Islamic Studies chapter 4: Religious Harmony
ধর্মীয় সম্প্রীতি
- Islamic Studies
- Textbook pages 66-71
- 1 source
- 9,666 characters of context
Textbook (verbatim transcription): Religious Harmony
Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.
Contents11ShowHide
Printed page 66
চতুর্থ অধ্যায়
ধর্মীয় সম্প্রীতি
ধর্মীয় সম্প্রীতির পরিচয় ও গুরুত্ব
সম্প্রীতি অর্থ সৌহার্দ, সম্ভাব, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ইত্যাদি। ধর্মীয় সম্প্রীতি হলো সমাজে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মিলেমিশে ও শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস। ধর্মীয় সম্প্রীতি বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিয়ে আসে। বাংলাদেশ ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশ। এদেশে মুসলিম, হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ সম্প্রীতি বজায় রেখে বসবাস করে।
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সম্প্রীতি ও ন্যায়পরায়ণতার জন্য ইসলাম আমাদের উদ্বুদ্ধ করে। এ বিষয়ে পবিত্র কুরআন ও হাদিসে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা রয়েছে। ন্যায়বিচার ধর্মীয় সম্প্রীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সকল মানুষের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেন–
وَلَا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَاَنُ قَوْمٍ عَلَىٰٓ أَلَّا تَعْدِلُوا۟ ۚ ٱعْدِلُوا۟ هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَىٰ
উচ্চারণ: ওয়ালা ইয়াজরিমান্নাকুম শানাআ-নু কাওমিন ‘আলা আল্লা তা‘দিলূ ই‘দিলূ হুয়া আকরাবু লিত্তাকওয়া।
অর্থ: কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি শত্রুতা যেন তোমাদের প্ররোচিত না করে যে তোমরা ন্যায়বিচার করবে না। ন্যায়বিচার অবলম্বন করো। এটাই তাকওয়ার বেশি নিকটবর্তী। (সূরা আল-মায়িদা, আয়াত: ৮)
পবিত্র কুরআনের এ শিক্ষা দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরা ধর্মীয় সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার জন্য সচেষ্ট হব। সব ধর্মের মানুষের প্রতি ন্যায়বিচার, দয়া, সদ্ব্যবহার, সহানুভূতি ও সহমর্মিতা প্রদর্শন করব। তাদের ধর্মবিশ্বাস ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের বিষয়ে বিরূপ মন্তব্য করব না। তাদের সঙ্গে ভদ্র ও বিনয়ী আচরণ করব। এভাবে বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা করব।
ক) ধর্মীয় সম্প্রীতি সম্পর্কে পবিত্র কুরআনের শিক্ষা লিখি। কাজটি দলগতভাবে করি।
| ১. | |
|---|---|
| ২. | |
| ৩. | |
| ৪. | |
| ৫. |
Printed page 67
মদিনা সনদ ও ধর্মীয় সম্প্রীতি
মদিনা সনদ
বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান গড়ে তোলার জন্য মহানবি হজরত মুহাম্মদ (স.) বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। এগুলোর মধ্যে অন্যতম পদক্ষেপ ছিল ‘মদিনা সনদ’ প্রণয়ন। এর মাধ্যমে তিনি মদিনায় বসবাসরত মুসলমান, ইহুদি, খ্রিস্টান ও পৌত্তলিকদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি গড়ে তুলেছিলেন।
মহানবি (স.)-এর হিজরতের পূর্বে মদিনায় ইহুদি, খ্রিস্টান, পৌত্তলিকসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বসবাস করত। সুদীর্ঘকাল ধরে সেখানে তাদের মধ্যে মতবিরোধ, দ্বন্দ্ব-সংঘাত, হত্যা ও যুদ্ধ-বিগ্রহ চলে আসছিল। এমতাবস্থায় মদিনা থেকে একটি প্রতিনিধি দল মহানবি (স.)-কে নেতা ও সালিশকারী হিসেবে মদিনায় আমন্ত্রণ জানায়। পরবর্তীকালে ৬২২ খ্রিস্টাব্দে তিনি মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেন।
মদিনায় হিজরতের পর মহানবি (স.) দেখলেন যে, মদিনার শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে অনতিবিলম্বে ঐক্য ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান গড়ে তোলা প্রয়োজন। এজন্য তিনি মদিনা সনদ প্রণয়ন করেন।
