Bangladesh and Global Studies chapter 8: Regional and International Organizations
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থা
- Bangladesh and Global Studies
- Textbook pages 87-93
- 1 source
- 10,302 characters of context
Textbook (verbatim transcription): Regional and International Organizations
Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.
Contents8ShowHide
Printed page 87
অধ্যায় ৮
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থা
১ আঞ্চলিক সংস্থা
সার্ক
সার্ক একটি আঞ্চলিক সংস্থা। সার্ক-এর পূর্ণরূপ হলো–দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (SAARC: South Asian Association for Regional Cooperation)। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সার্ক গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ১৯৮৫ সালে দক্ষিণ এশিয়ার ৭টি দেশ নিয়ে এ সংস্থা গঠিত হয়। সার্কের সদর দপ্তর নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে অবস্থিত। পরবর্তীকালে আফগানিস্তান সার্কের সদস্যভুক্ত হয়। বর্তমানে সার্কের সদস্য সংখ্যা ৮।
Figure
লেবেল: বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, ভারত, পাকিস্তান, ভুটান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, SAARC বর্ণনা: মাঝখানে SAARC প্রতীক; তার চারপাশে আটটি সদস্য দেশের পতাকা আলাদা আলাদা অষ্টভুজাকার ঘেরের ভেতরে বসানো আছে।
Printed page 88
ক) পূর্বের পৃষ্ঠায় বর্ণিত বিষয়বস্তুর আলোকে নিচের তথ্যগুলো খুঁজে বের করি।
১. সার্কের পূর্ণ নাম : ........................................................................ ২. প্রতিষ্ঠার সময় : ........................................................................ ৩. সদস্য দেশসমূহের নাম : ........................................................................ ৪. সদর দপ্তর : ........................................................................
দক্ষিণ এশিয়া বিশ্বের একটি জনবহুল অঞ্চল। এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে সার্ক গঠিত হয়। বিশেষ করে সদস্য দেশগুলো যেন অর্থনৈতিক, সামাজিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ঘটিয়ে আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠতে পারে। শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিনিময়ের মাধ্যমে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করাও সার্কের অন্যতম উদ্দেশ্য। সদস্য দেশগুলো একে অপরের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে। অন্য সদস্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার সাথে সার্ক সুসম্পর্ক বজায় রেখে জনগণের মধ্যে বিশ্ব নাগরিকত্ববোধ গড়ে তোলে।
খ) নিচে দেওয়া শব্দগুলো উপযুক্ত শূন্যস্থানে বসিয়ে সার্কের উদ্দেশ্য সম্পর্কিত বাক্যগুলো তৈরি করি।
সামাজিক, প্রযুক্তিগত, আত্মনির্ভরশীল, জীবনযাত্রার মান, সমস্যা সমাধানে, হস্তক্ষেপ, কল্যাণ
১. দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের ............................... উন্নয়ন করা। ২. সদস্য দেশগুলোর জনগণের ............................ সাধন করা। ৩. সদস্য দেশগুলোর অর্থনৈতিক ও .................... অবস্থার দ্রুত উন্নয়ন ঘটানো। ৪. সদস্য দেশগুলোকে বিভিন্ন বিষয়ে .......................... হতে সাহায্য করা। ৫. সদস্য দেশগুলোর মধ্যে একে অপরের ............................. অবদান রাখা। ৬. সদস্য দেশগুলোর ............................ বিষয়ে একে অপরের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। ৭. অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ............................না করা।
শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথোপকথন
শিক্ষক : তোমরা এর আগে সার্কের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জেনেছ। এ সমস্ত উদ্দেশ্যকে ভিত্তি করেই সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্র নির্ধারণ করা হয়েছে। এর একটি হলো দেশগুলোর কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি। আরও অনেক ক্ষেত্র........
