Islamic Studies chapter 2: Life Stories of Prophets Messengers and Companions of the Prophet
নবি, রাসুল ও মহানবি (স.)-এর সাহাবিগণের জীবনচরিত
- Islamic Studies
- Textbook pages 36-53
- 1 source
- 30,215 characters of context
Textbook (verbatim transcription): Life Stories of Prophets Messengers and Companions of the Prophet
Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.
Contents22ShowHide
- হজরত দাউদ (আ.)
- জীবনাদর্শ
- হজরত ঈসা (আ.)
- জীবনাদর্শ
- মহানবি হজরত মুহাম্মদ (স.)
- যৌবনকাল
- যৌবনকালের আদর্শসমূহ
- নবুয়তপ্রাপ্তি
- মদিনায় হিজরত
- হজরত উসমান (রা.)
- জীবনাদর্শ
- হজরত আলী (রা.)
- জীবনাদর্শ
- হজরত ফাতেমা (রা.)
- জীবনাদর্শ
- অনুশীলনী - ২
- ১. সঠিক উত্তরে টিক চিহ্ন (✓) দাও:
- ২. শূণ্যস্থান পূরণ
- ৩. বাম পাশের সাথে ডান পাশ মিলকরণ
- ৪. শুদ্ধ/অশুদ্ধ নির্ণয়
- ৫. সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
- ৬. বর্ণনামূলক প্রশ্ন
Printed page 36
দ্বিতীয় অধ্যায়
নবি, রাসুল ও মহানবি (স.)-এর সাহাবিগণের জীবনচরিত
হজরত দাউদ (আ.)
হজরত দাউদ (আ.) ফিলিস্তিনের বেথেলহেমে বনি ইসরাইল বংশে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবে তিনি মেষ চরাতেন। তখন থেকেই তিনি সাহসী ও বিচক্ষণ ছিলেন। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তাঁর মেধা ও সাহসিকতার সুনাম সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর অসীম সাহসিকতার কারণে বাদশাহ তালুতের সেনাপতি হিসেবে নিয়োগ পান। তাঁর যুদ্ধ কৌশল ছিল অসাধারণ। তিনি সেনাপতি থাকাকালে অত্যাচারী শাসক জালুতকে যুদ্ধে পরাজিত করেছিলেন। তাঁর বীরত্বে মুগ্ধ হয়ে বাদশাহ তালুত তাঁর কন্যাকে হজরত দাউদ (আ.)-এর সঙ্গে বিবাহ দেন। বাদশাহ তালুতের মৃত্যুর পর তিনি বনি ইসরাইলদের বাদশাহ নিযুক্ত হন।
হজরত দাউদ (আ.) ন্যায়পরায়ণতার সঙ্গে রাজ্য পরিচালনা করতেন। তাঁর শাসনামলে রাজ্যের অনেক উন্নতি হয়েছিল। সঠিক বিচারব্যবস্থা কায়েমের জন্য তিনি তাঁর সাম্রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে আদালত প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি বিশ্বস্ত ও অভিজ্ঞ লোকদের বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেন। আল্লাহভীরু ও আমানতদার লোকদের কোষাগারের রক্ষক নিয়োগ করেন।
হজরত দাউদ (আ.) ইসলামের একজন নবি ও রাসুল ছিলেন। তাঁর ওপর আসমানি কিতাব 'যাবুর' নাযিল হয়। মহান আল্লাহ বলেন−
Figure
লেবেল: وَآتَيْنَا دَاوُدَ زَبُورًا বর্ণনা: আরবি ভাষায় লেখা কুরআনের একটি আয়াতাংশ।
উচ্চারণ: ওয়া আতাইনা দাউদা যাবুরা। অর্থ: আমি দাউদকে যাবুর (আসমানি কিতাব) দিয়েছি। (সূরা বনি-ইসরাইল, আয়াত: ৫৫)
