Skip to content

Primary Science chapter 3: Food

খাদ্য

  • Primary Science
  • Textbook pages 22-30
  • 1 source
  • 15,457 characters of context

Textbook (verbatim transcription): Food

Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.

Contents22
  1. ১. সুষম খাদ্য
  2. আমরা কি সুষম খাদ্য খাই?
  3. সারসংক্ষেপ
  4. সুষম খাদ্যের তালিকা সম্পর্কে আরও কিছু জানি
  5. ২. সুষম খাদ্য গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা
  6. আমাদের সুষম খাদ্য গ্রহণ করা কেন প্রয়োজন?
  7. সারসংক্ষেপ
  8. সুষম খাদ্যের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আরও কিছু জানি
  9. ৩. সময়মতো খাদ্য গ্রহণের গুরুত্ব
  10. সময়মতো খাদ্য গ্রহণ করার উপকারিতা কী কী?
  11. সারসংক্ষেপ
  12. সময়মতো খাদ্য গ্রহণের গুরুত্ব সম্পর্কে আরও কিছু জানি
  13. নিয়মিত ও অনিয়মিত খাদ্যগ্রহণের প্রভাব
  14. ৪. খাদ্য সংরক্ষণ
  15. খাদ্য সংরক্ষণের উপায়সমূহ কী কী?
  16. সারসংক্ষেপ
  17. খাদ্য সংরক্ষণের উপায় সম্পর্কে আরও কিছু জানি
  18. ৫. খাদ্য সংরক্ষণের গুরুত্ব
  19. খাদ্য সংরক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ কেন?
  20. সারসংক্ষেপ
  21. খাদ্য সংরক্ষণের গুরুত্ব সম্পর্কে আরও কিছু জানি
  22. অনুশীলনী

Printed page 22

অধ্যায় ৩

খাদ্য

খাদ্য আমাদের দেহে শক্তি উৎপাদন, ক্ষয়পূরণ ও বৃদ্ধি সাধন এবং রোগ প্রতিরোধের সক্ষমতা তৈরি করে। আমরা যেসকল খাবার খাই তার সবই কি পুষ্টিসমৃদ্ধ? স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখার জন্য ব্যক্তির বয়স, দৈহিক গড়ন বা কাজের ধরন ইত্যাদি অনুযায়ী খাদ্য গ্রহণ করা প্রয়োজন। গৃহীত খাদ্যে পরিমিত পরিমাণে শর্করা, প্রোটিন, স্নেহ, ভিটামিন, খনিজ ও পানি উপস্থিত থাকতে হয়। অনেক খাদ্য সহজে নষ্ট হয়ে যায়, ফলে খাদ্য সংরক্ষণের প্রয়োজন হয়। খাদ্যের মান, সতেজতা ও গুণাগুণ অক্ষুণ্ণ রেখে সারা বছর ব্যবহার-উপযোগী রাখার জন্য আমরা খাদ্য সংরক্ষণ করি।

১. সুষম খাদ্য

যেসব খাবারে পরিমিত পরিমাণে শর্করা, প্রোটিন, স্নেহ, ভিটামিন, খনিজ ও পানি উপস্থিত থাকে, তাই সুষম খাদ্য। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় শর্করা, আমিষ ও চর্বি জাতীয় খাদ্য হিসেবে ভাত, রুটি, মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, তেল, বাদাম ইত্যাদি থাকে। এর সাথে ভিটামিন ও খনিজ লবণের উৎস হিসেবে পর্যাপ্ত শাকসবজি ও ফলমূল থাকতে হয়।

Figure: বিভিন্ন প্রকার খাদ্য

লেবেল: Chips, তেল, ঘি বর্ণনা: বিভিন্ন প্রকার খাদ্যের সমাহার—প্রথম সারিতে চাল/মুড়ি, আলু, রুটি, মাছ, ঝোল/স্যুপ, ডিম ও মাংস; ডানে ফাস্টফুড যেমন চিপস, বার্গার, কোমল পানীয়, চিকেন ফ্রাই, পিৎজা ও পেস্ট্রি; নিচের সারিতে কলা, ফুলকপি/ব্রকলি, মিষ্টি কুমড়া, টমেটো, লাউ, গাজর, বোতলে তেল, ঘিয়ের বয়াম, দইয়ের বাটি এবং পনিরের টুকরা।

আমরা কি সুষম খাদ্য খাই?

