Primary Science chapter 4: Puberty
বয়ঃসন্ধিকাল
- Primary Science
- Textbook pages 31-39
- 1 source
- 13,528 characters of context
Textbook (verbatim transcription): Puberty
Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.
Contents12ShowHide
- ১. বয়ঃসন্ধিকাল
- সারসংক্ষেপ
- বয়ঃসন্ধিকাল সম্পর্কে আরও কিছু জানি
- ২. বয়ঃসন্ধিকালে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন
- সারসংক্ষেপ
- বয়ঃসন্ধিকালে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়ার উপায় সম্পর্কে আরও কিছু জানি
- ৩. বয়ঃসন্ধিকালীন পরিবর্তনগুলোকে স্বাভাবিক হিসেবে উপলব্ধিকরণ
- ঘটনা-১
- ঘটনা-২
- সারসংক্ষেপ
- বয়ঃসন্ধিকালে সুস্থ, সুন্দর ও স্বাভাবিক জীবন গঠন সম্পর্কে আরও কিছু জানি
- চেকলিস্ট
Printed page 31
অধ্যায় ৪: বয়ঃসন্ধিকাল
জন্মের পর আমরা কতই-না অসহায় ছিলাম! আমরা চলাফেরা করতে পারতাম না, কথা বলতে পারতাম না, ক্ষুধা লাগলে খাবার চাইতে পারতাম না। সব কিছুর জন্য মা-বাবার ওপর নির্ভরশীল ছিলাম। এরপর আমাদের শরীর এবং মনে ধীরে ধীরে নানা ধরনের পরিবর্তন এসেছে। আমরা শারীরিকভাবে যেমন বড়ো হচ্ছি তেমনি মনের ভাব প্রকাশ করতে পারছি, নিজেদের প্রয়োজনের কথাও নিজেরা বলতে পারছি। আমাদের আচরণেও পরিবর্তন এসেছে। এটিই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। আমাদের মা-বাবা, বড়ো ভাই-বোন, অথবা আমাদের থেকে বয়সে যারা বড়ো তারাও ঠিক একই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গিয়েছেন। এভাবে জীবনের যে পর্যায়ে একজন মানুষ নানা ধরনের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বড়ো হয়ে ওঠে অর্থাৎ বাল্যকাল থেকে কৈশোরে পা রাখে, মানবজীবনের সেই পর্যায়কে বয়ঃসন্ধিকাল বলে।
১. বয়ঃসন্ধিকাল
মানব জীবনে শারীরিক পরিবর্তনের ধারাবাহিক ধাপসমূহ এবং বিভিন্ন ধাপে শারীরিক বৈশিষ্ট্যগুলো কী কী?
Figure: চিত্র: মানুষের জীবনে শারীরিক পরিবর্তনের ধারাবাহিক ধাপসমূহ
লেবেল: শৈশবকাল, বাল্যকাল, কৈশোরকাল, যৌবনকাল, বার্ধক্য বর্ণনা: মানুষের জীবনের শারীরিক পরিবর্তনের ধারাবাহিক পাঁচটি ধাপ বাম থেকে ডানে দেখানো হয়েছে: শৈশবকাল (মায়ের কোলে শিশু), বাল্যকাল (ছোটো ছেলে), কৈশোরকাল (কিশোর), যৌবনকাল (স্যুট পরিহিত তরুণ) এবং বার্ধক্য (লাঠি হাতে শ্মশ্রুমণ্ডিত বৃদ্ধ)।
কাজ: মানুষের জীবনে শারীরিক পরিবর্তনের ধারাবাহিক ধাপসমূহ এবং শারীরিক বৈশিষ্ট্য চিহ্নিতকরণ
যা করতে হবে:
১. উপরের চিত্রগুলো ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করি।
Printed page 32
২. মানুষের শারীরিক পরিবর্তনের ধাপসমূহ এবং প্রতি ধাপের শারীরিক বৈশিষ্ট্য ছকে লেখো।
| পরিবর্তনের ধাপ | শারীরিক বৈশিষ্ট্য |
|---|---|
সারসংক্ষেপ
