Primary Science chapter 1: Habitats of Living Things
জীবের আবাসস্থল
- Primary Science
- Textbook pages 1-10
- 1 source
- 15,973 characters of context
Textbook (verbatim transcription): Habitats of Living Things
Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.
Contents9ShowHide
Printed page 1
অধ্যায় ১: জীবের আবাসস্থল
উদ্ভিদ এবং প্রাণীসহ আরও অনেক বিচিত্র রকমের জীব নিয়ে জীবজগৎ গঠিত। জীবজগতে বিচিত্র ধরনের উদ্ভিদ ও প্রাণী রয়েছে। কোনো কোনো জীব স্থলভাগ বা মাটিতে বাস করে। কেউ আবার পানিতে বা মাটি ও পানি উভয় স্থানে বসবাস করে। কোনো কোনো জীবের প্রয়োজন ছায়াযুক্ত পরিবেশ, আবার কারো প্রয়োজন আলো আছে এমন পরিবেশ। এই অধ্যায়ে আমরা বিভিন্ন জীবের আবাসস্থল, বিভিন্ন আবাসস্থলে উদ্ভিদ ও প্রাণীর ধরন এবং পরিবেশে তাদের টিকে থাকার কৌশল ইত্যাদি সম্পর্কে জানব।
১. জীবের আবাসস্থল
যেখানে কোনো জীব স্বচ্ছন্দে বসবাস করতে পারে সেটাই জীবের আবাসস্থল।
জীবের আবাসস্থলগুলো কী কী?
কাজ: উদ্ভিদ ও প্রাণী কোথায় জন্মে তা খুঁজে বের করা।
যা করতে হবে
১. বিদ্যালয় এবং নিজ বাড়ির আশপাশে যে সকল উদ্ভিদ ও প্রাণী দেখেছি সেগুলোর নাম এবং এরা কোথায় জন্মেছে বা বাস করে তা নিচের ছকে লেখো।
| উদ্ভিদের নাম | আবাসস্থল | প্রাণীর নাম | আবাসস্থল |
|---|---|---|---|
Printed page 2
২. কয়েকজন সহপাঠীর সাথে ছকের তথ্য নিয়ে আলোচনা করি এবং জীবের আবাসস্থল সম্পর্কে ধারণা স্পষ্ট করি।
সারসংক্ষেপ
বিভিন্ন জীব বিভিন্ন ধরনের আবাসস্থলে জন্মে ও বসবাস করে। জল বা স্থলভেদে যেমন বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ জন্মে, তেমনি বিভিন্ন ধরনের আবাসস্থলে ভিন্ন ভিন্ন রকমের প্রাণী বাস করে।
বিভিন্ন আবাসস্থলের বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ ও প্রাণী সম্পর্কে আরও কিছু জানি
জীবের বসবাসের জন্য বিভিন্ন ধরনের পরিবেশ রয়েছে। যেমন– স্থলজ, জলজ, মেরু অঞ্চলের পরিবেশ। এসব পরিবেশে বসবাসরত প্রাণীদের মধ্যেও ভিন্নতা রয়েছে। পরিবেশের বিভিন্ন আবাসস্থলের যেমন ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্য রয়েছে, তেমনি এখানে বসবাসকারী বিভিন্ন ধরনের প্রাণীর মধ্যেও বৈচিত্র্য লক্ষ করা যায়।
Figure: বিভিন্ন পরিবেশে উদ্ভিদ
বর্ণনা: একটি প্রাকৃতিক দৃশ্যে বিভিন্ন পরিবেশে উদ্ভিদের অবস্থান দেখানো হয়েছে। ডাঙ্গায় বড় গাছপালা, ঘাস ও ফার্ন, এবং পাশের জলাশয়ে শাপলা ফুল ও কচুরিপানা জাতীয় জলজ উদ্ভিদ দৃশ্যমান।
স্থলজ আবাসস্থল