কাজ: সুষম খাদ্যের তালিকা তৈরি

যা করতে হবে: ১. উপরের চিত্রগুলো পর্যবেক্ষণ করি। ২. সুষম খাদ্যের তালিকায় কী কী খাদ্য থাকতে পারে তা খাদ্যদল অনুযায়ী সাজাই।

Printed page 23

৩. সেসব খাদ্য থেকে প্রতিদিন নিজে কী খাই তাও চিহ্নিত করি।

খাদ্যদলখাদ্যের নামনিজে কী খাই
শর্করা
আমিষ
স্নেহ বা চর্বি
ভিটামিন, খনিজ লবণ

৪. তালিকা দেখে আমার খাবার সুষম কি না তা ভেবে বের করি। সুষম না হয়ে থাকলে কোন খাবার যোগ করলে সুষম হতো তা চিহ্নিত করি।

সারসংক্ষেপ

যথাযথ দৈহিক বৃদ্ধি, ক্ষয়পূরণ ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য আমাদের প্রতিদিনের খাবারে শর্করা, আমিষ, স্নেহ পদার্থ, ভিটামিন ও খনিজ লবণ থাকা প্রয়োজন। এজন্য আমাদের সচেতনভাবে খাদ্য নির্বাচন করতে হবে যাতে আমাদের প্রতিদিনের খাবার সুষম হয়।

সুষম খাদ্যের তালিকা সম্পর্কে আরও কিছু জানি

আমরা তৃতীয় শ্রেণিতে সুষম খাদ্য, খাদ্যদল ও খাদ্যদলের খাদ্যসমূহ আমাদের শরীরে কী কাজে লাগে তা জেনেছি। শিশু, গর্ভবতী মা ও বয়স্ক ব্যক্তির পুষ্টি চাহিদার ভিন্নতা আছে। শিশুরা ধীরে ধীরে বড়ো হয়। এদের বাড়ন্ত শরীরের জন্য শরীর গঠন করে, শক্তি দেয়, রোগ প্রতিরোধ করে এমন খাদ্যের প্রয়োজন। তাই তাঁদের খাদ্য তালিকায় বিভিন্ন ধরনের আমিষ যেমন– ডিম, মাছ, মাংস, দুধ এবং দুগ্ধজাত খাদ্য বেশি করে রাখতে হবে।

নিচে শিশুদের (৬ থেকে ১২ বছর) জন্য সুষম খাদ্যের তালিকার নমুনা পরিমাণসহ দেওয়া হলো–

খাদ্য দলখাদ্যের উৎসপরিমাণ
শর্করারুটি/পরোটা/পাউরুটি১-২টা১৫০ গ্রাম
ভাত/আলু/নুডুলস১ কাপ৫০ গ্রাম
আমিষমাংস/মাছ১-৩ টুকরা৬০ গ্রাম
ডিম১টা
ডাল১-৩ কাপ
দুগ্ধজাত খাদ্যদুধ/দই১ গ্লাস
পনির১ টুকরা
ভিটামিন,
খনিজ লবণ
রান্না করা বা কাঁচা সবজিআধা কাপ১০০ গ্রাম
মৌসুমি ফল (আম, কলা, আপেল, কমলা ইত্যাদি)১টি১০০ গ্রাম
তেল ও চর্বিঘি/ মাখন/ ভোজ্যতেল১ টেবিল চামচ১৫-২০ গ্রাম

