Primary Science chapter 9: Environmental Conservation
পরিবেশ সংরক্ষণ
- Primary Science
- Textbook pages 85-90
- 1 source
- 10,086 characters of context
Textbook (verbatim transcription): Environmental Conservation
Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.
Contents10ShowHide
Printed page 85
অধ্যায় ৯: পরিবেশ সংরক্ষণ
আমাদের চারপাশে থাকা মাটি, পানি, বায়ু, আলো, ঘর, বাড়ি, নদী, পাহাড়, গাছপালা, পশু, পাখি, কলকারখানা, গাড়ি ইত্যাদি উপাদান নিয়েই পরিবেশ। স্বাভাবিক পরিবেশে মানুষসহ অন্যান্য জীব ভালোভাবে বেঁচে থাকতে পারে। মাটি, পানি, বায়ুতে জীবের জন্য ক্ষতিকর কোনো কিছু প্রবেশ করলে পরিবেশ দূষিত হয়। বিভিন্ন কারণে পরিবেশ দূষিত হয়। পরিবেশ দূষিত হলে মানুষসহ অন্যান্য জীবের বসবাসে সমস্যা হয়। তাই পরিবেশ সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। এই অধ্যায়ে আমরা কীভাবে পরিবেশ সংরক্ষণ করতে পারি তা অনুসন্ধান করব।
১. পরিবেশ দূষণের উৎস ও কারণ
পরিবেশ দূষণের উৎস ও কারণ কী?
কাজ: বিদ্যালয় ও বাড়ির আশপাশ পর্যবেক্ষণ করে পরিবেশ দূষণের উৎস ও কারণ নির্ণয়
যা করতে হবে:
১. বিদ্যালয় ও বাড়ির আশপাশ খুঁজে দেখি, কী দিয়ে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এবং পরিবেশের কোন উপাদান দূষিত হচ্ছে– এসব তথ্য নিচের ছকে লেখো। ২. প্রয়োজনে শিক্ষকের সহায়তা নিই।
| দূষণের উৎস | কী দিয়ে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে | পরিবেশের কোন উপাদান দূষিত হচ্ছে |
|---|---|---|
| গাড়ি | গাড়ির কালো ধোঁয়া | বায়ু |
সারসংক্ষেপ
মানুষের বিভিন্ন কাজের কারণে মাটি, পানি, বায়ু ও শব্দ দূষণ হয়। মানুষ যেখানে সেখানে মল ত্যাগ এবং যথেচ্ছভাবে বর্জ্য পদার্থ ফেলার মাধ্যমে পরিবেশের দূষণ ঘটে। এ ছাড়াও কৃষিকাজে অতিরিক্ত সার ও কীটনাশক ব্যবহার পরিবেশকে দূষিত করে।
Printed page 86
পরিবেশ দূষণ সম্পর্কে আরও কিছু জানি
Figure: মাটি দূষণ
বর্ণনা: উন্মুক্ত স্থানে আবর্জনা ও বর্জ্য স্তূপাকারে জমে আছে; আবর্জনার মাঝে একটি চতুষ্পদ প্রাণী ও কয়েকটি পাখি রয়েছে।
Figure: বায়ু দূষণ
বর্ণনা: দুটি লম্বা চিমনি থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বাতাসে নির্গত হচ্ছে।
Figure: পানি দূষণ
বর্ণনা: পটভূমিতে কারখানা; কারখানা থেকে তরল বর্জ্য একটি জলাশয়ে পড়ছে।
মানুষের কিছু কিছু কাজের মাধ্যমে পরিবেশ দূষিত হয়। মাটি ও পানিতে ময়লা, আবর্জনা, মানুষের মল, বিভিন্ন প্রাণীর মল, শিল্পকারখানা ও হাসপাতালের বর্জ্য ফেলার কারণে মাটি ও পানি দূষিত হয়। যেখানে সেখানে পলিথিন ফেলে, কৃষিজমিতে অতিরিক্ত সার ও কীটনাশক ব্যবহার করে মানুষ মাটি ও পানির দূষণ ঘটায়। গাড়ি ও ইটভাটার কালো ধোঁয়া, শিল্পকারখানায় উৎপন্ন ধোঁয়া ইত্যাদি থেকে বায়ু দূষিত হয়। গাছপালা, পলিথিন পোড়ানো ধোঁয়া থেকে বায়ু দূষিত হয়। শিল্পকারখানায় উৎপন্ন তরল বর্জ্য পদার্থ থেকে পানি দূষিত হয়।
২. পরিবেশ দূষণের প্রভাব
পরিবেশ দূষণের ফলে আমাদের কী ক্ষতি হচ্ছে?