জন্মের পর থেকে শুরু করে বার্ধক্য পর্যন্ত আমাদের সকলকে শারীরিক পরিবর্তনের কতগুলো ধারাবাহিক ধাপ অতিক্রম করতে হয়। জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো বয়ঃসন্ধিকাল। এটি জীবনের এমন এক পর্যায় যখন আমাদের শরীর শিশু অবস্থা বা শৈশবকাল থেকে কিশোর অবস্থা বা কৈশোরকালে পৌঁছে। আমরা শারীরিক পরিবর্তনের কোন ধাপে আছি এবং নিজেদের মধ্যে কী কী শারীরিক পরিবর্তন অনুভব করেছি এ সম্পর্কে নিচের খালি জায়গায় লেখো।
বয়ঃসন্ধিকাল সম্পর্কে আরও কিছু জানি
সাধারণত মেয়েদের বয়ঃসন্ধিকাল হলো ৮ থেকে ১৩ বছর এবং ছেলেদের ৯ থেকে ১৫ বছর। বয়ঃসন্ধিকালে ছেলেমেয়েদের শরীর দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ফলে ওজন বাড়ে, উচ্চতা বৃদ্ধি পায়। এ সময় তাদের মধ্যে ভয়-ভীতি, কৌতূহল, লজ্জা, আবেগ প্রবণতা, বিষণ্ণতা ও অস্থিরতা দেখা দেয়; তারা নিজেদের সিদ্ধান্ত নিজেরাই নিতে চায়। ছেলেদের ক্ষেত্রে পুরুষালি বৈশিষ্ট্য যেমন– দাড়ি, গোঁফ গজাতে থাকে, গলার স্বরও মোটা এবং ভারী হতে থাকে। তাছাড়াও ছেলেদের পেশি সুগঠিত কাঁধ চওড়া হতে থাকে। একইভাবে মেয়েদের ক্ষেত্রেও কিছু পরিবর্তন দেখা যায়। তাদের শরীর কিছুটা ভারী হতে থাকে এবং মেয়েলি বৈশিষ্ট্যগুলো প্রকাশ পেতে থাকে। এ সময় ছেলে এবং মেয়ে উভয়ের মুখে ব্রণ দেখা দিতে পারে। তাছাড়া শরীর অনেক বেশি ঘামতে পারে এবং
Figure: বয়ঃসন্ধিকালে কিশোর-কিশোরী
বর্ণনা: বয়ঃসন্ধিকালের একজন কিশোরী (বাম পাশে) ও একজন কিশোরকে (ডান পাশে) পাশাপাশি দেখানো হয়েছে।
Printed page 33
ঘামে গন্ধ থাকতে পারে।
বয়ঃসন্ধিকাল হলো আমাদের বড়ো এবং পরিণত হয়ে ওঠার অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। মেয়েদের শরীর থেকে বয়ঃসন্ধিকালে প্রতি মাসে অল্প কিছু দিনের জন্য রক্তক্ষরণ হয়ে থাকে, এটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এতে ভয় বা লজ্জা পাওয়া কিংবা বিব্রত হওয়ার কিছু নাই। মা-বাবা, বড়ো বোন বা পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক ও বিশ্বস্ত কোনো সদস্যের সাথে এসব ব্যাপারে খোলামেলা আলোচনা করলে যেকোনো সমস্যার সহজে সমাধান সম্ভব হয়। মনে রাখতে হবে বয়ঃসন্ধিকালীন পরিবর্তনগুলো সকলের একই সময়ে বা একইভাবে হয় না। পরিবর্তনগুলো কারো ক্ষেত্রে আগে কারো ক্ষেত্রে দেরিতে হতে পারে।
২. বয়ঃসন্ধিকালে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন
মানব জীবনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল পর্যায় হলো বয়ঃসন্ধিকাল। এ সময় শরীরে যেমন নতুন নতুন বেশ কিছু পরিবর্তন আসে তেমনি কিশোর-কিশোরীদের চিন্তা, অনুভূতি এবং আচরণেও পরিবর্তন আসে। বয়ঃসন্ধিকালে সুস্থ স্বাভাবিক বিকাশের জন্য শারীরিক স্বাস্থ্যের যত্ন অপরিহার্য। এ সময় কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে আবেগপ্রবণতা, ভয়, ভীতি এবং লজ্জা কাজ করে এবং ঘন ঘন মেজাজের পরিবর্তন হয়। এজন্য বয়ঃসন্ধিকালে শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
বয়ঃসন্ধিকালে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়ার উপায়গুলো কী কী?
