Skip to content

Islamic Studies chapter 3: Acquiring Moral and Human Qualities

নৈতিক ও মানবিক গুণাবলি অর্জন

  • Islamic Studies
  • Textbook pages 54-65
  • 1 source
  • 19,320 characters of context

Textbook (verbatim transcription): Acquiring Moral and Human Qualities

Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.

Contents5

Printed page 54

তৃতীয় অধ্যায়

নৈতিক ও মানবিক গুণাবলি অর্জন

আত্মত্যাগ

আমরা সমাজে বসবাস করি। সমাজে আমাদের সঙ্গো আরো অনেক মানুষ বসবাস করেন। আমরা সমাজে চলতে গিয়ে কিছু নিয়ম-নীতি ও সামাজিক মূল্যবোধ অনুসরণ করি। এ থেকে আমাদের মধ্যে যে গুণাবলি তৈরি হয়, সেগুলো হচ্ছে নৈতিক ও মানবিক গুণাবলি। সততা, ন্যায়পরায়ণতা, পরমতসহিষ্ণুতা ইত্যাদি নৈতিক গুণাবলির উদাহরণ। আবার বিনয়, স্নেহ-মমতা, ক্ষমাশীলতা ইত্যাদি মানবিক গুণাবলির উদাহরণ। সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা, সুসম্পর্ক ও সৌহার্দ বজায় রাখতে আমাদের এই গুণাবলি অর্জন করতে হয়। আত্মত্যাগ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, পরমতসহিষ্ণুতা, দেশপ্রেম, সহানুভূতি, পরোপকার ইত্যাদি মানবিক গুণের চর্চা ও অনুশীলন আমাদের প্রকৃত মানুষ হয়ে উঠতে সহায়তা করে। আমাদের সবার উচিত নৈতিক ও মানবিক গুণাবলির চর্চা করা। এ পাঠে আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক ও মানবিক গুণ ‘আত্মত্যাগ’ সম্পর্কে জানব। নিজের পছন্দের কিছু ত্যাগ করাকেই বলে আত্মত্যাগ। সাধারণত ত্যাগ বলতে বোঝায় কারো জন্য কোনো কিছু ছেড়ে দেওয়া। যা নিজের জন্য প্রয়োজন তা অন্যের ভালো বা খুশির জন্য ছেড়ে দেওয়াকে আত্মত্যাগ বলে। ইসলাম আত্মত্যাগের জন্য নির্দেশনা প্রদান করে। মহান আল্লাহ যুগে যুগে মানব জাতিকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য যেসব নবি-রাসুল পাঠিয়েছেন তাঁরা আত্মত্যাগের আদর্শ স্থাপন করে গেছেন। মহানবি (স.) ও তাঁর সাহাবিগণ আত্মত্যাগের বিভিন্ন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন।

আত্মত্যাগ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন স্থানে নির্দেশনা রয়েছে। এসব নির্দেশনা আমাদের উদারতা, সহমর্মিতা এবং অপরের কল্যাণে নিজের স্বার্থ ত্যাগ করতে উদ্বুদ্ধ করে। মহান আল্লাহ বলেন–

Figure

বর্ণনা: সূরা আলে ইমরানের ৯২ নম্বর আয়াতের আরবি পাঠ, একটি লাইনে লেখা।

উচ্চারণ: লান তানা-লুল বিররা হাত্তা-তুনফিকু মিম্মা-তুহিব্বুনা ওয়ামা-তুনফিকু মিন শাইইন ফাইন্নাল্লা-হা বিহী আলিম।

অর্থ: তোমরা যা ভালোবাসো তা হতে ব্যয় না করা পর্যন্ত তোমরা কখনোই সাওয়াব লাভ করবে না এবং তোমরা যা কিছুই ব্যয় করো, আল্লাহ তা অবগত আছেন। (সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৯২)

Printed page 55

এই আয়াতে প্রিয়বস্তু দান করার মাধ্যমে সৎকর্ম ও প্রকৃত আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই আয়াত যখন নাজিল হয় তখন প্রখ্যাত সাহাবি হজরত আবু তালহা (রা.) ছুটে গিয়ে হজরত মুহাম্মদ (স.)-কে বললেন– “হে আল্লাহর রাসুল! আল্লাহ তো আমাদের নিজেদের সবচেয়ে প্রিয় জিনিস থেকে ব্যয় করার আদেশ দিয়েছেন। ‘বাইরুহা’ আমার সবচেয়ে প্রিয় বাগান। আমি বাইরুহাকে আল্লাহর জন্য দান করে দিলাম।” রাসুলুল্লাহ (স.) বললেন, “নিকটাত্মীয়দের কাউকে দিয়ে দাও।” অতঃপর তিনি বাগানটি হাসসান বিন সাবিত ও উবাই ইবনে কাবকে দিয়ে দেন। (সহিহ মুসলিম)