মাটি বা ভূমির পরিবেশ হলো স্থলজ আবাসস্থল। উদ্ভিদ ও প্রাণীর একটি বড়ো অংশ স্থলজ পরিবেশে বসবাস করে। স্থলভাগের উদ্ভিদ হলো আম, জাম, কাঁঠাল, নারিকেল, কলা, নিম, কড়ই, মেহগনি ইত্যাদি। এসব বড়ো বড়ো উদ্ভিদের নিচে ছায়াযুক্ত স্থান হলো ছোটো ছোটো উদ্ভিদের আবাস, যেমন– বিভিন্ন ধরনের ঘাস বা তৃণজাতীয় উদ্ভিদ। স্যাঁতসেঁতে, ভেজা ও ঠান্ডা স্থানে জন্মে মস ও ফার্ন জাতীয় উদ্ভিদ। কোনো কোনো উদ্ভিদ আবার বড়ো উদ্ভিদের গায়ে আশ্রয় নিয়ে বেঁচে থাকে, যেমন– অর্কিড ও বিভিন্ন ধরনের ফার্ন। আবার প্রাণীদের মধ্যে রয়েছে মানুষ, গরু, ছাগল, হাতি, বাঘ, শেয়াল, হাঁস, মুরগি, বিভিন্ন রকমের পাখি, ইঁদুর, কেঁচো, পিঁপড়া ইত্যাদি। স্থলজ আবাসস্থলের মধ্যেও অনেক বৈচিত্র্য রয়েছে, যেমন– বনজ, মরুজ, তৃণভূমি ইত্যাদি।
Printed page 3
বনজ আবাসস্থল: যখন কোনো স্থানে প্রাকৃতিকভাবে বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ প্রচুর পরিমাণে জন্মায় তখন সেখানে বনের সৃষ্টি হয়। যেমন– আমাদের দেশের শালবন, সুন্দরবন। বনের উদ্ভিদসমূহের মধ্যে শাল বা গজারি, মেহগনি, সুন্দরী, গেওয়া, গর্জন অন্যতম। এছাড়াও আছে গুল্ম, তৃণ, মস ও ফার্ন জাতীয় উদ্ভিদ। বনজ পরিবেশে অনেক প্রাণীও বসবাস করে। যেমন– আমাদের সুন্দরবনে বাঘ, হরিণ, বানর, কুমির ও বিভিন্ন ধরনের পাখির আবাসস্থল। ব্যাঙ উভচর প্রাণী, শিশু অবস্থায় (ব্যাঙাচি) এরা পানিতে থাকে। বড়ো হয়ে মাটি ও পানি উভয় স্থানে বসবাস করে। সাপ, ইঁদুর, কাঁকড়া মাটির গর্তে বাস করে। আমাদের দেশে হাতির আবাসস্থল হলো চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বনভূমি। আমাদের জাতীয় প্রাণী রয়েল বেঙ্গল টাইগার শুধু সুন্দরবনেই বাস করে।
Figure: বনজ পরিবেশে উদ্ভিদ ও প্রাণী
বর্ণনা: বনজ পরিবেশের একটি দৃশ্য। নদী বা খালের পাড়ে কুমির, বাঘ, চিত্রা হরিণ, গাছের ডালে বানর এবং আকাশে উড়ন্ত পাখি দেখা যাচ্ছে। চারদিকে ঘন বন এবং ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের শ্বাসমূল দৃশ্যমান।
তৃণভূমি: স্থলজ পরিবেশের মধ্যে অনেক স্থানে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ঘাস জাতীয় উদ্ভিদের প্রাধান্য থাকে। এই ধরনের আবাসকে বলে তৃণভূমি। এখানে থাকে শণ, নলখাগড়া, বীরুৎ ও গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ। প্রাণীদের মধ্যে থাকে হরিণ, কুকুর, খরগোশ, শেয়াল, বাজপাখি, পেঁচা, হায়েনা ইত্যাদি।
মরুজ আবাসস্থল: মরুভূমি হলো স্থলজ আবাসস্থলের মধ্যে একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন অঞ্চল। উচ্চ তাপমাত্রা, কম বৃষ্টিপাত, দিন ও রাতের তাপমাত্রার ব্যাপক পার্থক্য এবং শুষ্ক আবহাওয়া মরুজ আবাসস্থলের প্রধান বৈশিষ্ট্য। খেজুর, ফণীমনসাসহ বিভিন্ন ধরনের ক্যাকটাস ও গুল্ম এই অঞ্চলের উদ্ভিদ। মরুজ আবাসস্থলের প্রাণীদের মধ্যে রয়েছে উট, গিরগিটি, টিকটিকি, সান্ডা ও বিভিন্ন ধরনের পতঙ্গ।