মদিনা সনদকে বিভিন্ন নামে অভিহিত করা হয়ে থাকে। যেমন– সহিফাত আল মদিনা, দুস্তুর আল-মদিনা, কিতাব আল-রাসুল, মীসাক আল-মদিনা ইত্যাদি। এ সনদের ফলে সকল ধর্মের মানুষের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান গড়ে ওঠে। সবাই একজাতি হিসেবে মিলেমিশে বসবাস করতে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়। এর ফলে সকল ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্ম পালনের অধিকার লাভ করে।
মদিনা সনদে বর্ণিত অন্য ধর্মাবলম্বীদের অধিকার
মহানবি (স.) কর্তৃক প্রণীত মদিনা সনদে ৪৭টি মতান্তরে ৫৭টি কিংবা ৬৩টি ধারা রয়েছে। এসব ধারায় মদিনায় বসবাসরত সকল ধর্মের মানুষের মৌলিক ও মানবিক অধিকারের নিশ্চয়তা বিধান করা হয়।
মদিনা সনদের ধারাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ৫টি হলো–
১. এটি মহানবি মুহাম্মদ (স.) কর্তৃক জারিকৃত একটি দলিল, যার ভিত্তিতে মুসলিম ও অমুসলিমগণের মধ্যে যারা এর অনুসারী হবে কিংবা তাদের সঙ্গো কাজকর্ম বা লেনদেনে আবদ্ধ হবে, তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারিত হবে। তারা সবাই মিলে একটি জাতিগোষ্ঠী, একটি সমাজ ও একটি রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচিত হবে।
২. আল্লাহর নামে কোনো মু’মিন কাউকে সুরক্ষা দিলে তা সবার জন্যই মান্য ও প্রযোজ্য হবে। মু’মিনদের মধ্যে দুর্বলতম কেউ যদি কাউকে সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দেয়, তা সব মু’মিনের জন্য অবশ্যপালনীয় হবে।
Printed page 68
৩. ইহুদিদের মধ্যে যারা মু’মিনদের মিত্র হবে তাদের ওপর অত্যাচার করা হবে না এবং তাদের শত্রুদের কোনো সাহায্য করা হবে না।
৪. বনু আউফের ইহুদিরা মু’মিনদের সঙ্গো এক সমাজ হিসেবে বিবেচিত হবে। ইহুদিদের জন্য তাদের নিজস্ব ধর্ম থাকবে এবং মু’মিনদের জন্য তাদের নিজস্ব ধর্ম থাকবে।
৫. বনু সা‘লাবার ইহুদিদেরও বনু আওফের ইহুদিদের মতই অধিকার থাকবে; কিন্তু যে ব্যক্তি অন্যায় করবে বা বিশ্বাসঘাতকতা করবে, সে কেবল নিজের এবং তার পরিবারের জন্যই মন্দ নিয়ে আসবে।
উপরের ধারাগুলোতে যেসব অধিকার সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো–
১. মুসলমানদের পাশাপাশি ইহুদি, খ্রিস্টান, পৌত্তলিক ইত্যাদি সম্প্রদায়ের নিজস্ব জাতিসত্তা, সমাজ ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের অধিকার প্রদান করা।
২. মুসলমানদের পাশাপাশি অন্য ধর্মের অনুসারীদের একই জাতির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা।
৩. প্রত্যেক ধর্মের মানুষের নিজস্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রদান করা।
৪. সকলের জীবন, সম্ভ্রম ও সম্পত্তির সুরক্ষার নিশ্চয়তা দেওয়া।
৫. সকলকে নিজেদের ধর্মচর্চার স্বাধীনতা দেওয়া। জোরপূর্বক কাউকে ধর্মান্তরিত না করা।
৬. ন্যায়বিচারের নীতি অনুসারে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের জন্য বিরোধ নিষ্পত্তির অধিকার প্রদান করা।
৭. সকল ধর্মের দুর্বল ও অসহায় ব্যক্তির জন্য সাহায্য ও সুরক্ষার অধিকার প্রদান করা।
এভাবে মদিনা সনদে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের জন্য বিভিন্ন অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়। এর ফলে মদিনার বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে সুসম্পর্ক ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত হয়।
ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের অধিকার রক্ষা ও তাদের সঙ্গো শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য মদিনা সনদ আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করে। আমরা মদিনা সনদের শিক্ষাগুলোকে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে অনুশীলন করব। সকল ধর্মের মানুষের মতামত ও অনুভূতির প্রতি সহনশীল হব। তাদের ধর্ম, জীবন, সম্পদ ও সম্ভ্রমের ক্ষতি হয় এমন সকল কাজ থেকে বিরত থাকব। ভিন্ন ধর্মের সহপাঠীদের সাহায্য-সহযোগিতায় এগিয়ে আসব।
Printed page 69
ক) মদিনা সনদ-এ বর্ণিত ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের অধিকারের একটি তালিকা তৈরি করি। কাজটি জোড়ায় করি।
| ক্রমিক | মদিনা সনদে বর্ণিত ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের অধিকার |
|---|---|
| ১. | |
| ২. | |
| ৩. | |
| ৪. | |
| ৫. |