তিনি মহান আল্লাহর নির্দেশে দ্বীনের দাওয়াত দিতে থাকেন। তাঁর কণ্ঠস্বর ছিল সুমধুর। তিনি যাবুর কিতাব তিলাওয়াত করতেন। তাঁর সুমধুর তিলাওয়াত শুনতে মানুষ ও অন্যান্য প্রাণী চারপাশে ভিড় করত। তিনি পশুপাখির ভাষা বুঝতে পারতেন এবং তাদের সঙ্গে কথা বলতেন। তিনি অধিকাংশ সময় মহান আল্লাহর ইবাদতে মশগুল থাকতেন। রাতে খুব কম ঘুমাতেন। প্রায় সারারাত ইবাদত করতেন। এছাড়া তিনি এক দিন পর পর রোজা রাখতেন। তাঁর সন্তানদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন হজরত সুলায়মান (আ.)। হজরত দাউদ (আ.)-এর পরে তিনি বাদশাহ এবং নবি হন।
জীবনাদর্শ
হজরত দাউদ (আ.) অসংখ্য গুণাবলির অধিকারী ছিলেন। তাঁর মধ্যে সততা, ন্যায়পরায়ণতা, নম্রতা, তাকওয়া, ধার্মিকতা ও মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা ইত্যাদি গুণের সমাবেশ ঘটেছিল। অসংখ্য পরীক্ষা ও সমস্যার সম্মুখীন হওয়া সত্ত্বেও তিনি আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসে অটল ছিলেন। তিনি রাজকোষ থেকে কোনো সম্মানি গ্রহণ করতেন না। নিজ হাতে ইস্পাতের বর্ম তৈরি করতেন। আর তা বিক্রির আয় দিয়ে নিজের সংসার চালাতেন।
Printed page 37
মহানবি (স.) হজরত দাউদ (আ.)-এর প্রশংসা করতে গিয়ে বলেছেন- "নিজ হাতে উপার্জিত খাদ্যের চেয়ে উত্তম খাদ্য কখনো কেউ খায় না। আল্লাহর নবি দাউদ (আ.) নিজ হাতে উপার্জন করে খেতেন।" (সহিহ বুখারি)
হজরত দাউদ (আ.) ছিলেন অত্যন্ত মানবদরদি। জনগণের অবস্থা নিজ চোখে দেখার জন্য তিনি ছদ্মবেশে রাস্তায় ঘুরে বেড়াতেন। জনগণের অভাব-অভিযোগ শুনে তা সমাধানের চেষ্টা করতেন। তিনি মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন। সব সময় জনগণের চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিতেন। এই গুণ তাঁকে মানুষের কাছে অনেক প্রিয় করে তুলেছিল। এজন্য তিনি জনগণের কাছ থেকে অনেক সম্মান ও প্রশংসা অর্জন করেছিলেন। তিনি খুবই বিনয়ী ও নিরহংকারী ছিলেন। সহজ-সরল জীবনযাপন করতেন। তাঁর প্রতিটি অর্জনের জন্য মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করতেন।
জীবনের নানা ক্ষেত্রে আমরা হজরত দাউদ (আ.)-এর আদর্শ ও গুণাবলি অনুসরণ করতে পারি। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে আমরা মহান আল্লাহর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস সুদৃঢ় করতে পারি। সঠিকভাবে মহান আল্লাহর ইবাদত করতে পারি। সকল কাজে আল্লাহর নির্দেশিত পথ অনুসরণ করতে পারি। আমাদের বিভিন্ন অর্জনের জন্য আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি। আমাদের পিতা-মাতা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশিদের সঙ্গে কথা, কাজ ও আচরণে সর্বদা সৎ থাকতে পারি। নিজের কাজ নিজে করতে পারি। অন্যদের সঙ্গে আচরণে বিনয়ী ও নিরহংকারী হতে পারি। এভাবে হজরত দাউদ (আ.)-এর মহৎ গুণাবলি অনুসরণের মাধ্যমে আমরা দুনিয়া ও আখিরাতে সফল হতে পারি।
ক) হজরত দাউদ (আ.)-এর জীবনাচরণ সম্পর্কে আলোচনা করে একটি অনুচ্ছেদ রচনা করি। কাজটি জোড়ায় করি।
Printed page 38
খ) হজরত দাউদ (আ.)-এর জীবনাচরণ অনুসরণ করে আমরা নিজেরা যে কাজগুলো করব, তার একটি তালিকা তৈরি করি। দলগতভাবে আলোচনা করে কাজটি করি।
১।
২।
৩।
৪।
৫।
হজরত ঈসা (আ.)