কাজ: পরিবেশ দূষণের প্রভাব খুঁজে বের করা।
যা করতে হবে:
১. বাড়ি ও বিদ্যালয়ের আশপাশে মাটি, পানি ও বায়ু দূষণ হচ্ছে কি না খুঁজে দেখি। ২. এসব দূষণের ফলে মানুষ ও অন্যান্য জীবের কী কী ক্ষতি হচ্ছে তা নিচের ছকে লেখো।
| দূষণের ধরন | দূষণের কারণে যেসব ক্ষতি হচ্ছে |
|---|---|
| মাটি দূষণ | |
| পানি দূষণ | |
| বায়ু দূষণ |
সারসংক্ষেপ
মানুষের বিভিন্ন কাজের কারণে মাটি, পানি ও বায়ু দূষিত হয়। এই দূষণের কারণে মাটিতে ফসলের ক্ষতি হয়। পানি ব্যবহারের অযোগ্য হয় এবং মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণীর ক্ষতি হয়। বায়ু দূষণের কারণে আমাদের শ্বাস নিতে কষ্ট হয় এবং বিভিন্ন রোগ দেখা দেয়।
Printed page 87
দূষণের প্রভাব সম্পর্কে আরও কিছু জানি
মাটি, পানি ও বায়ু দূষণের কারণে পরিবেশের ওপর বিভিন্ন প্রভাব পড়ে। বায়ু দূষণের কারণে বাতাসের মাধ্যমে দুর্গন্ধ ও রোগ-জীবাণু ছড়ায়। এতে আমাদের শ্বাস নিতে অসুবিধা হয়। পশুপাখিরও জীবন বাঁচাতে কষ্ট হয়। বায়ু দূষণের কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে মেরুঅঞ্চলের বরফ গলে সমুদ্রে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। পৃথিবীর নিচু ভূমি পানিতে ডুবে যাচ্ছে। মানুষের আবাসস্থল কমে যায়। দূষিত বায়ুতে শ্বাস নেওয়ার কারণে মানুষের ফুসফুসে বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি হয়। যেমন- শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা, ফুসফুসের ক্যান্সার ইত্যাদি।
Figure: বায়ু দূষণের প্রভাব
বর্ণনা: একটি লাল বাস ও দুটি চিমনি থেকে ঘন ধোঁয়া উঠছে; ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন পরিবেশে কয়েকজন পথচারী কাপড় দিয়ে মুখ ও নাক ঢেকে পথ চলছেন।
Figure: পানি দূষণের প্রভাব
বর্ণনা: কারখানার পেছনে একটি জলাশয়; কারখানা থেকে জলাশয়ে বর্জ্য পড়ছে এবং পানিতে একটি মাছ ভেসে আছে।
পানি দূষণের কারণে আমাদের পানিও ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ে। খাবার-উপযোগী নিরাপদ পানির পরিমাণ কমে যায়। পানিতে বসবাস করা মাছ ও অন্যান্য জীবের জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। এতে মাছের অভাবে মানুষের প্রাণিজ প্রোটিন পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। ফসল উৎপাদনের জন্য পানি ব্যবহার করতে অসুবিধা হয়। দূষিত পানি ব্যবহারের ফলে ফসল উৎপাদন কমে যায়। দূষিত পানি দিয়ে উৎপাদিত ফসল খেয়ে মানুষ ও অন্যান্য জীবের বিভিন্ন রোগ দেখা দেয়। পানি দূষণের কারণে মানুষ পানিবাহিত রোগ কলেরা, ডায়রিয়া, আমাশয় ও বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগে আক্রান্ত হয়।
