Skip to content

Primary Science chapter 8: Landforms

ভূমিরূপ

  • Primary Science
  • Textbook pages 72-84
  • 1 source
  • 20,389 characters of context

Textbook (verbatim transcription): Landforms

Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.

Contents17
  1. ১. ভূমিরূপ ও ভূমিরূপের বিভিন্ন ধরন
  2. ভূমিরূপের ধরনগুলো কী কী?
  3. সারসংক্ষেপ
  4. ভূমিরূপের বিভিন্ন ধরন সম্পর্কে আরও কিছু জানি
  5. ২. ভূমিরূপ পরিবর্তনের কারণ
  6. ভূমিরূপ পরিবর্তনের কারণগুলো কী কী?
  7. সারসংক্ষেপ
  8. ভূমিরূপের পরিবর্তনের কারণ সম্পর্কে আরও কিছু জানি
  9. ৩. ভূমিরূপ পরিবর্তনে পানি ও বায়ুপ্রবাহের প্রভাব
  10. পানি এবং বায়ুপ্রবাহ কীভাবে ভূমিরূপের পরিবর্তন ঘটায়?
  11. সারসংক্ষেপ
  12. ভূমিরূপের পরিবর্তনে পানি ও বায়ুপ্রবাহের প্রভাব সম্পর্কে আরও কিছু জানি
  13. ৪. মানবসৃষ্ট কারণে ভূমিরূপ পরিবর্তন রোধ ও পরিবেশ সংরক্ষণের উপায়
  14. কীভাবে মানবসৃষ্ট ভূমিরূপ পরিবর্তন রোধ ও পরিবেশ সংরক্ষণ করা যায়?
  15. সারসংক্ষেপ
  16. মানবসৃষ্ট ভূমিরূপ পরিবর্তন রোধ ও পরিবেশ সংরক্ষণের উপায় সম্পর্কে আরও কিছু জানি
  17. অনুশীলনী

Printed page 72

অধ্যায় ৮

ভূমিরূপ

আমাদের পৃথিবী কতই-না সুন্দর এবং বৈচিত্র্যময়! এর কোনো অঞ্চল উঁচু পাহাড়-পর্বত নিয়ে গঠিত। কোথাও রয়েছে বিস্তীর্ণ সমতল ভূমি, ছোটো-বড়ো অসংখ্য নদী ও সমুদ্র। আরও রয়েছে ম্যানগ্রোভ, চিরসবুজ বন, নদীর বয়ে নিয়ে আসা পলিমাটি দিয়ে গঠিত ব-দ্বীপ (যেমন– আমাদের বাংলাদেশ)। পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের এরূপ নানা ধরনের গঠন প্রকৃতি, জলবায়ু অনুসারে গড়ে ওঠে জনবসতি এবং তাদের জীবনযাপন পদ্ধতি।

১. ভূমিরূপ ও ভূমিরূপের বিভিন্ন ধরন

Figure

বর্ণনা: মহাশূন্য থেকে দেখা পৃথিবীর একটি গোলকাকার চিত্র, যেখানে নীল সমুদ্র ও সবুজ-বাদামি মহাদেশসমূহ দেখা যাচ্ছে এবং পৃথিবীর ওপরের অংশে একটি মানুষের প্রতিকৃতি দাঁড়িয়ে রয়েছে।

পাশের চিত্রটি লক্ষ করি। আমরা পৃথিবীর বাইরের বা ভূ-পৃষ্ঠের কঠিন, শুষ্ক যে আবরণ রয়েছে সেখানেই বসবাস করি, চাষাবাদ করি। একে আমরা ভূমি বলি। ভূ-পৃষ্ঠের বিভিন্ন অঞ্চলের ভূমির আকৃতি ও প্রকৃতি বিভিন্ন রকম। কোনো অঞ্চল সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে অনেক উঁচুতে অবস্থিত, যেমন– পাহাড়, পর্বত। কোথাও রয়েছে পানিশূন্য শুষ্ক ঊষর মরুভূমি। যেমন– আফ্রিকার সাহারা মরুভূমি। আবার পৃথিবীর মেরু অঞ্চল সারাবছর বরফে ঢাকা থাকে। সমুদ্রতলেও বিভিন্ন ধরনের ভূমিরূপ রয়েছে। পৃথিবী পৃষ্ঠের বিভিন্ন অঞ্চলের ভূমির এই যে বৈচিত্র্যময় গঠনগত আকৃতি বা রূপ, একেই বলা হয় ভূমিরূপ।

ভূমিরূপের ধরনগুলো কী কী?