হজরত ঈসা (আ.) একজন নবি ও রাসুল ছিলেন। তাঁর ওপর আসমানি কিতাব 'ইনজিল' নাযিল হয়। তিনি প্রায় দুই হাজার বছর আগে বর্তমান ফিলিস্তিনের বেথেলহেমে 'বনি ইসরাইল' বংশে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর মাতার নাম ছিল হজরত মারিয়াম (আ.)। শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন অসাধারণ জ্ঞানী ও দয়ালু।
Figure: চিত্র: প্রাচীন বেথেলহেম
বর্ণনা: পাথুরে পাহাড়ের ঢালে সারি সারি মাটির ঘর ও কয়েকটি খেজুর গাছ আঁকা হয়েছে। সামনে পাথরের স্তূপ ও শুকনো মাটির পথ দেখানো হয়েছে।
Printed page 39
হজরত ঈসা (আ.) তাঁর গোত্রের মানুষের মধ্যে এক আল্লাহর আনুগত্য, দয়া, ভালোবাসা ও শান্তির বাণী ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। তাঁর শিক্ষাগুলো মানুষের হৃদয় স্পর্শ করেছিল। তবে এসব কাজ করতে গিয়ে তিনি তখনকার ইহুদি ধর্মীয় নেতাদের বিরোধিতার সম্মুখীন হন। তা সত্ত্বেও তিনি তাঁর লক্ষ্যে অটল ছিলেন। তিনি যাতে তাঁর দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারেন সেজন্য মহান আল্লাহ তাঁকে 'মুজিযা' (অলৌকিক ক্ষমতা) দান করেন। যেমন− শ্বেতী ও কুষ্ঠ রোগীদের সুস্থ করা, মৃতদের জীবিত করা, জন্মান্ধকে দৃষ্টিশক্তি দান করা, সামান্য খাবার দিয়ে অনেককে খাওয়ানো ইত্যাদি। তাছাড়া তিনি দোলনায় থাকা অবস্থায়ই কথা বলতে পারতেন।
হজরত ঈসা (আ.)-এর সময়ে তাঁর গোত্রের লোকেরা মহান আল্লাহকে ভুলে গিয়েছিল। হজরত ঈসা (আ.) তাদেরকে এক আল্লাহর ইবাদতের প্রতি আহ্বান জানান। সকল পাপাচার ও অন্যায় কাজ পরিহার করতে উপদেশ দেন; কিন্তু লোকেরা তাঁর উপদেশ গ্রহণ করল না। তারা তাঁর সঙ্গে দুশমনি করতে লাগল। এমনকি তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্র করল। একদিন তারা তাঁকে হত্যা করার জন্য লোক পাঠাল; কিন্তু হজরত ঈসা (আ.)-কে হত্যা করতে ব্যর্থ হলো। তখন মহান আল্লাহ তার অসীম কুদরতে হজরত ঈসা (আ.)-কে জীবিত অবস্থায় আসমানে উঠিয়ে নেন। কিয়ামতের পূর্বে তিনি পুনরায় পৃথিবীতে আগমন করবেন এবং দাজ্জালকে হত্যা করবেন। তিনি ৪০ বছর পৃথিবীতে অবস্থান করবেন এবং আমাদের প্রিয়নবি হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর উম্মত হিসেবে দ্বীন প্রচার করবেন। অতঃপর তিনি স্বাভাবিকভাবে ইন্তিকাল করবেন এবং তাঁকে মহানবি (স.)-এর রওজা মুবারকের পাশে দাফন করা হবে।