মাটি দূষণের ফলে মাটিতে গাছপালা জন্মাতে পারে না, চাষাবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কেঁচো ও উপকারী জীবাণু মারা যায়। মাটি দূষণের কারণে জমির উর্বরতা কমে। জমিতে ফসল উৎপাদন হ্রাস পায়। কৃষকের আর্থিক ক্ষতি হয়। দূষিত মাটিতে উৎপাদিত ফসল খেয়ে মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়। মানুষ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়, যেমন– বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগ, টিটেনাস (ধনুষ্টঙ্কার)।
Figure: মাটি দূষণের প্রভাব
বর্ণনা: উপরে সবুজ গাছপালা, নিচের মাটিতে বিভিন্ন রঙের আবর্জনা ও পলিথিন ছড়িয়ে আছে।
৩. পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধ
মাটি দূষণ রোধের উপায়
জমিতে চাষাবাদের ক্ষেত্রে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে জৈব সার (কম্পোস্ট, গোবর ইত্যাদি) ব্যবহার বৃদ্ধি করে, আবর্জনা ময়লা ফেলার নির্ধারিত স্থানে ফেলে মাটি দূষণ রোধ করা যায়। পুনর্ব্যবহারযোগ্য জিনিস যেমন– প্লাস্টিক বা পলিথিনের পরিবর্তে কাপড় বা পাটের ব্যাগ
Printed page 88
ব্যবহার করা, কলকারখানা ও শিল্পবর্জ্য পরিশোধন করে যথাস্থানে ফেলা, ইত্যাদি কাজের মাধ্যমেও মাটি দূষণ রোধ করা যায়। গাছের শিকড় মাটিকে আঁকড়ে ধরে রাখে ও মাটির ক্ষয়রোধ করে। তাই বেশি করে গাছ লাগিয়ে মাটির ক্ষয় রোধ করা যায়।
পানি দূষণ রোধের উপায়
শিল্পবর্জ্য ও কারখানার পানি পরিশোধন করে (ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট দিয়ে) নদী ও খালে ছেড়ে পানি দূষণ রোধ করা যায়। প্লাস্টিক ও আবর্জনা (বাজারের ব্যাগ, বোতল, প্যাকেট ইত্যাদি ) নদীতে না ফেলে যথাস্থানে ফেলে পানি দূষণ কমাতে পারি। জমিতে বেশি সার দিলে তা বৃষ্টির পানির সাথে নদী বা পুকুরে গিয়ে পানি দূষিত করে। তাই সার ও কীটনাশক ব্যবহারে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। পানি দূষণ রোধে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন করা দরকার। জনগণকে পানি রক্ষার গুরুত্ব বুঝাতে মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি করেও আমরা পানি দূষণ কমাতে পারি।
বায়ু দূষণ রোধের উপায়
বায়ু দূষণ রোধের জন্য পরিবেশবান্ধব যানবাহন (সিএনজি চালিত গাড়ি, ইলেকট্রিক গাড়ি বা বাইসাইকেল) বেশি ব্যবহার করা দরকার। গাড়ির ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণ করার জন্য নিয়মিত গাড়ির ইঞ্জিন ও এক্সহস্ট সিস্টেম পরীক্ষা করে গাড়ি চালানো, কারখানায় ধোঁয়া বা ধূলিকণা ফিল্টার বসিয়ে পরিশোধন করা, পলিথিন ও প্লাস্টিক পোড়ানো বন্ধ করা, বনায়ন ও বেশি গাছ লাগানো ইত্যাদি কাজের মাধ্যমে বায়ু দূষণ রোধ করতে পারি। তাই সচেতনতা, পরিবেশবান্ধব কাজের অভ্যাস এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বায়ু দূষণ রোধ করা যায়।
৪. পরিবেশ সংরক্ষণ
পরিবেশ সংরক্ষণ করার জন্য আমরা কী কী কাজ করতে পারি?