কাজ: ভূমিরূপের বিভিন্ন ধরন চিহ্নিতকরণ

যা করতে হবে:

নিচের ছকে নিজ জেলার নাম এবং এর ভূমির ৩টি বৈশিষ্ট্য লেখো।

জেলার নামভূমির বৈশিষ্ট্য
১.
২.
৩.

Printed page 73

সারসংক্ষেপ

পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের ভূমির রূপ ও গঠন ভিন্ন ভিন্ন। বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা বা অঞ্চলের ভূমির গঠনেও বৈচিত্র্য দেখা যায়।

ভূমিরূপের বিভিন্ন ধরন সম্পর্কে আরও কিছু জানি

পৃথিবী পৃষ্ঠের বা পৃথিবীর স্থলভাগের ভূমিরূপকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন– ১. পাহাড়-পর্বত, ২. মালভূমি, ৩. সমভূমি

১. পাহাড়-পর্বত

Figure: পাহাড়

বর্ণনা: সবুজ ঘাসে ঢাকা ঢেউখেলানো ঢালু পাহাড়ের দৃশ্য, যার গায়ে ছোট ছোট গাছপালা ও উপরে নীল আকাশে মেঘ রয়েছে।

Figure: পর্বত

বর্ণনা: বরফে ঢাকা উঁচু ও খাড়া পাথুরে পর্বতশৃঙ্গের সারি।

পাহাড় এবং পর্বত সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উঁচুতে অবস্থিত। পাহাড়গুলো পর্বতের তুলনায় কিছুটা কম উঁচু। বাংলাদেশের সিলেট, চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, কুমিল্লায় পাহাড় রয়েছে। তাছাড়া বাংলাদেশের বগুড়া, দিনাজপুর, রাজশাহী, রংপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহেও পাহাড় দেখা যায়। পর্বত সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অনেক বেশি উঁচুতে অবস্থিত, খাড়া ঢালবিশিষ্ট এবং বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। পর্বতের উচ্চতা সাধারণত সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৬০০ মিটার বা তার বেশি হয়। যেমন– আমাদের অতি পরিচিত হিমালয় পর্বতমালা।

২. মালভূমি

মালভূমি সাধারণত পর্বত থেকে নিচু কিন্তু সমভূমি থেকে উঁচু হয়। মালভূমি ঢালু হয়ে নিচের দিকে যায়। তবে এর ওপরের দিক প্রায় সমতল কিংবা কিছুটা ঢেউ খেলানো হয়। অনেকটা টেবিলের মতো দেখতে হয় বলে একে টেবিলল্যান্ডও বলা হয়। এশিয়া মহাদেশে অবস্থিত তিব্বতের মালভূমি বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু মালভূমি। মালভূমির আশপাশে

Figure: মালভূমি

বর্ণনা: সমতল ভূমির ওপর খাড়া ঢালযুক্ত ওপরে চ্যাপ্টা বা টেবিলের মতো সমতল শীর্ষবিশিষ্ট একটি মালভূমির চিত্র।

Printed page 74

বিস্তীর্ণ সমভূমি থাকে। সমভূমিতে পশুপালন এবং ফুল-ফল ইত্যাদি চাষ করে এখানকার অধিবাসীরা জীবনধারণ করেন।

৩. সমভূমি

Figure

বর্ণনা: বিস্তীর্ণ সবুজ সমতল মাঠ বা সমভূমি, যাতে ছোট ঘর ও সবুজ গাছপালা রয়েছে এবং ওপরে মেঘলা আকাশ।

