Bangladesh and Global Studies chapter 12: Forests and Natural Tourist Spots of Bangladesh
বাংলাদেশের বনভূমি ও প্রাকৃতিক পর্যটন স্থান
- Bangladesh and Global Studies
- Textbook pages 126-132
- 1 source
- 9,949 characters of context
Textbook (verbatim transcription): Forests and Natural Tourist Spots of Bangladesh
Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.
Contents8ShowHide
Printed page 126
অধ্যায় ১২
বাংলাদেশের বনভূমি ও প্রাকৃতিক পর্যটন স্থান
১ বাংলাদেশের বনভূমি : গুরুত্ব ও সংরক্ষণ
ক) ছবিগুলো পর্যবেক্ষণ করে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর লিখি।
Figure: ছবি-১
বর্ণনা: পাহাড়ের ঢালজুড়ে ঘন সবুজ বনভূমি; ওপরে নীল আকাশ।
Figure: ছবি-২
বর্ণনা: কুয়াশাচ্ছন্ন ঘন সবুজ বনের মধ্যে দিয়ে একটি খোলা তৃণভূমি বা ফাঁকা জায়গা দেখা যাচ্ছে।
Figure: ছবি-৩
বর্ণনা: সবুজ জলাশয়ের তীরে দুটি হরিণ; পেছনে ঘন গাছপালা।
Figure: ছবি-৪
বর্ণনা: জলে ডুবে থাকা গাছের গোড়া ও শাখা; চারপাশে ঘন সবুজ গাছপালা।
| প্রশ্ন | উত্তর | |||
|---|---|---|---|---|
| ১. ছবিগুলো কীসের? | ছবি-১ | ছবি-২ | ছবি-৩ | ছবি-৪ |
| ২. ছবিগুলোর মধ্যে কী পার্থক্য রয়েছে? | ||||
Printed page 127
Figure
লেবেল: বাংলাদেশের বনভূমি; ক্রান্তীয় চিরসবুজ বন; ক্রান্তীয় পাতাঝরা বন; ম্যানগ্রোভ বা সুন্দরবন; জলাবন বর্ণনা: চারটি রঙিন বক্স একটি সবুজ কেন্দ্রীয় বর্গক্ষেত্রকে ঘিরে আছে, যাতে লেখা "বাংলাদেশের বনভূমি"। প্রতিটি বক্সে একটি বনের নাম ও তার বর্ণনা লেখা।
ক্রান্তীয় চিরসবুজ বন
খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, চট্টগ্রাম এবং সিলেট অঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় এ বনভূমি অবস্থিত। এসব বনে গর্জন, চাপালিশ, তেলসুর, বৈলাম, অর্জুন, জারুল, কুসুম, বহেরা ইত্যাদি বৃক্ষ বেশি জন্মে। এছাড়া বিভিন্ন প্রকারের বেত ও বাঁশ জন্মে। এ ধরনের বনে সারা বছর গাছে পাতা থাকে।
ক্রান্তীয় পাতাঝরা বন
ময়মনসিংহ, গাজীপুর, টাঙ্গাইল ও শেরপুরে এ বন বিস্তৃত। এখানকার ৯৫% বৃক্ষই শাল বলে এর অপর নাম শালবন। এছাড়া কড়ই, বাজনা, শেওড়া, জলপাই, আমলকী, হরীতকী, বহেরা প্রভৃতি বৃক্ষ এসব বনে জন্মে। শীতকালে এসব বনের গাছের পাতা ঝরে যায় বলে একে পাতাঝরা বন বলা হয়।
ম্যানগ্রোভ বা সুন্দরবন
খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা জেলায় এ বন অবস্থিত। সুন্দরী বৃক্ষ বেশি হওয়ায় এ বন সুন্দরবন নামে পরিচিত। নির্দিষ্ট সময় পরপর এ বন জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়। তাই এ অঞ্চলের উদ্ভিদদের মাঝে অভিযোজন হিসেবে শ্বাসমূল, ঠেসমূল ও জরায়ুজ অঙ্কুরোদ্গম দেখা যায়। সুন্দরী ও গোলপাতা ছাড়াও পশুর, গেওয়া, কেওড়া, বাইন, ধুন্দুল, আমুর ইত্যাদি বৃক্ষ জন্মে। সুন্দরবনে পৃথিবীর বিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার বাস করে। এছাড়া হরিণ, বানর, শজারু, সাপ, বনমোরগ, মৌমাছি এবং নানা ধরনের পাখি পাওয়া যায়।
জলাবন
সিলেটের হাওর অঞ্চলে এবং পাহাড়ি বনের নিচু জায়গাগুলোতে এসব বন দেখা যায়। বর্ষাকালে এসব বন জলে কানায় কানায় ভরে ওঠে। সিলেটের রাতারগুল বাংলাদেশের সবচেয়ে বড়ো মিঠা পানির জলাবন। জলসহিষ্ণু হিজল, করচ, পানিজাম, কদম, কাঞ্জল, অশোক, বরুণ, ডুমুর প্রভৃতি বৃক্ষ এসব বনে জন্মে।
খ) উপরের অংশটুকু পড়ে তথ্য সংগ্রহ করে নিচের ছক পূরণ করি।
| বনের ধরন | বৈশিষ্ট্য | কী ধরনের গাছ পাওয়া যায় |
|---|---|---|
| ক্রান্তীয় চিরসবুজ বন | ||
| ক্রান্তীয় পাতাঝরা বন | ||