খ) মদিনা সনদ অনুসারে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গো শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের চিত্র ভূমিকাভিনয় করে দেখাই। কাজটি দলে করি।
Printed page 70
অনুশীলনী - ৪
১. সঠিক উত্তরে টিক চিহ্ন (✓) দাও:
(ক) ধর্মীয় সম্প্রীতির অর্থ কী? ১. বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মিলেমিশে না থাকা ২. ভিন্ন ধর্মের মানুষদের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন ৩. বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ৪. কেবল মুসলমানদের মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রাখা
(খ) পবিত্র কুরআনে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে কেমন আচরণ করার নির্দেশনা রয়েছে? ১. শত্রুতাপূর্ণ আচরণ করা ২. ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা ৩. জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করা ৪. অন্যের ধর্ম সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করা
(গ) নিম্নের কোনটি মদিনা সনদের শিক্ষা নয়? ১. নিজ নিজ ধর্ম পালনের স্বাধীনতা ২. জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত না করা ৩. একমাত্র মুসলমানদের নিরাপত্তা ৪. ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা
(ঘ) ইসলামের শিক্ষা অনুসারে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে কেমন আচরণ করা উচিত? ১ অসহযোগিতামূলক ২. সহানুভূতিশীল ৩. অবজ্ঞাসূচক ৪. শত্রুতামূলক
(ঙ) সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় আমাদের করণীয় কী? ১. অন্যদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান নিয়ে বিদ্রুপ করা ২. ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের যথাসম্ভব সাহায্য-সহযোগিতা করা ৩. ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সম্মান না করা ৪. ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের এড়িয়ে চলা
২. শূণ্যস্থান পূরণ
ক) বাংলাদেশ ------------------- সম্প্রীতির দেশ। খ) আমরা ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে ভদ্র ও ------------------- আচরণ করব। গ) ধর্মীয় সম্প্রীতির জন্য ------------------- গুরুত্বপূর্ণ। ঘ) মদিনা সনদ অনুযায়ী মুসলিম ও অমুসলিমরা এক ------------------- হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। ঙ) ভিন্ন ধর্মের সহপাঠীদের যেকোনো ------------------- এগিয়ে আসতে পারি। চ) আমরা সকল ধর্মের মানুষের মতামত ও অনুভূতির প্রতি ------------------- হব।
Printed page 71
৩. বাম পাশের সাথে ডান পাশ মিলকরণ
| বাম পাশ | ডান পাশ |
|---|---|
| ক. ধর্মীয় সম্প্রীতি বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে | ধর্মীয় সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার জন্য। |
| খ. ইসলাম ধর্মীয় সম্প্রীতির জন্য | ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা প্রদান করা উচিত। |
| গ. মহানবি (স.) মদিনা সনদ প্রণয়ন করেন | সহমর্মিতা ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করে। |
| ঘ. সংখ্যাগরিষ্ঠ ও সংখ্যালঘু উভয় নাগরিককে | সকল সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। |
| ঙ. মদিনা সনদের মূল শিক্ষা হলো | নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করা। |
| আমাদের উদ্বুদ্ধ করে। |
৪. শুদ্ধ/অশুদ্ধ নির্ণয়
ক) কুরআনে বলা হয়েছে ন্যায়বিচারই তাকওয়ার নিকটবর্তী। (শুদ্ধ/অশুদ্ধ) খ) মদিনা সনদে কেবল মুসলমানদের অধিকার স্বীকৃত হয়েছিল। (শুদ্ধ/অশুদ্ধ) গ) ধর্মীয় সম্প্রীতির জন্য আমরা শুধু মুসলমানদের সাথে সদ্ব্যবহার করব। (শুদ্ধ/অশুদ্ধ) ঘ) ভিন্ন ধর্মের মানুষের সার্বিক নিরাপত্তা দিয়ে সামাজিক সংহতি গড়ে তোলা যায়। (শুদ্ধ/অশুদ্ধ) ঙ) ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের অধিকার রক্ষায় মদিনা সনদ আমাদের উদ্বুদ্ধ করে না। (শুদ্ধ/অশুদ্ধ) চ) ইসলামে অন্য ধর্মের উপাসনালয় ধ্বংসের অনুমতি নেই। (শুদ্ধ/অশুদ্ধ)
Loading the rest of the chapter…
Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.
Trusted resources
Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.