জীবনাদর্শ
হজরত ঈসা (আ.) অসংখ্য গুণাবলির অধিকারী ছিলেন। মহান আল্লাহর প্রতি ছিল তাঁর অগাধ বিশ্বাস ও আস্থা। পৃথিবীর সকল প্রাণীর প্রতি দয়া, ভালোবাসা, সেবা ও নম্রতা প্রদর্শনের জন্য তিনি সুপরিচিত ছিলেন। তিনি দুঃখ-কষ্টে জর্জরিত ও দরিদ্র মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন। তিনি অসুস্থদের সুস্থ করেছেন। একবার তিনি একজন কুষ্ঠরোগীর দেখা পান। তার কষ্ট ও দুর্দশা দেখে তিনি তাকে স্পর্শ করেন। সঙ্গে সঙ্গে কুষ্ঠরোগী সুস্থ হয়ে ওঠে। অন্যের সেবা করার জন্য তিনি কোনো বিনিময়, প্রশংসা বা স্বীকৃতি চাইতেন না।
তিনি ছিলেন নম্র, বিনয়ী, দয়ালু ও ক্ষমাশীল। পাপীদের প্রতি করুণা ছিল তাঁর, পাপের প্রতি ছিল ঘৃণা। যারা অপরাধ করে আন্তরিকভাবে অনুতপ্ত হত, তিনি তাদের ক্ষমা করে দিতেন। তিনি মানুষের সেবা করার প্রতি সর্বাধিক গুরুত্ব দিতেন। তাঁর অনুসারীদেরকে তাদের দৈনন্দিন জীবনে এ গুণ চর্চা করার জন্য উদ্বুদ্ধ করতেন।
হজরত ঈসা (আ.)-এর জীবনাচরণ ও শিক্ষা আমাদের জন্য অনুসরণীয়। মহান আল্লাহর প্রতি তাঁর অগাধ বিশ্বাস ও আনুগত্যসহ অন্যান্য মহৎ গুণাবলি আমরা অনুশীলন করতে পারি। সকল মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে পারি। তাদের দুঃখ-কষ্ট দূর করার চেষ্টা করতে পারি। অসুস্থ রোগীদের সেবা করতে পারি। পৃথিবীর সকল মানুষকে একনিষ্ঠভাবে ভালোবাসতে পারি। অপরাধী অনুতপ্ত হলে তাকে ক্ষমা করতে পারি। প্রতিবেশীদের সাহায্য-সহযোগিতা করতে পারি। সকল অবস্থায় সকল মানুষের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করতে পারি।
Printed page 40
ক) হজরত ঈসা (আ.)-এর জীবনাচরণ সম্পর্কে আলোচনা করে একটি অনুচ্ছেদ রচনা করি। কাজটি জোড়ায় করি।
খ) হজরত ঈসা (আ.)-এর জীবনাচরণ অনুসরণ করে আমরা নিজেরা যে কাজগুলো করব তার একটি তালিকা তৈরি করি। দলে আলোচনা করে কাজটি করি।
১।
২।
৩।
৪।
৫।
মহানবি হজরত মুহাম্মদ (স.)