Figure: মরুজ পরিবেশে উদ্ভিদ ও প্রাণী
বর্ণনা: মরুভূমির দৃশ্য যেখানে বালির টিলা, খেজুর গাছ এবং বিভিন্ন প্রজাতির ক্যাকটাস ও ফণীমনসা রয়েছে। প্রাণীদের মধ্যে উট, উড়ন্ত শিকারি পাখি, গিরগিটি ও সাপ দেখা যাচ্ছে।
Printed page 4
মেরু আবাসস্থল: পৃথিবীর কোনো কোনো অঞ্চল বরফে ঢাকা থাকে, যেমন- মেরু অঞ্চল। এ অঞ্চলে খুবই কম উদ্ভিদ জন্মে, এদের মধ্যে আছে আর্কটিক উইলো, কটন গ্রাস ও লাইকেন জাতীয় উদ্ভিদ। কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্যের প্রাণী এ অঞ্চলে বাস করে বাস করে। যেমন- শ্বেত ভল্লুক, সিল, পেঙ্গুইন ইত্যাদি।
Figure: মেরু অঞ্চলে প্রাণী
বর্ণনা: বরফে ঢাকা মেরু অঞ্চলের দৃশ্য। বামে বরফের ওপর দুটি শ্বেত ভল্লুক, ডানে সামনে একটি সিল এবং দূরে কয়েকটি পেঙ্গুইন দেখা যাচ্ছে।
জলজ আবাসস্থল
সারা বছর পানি থাকে এমন আবাসস্থলগুলোই জলজ আবাসস্থল। সমুদ্র, নদী, পুকুর, খাল, বিল, ইত্যাদি হলো জলজ আবাসস্থল। এসব আবাসস্থলের পরিবেশেও ভিন্নতা রয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো স্বাদু পানির জলজ পরিবেশ। যেমন– নদী, পুকুর, খাল, বিল ইত্যাদি। এই পরিবেশে জন্মানো বিভিন্ন উদ্ভিদের মধ্যে রয়েছে শাপলা, পদ্ম, কচুরিপানা, ক্ষুদিপানা, টোপাপানা ও বিভিন্ন ধরনের শৈবাল।
প্রাণীদের মধ্যে রয়েছে রুই, কাতলা, মৃগেল, পাঙ্গাসসহ অনেক ধরনের মাছ, কুমির, কাছিম, কাঁকড়া, শামুক, ঝিনুক, চিংড়ি ইত্যাদি।
Figure: জলজ পরিবেশে প্রাণী ও উদ্ভিদ
বর্ণনা: একটি স্বাদু পানির জলজ পরিবেশের দৃশ্য। পানির নিচে বিভিন্ন জাতের মাছ সাঁতার কাটছে এবং একটি জলজ সাপ বা বান মাছ দেখা যাচ্ছে। পানির ওপরে সাদা শাপলা ফুল ও কচুরিপানা ভাসছে এবং দূরে পাড়ের সবুজ গাছপালা দৃশ্যমান।
সামুদ্রিক আবাসস্থল: জলজ পরিবেশ হলেও সমুদ্রের পানি নদী, পুকুর, খাল, ও বিলের পানি থেকে আলাদা। সমুদ্রের পানি লবণাক্ত। এই পানিতে যে সকল উদ্ভিদ ও প্রাণী বাস করে তারা সাধারণত নদী, পুকুর বা খাল বিলে বসবাসকারী উদ্ভিদ ও প্রাণীদের থেকে আলাদা। সামুদ্রিক পরিবেশে প্রধান উদ্ভিদ হলো বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক শৈবাল, যেমন- ল্যামিনারিয়া (Laminaria), সারগাসাম
Figure: সামুদ্রিক পরিবেশে প্রাণী ও উদ্ভিদ
বর্ণনা: সমুদ্রের পরিবেশের দৃশ্য। পানির নিচে একটি বড় তিমি ও ছোট ছোট মাছ সাঁতার কাটছে। পানির ওপরে একটি ডলফিন লাফিয়ে উঠছে, আকাশে সামুদ্রিক পাখি উড়ছে এবং দূরে সমুদ্রতীর দেখা যাচ্ছে।