মহানবি (স.) নিজ জীবনে আত্মত্যাগের বহু দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। মক্কায় ইসলাম প্রচার করতে গেলে কুরাইশরা তাঁকে বাধা দেয় এবং এর বিনিময়ে বিভিন্ন মূল্যবান পার্থিব সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার প্রলোভন দেখায়। তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। এমনকি ইসলামের স্বার্থে তিনি নিজের জীবনও বিপন্ন করে তোলেন। ইসলাম প্রচারের জন্য তিনি নিজের প্রাণপ্রিয় মাতৃভূমি ত্যাগ করেন। ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য নিজের আরাম-আয়েশ পরিহার করে অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। তিনি মদিনা রাষ্ট্রের প্রধান হয়েও অত্যন্ত সাদাসিধে জীবনযাপন করতেন। নিজের পরিবারের জন্য ত্যাগ স্বীকার করতেন এবং নিজের চাহিদা কমিয়ে সমাজের প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতেন। সমাজের দুর্বল ও বঞ্চিতদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি নিজেকে উৎসর্গ করেন। এসব কাজের মধ্য দিয়ে তিনি আত্মত্যাগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন।

মহানবি (স.)-এর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে তাঁর সাহাবিগণও আত্মত্যাগের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। হজরত আবু বকর (রা.) ছিলেন মহানবি (স.)-এর সাহাবি এবং ইসলামের প্রথম খলিফা। তিনি তাঁর ধনসম্পদ ইসলামের জন্য অকাতরে দান করেন। ৬৩০ খ্রিস্টাব্দে একটি উল্লেখযোগ্য যুদ্ধ ছিল তাবুকের যুদ্ধ। যুদ্ধের ব্যয়ভার বহনের জন্য প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হয়। ইসলামের স্বার্থে এই যুদ্ধে হজরত আবু বকর (রা.) তাঁর সর্বস্ব এনে রাসুল (স.)-এর কাছে উপস্থিত করেন। হজরত উমর (রা.) তাঁর সম্পদের অর্ধেক দান করেন। হজরত উসমান (রা.) ৯০০ উট, ১০০ ঘোড়া, প্রায় সাড়ে ৫ কেজি স্বর্ণমুদ্রা, প্রায় ২৯ কেজি রৌপ্যমুদ্রা দান করেন এবং দশ হাজার সৈন্যের ব্যয়ভার গ্রহণ করেন।

মহানবি (স.) ও তাঁর সাহাবিগণের দৃষ্টান্তসমূহ দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরা আত্মত্যাগমূলক বিভিন্ন কাজে অংশগ্রহণ করব। ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে আত্মত্যাগ ইতিবাচক ফলাফল নিয়ে আসে। আত্মত্যাগের ফলে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জিত হয়। আত্মত্যাগ আমাদের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করে এবং সমাজের কল্যাণে ভূমিকা রাখে। তাই যারা নিঃস্ব, অসহায়, দুঃখ-কষ্টে জর্জরিত তাদের জন্য আমরা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিব। অন্যের কল্যাণের জন্য নিজের স্বার্থ ত্যাগ করব এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে অন্যের পছন্দ, চাহিদা, মতামত ইত্যাদিকে অগ্রাধিকার দিব।

Printed page 56

ক) মহানবি ও সাহাবিদের দৃষ্টান্ত আলোচনা করে আত্মত্যাগ সম্পর্কিত কাজের তালিকা তৈরি করি। কাজটি একাকী করি।

১।

২।

৩।

৪।

৫।

খ) মহানবি ও সাহাবিদের দৃষ্টান্তের আলোকে আত্মত্যাগ সম্পর্কিত কাজের ভূমিকাভিনয় করি। কাজটি দলগতভাবে করি।

গ) ইসলামের আলোকে আত্মত্যাগের উপকারিতাসমূহের একটি তালিকা করি। কাজটি জোড়ায় করি।

Printed page 57

পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ

পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ হলো একে অপরকে সম্মান ও মূল্যায়ন করা। পরস্পরের মতামত, অনুভূতি ও অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা। এর ফলে মানুষের মধ্যে সুসম্পর্ক সৃষ্টি হয়। সমাজের সকলের মধ্যে সহানুভূতিশীল মনোভাব তৈরি হয়।

পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ একটি মানবিক গুণ। মানুষ হিসেবে একে অন্যকে সম্মান করা আমাদের সবার দায়িত্ব। সমাজের প্রতিটি পেশার মানুষের সম্মান রয়েছে। তাই সমাজের ছোটো-বড়ো সবার প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ করা প্রয়োজন। সমাজের প্রতিটি মানুষকে তার নিজ অবস্থান অনুযায়ী সম্মান করতে হয়। সেই সঙ্গো তাদের মতামতের প্রতিও গুরুত্ব দেওয়া দরকার। এর মাধ্যমে আমরা পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বাড়াতে পারি। মানুষ হিসেবে একে অপরকে সম্মান করা, অন্যের পছন্দ-অপছন্দকে প্রাধান্য দেওয়া, কারো সঙ্গো খারাপ ব্যবহার না করা ইত্যাদি ভালো গুণও শ্রদ্ধাবোধের অংশ।

