Skip to content

Islamic Studies chapter 5: Love for the Living World and Nature

জীবজগৎ ও প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা

  • Islamic Studies
  • Textbook pages 72-80
  • 1 source
  • 13,070 characters of context

Textbook (verbatim transcription): Love for the Living World and Nature

Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.

Contents13

Printed page 72

পঞ্চম অধ্যায়

জীবজগৎ ও প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা

জীববৈচিত্র্যের গুরুত্ব

আমাদের চারপাশে রয়েছে বিশাল প্রকৃতি ও বিচিত্র জীবজগৎ। এসবই পরম করুণাময় মহান আল্লাহর সৃষ্টি। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন-

উচ্চারণ: ওয়ামিন আয়াতিহী খালকুহু ছামাওয়াতি ওয়াল আরদি ওয়ামা বাছছা ফী-হিমা মিন দা-ব্বাতিন। ওয়াহুয়া আলা জামইিহিম ইযা ইয়াশাউ কাদীর।

অর্থ: তার নিদর্শনসমূহের মধ্যে রয়েছে আসমান ও জমিনের সৃষ্টি এবং তিনি এ দুয়ের মাঝে যেসব জীবজন্তু ছড়িয়ে দিয়েছেন সেগুলো। আর যখন ইচ্ছে তিনি তাদেরকে একত্রিত করতে সক্ষম। (সূরা আশ-শুরা, আয়াত: ২৯)

পবিত্র কুরআনে প্রায় ২০০টি আয়াতে প্রাণিজগতের বিষয়ে উল্লেখ করা রয়েছে। এমনকি বিভিন্ন প্রাণীর নামেও কয়েকটি সূরার নামকরণ করা হয়েছে। যেমন- সূরা বাকারা (গাভি), সূরা আন'আম (চতুষ্পদ জন্তু), সূরা নাহল (মৌমাছি), সূরা নামল (পিপীলিকা), সূরা আনকাবুত (মাকড়সা), সূরা ফিল (হাতি) ইত্যাদি। এতে সহজেই বোঝা যায় যে, মহান আল্লাহর সৃষ্টি হিসেবে জীববৈচিত্র্যের গুরুত্ব অপরিসীম!

পৃথিবীর প্রতিটি জীবই কোনো না কোনোভাবে পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সকল উদ্ভিদ ও প্রাণী পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল। প্রত্যেক প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণীর আলাদা আলাদা ভূমিকা রয়েছে। আমাদের চারপাশে অনেক রকমের গৃহপালিত পশু রয়েছে। মহান আল্লাহ সেগুলোকে আমাদের উপকারের জন্য সৃষ্টি করেছেন। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন-

উচ্চারণ: ওয়াল আনআমা খালাকাহা লাকুম ফীহা দিফউন ওয়া মানাফিউ ওয়ামিনহা তা'কুলূন।

অর্থ: তিনি চতুষ্পদ জন্তু সৃষ্টি করেছেন; তোমাদের জন্য তাতে শীত নিবারক উপকরণ (পশম ও চামড়া) এবং আরো বিবিধ উপকার রয়েছে; আর তা হতে তোমরা আহার করে থাক। (সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৫)

Printed page 73

মানব অস্তিত্ব রক্ষায় জীববৈচিত্র্যের গুরুত্ব

মানবজাতির অস্তিত্ব রক্ষার জন্য জীববৈচিত্র্যের প্রয়োজন। আমাদের প্রয়োজনীয় খাদ্য, ওষুধপত্র, কাঠ, বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল ইত্যাদি আমরা জীবজগৎ থেকে পাই। উদ্ভিদ থেকে আমরা খাদ্যশস্য, ওষুধের কাঁচামাল, তুলা, কাঠ ইত্যাদি পাই। আবার প্রাণী থেকে পাই মাছ, গোশত, দুগ্ধসামগ্রী, চামড়া, মধু ইত্যাদি। আমাদের বাড়িঘর নির্মাণ, আসবাবপত্র তৈরি, জ্বালানি, কাগজ উৎপাদন প্রভৃতি কাজের জন্য আমরা যে কাঠ ব্যবহার করি, তা গাছ থেকে পাই। এককথায় আমাদের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য আমরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জীববৈচিত্র্যের ওপর নির্ভরশীল।