Printed page 89
তিথি : আপা, দেশগুলোর শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়েও তো হতে পারে। শিক্ষক : ঠিক বলেছ। এছাড়া আরও আছে। এই ধরো....... কাজল : আপা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে হতে পারে না? এসবের উন্নয়নের জন্যও তো আমরা একে অপরকে সহযোগিতা করতে পারি, তাই না? শিক্ষক : অবশ্যই, এটিও সহযোগিতার একটি বড়ো ক্ষেত্র। তোমরা নিশ্চয়ই জানো যে জলবায়ুর পরিবর্তন হচ্ছে। আমরা কয়লা, ডিজেল, পেট্রোল ইত্যাদি জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে সৌরশক্তির মতো নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার করতে পারি। সুমি : তা হলে তো আমরা সদস্য দেশগুলো মিলে নবায়নযোগ্য শক্তির উন্নয়নে কাজ করতে পারি। এটিও তো একটি সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে। আরমান : আচ্ছা আপা, বর্তমান সময় হলো তথ্য-প্রযুক্তির সময়। এক্ষেত্রেও তো আমরা একে অপরকে সহযোগিতা করতে পারি। শিক্ষক : খুব গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছ। সার্ক সদস্য দেশের মধ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি একটি সহযোগিতার ক্ষেত্র। সদস্য দেশ মিলে একটি জরুরি তহবিল গঠন করার কথা বলা আছে। আমাদের সকলের আর্থসামাজিক উন্নয়নে এ তহবিলের টাকা ব্যবহার করতে পারি।
গ) উপরের কথোপকথনটি পড়ে সার্ক দেশসমূহের সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করে মাইন্ডম্যাপটি তৈরি করি।
Figure
লেবেল: সার্কের সহযোগিতার ক্ষেত্রসমূহ, শিক্ষা ও সংস্কৃতি বর্ণনা: মাঝখানে একটি বৃত্তে "সার্কের সহযোগিতার ক্ষেত্রসমূহ" লেখা; বৃত্তের দুই পাশে ছয়টি গোলাকার ফাঁকা বক্স সংযুক্ত আছে, যার মধ্যে একটিতে "শিক্ষা ও সংস্কৃতি" লেখা এবং বাকিগুলো ফাঁকা।
ঘ) সার্ক সম্পর্কে আমার ধারণা সংক্ষেপে লিখে প্রকাশ করি।
........................................................................................................ ........................................................................................................ ........................................................................................................ ........................................................................................................ ........................................................................................................
Printed page 90
২ আন্তর্জাতিক সংস্থা
ওআইসি
ওআইসি'র পূর্ণরূপ হলো– ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (Organization of Islamic Cooperation)। ১৯৬৯ সালের ২৫ শে সেপ্টেম্বর এই সংস্থার জন্ম। সদর দপ্তর সৌদি আরবের জেদ্দায়। বর্তমান সদস্য সংখ্যা ৫৭। ১৯৭৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সম্মেলনে বাংলাদেশ ওআইসি'র ৩২তম সদস্য পদ লাভ করে।
Figure: ওআইসি
বর্ণনা: ওআইসির প্রতীক; একটি সবুজ অর্ধচন্দ্রের ভেতরে গ্লোবের জালিকা, তার মাঝখানে একটি কালো ঘনক্ষেত্র।
ওআইসির কাজ
মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, বৈজ্ঞানিক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রসমূহে সহযোগিতার হাত বাড়ানো। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের স্বার্থ রক্ষায় ভূমিকা রাখা। বর্ণবৈষম্য নির্মূল করা। আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি প্রয়োজনীয় সমর্থন প্রদান করা। পবিত্র স্থানসমূহের নিরাপত্তা বিধানে সহযোগিতা করা। ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায্য সংগ্রামকে সমর্থন করা। মুসলমানদের মান-মর্যাদা, স্বাধীনতা এবং জাতীয় অধিকার সংরক্ষণে শক্তি জোগানো। সদস্য রাষ্ট্রসমূহ ও অন্যান্য দেশের মধ্যে সহযোগিতা ও শান্তির লক্ষ্যে উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা।
জাতিসংঘ
১৯৪৫ সালের ২৪ শে অক্টোবর জাতিসংঘ গঠিত হয়। জাতিসংঘের সদর দপ্তর আমেরিকার নিউইয়র্কে। ১৯৭৪ সালের ১৭ ই সেপ্টেম্বর ২৯তম সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে। বাংলাদেশ জাতিসংঘের ১৩৬তম সদস্য রাষ্ট্র। বর্তমানে সদস্য সংখ্যা ১৯৩।
Printed page 91
জাতিসংঘের কাজ
⊙ বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করা। ⊙ জাতিসমূহের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা। ⊙ সদস্য দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মানব সেবামূলক কাজে সহযোগিতা প্রদান। ⊙ আন্তর্জাতিক আইনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিভেদ নিষ্পত্তি করে পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি করা।
ক) উপরের বিষয়বস্তুর আলোকে নিচের তথ্যগুলো খুঁজে বের করি।
১. ওআইসি'র পূর্ণ নাম : .................................................... ২. ওআইসি প্রতিষ্ঠার সময় : .................................................... ৩. জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার সময় : .................................................... ৪. বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্য পদ লাভ করে : .................................................... ৫. জাতিসংঘের সদর দপ্তর : ....................................................