সমভূমি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সামান্য কিছু উপরে অবস্থিত। সমতলভূমি নিয়ে বিস্তীর্ণ সমভূমি অঞ্চল গঠিত হয়। সমভূমি খাড়া বা ঢালু নয়। বাংলাদেশের অধিকাংশ অঞ্চলই সমতলভূমি নিয়ে গঠিত সমভূমি। কৃষিকাজের উপযোগী জমি, জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সমতলভূমিতে অনেক সহজলভ্য। নদীর বয়ে আনা পলিমাটি দিয়ে গঠিত বলে এ অঞ্চলের মাটি উর্বর হয়। এজন্য বিভিন্ন প্রকার ফসল যেমন– ধান, গম, পাট, আলুসহ নানা শাকসবজি, ফলমূল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ফসলের উৎপাদন বেশি হয়। কৃষিকাজ সমভূমি অঞ্চলের মানুষের প্রধান জীবিকা। তাছাড়াও মাছ শিকার, গরু-ছাগল ও অন্যান্য পশুপালন করেও সমভূমির অনেক মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে। এভাবে জীবন ধারণের অনুকূল পরিবেশ থাকায় পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ সমভূমিতে বাস করতে পছন্দ করে। এজন্য মানুষের জীবনে সমভূমির প্রভাব অপরিসীম।

Figure: পৃথিবীর স্থলভাগ বা ভূপৃষ্ঠের ভূমিরূপ

লেবেল: সমুদ্র, সমভূমি, পাহাড়, পর্বত, মালভূমি বর্ণনা: স্থলভাগের বিভিন্ন ভূমিরূপের তুলনামূলক চিত্র। বাম থেকে ডানে যথাক্রমে সমুদ্রের তীরবর্তী নিচু সমভূমি, মাঝারি উচ্চতার গোলাকার পাহাড়, সবচেয়ে উঁচু ও খাড়া তুষারাবৃত পর্বত এবং সমতল শীর্ষবিশিষ্ট মালভূমি দেখানো হয়েছে।

শুধু স্থলভাগ নয় মহাসাগরগুলোরও বিভিন্ন প্রকার ভূমিরূপ রয়েছে। এগুলো হলো– মহীসোপান, মহীঢাল, গভীর সমুদ্রের সমভূমি এবং গভীর সমুদ্রখাত। মহাসাগরের তলদেশে পাহাড়, পর্বত, সমভূমি, এমনকি গভীর গিরিখাতও রয়েছে।

Figure: পৃথিবীর জলভাগ বা সমুদ্রতলের ভূমিরূপ

লেবেল: মহাদেশ, দ্বীপ, জলভাগ, মহীসোপান, মহীঢাল, গভীর সমুদ্রের সমভূমি, শৈলশিরা, গভীর সমুদ্রখাত বর্ণনা: সমুদ্রের তলদেশের ভূমিরূপের পার্শ্বচিত্র। উপকূলীয় মহাদেশের কিনারা থেকে ঢালু হয়ে মহীসোপান, এরপর খাড়া মহীঢাল নেমে গিয়ে গভীর সমুদ্রের সমভূমি তৈরি করেছে; মাঝে একটি দ্বীপ ও মহাসাগরীয় শৈলশিরা এবং সবচেয়ে গভীর অংশে গভীর সমুদ্রখাত চিহ্নিত রয়েছে। পানির ওপরে একটি জাহাজ ভাসমান।

Printed page 75

কাজ: বাংলাদেশের মানচিত্রে ভূমিরূপ চিহ্নিতকরণ

১। নিচে বাংলাদেশের মানচিত্র ও প্রতীকগুলো ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করি। ২। এবার বাংলাদেশের কোন জেলায় কোন ধরনের ভূমিরূপ রয়েছে প্রতীকের সাহায্যে মানচিত্রে তার অবস্থান চিহ্নিত করি। এ কাজে প্রয়োজনে শিক্ষকের সহায়তা নিই।

Figure

লেবেল: সমভূমি, পর্বত, পাহাড়, রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট, রাজশাহী, ঢাকা, কুমিল্লা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম বর্ণনা: বাংলাদেশের একটি প্রশাসনিক মানচিত্র এবং ডানপাশে তিনটি প্রতীক সম্বলিত সংকেত: সমভূমি (বৃত্ত), পর্বত (ত্রিভুজ) ও পাহাড় (ক্রস বা গুণ চিহ্ন)। মানচিত্রের বিভিন্ন অঞ্চল রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, সিলেট, কুমিল্লা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভিন্ন রঙে বিভক্ত ও নামাঙ্কিত।

Printed page 76

২. ভূমিরূপ পরিবর্তনের কারণ

আমরা ভূমিরূপের বিভিন্ন ধরন সম্পর্কে জেনেছি। নানাবিধ কারণে এই ভূমিরূপের পরিবর্তন হতে পারে। এই পরিবর্তন কখনো ধীর, কখনো আকস্মিক। এই পরিবর্তন কখনো প্রাকৃতিক আবার কখনো মানবসৃষ্ট কারণে ঘটে। এ কারণে কখনো কখনো ভূমিরূপের ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে।

ভূমিরূপ পরিবর্তনের কারণগুলো কী কী?