Printed page 24

গর্ভবতী মায়েদের শরীরে আরেকটি শিশুর বৃদ্ধি হয়, তাই মায়েদের বাড়তি পুষ্টি প্রয়োজন। গর্ভবতী মায়েদের শরীর গঠনকারী, শক্তি প্রদানকারী, রোগ প্রতিরোধী খাদ্যের প্রয়োজন। অন্যদিকে বয়স বাড়লে শরীরে শক্তি কমে যায়, তাই বয়স্ক ব্যক্তিদের সহজপাচ্য ও পুষ্টিকর খাদ্য দরকার। এদের সুস্থ থাকার জন্য সহজে হজম হয়, হাড় ও দাঁত মজবুত রাখে এবং রোগপ্রতিরোধী খাদ্যের প্রয়োজন হয়। এসব কিছু বিবেচনা করেই সুষম খাদ্য তালিকা তৈরি করতে হয়।

২. সুষম খাদ্য গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা

দেহকে সুস্থ, সবল ও কর্মক্ষম রাখার জন্য সুষম খাদ্য গ্রহণ করা অপরিহার্য। সুষম খাদ্য বিশেষত শিশুদের সঠিকভাবে শারীরিক বৃদ্ধি ও বিকাশে সহায়তা করে, মস্তিষ্কের সুস্থতা বজায় রাখে। সুষম খাদ্য গ্রহণে শরীরে পুষ্টি চাহিদা সঠিকভাবে পূরণ হয়।

আমাদের সুষম খাদ্য গ্রহণ করা কেন প্রয়োজন?

কাজ: সুষম খাদ্য গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা শনাক্ত করা

যা করতে হবে: পূর্বের পাঠসমূহের ধারণা এবং অভিজ্ঞতার আলোকে সুষম খাদ্য গ্রহণ প্রয়োজনীয়তা লেখো।

ক্রমিকসুষম খাদ্য গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা
ক
খ
গ

সারসংক্ষেপ

সুস্থ থাকার জন্য সুষম খাদ্য গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকার জন্য সঠিক পরিমাণ পুষ্টি উপাদান প্রয়োজন। সুষম খাদ্য গ্রহণ বয়স, লিঙ্গ এবং কাজের ধরনভেদে আলাদা হতে পারে।

সুষম খাদ্যের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আরও কিছু জানি

আমরা আগে ছোটো ছিলাম। এখন ধীরে ধীরে বড়ো হচ্ছি। প্রতিদিন আমরা নানারকম কাজকর্ম, ছোটাছুটি, খেলাধুলা, লেখাপড়া করি। খেলতে গিয়ে সামান্য কেটে-ছিঁড়ে গেলে কোনো ওষুধ ছাড়াই কয়েক দিনের মধ্যে তা ভালো হয়ে যাচ্ছে। এর মূলে রয়েছে সুষম খাদ্য।

Figure: শিশুর বেড়ে ওঠা

বর্ণনা: একটি শিশুর বিভিন্ন বয়সের ধাপে বড় হয়ে ওঠার ধারাবাহিক দৃশ্য—একটি হামাগুড়ি দেওয়া শিশু থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে বড় হওয়া একটি কিশোরী মেয়ে পর্যন্ত চারটি পর্যায় দেখানো হয়েছে।

Printed page 25

খাদ্যের উপাদানগুলো আমাদের দেহে যে কাজ করে সেগুলো হলো–

  • দেহের বৃদ্ধিসাধন ক্ষয়পূরণ ও সুরক্ষা প্রদান
  • তাপ উৎপাদন ও কাজ করার শক্তি প্রদান
  • শারীরবৃত্তীয় কর্মশক্তি প্রদান
  • দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি ইত্যাদি।

প্রতিদিন প্রয়োজনীয় পরিমাণে সুষম খাদ্য গ্রহণ না করলে শরীরে পুষ্টির ভারসাম্য নষ্ট হয়। একটি খাদ্য উপাদানের অভাবে আরেকটি উপাদান শোষিত হয় না অথবা যথাযথ কাজ করে না। এর ফলে পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার খেলেও অনেকের পুষ্টিহীনতা দেখা দেয়। আবার কোনো উপাদান প্রয়োজনের অতিরিক্ত গ্রহণ করলে স্থূলতাসহ নানারকম শারীরিক সমস্যা তৈরি হয়। প্রতিদিনের খাবার সুষম না হলে শরীর দুর্বল হয়ে যায়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। ফলে সহজে শরীরে রোগের আক্রমণ হতে পারে। প্রতিদিনের খাদ্য সুষম না হলে শিশুদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। সঠিক অনুপাতে ও সময়মতো খাদ্য গ্রহণে ভালো ঘুম হয় এবং মানসিক চাপ কমে। খাদ্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে বয়স, লিঙ্গ, শারীরিক পরিশ্রমের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে খাদ্য গ্রহণ করলে শরীর সুস্থ থাকে।