পরিবারে ছোটো-বড়ো সবাইকে নিয়ে আমরা বসবাস করি। পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ পরিবারে সুখ বয়ে আনে। বাবা-মা আমাদের অতি আপনজন। তাদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। তাঁরা আমাদের অতি স্নেহ-আদরে লালন-পালন করেন। তাঁদের প্রতি অশ্রদ্ধা দেখালে তাঁরা খুব কষ্ট পান।

অহংকারী ও দাম্ভিক লোকেরা পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ অনুশীলন করে না। ফলে মানুষ এদেরকে পছন্দ করে না। মহান আল্লাহও তাদের পছন্দ করেন না। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ বলেন–

Figure

লেবেল: إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ مَنْ كَانَ مُخْتَالًا فَخُورًا বর্ণনা: সূরা আন-নিসার ৩৬ নম্বর আয়াতের আরবি পাঠ, একটি লাইনে লেখা।

উচ্চারণ: ইন্নাল্লাহা লা ইউহিব্বু মান কানা মুখতালান ফাখুরা।

অর্থঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ এমন লোককে পছন্দ করেন না, যে অহংকারী ও দাম্ভিক। (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৩৬)

মহানবি (স.) নিজে বড়োদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ করেছেন। আমাদেরও বড়োদের প্রতি শ্রদ্ধাপূর্ণ আচরণের নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর বহু হাদিসেও পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন ও সর্বস্তরের মানুষের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করার জন্য তাগিদ রয়েছে। মহানবি (স.) বলেছেন– “যে ছোটোদের স্নেহ করে না এবং বড়োদের সম্মান করে না সে আমাদের দলভুক্ত নয়।” (জামে তিরমিজি)

মহানবি (স.)-এর সাহাবিগণও পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ পোষণ করতেন। প্রথম খলিফা হজরত আবু বকর (রা.)-এর প্রতি সকল সাহাবির গভীর শ্রদ্ধা ও আনুগত্য ছিল। দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর (রা.)-এর ন্যায়বিচারে সাহাবিগণ ভরসা রাখতেন। খলিফা হয়েও হজরত উমর (রা.) তাফসীরের জ্ঞানে দক্ষ হজরত ইবনে আব্বাস (রা.)-কে বিশেষ মর্যাদা দিতেন।

পবিত্র কুরআন, হাদিস ও সাহাবিগণের আদর্শ দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরা পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের অনুশীলন করব। আমাদের উচিত হবে মানুষ হিসেবে একে অপরকে সম্মান করা। অপরের ভালোলাগা-খারাপলাগাকে

Printed page 58

বিবেচনায় নেওয়া। কারো সঙ্গে খারাপ ব্যবহার না করা। অন্যের কথা মনোযোগের সঙ্গে শোনা। আমরা সর্বদা পিতা-মাতা ও প্রবীণদের সম্মান করব। সবার প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও যত্নবান হব। আপনজন, সহপাঠী ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করব। বড়োদের সালাম দিব। ছোটোদের স্নেহ ও ভালোবাসা দিব। সকলের প্রতি বিনয়ী ও শ্রদ্ধাশীল হব। শিক্ষককে সম্মান করব। তাঁদের কথামতো চলব। তাঁরা মনে কষ্ট পান, এমন কোনো কাজ করব না। এভাবে আমাদের কাজে ও আচরণে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের গুণ অনুশীলন করব।

ক) মহানবি ও সাহাবিদের দৃষ্টান্তের আলোকে সহপাঠী, পরিবার ও পরিবারের বাইরে সবার সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ সম্পর্কিত আচরণের তালিকা তৈরি করি। কাজটি দলগতভাবে করি।

ক্রমউত্তর
১.
২.
৩.
৪.
৫.

খ) মহানবি ও সাহাবিদের জীবনের দৃষ্টান্তের আলোকে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ সম্পর্কিত চিত্র ভূমিকাভিনয়ের মাধ্যমে উপস্থাপন করি। কাজটি দলে করি।

গ) আমরা নবি ও সাহাবিদের জীবনের দৃষ্টান্তের আলোকে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সবার সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ কীভাবে অনুশীলন করব তার তালিকা তৈরি করি। কাজটি জোড়ায় করি।

ক্রমউত্তর
১.
২.
৩.
৪.
৫.

Printed page 59

Loading the rest of the chapter…

Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.

Trusted resources

Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.