কাজ: ভূমিরূপ পরিবর্তনের কারণসমূহ চিহ্নিতকরণ

যা করতে হবে:

১. নিজের দেখা বা শোনা বা বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে ভূমিরূপ পরিবর্তনের বিষয়ে নিচের ছকটি পূরণ করি। [বোঝার সুবিধার জন্য একটি করে দেখানো হয়েছে]

ক্রমিকদেখা বা শোনা বিভিন্ন ঘটনাভূমিরূপের সম্ভাব্য পরিবর্তনপরিবর্তনের কারণ (প্রাকৃতিক অথবা মানবসৃষ্ট)
১নদীভাঙনভূমি নদীতে হারিয়ে যায়প্রাকৃতিক
২
৩

সারসংক্ষেপ

নদীভাঙন, ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি প্রাকৃতিক কারণে ভূমিরূপ পরিবর্তন হয়। বাঁধ নির্মাণ, বন ধ্বংস, পাহাড় কাটা, শিল্পায়ন ও নগরায়ণ ইত্যাদি মানবসৃষ্ট কারণেও ভূমিরূপের পরিবর্তন হয়।

ভূমিরূপের পরিবর্তনের কারণ সম্পর্কে আরও কিছু জানি

প্রাকৃতিক কারণ

ভূমিরূপ পরিবর্তনের প্রাকৃতিক কারণগুলোর মধ্যে ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, সমুদ্রস্রোত, হিমবাহ, বায়ুপ্রবাহ, বন্যা ও ভূমিধস অন্যতম। প্রাকৃতিক পরিবর্তন প্রক্রিয়া সাধারণত অত্যন্ত দীর্ঘসময় ধরে ধীরগতিতে হয়।

Printed page 77

নদীভাঙন

আমাদের দেশে বর্ষাকালে, বন্যা হলে নদীবাহিত পলিমাটি জমা হতে হতে নতুন ভূমি সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন চরাঞ্চল, দ্বীপ এভাবেই সৃষ্টি হচ্ছে। আবার কখনো কখনো বন্যা বা অতিরিক্ত বৃষ্টির পানির কারণে পানির তীব্র স্রোতে ভূমিধস ও নদীভাঙন শুরু হয়। এটিও ভূমিরূপ পরিবর্তনের অন্যতম কারণ।

Figure

বর্ণনা: পানির ধারে একটি খাড়া ধূসর পাড়; পাড়ের ওপরে একটি বাড়ি, গাছপালা ও নারকেল গাছ।

ভূমিকম্প

Figure

বর্ণনা: ভূমিকম্পে ভেঙে পড়া ও হেলে থাকা ঘরবাড়ি এবং ধ্বংসস্তূপের চিত্র।

ভূমিকম্পের কারণে নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে থাকে। ভূমিকম্প দ্রুত ভূমিরূপের পরিবর্তন ঘটাতে পারে। তীব্র ভূমিকম্পের ফলে কোনো অঞ্চলের ভূমিরূপ খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে পারে। ২০১৫ সালে নেপালে এমন ভূমিকম্প সংঘটিত হয়।

আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত

আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ দিয়ে তীব্র গরম তরল লাভা নির্গত হয়। এই গলিত লাভা যে অঞ্চল দিয়ে প্রবাহিত হয় সেই অঞ্চলের ভূমি, নদী-নালা, বনভূমি, জনবসতিতে লাভা জমাট বেঁধে ভূমিরূপের দ্রুত এবং আমূল পরিবর্তন ঘটায়। ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপে ২০২১ সালে আগ্নেয়গিরির এরূপ অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটে।

Figure

বর্ণনা: আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত আগুনের শিখা, ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী এবং পাহাড়ের গা বেয়ে লাল-কমলা রঙের লাভা গড়িয়ে পড়ার দৃশ্য।