খ) ওআইসি সম্পর্কে পড়ি এবং এর মূল কাজগুলো খালিঘরে লিখি।
Figure
লেবেল: ওআইসি বর্ণনা: বাম দিকে "ওআইসি" লেখা একটি বৃত্ত; সেখান থেকে পাঁচটি রঙিন তীরচিহ্ন পাঁচটি ফাঁকা বক্সের দিকে গেছে।
Printed page 92
গ) জাতিসংঘ সম্পর্কে পড়ি এবং এর মূল কাজগুলো খালিঘরে লিখি ।
Figure
লেবেল: জাতিসংঘ বর্ণনা: বাম দিকে "জাতিসংঘ" লেখা একটি বৃত্ত; সেখান থেকে পাঁচটি রঙিন তীরচিহ্ন পাঁচটি ফাঁকা বক্সের দিকে গেছে।
মানুষের মতো বিশ্বের রাষ্ট্রগুলোও একে অন্যের সহযোগিতা ছাড়া চলতে পারে না। বিশ্বের দেশগুলো নানা ক্ষেত্রে একে অন্যের উপর নির্ভরশীল। এ ক্ষেত্রগুলো হলো– শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, অর্থনীতি, পরিবেশ, জলবায়ু, যোগাযোগ, প্রযুক্তি ইত্যাদি। এক্ষেত্রে সার্ক, ওআইসি, জাতিসংঘ এবং অন্যান্য সংস্থাসমূহ সহযোগিতামূলক ভূমিকা পালন করে আসছে। এসব আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থা আমাদের মনে করিয়ে দেয় আমরা একটি বিশ্ব পরিবারের সদস্য। নিজেদের গড়ে তুলতে হবে বিশ্ব নাগরিক হিসেবে। আমার কাজ দ্বারা পরিবার ও সমাজ যেমন উপকৃত হবে, ঠিক তেমনি রাষ্ট্র ও বিশ্ব উপকৃত হবে। কোনো জনকল্যাণমূলক আবিষ্কারের সুবিধা সকল দেশের মানুষই ভোগ করতে পারে। আবার কারো কর্মে যদি জলবায়ুর ক্ষতি হয়, তার প্রভাবও অন্য দেশ ভোগ করে। যোগাযোগ ও প্রযুক্তির উন্নয়নের সুবিধা কেউ বা কোনো দেশ একা ভোগ করে না। এভাবেই নিজের প্রয়োজনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে গড়ে উঠেছে বন্ধুত্ব, সম্প্রীতি ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক।
ঘ) বিশ্ব আমাদের সাথে আছে। আমি কি এমন ধারণার সাথে একমত? আমার মতামত লিখে প্রকাশ করি।
........................................................................................................ ........................................................................................................ ........................................................................................................ ........................................................................................................
Printed page 93
Loading the rest of the chapter…
Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.
Trusted resources
Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.