্টানদের বড়োদিন। বাংলা নববর্ষ আমাদের বড়ো উৎসব। তাছাড়া নবান্ন উৎসব, পৌষ মেলা, বসন্ত উৎসব আমরা উদ্যাপন করে থাকি।

ভারত

ভারত একটি বহুবিধ সংস্কৃতির ভান্ডার। ভারতে সবচেয়ে বেশি মানুষ কথা বলেন হিন্দিতে। তবে বাংলাসহ আরও অনেক ভাষার প্রচলন রয়েছে। খাবারের মধ্যে রয়েছে রুটি, ভাত, ডাল, মাছ, মাংস, ডিম, সবজি ইত্যাদি। কিছু জনপ্রিয় খাবারের নাম হায়দ্রাবাদী বিরিয়ানি, দোসা, ইডলি, খিচুড়ি। ভারতীয় খাবারে নিরামিষের প্রাধান্য বেশি। ডাল ও দুধ দিয়ে আমিষের ঘাটতি মিটানো হয়। ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাকের মধ্যে রয়েছে ধুতি, লুঙ্গি, কুর্তা, পায়জামা-পাঞ্জাবি, শাড়ি-ব্লাউজ, সালোয়ার, কামিজ ও স্কার্ফ ইত্যাদি। উৎসবের দেশ ভারত, সারা বছর জুড়ে থাকে বিভিন্ন উৎসব। প্রধান ধর্মীয় উৎসবের মধ্যে রয়েছে কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী, দিওয়ালি, হোলি, রাখি বন্ধন, দুর্গাপূজা, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা, বড়োদিন, ইস্টার সানডে, বুদ্ধপূর্ণিমা ইত্যাদি।

পাকিস্তান

পাকিস্তানের প্রধান ভাষা উর্দু। খাবার হিসেবে ভাত ও রুটি এই এলাকার মানুষের পছন্দ। পাকিস্তানে রুটি বা ভাতের সাথে তরকারি হিসেবে মাংস, সবজি পরিবেশন করা হয়। এ অঞ্চলের মানুষ তুলনামূলকভাবে কম-বেশি মাছ খায়। বিরিয়ানি, কাবুলি পোলাও, কাবাব, টিকা, কোরমা খেতে পাকিস্তানিরা পছন্দ করে। জামা, পাগড়ি, পায়জামা, আচকান কুর্তা, শেরওয়ানি পুরুষের পোশাক। নারীরা সালোয়ার কামিজ, বোরকা পরে। ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা, মেলা চিরাগান, আশুরা, নওরোজ (বসন্তের উৎসব) এবং দাতা ইত্যাদি উৎসব উল্লেখযোগ্য।

Printed page 83

মালদ্বীপ

মালদ্বীপের বেশিরভাগ মানুষ দিভেহি ভাষায় কথা বলে। খাবারের মধ্যে আছে ভাত, তরকারি, সালাদ, মাছ, নারকেল ক্রিম। গরুথিয়া এবং ফিহুনা দুটি ঐতিহ্যবাহী খাবারের নাম। মালদ্বীপের পোশাকে আছে বৈচিত্র্য। লম্বা হাতয়ালা জামার (দেবী লিভা) সাথে লুঙ্গি (ফেঈলী) পুরুষ মহিলা উভয়ই ব্যবহার করে। ঐতিহ্যগতভাবে মালদ্বীপের পুরুষরা শার্টের সাথে পাগড়ি জাতীয় মুন্দু পরেন। তাছাড়া দিগু হিদুন, হেদুন বুরী, বোরকা ইত্যাদি মেয়েদের জনপ্রিয় পোশাকের নাম। মালদ্বীপের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম। তাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। তবে কিছু ঐতিহ্যবাহী উৎসব হলো ঘুড়ি উড়ানো, ঝেমগাং, মৌলুধু।

নেপাল

নেপালে অনেক জাতিগোষ্ঠীর বসবাস। প্রত্যেকের আছে নিজস্ব ভাষা, তবে নেপালি হলো প্রধান ভাষা। ডাল, ভাত, তরকারি নেপালিদের পছন্দের খাবার। থাকালি থালি নেপালের নামকরা খাবার। ঢেড়ো নামে পরিচিত আরেকটি খাবার পাওয়া যায়। এটি নেপালের সাধারণ মানুষের খাবার। ভুট্টা, গমের আটা, লবণ ও গরম পানি একসঙ্গে সিদ্ধ করে এটি তৈরি করা হয়। রাষ্ট্রীয় পোশাক দৌরা সুরুওয়াল পুরুষের জন্য এবং শাড়ি নারীদের জন্য। পুরুষ নারী উভয়ই ঢাকা টুপি পরার প্রচলন আছে। নেপালে বছরজুড়ে থাকে বিভিন্ন উৎসব। যেমন– বিজয়া দশমী, বুদ্ধজয়ন্তী, তিহার, দশাইন, হোলি ইত্যাদি।