কাজ: পরিবেশ সংরক্ষণের উপায় অনুসন্ধান
যা করতে হবে:
১. খাতায় নিচের ছকের মতো একটি ছক আঁকি। ২. নিজ নিজ এলাকায় কীভাবে মাটি, পানি ও বায়ু দূষণ রোধ করে পরিবেশ সংরক্ষণ করা যায়, তা নিয়ে সহপাঠীদের সাথে আলোচনা করি এবং ছকে লেখো।
| দূষণের ধরন | কীভাবে দূষণ রোধ করা যায় |
|---|---|
| মাটি দূষণ | |
| পানি দূষণ | |
| বায়ু দূষণ |
Printed page 89
সারসংক্ষেপ
যেসব কারণে মাটি, পানি ও বায়ু দূষিত হয় সেসব কাজ পরিহার করতে হবে। বিশেষ করে পুকুর, খালবিল, নদীনালার পানিতে মলমূত্র ও তরল বর্জ্য ফেলে পানি দূষণ করা যাবে না। বর্জ্য পদার্থ যেখানে-সেখানে না ফেলে, নির্দিষ্ট স্থানে ফেলে পরিবেশ দূষণ রোধ করা যায়।
পরিবেশ সংরক্ষণ সম্পর্কে আরও কিছু জানি
পলিথিন, প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহার করে ও জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশ দূষণ রোধ করা যায়। এতে পরিবেশের সুরক্ষা হয়। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির অপচয় রোধ করে পরিবেশকে রক্ষা করা যায়। বাড়ির ময়লা-আবর্জনা যেখানে সেখানে না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে অথবা নিরাপদ স্থানে ফেলে পরিবেশ দূষণ কমানো যায়। বাড়ির ময়লা আবর্জনা পুনর্ব্যবহার করেও পরিবেশকে রক্ষা করা যায়। খোলা পায়খানা ব্যবহার না করে স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহার করে পরিবেশ দূষণ কমানো যায়। শিল্পকারখানার কঠিন ও তরল বর্জ্যকে সরাসরি মাটি ও পানিতে ফেললে এবং গ্যাসীয় বর্জ্যকে সরাসরি বায়ুতে নির্গত করলে পরিবেশ দূষিত হয়। তাই শিল্পকারখানার কঠিন বর্জ্যপদার্থকে পরিশোধন করে মাটি, পানি ও বায়ুদূষণ কমাতে পারি। বাড়িতে, বিদ্যালয়ে এবং খালি জমিতে গাছ লাগিয়ে বা সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে বায়ুদূষণ কমাতে পারি। পরিবেশের দূষণ কমানো এবং পরিবেশকে সংরক্ষণ করতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও এলাকার মানুষকে সচেতন করতে পারি।
Figure: বাসাবাড়ির বর্জ্যপদার্থ নির্দিষ্ট পাত্রে ফেলা
লেবেল: পচনশীল পদার্থ ফেলুন, কাচ জাতীয় পদার্থ ফেলুন, প্লাস্টিক জাতীয় পদার্থ ফেলুন, ধাতব পদার্থ ফেলুন, বাসাবাড়ির বর্জ্যপদার্থ নির্দিষ্ট পাত্রে ফেলা বর্ণনা: বাসাবাড়ির বর্জ্য আলাদা করে ফেলার জন্য চারটি ভিন্ন রঙের পাত্র—নীল (পচনশীল পদার্থ ফেলুন), সবুজ (কাচ জাতীয় পদার্থ ফেলুন), হলুদ (প্লাস্টিক জাতীয় পদার্থ ফেলুন) এবং লাল (ধাতব পদার্থ ফেলুন)।
Figure: গাছের পরিচর্যা
লেবেল: গাছের পরিচর্যা বর্ণনা: দুজন শিক্ষার্থী ঝাঝরি দিয়ে বাগানের গাছে পানি দিচ্ছে।
Figure: সামাজিক বনায়ন
লেবেল: সামাজিক বনায়ন বর্ণনা: পাকা রাস্তার দুই পাশে সবুজ গাছপালা ও সামাজিক বনায়ন, দূরে বাড়িঘর এবং রাস্তায় এক পথচারী।
Printed page 90
Loading the rest of the chapter…
Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.
Trusted resources
Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.