Primary Science chapter 10: Motions of the Earth
পৃথিবীর গতি
- Primary Science
- Textbook pages 91-101
- 1 source
- 14,673 characters of context
Textbook (verbatim transcription): Motions of the Earth
Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.
Contents10ShowHide
- ১. পৃথিবীর গতির ধরন
- পৃথিবীর কোন ধরনের গতির ফলে দিন ও রাতের পরিবর্তন হয়?
- সারসংক্ষেপ
- পৃথিবীতে দিন ও রাত হওয়ার কারণ সম্পর্কে আরও কিছু জানি
- ২. ঋতু পরিবর্তন
- ঋতু পরিবর্তনের কারণ কী?
- ঋতু পরিবর্তন সম্পর্কে আরও কিছু জানি
- ৩. দৈনন্দিন জীবনে ঋতু পরিবর্তনের প্রভাব
- সারসংক্ষেপ
- ঋতু পরিবর্তনের কারণে নিরাপদ জীবন যাপন সম্পর্কে আরও কিছু জানি
Printed page 91
অধ্যায় ১০
পৃথিবীর গতি
পূর্ববর্তী শ্রেণিতে আমরা সৌরজগৎ এবং সৌরজগতের গ্রহ, উপগ্রহ সম্পর্কে জেনেছি। সেখানে আমরা পৃথিবী সম্পর্কেও কিছু না কিছু জেনেছি। এই অধ্যায়ে আমরা সৌরজগতে পৃথিবী কীভাবে গতিশীল এবং পৃথিবীর গতির কারণে কী ধরনের পরিবর্তন হয় তা অনুসন্ধানের মাধ্যমে জানার চেষ্টা করব।
সৌরজগতে পৃথিবী সব সময় ঘূর্ণায়মান অবস্থায় থাকে। পৃথিবী একদিকে তার নিজ অক্ষের চতুর্দিকে ঘোরে, আবার সূর্যের চতুর্দিকেও ঘোরে।
১. পৃথিবীর গতির ধরন
পৃথিবীর কোন ধরনের গতির ফলে দিন ও রাতের পরিবর্তন হয়?
কাজ: সূর্য ও পৃথিবীর মডেল ব্যবহার করে পৃথিবীর গতির ধরন এবং দিবারাত্রি পর্যবেক্ষণ
Figure
বর্ণনা: কালো পটভূমিতে কেন্দ্রে সূর্য এবং তার চারপাশে উপবৃত্তাকার কক্ষপথে বিভিন্ন গ্রহগুলো পরিভ্রমণরত অবস্থায় দেখানো হয়েছে।
যা করতে হবে:
১. আমরা চতুর্থ শ্রেণিতে সৌরজগৎ সম্পর্কে জেনেছি। ইতঃপূর্বে আরও জেনেছি, সূর্য কেন্দ্রে অবস্থান করে এবং বিভিন্ন গ্রহ, উপগ্রহ সূর্যের চতুর্দিকে ঘূর্ণায়মান থাকে। উপরের চিত্রটি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করি।
Printed page 92
২. চিত্রে পৃথিবী ও সূর্যের অবস্থান নিয়ে ভাবি। পৃথিবীর কোনো স্থানে কেন কখনো সূর্যের আলো আসে এবং কখনো সূর্যের আলো আসে না এই বিষয় নিয়ে চিন্তা করি। নিজের ভাবনা নিচের ছকে লিখে রাখি। ছকটি খাতায় এঁকেও লিখতে পারি।
| পৃথিবীর কোনো স্থানে দিনের বেলা সূর্যের আলো আসার কারণ | পৃথিবীর কোনো স্থানে রাতের বেলা সূর্যের আলো না আসার কারণ |
|---|---|
৩. পাশের সহপাঠীর সাথে এ বিষয়ে আলোচনা করি। নতুন কোনো তথ্য পেলে তা ছকে সংযোজন করি।
Figure: সূর্য ও পৃথিবীর মডেল
বর্ণনা: একটি স্ট্যান্ডে একটি টর্চলাইট ও একটি গ্লোব বসানো হয়েছে। টর্চলাইটের আলো গ্লোবের অর্ধেক অংশে পড়ছে এবং বাকি অর্ধেক অন্ধকার রয়েছে।
৪. পৃথিবীর কোনো স্থানে দিন ও রাতে সূর্যের আলো আসা ও না আসার কারণ ভালোভাবে বোঝার জন্য সূর্য ও পৃথিবীর মডেল তৈরি করে তা পর্যবেক্ষণ করি।