হিমবাহ

Figure

বর্ণনা: পানিতে ভাসমান একটি বরফখণ্ড এবং পেছনে বরফের উঁচু দেয়াল।

পৃথিবীর যেসব অঞ্চল বরফে ঢাকা থাকে সেসব অঞ্চলে বরফের প্রবাহ ভূমিরূপের পরিবর্তন ঘটায়। এভাবে হিমবাহ সৃষ্টি হয়। যেমন– মেরু অঞ্চলে এমন হিমবাহ দেখা যায়। মেরু অঞ্চলের হিমবাহ দ্রুত গলছে। প্রাকৃতিক কারণ ছাড়াও বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি এর জন্য দায়ী।

Printed page 78

সুনামি

সুনামি একটি ভয়ংকর প্রাকৃতিক দুর্যোগ। সাধারণত সাগরের নিচে ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি কারণে সাগরতলের ভূমির স্থানচ্যুতি বা ভাঙন ঘটে। অর্থাৎ ভূমিরূপের পরিবর্তন ঘটে। এর ফলে সাগরের পানি স্বাভাবিক ঢেউয়ের চেয়ে অনেকগুণ বেশি ফুলে-ফেঁপে উপকূলীয় এলাকায় উঠে আসে। এতে আকস্মিক ভয়ংকর জলোচ্ছ্বাস ও বন্যার সৃষ্টি হয়। এর প্রভাবে সেই অঞ্চলের ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, জনবসতি এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। পানিবাহিত বালু, মাটিসহ নানারকম উপাদান বিপুল পরিমাণে জমা হয়ে সেখানকার স্বাভাবিক পরিবেশ সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়। এ সময় ভূপৃষ্ঠের ভূমি রূপেরও পরিবর্তন হতে পারে।

Figure

বর্ণনা: উপকূলীয় অঞ্চলের ঘরবাড়ি ও সবুজ গাছের ওপর আছড়ে পড়ার মুখে থাকা বিশালাকার সুনামি ঢেউয়ের চিত্র।

মানবসৃষ্ট কারণ

নানাবিধ প্রাকৃতিক কারণে, যেমন ভূমির পরিবর্তন হয় তেমনি আমাদের অপরিকল্পিত বিভিন্ন কাজের কারণেও ভূমিরূপের পরিবর্তন হয়। কখনো কখনো এমন পরিবর্তন আমাদের জীবনযাপনের ওপরও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। মানবসৃষ্ট কারণে কখনো কখনো ভূমিরূপের দ্রুত বা আকস্মিক পরিবর্তন ঘটতে পারে।

বনভূমি ধ্বংস

রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট, বাড়িঘর নির্মাণের জন্য গাছপালা, বনভূমি কেটে উজাড় করা হচ্ছে। এর ফলে মাটিক্ষয় হচ্ছে। বৃষ্টিপাত কমে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাটি শুষ্ক এবং অনুর্বর হয়ে পড়ছে।

Figure

বর্ণনা: বন উজাড়ের দৃশ্য; মাটিতে কাটা গাছের গুঁড়ি পড়ে রয়েছে এবং দূরে অল্প কিছু গাছ দেখা যাচ্ছে।

পাহাড় ধ্বংস

সিলেট, চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি বনাঞ্চল পুড়িয়ে জুম চাষ হচ্ছে, বাড়িঘর তৈরি করা হচ্ছে। ফলে ভূমিরূপ নষ্ট হচ্ছে, সামান্য বৃষ্টিপাতে ভূমিধস হচ্ছে। পাহাড় কাটার ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়। আমাদের দেশে প্রতি বছর পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস এবং পাহাড়ি ঢলে ক্ষয়ক্ষতির মূল কারণ পাহাড় ধ্বংস।

Figure

বর্ণনা: পাহাড়ি এলাকায় পাহাড় কেটে ও গাছপালা সাফ করে মাটি খোঁড়ার এবং জুম চাষের জন্য প্রস্তুত করার দৃশ্য।

Printed page 79

Figure

বর্ণনা: নদীর ওপর নির্মিত কংক্রিটের বাঁধ এবং তার জলকপাট দিয়ে প্রবল বেগে পানি প্রবাহিত হওয়ার দৃশ্য।

নদীতে বাঁধ নির্মাণ

নদীতে ব্রিজ, কালভার্ট, বাঁধ নির্মাণের ফলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ বদলে যাচ্ছে। এতে কোথাও ভাঙনের সৃষ্টি হচ্ছে আবার কোথাও চর জেগে উঠছে। এর ফলে ভূমিরূপের আমূল পরিবর্তন ঘটছে। যেমন– ফারাক্কা বাঁধের কারণে বাংলাদেশের নদীগুলো নাব্যতা হারিয়েছে।