কাজ: বয়ঃসন্ধিকালে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়ার উপায়গুলো শনাক্তকরণ
যা করতে হবে:
১. নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়ার ৫টি উপায় লেখো। ২. নিজের পর্যবেক্ষণ নিয়ে সহপাঠীদের সাথে আলোচনা করি।
| ক্রমিক | শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়ার উপায়সমূহ |
|---|---|
| ১ | |
| ২ | |
| ৩ | |
| ৪ |
সারসংক্ষেপ
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, নিরাপদ পানি পান, সুষম ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনের প্রধান শর্ত। বাইরের তৈরি খাবার বর্জন করলে অনেক শারীরিক সমস্যা ও রোগ থেকে মুক্ত থাকা যায়,
Printed page 34
শরীর সুস্থ থাকে। তাছাড়াও নিয়মিত শরীরচর্চা ও খেলাধুলা করলে এবং নিজের কাজগুলো নিজে করলে শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মনও ভালো থাকে।
বয়ঃসন্ধিকালে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়ার উপায় সম্পর্কে আরও কিছু জানি
বয়ঃসন্ধিকাল আমাদের জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ সময়। কারণ এটি আমাদের শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্য বিকাশের সময়। এ সময় সুষম এবং পুষ্টিকর খাদ্যগ্রহণ খুবই প্রয়োজন। বয়ঃসন্ধিকালে যেহেতু শারীরিক বৃদ্ধি দ্রুত হয়, এজন্য মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ডাল ইত্যাদি প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খেতে হয়। ভাত, রুটি ইত্যাদি শর্করা ও চর্বি যেমন– তেল, ঘি দিয়ে তৈরি খাবারও খাওয়া প্রয়োজন। তাছাড়াও বিভিন্ন প্রকার ছোটো মাছ (যেমন– মলা, ঢেলা ইত্যাদি), রঙিন শাকসবজি এবং বিভিন্ন রকমের ফল খেতে হয়।
অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাবার, কোমল পানীয়, বাইরের তৈরি খাবার, জাঙ্ক ফুড (যেমন– চিপস্, বার্গার, পিৎজা, চকোলেট, মিষ্টিজাতীয় খাবার ইত্যাদি) অবশ্যই বর্জন করতে হবে। এসব খাবারে প্রচুর অস্বাস্থ্যকর চর্বি ও চিনি থাকে। এসব খাদ্যগ্রহণে স্থূলতা, হৃদপিণ্ডের রোগ, অল্প বয়সে ডায়াবেটিস আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
Figure: বর্জনীয় খাবার
লেবেল: Chips বর্ণনা: বিভিন্ন জাঙ্ক ফুড ও অস্বাস্থ্যকর খাবার: চিপস, বার্গার, ফ্রাইড চিকেন, কোমল পানীয়, পিৎজা এবং পেস্ট্রি কেক।
Figure: পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান
বর্ণনা: একটি মেয়ে কাচের গ্লাসে পানি পান করছে।
Figure: নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম
বর্ণনা: একটি ছেলে বিছানায় বালিশে মাথা রেখে শান্তভাবে ঘুমাচ্ছে।
নিরাপদ পানির অপর নাম জীবন। তাই স্বাস্থ্য রক্ষায় নিয়মিত পর্যাপ্ত পরিমাণে নিরাপদ পানি পান করা অত্যন্ত প্রয়োজন। প্রতিদিন নিয়মিত কমপক্ষে ৮ ঘণ্টা ঘুমাতে হবে। বয়ঃসন্ধিকালে শরীরের বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম খুবই প্রয়োজন।