৫. সূর্য ও পৃথিবীর মডেল কী দিয়ে তৈরি করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করি। মডেল তৈরি করতে টর্চলাইট, ফুটবল, ধাতব তার ও কাঠি ব্যবহার করি। অন্য কোনোভাবেও কাজটি আমরা করতে পারি।
৬. পৃথিবীর মডেলের উপরে বাংলাদেশ ও আরও কয়েকটি দেশের নাম চিহ্নিত করি। এখানে উল্লেখ্য যে, নাম চিহ্নিত করার সময় পৃথিবীর চতুর্দিকে অবস্থিত বিভিন্ন দেশের নাম চিহ্নিত করব। এক্ষেত্রে গ্লোব অথবা মানচিত্রের সহায়তা নিতে পারি।
৭. পৃথিবীর মডেলটিকে নিজ অক্ষের চতুর্দিকে ঘুরিয়ে পর্যবেক্ষণ করি, একটি নির্দিষ্ট স্থানে কোথায় সূর্যের আলো (টর্চ লাইট) পড়ে এবং কোথায় সূর্যের আলো পড়ে না তা পর্যবেক্ষণ করি।
Printed page 93
৮. পৃথিবীর (ফুটবল) মডেলটিকে একবার সূর্যের (টর্চ লাইট) চতুর্দিকে ঘুরিয়ে আনি।
৯. বাংলাদেশে যখন সূর্যের আলো পড়ে, তখন আর কোন কোন দেশে সূর্যের আলো পড়ে এবং কোন কোন দেশে সূর্যের আলো পড়ে না, তা পর্যবেক্ষণ করে নিচের ছকে লেখো।
| বাংলাদেশে যখন সূর্যের আলো পড়ে তখন আর কোন কোন দেশে সূর্যের আলো পড়ে | একই সময়ে কোন কোন দেশে সূর্যের আলো পড়ে না |
|---|---|
| ১. | ১. |
| ২. | ২. |
| ৩. | ৩. |
১০. পৃথিবীর কোনো স্থানে সূর্যের আলো কখনো পড়ে আবার কখনো পড়ে না কেন তা সহপাঠীদের সাথে আলোচনা করি। আলোচনার মাধ্যমে পৃথিবীতে দিন ও রাত কেন হয় তা বোঝার চেষ্টা করি।
সারসংক্ষেপ
সূর্য পৃথিবীকে আলো দেয়। পৃথিবী যখন নিজ অক্ষের উপর ঘুরতে থাকে তখন তাকে পৃথিবীর আহ্নিক গতি বলে। এই আহ্নিক গতির কারণে পৃথিবীর একদিকে সূর্যের আলো পড়ে অন্যদিকে অন্ধকার থাকে। যেদিকে সূর্যের আলো পড়ে সেদিকে দিন হয় এবং তার উল্টোদিকে রাত হয়। আবার পৃথিবী যখন সূর্যের চারিদিকে একবার ঘুরে আসে তখন তাকে পৃথিবীর বার্ষিক গতি বলে। এই বার্ষিক গতির কারণে ঋতু পরিবর্তন হয়।
পৃথিবীতে দিন ও রাত হওয়ার কারণ সম্পর্কে আরও কিছু জানি
সৌরজগতে সূর্যের চতুর্দিকে ঘূর্ণায়মান আটটি গ্রহ আছে। এদের মধ্যে পৃথিবী একটি গ্রহ। পৃথিবী সূর্যের চারদিকে একটি নির্দিষ্ট পথে ঘুরতে থাকে। সূর্যের চারদিকে ঘোরার সাথে সাথে পৃথিবী নিজ অক্ষের চারদিকে লাটিমের মতো ঘুরতে থাকে। নিজ অক্ষের চারদিকে পৃথিবীর এই ঘূর্ণনকে আহ্নিক গতি বলে। নিজ অক্ষের চারদিকে পৃথিবীর একবার ঘুরে আসতে ২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড সময় প্রয়োজন হয়। এই সময়টাকে পৃথিবীর একদিন হিসেবে ধরা হয়। যদিও আমরা ২৪ ঘণ্টায় একদিন হিসাব করি।
Figure
বর্ণনা: একটি গ্লোবের মধ্য দিয়ে কল্পিত অক্ষ এবং তার চারদিকে পৃথিবীর নিজ অক্ষীয় ঘূর্ণন নির্দেশক লাল রঙের বাঁকানো তীরচিহ্ন দেখানো হয়েছে।
Printed page 94