আফগানিস্তান

আফগানিস্তানে পশতু ও দারি প্রধান ভাষা। গম, ভুট্টা, বার্লি এবং চাল দিয়ে তৈরি বিভিন্ন রকম খাবার প্রচলিত। কাবুলি পোলাও জনপ্রিয়। আফগানরা মশলাদার খাবার কম খায়। তাছাড়া দুগ্ধজাত পণ্য যেমন দুধ, দই, মাঠা, তাজা এবং শুকনো ফল উল্লেখযোগ্য। ঐতিহ্যবাহী পোশাক ঢিলেঢালা ফিটিং কুর্তা ও পায়জামা। নারীরা বোরকা ও মাথায় হিজাব পরে। সবচেয়ে জনপ্রিয় ঐতিহ্যবাহী পোশাকের মধ্যে রয়েছে পশতুন পোশাক। নওরোজ বসন্তের একটি ঐতিহ্যবাহী উৎসব। মুসলিমদের সকল ধর্মীয় উৎসব এখানে পালন করা হয়।

শ্রীলঙ্কা

সিংহলী শ্রীলঙ্কার প্রধান ভাষা। ভাত ও চিংড়ি দিয়ে তৈরি কিরিবাথ শ্রীলঙ্কার সাধারণ খাবার। খাবারের মধ্যে রয়েছে ভাত, মাছ, মাংস, শাকসবজি, মসুর ডাল। পুরুষদের সাধারণত ঐতিহ্যবাহী পোশাক হলো সরং, ধুতি এবং শার্ট এবং মহিলাদের পোশাক হলো শাড়ি। ‘ক্যান্ডি এসালা পেরাহারা’ হলো শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে বড়ো উৎসব। বড়ো ধর্মীয় উৎসব হলো ‘ভেসাক পোয়া’ বা বুদ্ধপূর্ণিমা।

Printed page 84

ভুটান

ভুটানের রাষ্ট্রীয় ভাষা জংখা। প্রধান খাবার হলো লাল চাল, বাজরা, ভুট্টা ইত্যাদি। মসলাযুক্ত মাংস, মসুর ডাল এবং সবজি উল্লেখযোগ্য। মাখন ও পনির অত্যন্ত জনপ্রিয়। পুরুষদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক হলো ‘ঘো’। ‘ঘো’-এর সাথে তারা ‘কাবনি’ নামক এক ধরনের কাপড়ের বেল্ট পরে। মহিলাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক ‘কিরা’। তারা এ পোশাকের সাথে ‘কেরা’ ও ‘রাচু’ ব্যবহার করে। ধর্মীয় অনুষ্ঠানের নাম সেচু। এই অনুষ্ঠানের প্রধান কার্যক্রম হলো এক ধরনের বিশেষ ধর্মীয় নৃত্য। বসন্তে পালিত হয় পারো উৎসব।

খ) নিচের ঘরে দেওয়া সংস্কৃতির উপাদানগুলো কোনটি কোন দেশের সাথে সম্পর্কিত তা লিখি।

ঢেড়ো, সিংহলী, কিরিবাথ, রাচু, নবান্ন উৎসব, রাখিবন্ধন, নওরোজ, মৌলুধু, জংখা, পারো, কাবুলি পোলাও

দেশের নামসংস্কৃতির উপাদানের নাম

Printed page 85

গ) পূর্বের পৃষ্ঠায় বর্ণিত বিবরণ পড়ে প্রতিটি দেশের তিনটি সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য দিয়ে নিচের দেওয়া মাইন্ডম্যাপটি পূরণ করি।

Figure

লেবেল: দক্ষিণ এশিয়ার সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, বাংলাদেশ, বাংলা, ভারত, মালদ্বীপ, আফগানিস্তান, ভুটান, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা বর্ণনা: মাঝখানে "দক্ষিণ এশিয়ার সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য" লেখা একটি বৃত্ত; তার চারপাশে দশটি ভাগ। প্রতিটি ভাগে একটি দেশের নাম লেখা ও তার সাথে একটি রঙিন তীর যুক্ত; দেশের নাম ছাড়া অন্য কোনো বৈশিষ্ট্য লেখা নেই। বাইরের বৃত্তাকার বিন্দুযুক্ত রেখাগুলোতে বৈশিষ্ট্য লেখার জায়গা রাখা হয়েছে।

ঘ) আমি যদি দক্ষিণ এশিয়ার অন্য কোনো দেশে বেড়াতে যাই তাহলে কীভাবে তাদের সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ করব তা লিখি।

……………………………………………………………………………………………………………………

……………………………………………………………………………………………………………………

……………………………………………………………………………………………………………………

Printed page 86

Loading the rest of the chapter…

Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.

Trusted resources

Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.