৩. সময়মতো খাদ্য গ্রহণের গুরুত্ব

সুস্থ থাকার জন্য শুধু সুষম এবং পুষ্টিকর খাবার খেলেই হবে না বরং সেগুলো আমরা কখন খাই, কতক্ষণ পরপর খাই, দিনে কতবার খাই সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। আমরা অনেকেই খাবার গ্রহণের কোনো নিয়ম মেনে চলি না। যখন মনে হয় তখন অথবা একেক দিন একেক সময়ে খাই। আবার অনেকক্ষণ না খেয়েও থাকি।

সময়মতো খাদ্য গ্রহণ করার উপকারিতা কী কী?

কাজ: সময়মতো খাদ্য গ্রহণের গুরুত্ব শনাক্তকরণ।

যা করতে হবে: সময়মতো খাদ্য গ্রহণের গুরুত্ব সম্পর্কে সহপাঠীদের সাথে আলোচনা করে নিচের ছকে লেখো।

ক্রমিকসময়মতো খাদ্য গ্রহণের গুরুত্ব
ক
খ
গ
ঘ
ঙ

Printed page 26

সারসংক্ষেপ

সুস্থ থাকতে সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্যের পাশাপাশি সঠিক সময়ে খাদ্য গ্রহণ করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যালয়ের যেমন নির্দিষ্ট সময়সূচি থাকে তেমনি খাদ্য গ্রহণেরও নির্দিষ্ট সময় রয়েছে। নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে খাদ্য গ্রহণ করলে শরীর সুস্থ থাকে।

সময়মতো খাদ্য গ্রহণের গুরুত্ব সম্পর্কে আরও কিছু জানি

আমাদের শরীরে খাদ্য পরিপাকের জন্য নানা ধরনের উপাদান কাজ করে। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, অপরিমিত এবং বিশৃঙ্খল খাদ্যাভ্যাস বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়। সময়মতো খাবার গ্রহণ না করলে পাকস্থলীতে আলসার বা ক্ষত, বদহজম, ওজন হ্রাস বা বৃদ্ধি ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়াও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, শরীর দুর্বল হয়ে পরে। সঠিক সময়ে খাবার খেলে–

  • শরীর সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকে
  • মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়
  • শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ সঠিকভাবে হয়।

প্রতিদিন সকাল ৮টার মধ্যে সকালের খাবার খেয়ে নেওয়া ভালো। দুপুরের খাবার গ্রহণের সঠিক সময় বেলা সাড়ে ১২টা থেকে ১টা। সকালের নাশতা মোটামুটি পেট ভরে খেলে দুপুরের খাবার মাঝারি পরিমাণের হওয়া উচিত।

রাতের খাবার সন্ধ্যা সাতটার মধ্যে খেয়ে ফেলা ভালো। দেরিতে রাতের খাবার গ্রহণ করলে স্থূলতা বা মোটা হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। কোনো কারণে এই সময়ের মধ্যে খাওয়া সম্ভব না হলে অন্তত ঘুমানোর ঘণ্টা তিনেক আগে রাতের খাবার গ্রহণ করা উচিত। রাতে সহজপাচ্য খাবার খাওয়া ভালো।

খাবার হজম হতে সাধারণত ৩-৪ ঘণ্টা সময় লাগে। এজন্য প্রতি বেলার খাদ্য গ্রহণের মাঝে কমপক্ষে ৪ ঘণ্টা বিরতি দেওয়া প্রয়োজন। এতে হজম ভালো হয়, পরিপাকতন্ত্র সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকে এবং অতিরিক্ত মোটা হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

Loading the rest of the chapter…

Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.

Trusted resources

Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.