Figure
লেবেল: সূর্য, সূর্য রশ্মি, দিন, রাত, পৃথিবী বর্ণনা: বাম পাশে সূর্য থেকে আগত সমান্তরাল সূর্যরশ্মি ডান পাশে অবস্থিত পৃথিবীর ওপর পড়ছে। পৃথিবীর যে অংশে আলো পড়ছে সেখানে 'দিন' এবং অপর অন্ধকার অংশে 'রাত' নির্দেশ করা হয়েছে।
পৃথিবীর আকৃতি মোটামুটি গোলাকার। সূর্যকে একদিকে রেখে যখন পৃথিবী নিজ অক্ষের চারদিকে লাটিমের মতো ঘুরে তখন পৃথিবীর একদিকে সূর্যের আলো পড়ে। তখন পৃথিবীর সে অংশে দিন হয়। অন্য দিকে বিপরীত অংশে সূর্যের আলো পড়ে না, অন্ধকার থাকে। তখন পৃথিবীর সে অংশে রাত হয়।
পৃথিবীর আহ্নিক গতির কারণে দিন ও রাত হয়। দিন ও রাত হওয়ার কারণে পৃথিবীর সকল অংশে কম বেশি সূর্যের আলো পড়ে। সূর্য থেকে আমরা তাপ ও আলো পাই। সূর্যের আলো ব্যবহার করে আমরা দিনের বেলায় প্রয়োজনীয় কাজ করে নিতে পারি। সূর্যের আলো থাকার কারণে গাছপালা জন্মে। মাঠে ফসল ফলে। আমরা তা খেয়ে জীবন বাঁচাতে পারি। সারা দিন কাজ করে রাতের বেলা বিশ্রাম নিই। আবার সকাল থেকে কাজ করতে পারি।
২. ঋতু পরিবর্তন
ঋতু পরিবর্তনের কারণ কী?
কাজ: সূর্য ও পৃথিবীর মডেল ব্যবহার করে ঋতু পরিবর্তন শনাক্তকরণ
যা লাগবে: সূর্য ও পৃথিবীর মডেল
যা করতে হবে:
Printed page 95
Figure
লেবেল: উত্তর, ২৩.৪৫°, বাংলাদেশ, ঘূর্ণন তল, বিষুবরেখা বা নিরক্ষরেখা, পৃথিবীর অক্ষ, ঘূর্ণন তলের ওপর লম্বরেখা, দক্ষিণ বর্ণনা: পৃথিবীর অক্ষের হেলে থাকা অবস্থা নির্দেশকারী চিত্র। ঘূর্ণন তলের ওপর লম্বরেখা থেকে পৃথিবীর অক্ষটি উত্তর দিকে ২৩.৪৫° কোণে হেলে আছে। চিত্রে বিষুবরেখা বা নিরক্ষরেখা, ঘূর্ণন তল, পৃথিবীর অক্ষের উত্তর ও দক্ষিণ প্রান্ত এবং বাংলাদেশের অবস্থান চিহ্নিত করা হয়েছে।
Figure
লেবেল: ২১শে মার্চ, নিরক্ষরেখা, বাংলাদেশ, বসন্ত, নিরক্ষরেখা, বাংলাদেশ, শীত, ২২শে ডিসেম্বর, হেমন্ত, নিরক্ষরেখা, বাংলাদেশ, ২৩শে সেপ্টেম্বর, শরৎ, নিরক্ষরেখা, বাংলাদেশ, বর্ষা, ২১শে জুন, গ্রীষ্ম বর্ণনা: সূর্যের চারদিকে পৃথিবীর পরিক্রমণ ও বিভিন্ন ঋতুর অবস্থান নির্দেশক চিত্র। কেন্দ্রে সূর্য এবং তার চারপাশের উপবৃত্তাকার কক্ষপথে পৃথিবীর চারটি প্রধান অবস্থান দেখানো হয়েছে: ২১শে জুন (বর্ষা), ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২২শে ডিসেম্বর (শীত), এবং ২১শে মার্চ। কক্ষপথের পরিক্রমণ বরাবর গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত ঋতুর ক্রম এবং প্রতিটি অবস্থানে নিরক্ষরেখা ও বাংলাদেশের অবস্থান চিহ্নিত রয়েছে।
১. উপরের চিত্র পর্যবেক্ষণ করি। বছরের কোন সময়ে, কীভাবে আমাদের অঞ্চলগুলোতে (বাংলাদেশ, ভারত, মায়ানমার) সূর্যের আলো পড়ে তা দেখি।
Figure