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় জীববৈচিত্র্যের গুরুত্ব

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় জীববৈচিত্র্য বিশেষ ভূমিকা পালন করে। নদ-নদী, খাল-বিল, পুকুর, হাওর-বাঁওড়সহ জলাধারগুলো পরিবেশ রক্ষায় ব্যাপক ভূমিকা পালন করে থাকে। এছাড়া পরিবেশকে শীতল রাখা, বর্ষা মৌসুমে বন্যা প্রতিরোধ, শহরে জলাবদ্ধতা নিরসন, পানির চাহিদা পূরণ ও আবর্জনা পরিশোধনে জলাভূমিগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম।

Figure: চিত্র: পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রয়োজন জীববৈচিত্র্য

বর্ণনা: একটি নদী বা জলাশয়ের দৃশ্য। তীরে একটি গরু ঘাস খাচ্ছে এবং পাশে একটি বাছুর রয়েছে; পানির মাঝে কয়েকটি পদ্মপাতা ও জলজ উদ্ভিদ ভাসছে এবং একটি পাতার ওপর ব্যাং বসে আছে। তীরে একজন মানুষ দাঁড়িয়ে আছে, একটি খুঁটির ওপর একটি পাখি বসে আছে এবং আকাশে কয়েকটি পাখি উড়ছে। পানির নিচে কয়েকটি মাছ দেখা যাচ্ছে।

পরিবেশ দূষণ রোধে জীববৈচিত্র্যের গুরুত্ব

পরিবেশ দূষণ রোধে জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য বজায় রাখা আবশ্যক। পরিবেশে অক্সিজেনের সরবরাহ ঠিক রাখতে এবং পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ঘটাতে উদ্ভিদের ভূমিকা অপরিহার্য। নদ-নদী ও জলাশয়ে বৃষ্টিপাতের মাধ্যমে পর্যাপ্ত পানি জমা হয়। সেখানে মাছ ও অন্যান্য জলজ উদ্ভিদ সঠিকভাবে বৃদ্ধি পায়। কৃষির জন্যও আমাদের বৃষ্টির প্রয়োজন হয়। এসবই মহান আল্লাহর দান। এ সম্পর্কে তিনি বলেন-

Printed page 74

Figure

লেবেল: وَهُوَ الَّذِي أَنْزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَخْرَجْنَا بِهِ نَبَاتَ كُلِّ شَيْءٍ فَأَخْرَجْنَا مِنْهُ خَضِرًا বর্ণনা: আরবি আয়াতটি একটি লাইনে লেখা।

উচ্চারণ: ওয়াহুয়াল্লাযী আনযালা মিনাছ্ ছামায়ী মাআন। ফাআখরাজনা বিহী নাবাতা কুল্লি শাইয়িন ফাআখরাজনা মিনহু খাদিরা।

অর্থ: তিনিই আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন। অতঃপর আমি এর দ্বারা সর্বপ্রকার উদ্ভিদ উৎপন্ন করেছি। অতঃপর আমি এ থেকে সবুজ ফসল নির্গত করেছি। (সূরা আল-আন‘আম, আয়াত: ৯৯)

Figure: চিত্র: নদী ও প্রকৃতি

বর্ণনা: একটি নদীর দৃশ্য। নদীর বাম পাশে সেতু এবং বামে সবুজ গাছ রয়েছে। নদীর তীরে ধানক্ষেত ও সবুজ ঘাসের সারি, তার পেছনে বড় গাছ, একটি ঘরের চালা এবং খেজুর জাতীয় গাছ দেখা যাচ্ছে। নদীর পানিতে কয়েকটি জলজ উদ্ভিদ ভাসছে এবং সামনের ডান কোণে ঘাস দেখা যাচ্ছে।

বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্যে ভরপুর। এদেশের খাল-বিল, হাওর-বাঁওড়, সাগর-নদী, পুকুর, জলাশয় ইত্যাদিতে রয়েছে নানা প্রজাতির মাছ এবং অন্যান্য জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদ। এগুলো আমাদের জীবনধারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই জীববৈচিত্র্য রক্ষার প্রতি আমাদেরকে যত্নশীল হতে হবে।

মহানবি (স.) গাছপালার পরিচর্যা করতেন। তাঁর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে সাহাবিগণও গাছপালার পরিচর্যা করতেন। হজরত আবু বকর (রা.) সেনাবাহিনীকে যুদ্ধে প্রেরণের সময় গাছ না কাটা, কৃষিজমি ধ্বংস না করা এবং পশু হত্যা না করার নির্দেশ দিতেন।

বৃক্ষনিধন জীববৈচিত্র্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এর ফলে জলবায়ু বিপর্যয়, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাসসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দেয়। উদ্ভিদ কমে গেলে অক্সিজেন কমে যায়। খরা ও অনাবৃষ্টি দেখা দেয়। পাখি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে; কিন্তু শীতের মৌসুমে শিকারিরা অতিথি পাখিদের শিকার করে বাজারে বিক্রি করে। অতিথি পাখি ও অন্যান্য প্রাণীর জীবন ও নিরাপত্তার প্রতি আমাদের যত্নশীল হতে হবে। সকল ক্ষেত্রে জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর কাজ পরিহার করতে হবে।

Printed page 75

ক) পবিত্র কুরআন, হাদিস ও সাহাবিগণের দৃষ্টান্তের আলোকে জীববৈচিত্র্যের গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করে একটি অনুচ্ছেদ লিখি। কাজটি দলগতভাবে করি।

মানুষ ও জীবজগতের প্রতি দয়া ও ভালোবাসা

মানুষ, জীবজগৎ, প্রকৃতি ও পৃথিবী সবই মহান আল্লাহর সৃষ্টি। মানুষের জীবন রক্ষা করা যেমন সাওয়াবের কাজ, তেমনি পশুপাখি ও উদ্ভিদের পরিচর্যা করাও সাওয়াবের কাজ। প্রাণিজগৎ সর্বদা মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত। ইসলাম পশুপাখি ও উদ্ভিদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করতে নির্দেশ দিয়েছে। তাই সকল প্রাণী অবশ্যই পরিচর্যা ও দয়া পাওয়ার অধিকার রাখে।

পবিত্র কুরআন ও হাদিসে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। কোনো প্রাণী যদি বিপন্ন হয় এবং তার অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ে, তাহলে তা সংরক্ষণে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। হজরত নূহ (আ.)-এর মহাপ্লাবনের সময় মহান আল্লাহ প্রাণিকুলের অস্তিত্ব রক্ষার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এ সম্পর্কে তিনি বলেন-

উচ্চারণ: ইযা জাআ আমরুনা ওয়াফারাত্তানূরু কুলনাহমিল ফীহা মিন কুল্লিন যাওজাইনিহ নাইনি।

অর্থ: যখন আমার আদেশ এসে গেল এবং চুলা উথলে (পানিতে) উঠল; আমি (নূহকে) বললাম, তাতে (নৌকায়) প্রতিটি শ্রেণির (প্রাণীর) দুটি করে জোড়া তুলে নাও। (সূরা হুদ, আয়াত: ৪০)

Printed page 76

মহানবি (স.) পশুপাখির অধিকার রক্ষায় সোচ্চার ছিলেন। অযথা প্রাণীহত্যা থেকে বিরত থাকতে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন- “যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে চড়ুই বা তার চেয়ে ছোটো পাখিকে হত্যা করে, আল্লাহ তাকে কিয়ামতের দিন সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন।” (সুনানে নাসায়ি)