Figure

বর্ণনা: পাশাপাশি গড়ে ওঠা বহুতল ভবন সম্বলিত একটি আধুনিক শহরের দৃশ্য।

নগরায়ণ

ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর আবাস তৈরির জন্য নদী ও খাল ভরাট করে নতুন নগর তৈরি করা হচ্ছে, নগরকে প্রসারিত করা হচ্ছে। এর ফলে ভূমিরূপের আমূল পরিবর্তন হচ্ছে। তাছাড়াও কলকারখানা ও নগরজীবনের বর্জ্য, মানহীন পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা ভূগর্ভের প্রকৃতি নষ্ট করছে এবং ভূপৃষ্ঠেরও দূষণ ঘটাচ্ছে।

ইটের ভাঁটা

ইটভাঁটায় ইট পোড়ানোর কারণে মাটি তার স্বাভাবিক গঠন-বৈশিষ্ট্য হারাচ্ছে। মাটির গুণাগুণ নষ্ট হচ্ছে। জমি ফসল ফলানোর অনুপযুক্ত হয়ে পড়ছে। তাছাড়া ইটভাঁটার ধোঁয়া বায়ু দূষণ ঘটায়।

Figure

বর্ণনা: ইটভাটার দুটি লম্বা চিমনি থেকে আকাশে নির্গত ঘন কালো ধোঁয়া এবং চারপাশের বৃক্ষহীন ঊষর প্রান্তর।

শিল্প ও কলকারখানার বর্জ্য

শিল্প ও কলকারখানার বর্জ্য সরাসরি নদী, পুকুর ও খাল-বিলে ফেলা হচ্ছে। এর ফলে একাধারে পানি, মাটি দূষিত ও ব্যবহারের অযোগ্য হচ্ছে। মাটি এবং পানিতে থাকা নানা প্রকার উদ্ভিদ ও প্রাণী ধ্বংস হচ্ছে। এর ফলে বিশেষ এলাকার ভূমিরূপ তার গঠন-বৈশিষ্ট্য হারায়। উদাহরণ হিসেবে ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর কথা বলা যায়।

Figure

বর্ণনা: একটি কারখানার বর্জ্য নির্গমনের পাইপ দিয়ে সরাসরি জলাশয়ে নোংরা পানি পড়ার এবং কারখানার চিমনি থেকে ধোঁয়া ওঠার দৃশ্য।

Printed page 80

Figure

বর্ণনা: সেচকাজে ব্যবহৃত একটি পাম্প বা মোটরের সাহায্যে ভূগর্ভ থেকে প্রবল বেগে পানি তোলার দৃশ্য।

ভূগর্ভস্থ পানি অতিরিক্ত উত্তোলন

মাটির নিচ থেকে অতিরিক্ত পানি উত্তোলন ভূমিধসের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। সাধারণত খরা মৌসুমে বৃষ্টিপাতের অভাবে কৃষিকাজে জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করা হয়। বিশ্বের যেসব স্থানে ভূগর্ভে পর্যাপ্ত পানির অভাব রয়েছে সেসব অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনে জমি শুষ্ক ভূমিতে পরিণত হয়েছে।

বর্তমান সময়ে ভূমিরূপ পরিবর্তনের অন্যতম কারণ হলো পরিবেশ দূষণ। বৈশ্বিক উষ্ণতা বেড়ে যাওয়ায় বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাইঅক্সাইড এবং গ্রিন হাউস গ্যাস বাড়ছে। কার্বন ডাইঅক্সাইড প্রচুর তাপ ধরে রাখতে পারে। ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কোথাও তাপমাত্রার অতিরিক্ত বৃদ্ধিতে খরা ও অনাবৃষ্টি দেখা দিচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে আমাদের দেশের কথা বলা যায়। এখানে কয়েক বছর যাবৎ বৃষ্টিপাত অনেক কম হচ্ছে। ফলে গ্রীষ্মে প্রচণ্ড তাপদাহ সৃষ্টি হচ্ছে। নদী-নালা শুকিয়ে যাচ্ছে যা ভূমিরূপের পরিবর্তন ঘটাতে পারে।

Loading the rest of the chapter…

Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.

Trusted resources

Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.