লেবেল: পৃথিবীর মানচিত্র দেখো এবং বলো তো বাংলাদেশের অবস্থান পৃথিবীর বিষুবরেখার কোনদিকে?, উত্তর দিকে। বর্ণনা: একজন ছাত্র ও একজন ছাত্রী কথা বলছে; তাদের কথার বক্তব্য স্পিচ বাবলে দেখানো হয়েছে। ছাত্রটি প্রশ্ন করছে এবং ছাত্রীটি উত্তর দিচ্ছে।
Printed page 96
২. সূর্য ও পৃথিবীর মডেল ব্যবহার করে, পৃথিবীকে সূর্যের চারদিকে ঘুরিয়ে পর্যবেক্ষণ করি এবং নিচের ছক পূরণ করার চেষ্টা করি। ছক পূরণ করার সময়ে সহপাঠীদের সাথে আলোচনা করি। নমুনা হিসেবে একটি পূরণ করে দেওয়া আছে।
| সময় | বাংলাদেশ অঞ্চলে যেভাবে সূর্যের আলো দেয় | বাংলাদেশ অঞ্চলের তাপমাত্রা কেমন থাকে? | বাংলাদেশ অঞ্চলে যে ঋতু হয় |
|---|---|---|---|
| জুন মাস | খাড়াভাবে | বেশি থাকে | গ্রীষ্মকাল |
| ডিসেম্বর মাস | |||
| মার্চ মাস | |||
| সেপ্টেম্বর মাস |
৩. প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে সহপাঠীদের সাথে আলোচনা করি। বছরের বিভিন্ন সময়ে সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্বের ভিন্নতার কারণে আমাদের বাংলাদেশ অঞ্চলে কী কী ভিন্নতা হতে পারে তা আলোচনার মাধ্যমে বের করার চেষ্টা করি।
ঋতু পরিবর্তন সম্পর্কে আরও কিছু জানি
পৃথিবীর উত্তর মেরু, দক্ষিণ মেরু এবং পৃথিবীর কেন্দ্রের মধ্যে কাল্পনিক সংযোজক সরলরেখাকে পৃথিবীর অক্ষরেখা বলে। এই অক্ষরেখাকে কেন্দ্র করে পৃথিবী নিজ অক্ষে লাটিমের ন্যায় ঘোরে। আমরা পৃথিবীর আহ্নিক গতি সম্পর্কে ইতোমধ্যে জেনেছি। আহ্নিক গতি ছাড়াও পৃথিবীর আরও এক ধরনের গতি আছে। সূর্যের চারদিকে একটি কক্ষপথে ৩৬৫ দিন ৬ ঘণ্টায় পৃথিবী একবার ঘুরে আসে। এই গতিকে পৃথিবীর বার্ষিক গতি বলে। এজন্য ৩৬৫ দিনে এক বছর ধরা হয়। অতিরিক্ত ৬ ঘণ্টার জন্য প্রতি চার বছর পর বছরে ১ দিন বেশি হয়। সূর্যের চারদিকে পৃথিবীর ঘোরার সময় অক্ষরেখাটি একটু হেলানো অবস্থায় থাকে। এতে কখনো পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধ সূর্যের দিকে হেলে থাকে। আবার কখনো দক্ষিণ গোলার্ধ সূর্যের দিকে হেলে থাকে। আমাদের বাংলাদেশ অঞ্চল পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত। সূর্য থেকে আমাদের অঞ্চলে আলো কখনো তির্যকভাবে কখনো খাড়াভাবে আসে। এর ফলে বছরের কোনো সময়ে আমাদের অঞ্চলের তাপমাত্রা কম থাকে আবার কোনো সময়ে আমাদের অঞ্চলের তাপমাত্রা বেশি থাকে।
Printed page 97
সূর্যের চারদিকে পৃথিবীর ঘূর্ণন, পৃথিবীর হেলে থাকা অক্ষ, দিনের দৈর্ঘ্যের তারতম্য ইত্যাদি কারণে আমাদের অঞ্চলে বছরে ছয়টি ঋতু দেখা যায়। এগুলো হলো– গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত। এর মধ্যে ৩টি ঋতু সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা নিচে দেওয়া হলো।
গ্রীষ্মকাল
Figure
বর্ণনা: প্রখর রোদে একটি গ্রামীণ দৃশ্য; আকাশে উজ্জ্বল সূর্য, রোদে ছাতা মাথায় এক ব্যক্তি হেঁটে যাচ্ছেন এবং পেছনে টিনের ঘর ও গাছপালা দেখা যাচ্ছে।