| ম্যানগ্রোভ বা সুন্দরবন | ||
| জলাবন |
Printed page 128
মানব জীবনে বনাঞ্চলের গুরুত্ব অপরিসীম। ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সুন্দরবন ও উপকূলীয় বনভূমি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এজন্য সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষার জন্য সমুদ্র তীরবর্তী জেলায় উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছে। বনের গাছপালা বাড়িঘর ও আসবাবপত্র তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। গাছপালা থেকে ফল, মধু, ঘরের ছাউনি, জ্বালানি ও ঔষধি উপকরণ পাওয়া যায়। বনভূমি পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখে। ঘন ও গভীর বনে পশুপাখি, কীটপতঙ্গ নিরাপদে, নির্ভয়ে বিচরণ ও বসবাস করে। জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বনভূমির গুরুত্ব অপরিসীম। গাছপালাবিহীন এলাকা মরুভূমিতে পরিণত হয়। গাছপালা মাটির ক্ষয়রোধ করে। পরিবেশ নির্মল রাখে।
সরকারি হিসেবে বর্তমানে দেশে মোট বনভূমির পরিমাণ প্রায় ১৭ শতাংশ। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য বনভূমির প্রয়োজন মোট ভূমির ২৫ শতাংশ। বৃক্ষ রোপণ ও বনায়নের মাধ্যমে বনভূমির পরিমাণ বাড়াতে হবে। গাছ কেটে বন ধ্বংস করা বন্ধ করতে হবে। বন দখল করে শিল্প ও কৃষিকাজে ভূমির ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। বনায়নে জনগণকে সচেতন করতে হবে।
গ) অনুচ্ছেদটুকু পড়ে বনভূমি বাংলাদেশের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ তা লিখি।
ঘ) বাংলাদেশের বনভূমি কীভাবে সংরক্ষণ করব তা লিখি।
Printed page 129
২ বাংলাদেশের প্রাকৃতিক পর্যটন স্থান : গুরুত্ব ও সংরক্ষণ
Figure: কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত
বর্ণনা: কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ফেনিল ঢেউ ও বালুকাবেলায় লাল রঙের ছাতা ও মানুষ।
Figure: সিলেটের জাফলং
বর্ণনা: সিলেটের জাফলং; দুই পাশে সবুজ পাহাড়, মাঝখানে নীল জলরাশি এবং নুড়িপাথর বিছানো তীরে চেয়ার ও মানুষ।
Figure: বান্দরবানের নীলগিরি
বর্ণনা: বান্দরবানের নীলগিরি; সবুজ ঢালে কয়েকটি ঘর ও পথ, পেছনে নীলাভ পাহাড়ের সারি।
Figure: মাধবকুণ্ডের ঝরনা
বর্ণনা: মাধবকুণ্ডের ঝরনা; পাহাড়ের গা বেয়ে পড়া একটি জলধারা, নিচে বিস্তৃত সবুজ বনভূমি ও ঝরনার নিচে কিছু মানুষ।
ক) ছবিগুলো পর্যবেক্ষণ করে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর লিখি।
| প্রশ্ন | উত্তর |
|---|---|
| ১. ছবিগুলো কীসের? | |
| ২. ছবির স্থানগুলো প্রাকৃতিক না মানুষের তৈরি? | |
| ৩. এগুলো কেন বিখ্যাত? |
Printed page 130
কক্সবাজার
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত একটি পর্যটন শহর। এখানে রয়েছে ১২০ কিমি দীর্ঘ প্রাকৃতিক বালুময় সমুদ্র সৈকত। কক্সবাজারের কলাতলী, হিমছড়ি, ইনানী বিচ পর্যটকদের নিকট আকর্ষণীয়। এছাড়া মহেশখালী ও সেন্টমার্টিন দ্বীপ জনপ্রিয় পর্যটন স্থান।
কুয়াকাটা
কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের পটুয়াখালী জেলায় অবস্থিত। এ সমুদ্র সৈকতের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৮ কিলোমিটার। এর আরেক নাম সাগরকন্যা। এখান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের দৃশ্য দেখতে পাওয়া যায়। শীতকালে এ সৈকতে বিভিন্ন অতিথি পাখি দেখা যায়।
সিলেট
নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ভরপুর বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চল। এ অঞ্চলে আসা পর্যটকদের মন জুড়ায় চা বাগান, জাফলং, লালাখাল, ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর, প্রকৃতিকন্যা শ্রীমঙ্গল, বিছানাকান্দির নয়নাভিরাম সৌন্দর্যে। এছাড়াও পাহাড় ভেদ করে নেমে আসা পান্থুমাই ঝরনা, মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, রাতারগুল জলাবন ও হাকালুকি হাওড় সিলেটের জনপ্রিয় প্রাকৃতিক পর্যটন স্থান।
বান্দরবান
বান্দরবান জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে চট্টগ্রাম বিভাগে অবস্থিত। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সবুজে ঢাকা পাহাড়। এখানকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য পর্যটকদের নজর কাড়ে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত বান্দরবানের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে নীলগিরি, চিম্বুক পাহাড়, শৈলপ্রপাত ঝরনা, বগা লেক, স্বর্ণমন্দির, কেওক্রাডাং, নাফাখুম, জাদিপাই জলপ্রপাত অন্যতম।
ম্যানগ্রোভ বা সুন্দরবন
বৈচিত্র্যময় গাছপালা, নানাবিধ প্রাণী, প্রচুর নদী ও খাল দ্বারা বেষ্টিত সুন্দরবনের রয়েছে অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। তাই এখানে প্রচুর দেশি-বিদেশি পর্যটকের আগমন ঘটে। পর্যটকদের নিকট সুন্দরবনের করমজল, কটকা, হিরণ পয়েন্ট, দুবলার চর, হারবাড়িয়া ইকো পর্যটন কেন্দ্র, তিনকোনা দ্বীপ, জামতলা সৈকত আকর্ষণীয় স্থান।
Printed page 131
খ) পূর্বের পৃষ্ঠার পাঠ্যাংশটুকু পড়ে নিচের ছকে বিভিন্ন প্রাকৃতিক পর্যটন স্থানের বৈশিষ্ট্য লিখি।
| প্রাকৃতিক পর্যটন স্থানের নাম | বৈশিষ্ট্য |
|---|---|
| ১. | |
| ২. | |
| ৩. | |
| ৪. |
পর্যটনের গুরুত্ব অপরিসীম। রাজস্ব আয় ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের এটি একটি কার্যকর খাত। এ স্থানগুলোতে দেশি-বিদেশি প্রচুর পর্যটকের সমাগম ঘটে। এ খাতে দেশে বহু লোকের কর্মসংস্থান হয়। এর উন্নয়নের সঙ্গে অন্য ব্যবসা-বাণিজ্য বিকাশ লাভ করে। পর্যটনের উন্নয়নের ফলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়। এর মাধ্যমে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যায়নও ঘটে। প্রাকৃতিক পর্যটন স্থান প্রকৃতি হতে সৃষ্টি। এগুলোর নয়নাভিরাম সৌন্দর্য মানুষকে পুলকিত করে। কিন্তু আমাদের দেশের প্রাকৃতিক পর্যটন স্থানে অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ করে সৌন্দর্য নষ্ট করা হচ্ছে। বেড়াতে আসা পর্যটকরাও যেখানে সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলে দূষণ করে। এজন্য জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। সঠিক পরিকল্পনা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে আমরা এ শিল্পে পিছিয়ে আছি। এ শিল্পের উন্নয়নের জন্য সমন্বিত পরিকল্পনার পাশাপাশি বন ও প্রাকৃতিক পর্যটন স্থানগুলোর সংরক্ষণ জরুরি। দেশি-বিদেশি পর্যটকের আকর্ষণ বাড়াতে উদ্যোগ নিতে হবে। পর্যটন শিল্পের উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।
গ) উপরের বর্ণনা পড়ে বাংলাদেশে প্রাকৃতিক পর্যটন স্থানের গুরুত্ব লিখি।
……………………………………………………………………………………………………………………………
……………………………………………………………………………………………………………………………
ঘ) উপরের বর্ণনা পড়ে বাংলাদেশে প্রাকৃতিক পর্যটন স্থান সংরক্ষণে আমার ভূমিকা লিখি।
……………………………………………………………………………………………………………………………
……………………………………………………………………………………………………………………………
Printed page 132
Loading the rest of the chapter…
Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.
Trusted resources
Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.