মহানবি হজরত মুহাম্মদ (স.) ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবি। তিনি ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে আরবের মক্কা নগরীর কুরাইশ বংশে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম আব্দুল্লাহ এবং মাতার নাম আমিনা। শৈশবেই তিনি পিতা-মাতাকে হারিয়ে দুঃখ-দুর্দশার সম্মুখীন হন। তাঁর সততা, সত্যবাদিতা, বিশ্বস্ততা ও আমানতদারিতার জন্য বাল্যকালেই তিনি সুপরিচিত হয়ে ওঠেন। এজন্য সবাই তাঁকে 'আল-আমিন' (বিশ্বস্ত) নামে অভিহিত করত। বর্তমানে তাঁর দেখানো পথে কোটি কোটি মানুষ ইসলামের আদর্শ অনুসরণ করছেন। পূর্বশ্রেণিতে আমরা মহানবি (স.)-এর জন্ম থেকে কৈশোরকাল পর্যন্ত জেনেছি। বর্তমান পাঠে আমরা তাঁর যৌবনকাল থেকে শেষজীবন পর্যন্ত জানব।
Printed page 41
যৌবনকাল
মহানবি (স.) যুবক বয়স থেকেই আরবে শান্তি প্রতিষ্ঠা নিয়ে ভাবতেন। সেই সময়ে একটি ঘটনা ঘটে। পবিত্র কাবাঘর সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। কুরাইশরা সকলে মিলে কাবাঘর সংস্কার শুরু করলেন; কিন্তু 'হাজরে আসওয়াদ' বা কালো পাথর স্থাপন করাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ শুরু হয়। প্রত্যেক গোত্রই এই পাথর কাবার দেয়ালে স্থাপনের সুযোগ ও সম্মান পেতে চাইল। এ নিয়ে যুদ্ধ বেধে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। এমতাবস্থায় 'উমাইয়া বিন মুগিরা' নামক একজন প্রবীণ ব্যক্তি একটি প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবটি ছিল পরদিন ভোরে সবার আগে কাবাঘরে প্রবেশকারী ব্যক্তিই বিবাদ মীমাংসা করবে। পরদিন ভোরে সবার আগে হজরত মুহাম্মদ (স.) কাবাঘরে প্রবেশ করলেন। সবাই আনন্দিত হয়ে তার ওপরেই মীমাংসার দায়িত্ব দিলেন। তিনি একখানা চাদর বিছিয়ে তার উপর নিজ হাতে পাথরখানা রাখলেন। তারপর গোত্র প্রধানগণকে চাদরের চতুর্দিক ধরে পাথরটিকে যথাস্থানে বহন করে নিয়ে যেতে বললেন। সকলে চাদরসহ পাথরটি যথাস্থানে নিয়ে গেল। এরপর মহানবি (স.) নিজ হাতে পাথরটি কাবার দেয়ালে বসিয়ে দিলেন। পাথর স্থাপনের সম্মান পেয়ে সবাই খুশি হলো। এভাবে একটি অনিবার্য যুদ্ধ থেকে সবাই বেঁচে গেল।
তখনকার দিনে আরবে একজন বিদুষী ও ধনী নারী বাস করতেন। তাঁর নাম খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদ। তিনি তাঁর ব্যবসা-বাণিজ্য দেখাশোনা করার জন্য একজন বিশ্বস্ত মানুষ খুঁজছিলেন। হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর সততা ও বিশ্বস্ততা সম্পর্কে জেনে তিনি তাঁর ওপর নিজ ব্যবসায়ের দায়িত্ব অর্পণ করেন। মহানবি (স.) এ দায়িত্ব নিয়ে সিরিয়া যান এবং ব্যবসায় অনেক লাভ করে মক্কায় ফিরে আসেন। হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর সততা, বিশ্বস্ততা, বিচক্ষণতা ও কর্মদক্ষতায় মুগ্ধ হয়ে হজরত খাদিজা (রা.) তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। চাচা আবু তালিবের মধ্যস্থতায় তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিবাহের সময় হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর বয়স ছিল পঁচিশ বছর এবং হজরত খাদিজা (রা.)-এর বয়স ছিল চল্লিশ বছর।
Loading the rest of the chapter…
Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.
Trusted resources
Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.