বাংলা বছরের বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ এবং ইংরেজি বছরের এপ্রিল-মে-জুন মাসের দিকে পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধ সূর্যের দিকে হেলে থাকে। এই সময়ে এই অঞ্চলে দিনের দৈর্ঘ্য বড়ো হয় এবং সূর্য খাড়াভাবে পৃথিবীকে কিরণ দেয়। এতে বাংলাদেশসহ আশপাশের অঞ্চলে তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে এবং তীব্র গরম অনুভূত হয়। এই সময়কে আমরা গ্রীষ্মকাল বলি। এই সময়ে বাতাস শুষ্ক থাকে এবং আমাদের অঞ্চলের খাল-বিল শুকিয়ে যায়।
বর্ষাকাল
Figure
বর্ণনা: মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে একটি গ্রামীণ দৃশ্য; মেঘলা আকাশ, বৃষ্টিতে ছাতা মাথায় একজন ব্যক্তি হেঁটে যাচ্ছেন, পেছনে টিনের ঘর ও গাছপালা এবং জমিতে বৃষ্টির পানি দেখা যাচ্ছে।
ষড়ঋতুর এই বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালের পরেই আসে বর্ষাকাল। বাংলা বছরের আষাঢ়-শ্রাবণ এবং ইংরেজি বছরের জুন-জুলাই-আগস্ট মাসের দিকে পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধ সূর্যের দিকে হেলে থাকে। এই
Printed page 98
সময়ে বাতাস দক্ষিণ দিক থেকে উত্তর দিকে প্রবাহিত হয়। বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর থাকায় বাতাসের সাথে প্রচুর পরিমাণে জলীয়বাষ্প থাকে। ফলে এই সময়ে এই অঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। এতে বাংলাদেশসহ আশপাশের অঞ্চলে তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে কমতে থাকে। এই সময়কে আমরা বর্ষাকাল বলি। বর্ষাকালে আমাদের অঞ্চলের খাল-বিল পানিতে ভরপুর থাকে।
শীতকাল
Figure
বর্ণনা: শীতকালের একটি গ্রামীণ দৃশ্য; খেজুর গাছের পাশে কাঁধে বাঁকে মাটির কলস বহন করে নিয়ে যাচ্ছেন এক ব্যক্তি এবং পাশে গরম কাপড় পরিহিত একটি ছেলে দাঁড়িয়ে আছে।
বাংলা বছরের পৌষ-মাঘ এবং ইংরেজি বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসের দিকে পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধ সূর্য থেকে হেলে থাকে। এই সময়ে এই অঞ্চলে দিনের দৈর্ঘ্য ছোটো হয় এবং সূর্য তির্যকভাবে পৃথিবীকে কিরণ দেয়। এতে বাংলাদেশসহ আশপাশের অঞ্চলে তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে কম থাকে এবং ঠান্ডা অনুভূত হয়। এই সময়কে আমরা শীতকাল বলি। এই সময়ে বাতাস শুষ্ক থাকে এবং উত্তর দিক থেকে দক্ষিণ দিকে বাতাস প্রবাহিত হয়।
Loading the rest of the chapter…
Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.
Trusted resources
Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.