Printed page 5
(Sargassam)। এছাড়াও সামুদ্রিক ঘাস-এর মধ্যে রয়েছে যস্টেরা (Zostera), হ্যালোডিউল (Halodule) ইত্যাদি। সামুদ্রিক প্রাণীগুলোর মধ্যে রয়েছে তিমি, ডলফিন, অক্টোপাস, হাঙর, লাল কাঁকড়া, তারামাছ, জেলি ফিশসহ অসংখ্য প্রজাতির মাছ। সমুদ্রের লোনা পানির মাছের মধ্যে প্রধান হলো রূপচাঁদা, লইট্ট্যা, লাক্ষা, কোরাল, স্যামন, টুনা, ইলিশ ইত্যাদি
জলাভূমি: কিছু কিছু নিচু এলাকা বছরের বেশির ভাগ সময় জলমগ্ন থাকে, বাকি সময় শুষ্ক থাকে। এদের বলে জলাভূমি। এসব এলাকায় ঋতু অনুযায়ী উদ্ভিদ ও প্রাণীর উপস্থিতি ভিন্ন ভিন্ন হয়। বাংলাদেশের হাওড়, বাঁওড় এ ধরনের জলাভূমি। এ ধরনের জলাভূমি স্বাদু পানির হতে পারে। যেমন– রাতারগুল, হাকালুকি হাওড় এই ধরনের জলাভূমি। আবার নোনা পানির জলাভূমিও হতে পারে, যেমন– সুন্দরবন। পানির গভীরতার সাথে সাথে এখানে জীববৈচিত্র্যের পরিবর্তন হয়। এখানকার বিশেষ উদ্ভিদ হলো কলমি, হেলেঞ্চা, হিজল, করচ, বরুন ইত্যাদি। এ পরিবেশে বিভিন্ন ধরনের প্রাণী যেমন– মাছ, সাপ, ব্যাঙ এবং জলচর পাখি দেখা যায়।
২. জীবের অভিযোজন
নির্দিষ্ট বাসস্থানের বা পরিবেশের সাথে জীবের খাপ খাইয়ে বেঁচে থাকার প্রক্রিয়াকে অভিযোজন বলে। পরিবেশে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদের মধ্যে বিশেষ বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়। প্রাণীদের মধ্যেও বাহ্যিক এবং অভ্যন্তরীণ গঠনগত নানারকম পরিবর্তন দেখা যায়।
বিভিন্ন পরিবেশে জীব কীভাবে নিজেকে খাপ খাওয়ায়?
কাজ: জীবের অভিযোজন কৌশল অনুসন্ধান
যা লাগবে: ১. কচুরিপানা ২. মুরগি ও হাঁসের পায়ের চিত্র
যা করতে হবে
১. কচুরিপানা এক ধরনের জলজ উদ্ভিদ। এরা পানিতে ভেসে থাকে। কচুরিপানা ভালো করে পর্যবেক্ষণ করি।
২. আমরা নিশ্চয়ই লক্ষ করেছি এদের কাণ্ডে প্রচুর পরিমাণে ফাঁপা অংশ থাকে। কচুরিপানায় এই ফাঁপা অংশ থাকার কারণ কী? কচুরিপানায় এই ফাঁপা অংশ থাকা-সম্পর্কিত ধারণা নিচের ফাঁকা জায়গায় লেখো।
Printed page 6
৩. বাস্তবে বা ছবিতে মুরগি এবং হাঁসের পায়ের আঙুলের মধ্যে ভিন্নতা পর্যবেক্ষণ করি। এ ভিন্নতার কারণ নিচের খালি জায়গায় লিখে রাখি।
৪. কয়েকটি দল গঠন করে উপরের কাজ দুটো নিয়ে আলোচনা করি।
৫. শ্রেণিতে দলের কাজ উপস্থাপন করি। উপস্থাপনের পর সহপাঠী ও শিক্ষকের মতামতের আলোকে কাজের সংশোধন প্রয়োজন হলে তা লিখে রাখি।
Loading the rest of the chapter…
Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.
Trusted resources
Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.