Printed page 35
Figure: দৈনন্দিন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা
বর্ণনা: দৈনন্দিন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার চারটি চিত্র: দাঁত ব্রাশ করা, গোসল করা, নখ কাটা এবং কলে হাত ধোয়া।
ঘুম থেকে উঠে এবং রাতে ঘুমানোর পূর্বে দাঁত ব্রাশ করা, প্রতিদিন গোসল করা, হাতের নখ, চুল ছোটো রাখা প্রয়োজন। বাথরুম ব্যবহারের পর এবং খাওয়ার পূর্বে নিয়মিত সাবান বা ছাই দিয়ে হাত ধোয়া পেটের স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর পেট ভালো থাকলে অনেক রকম জটিল রোগ থেকে মুক্ত থাকা যায়।
Figure: নিয়মিত শরীরচর্চা ও খেলাধুলা
বর্ণনা: ছাত্রীদের মাঠে খেলাধুলা করা এবং ছেলেদের শরীরচর্চা ও ব্যায়াম করার দৃশ্য।
বয়ঃসন্ধিকালে মন বা মানসিক স্বাস্থ্যেরও যত্ন প্রয়োজন হয়। নিয়মিত শরীরচর্চা, খেলাধুলা করা, রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমানো, সকালবেলা ঘুম থেকে উঠা এবং প্রতিদিন সূর্যের আলোতে যাওয়া দরকার। এতে রোগবালাই কম হয়।
Figure: ঘর মোছা
বর্ণনা: একটি মেয়ে মপ দিয়ে মেঝে পরিষ্কার করছে।
Figure: মায়ের কাজে সহযোগিতা
বর্ণনা: একটি ছেলে ঘরের কাজ করছে।
Figure: বই পড়া
বর্ণনা: একজন বই পড়ছে।
Figure: ছবি আঁকা
বর্ণনা: একটি মেয়ে হাতির ছবি আঁকছে।
Printed page 36
Figure: নিজের বিছানা গোছানো
বর্ণনা: একটি ছেলে এবং একটি মেয়ে বিছানার চাদর টেনে বিছানা গোছাচ্ছে।
Figure: নিজের পড়ার টেবিল গুছিয়ে রাখা
বর্ণনা: পরিপাটি পড়ার টেবিলে বইয়ের স্তূপ, ফুলদানি এবং কলমদানি সাজিয়ে রাখা।
Figure: বাবার কাজে সহযোগিতা করা
বর্ণনা: ধানখেতে বাবার সাথে একটি ছেলে চারা রোপণ করছে।
Figure: বিদ্যালয়ের আঙিনা পরিষ্কার করা
বর্ণনা: কয়েকজন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের আঙিনা ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করছে।
নিজের বিছানা ও পড়ার টেবিল পরিষ্কার করলে, নিজে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকলে এবং পরিষ্কার পোশাক পরলে শরীর ও মন উভয়ই ভালো থাকে। বিদ্যালয় এবং বাড়ির আশেপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখলে, মা-বাবাকে তাদের কাজে সহযোগিতা করলেও শরীর ও মন ভালো থাকে। আর শরীর ও মন ভালো থাকলে আনন্দের সাথে সকল কাজ সম্পন্ন করা যায়। এছাড়াও নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস, ছবি আঁকা, ধর্মচর্চা মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাতে সাহায্য করে।
Loading the rest of the chapter…
Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.
Trusted resources
Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.