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বর্ণনা করেছেন, আমরা রাসুলুল্লাহ (স.)-এর সঙ্গে এক সফরে গিয়েছিলাম। তিনি আমাদের কাছ থেকে একটু দূরে গেলে আমরা একটি লাল পাখি দেখতে পেলাম। পাখির সঙ্গে দুইটি বাচ্চা ছিল এবং আমরা বাচ্চা দুইটিকে ধরলাম। এসময় মা লাল পাখি তার ডানা দিয়ে মাটিতে আঘাত করছিল। মহানবি (স.) ইতোমধ্যে ফিরে এসে বললেন, কে এই পাখির বাচ্চাদের ধরে এনে কষ্ট দিয়েছে? তাদের ফিরিয়ে দাও। মহানবি (স.) সেখানে একটি পিঁপড়ার ঢিবিও লক্ষ করলেন, যা আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, এ আগুন কে দিয়েছে? আমরা উত্তর দিলাম, আমরা দিয়েছি। তিনি বললেন, আগুনের রব ছাড়া আর কেউ আগুন দিয়ে শাস্তি দিতে পারে না। (রিয়াদুস সালিহিন)

Figure: চিত্র: পাখির বাসায় বাচ্চা ও পাশে মা পাখি

বর্ণনা: একটি বড় সাদা পাখি ডানা মেলে উড়ছে। নিচে ডান দিকের ভূমিতে একটি খড়কুটোর বাসা রয়েছে, যার ভেতরে একটি ছোটো পাখির বাচ্চা হা করে আছে।

পরিবেশ বিজ্ঞানীদের মতে, প্রতিটি দেশে মোট ভূখণ্ডের ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকা জরুরি। কারণ পরিবেশ বিপর্যয়ের বড়ো কারণ হলো ভূখণ্ডে পর্যাপ্ত বনভূমি না থাকা। মহানবি (স.) নিজ হাতে গাছ লাগিয়ে পরিচর্যা করতেন। তিনি বৃক্ষরোপণের উপকারিতা উল্লেখ করে সাহাবিগণকেও উৎসাহিত করতেন। তিনি বলেছেন- “যদি কোনো মুসলমান একটি গাছের চারা রোপণ বা একটি শস্য উৎপন্ন করে এবং তা থেকে কোনো ব্যক্তি, পাখি বা প্রাণী খায় তবে তা উৎপাদনকারীর জন্য সদকা হিসেবে গণ্য হবে।” (সহিহ বুখারি)

Printed page 77

Figure: চিত্র: শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের আঙিনায় গাছের চারা রোপণ করছে

বর্ণনা: দোতলা হলুদ বিদ্যালয় ভবন ও তার পাশে একটি টিনের ছাদের ভবন দেখা যাচ্ছে। সামনের সবুজ আঙিনায় কয়েকজন শিক্ষার্থী একসঙ্গে একটি গাছের চারা রোপণ করছে; অন্য একজন শিক্ষার্থী দাঁড়িয়ে আছে এবং আঙিনার বিভিন্ন স্থানে ছোটো গাছ রয়েছে।

পানির অপচয় রোধে মহানবি (স.) খুবই সচেতন ও যত্নবান ছিলেন। “একদা মহানবি (স.) প্রখ্যাত সাহাবি হজরত সা‘দ (রা.)-এর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি ওজু করছিলেন। মহানবি (স.) বললেন, সা‘দ! পানির অপচয় করছো কেন? তিনি (সা‘দ) বললেন, ওজুর ক্ষেত্রেও কি পানির অপচয় হতে পারে? তিনি বললেন, হ্যাঁ, এমনকি তুমি প্রবাহিত পানির পাশে থাকলেও (নদীর পানি বেশি ব্যবহার করলেও পানির অপচয় হবে)।” (সুনানে ইবনে মাজাহ)

মহানবি (স.) ও তাঁর সাহাবিগণের এসব দৃষ্টান্ত আমাদেরকে মানুষ, জীবজগৎ, প্রকৃতি ও পৃথিবীর প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন ও দায়িত্বশীল হতে উদ্বুদ্ধ করে।

Loading the rest of the chapter…

Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.

Trusted resources

Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.